প্রাপ্তবয়স্ক কোন মেয়ে যদি স্বেচ্ছায় তার দেহ বিক্রি করতে চায় সেই সকল ক্ষেত্রে ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে তাকে হয়ত খারাপ, অবৈধ ইত্যাদি বলা যাবে। কিন্তু সামাজিক দৃষ্টিকোন থেকে বিষয়টি অপরাধ কিনা সেটা বিতর্কের অবকাশ রাখে। যদি কেউ প্রকাশ্যে অশ্লিলতা করে , সেটা অপরাধ। সহজে এটা বোঝা যায়, নারায়নগঞ্জে যে বৈধ একটি দেহ বিক্রির পল্লী ছিল সেটা থাকার সময়ে ঢাকার রাস্তায় এত পরিমানে যৌনকর্মী দেখা যেত না। কিন্তু সেটা উঠে যাওয়ার পরে, বিশেষ করে রাতে ঢাকার রাস্তায় এত পরিমানে যৌনকর্মী বেড়ে গেছে যে পুরো শহরে রাতে পরিবারের কারোর সাথে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। কে কোথা থেকে আপনাকে এই প্রস্তাব দিয়ে দেবে, সেটা একান্তই অপ্রস্তুত করবে আপনাকে।
ইতিহাসে কখোনো পতিতাবৃত্তি পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। অন্তত আইন করে তো নয়ই। আর এদের বৈধ আস্তানা থেকে উচ্ছেদ করা হলে ধান্দার জন্য রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়। লক্ষ্য করুন , বৈধ আস্তানায় এগুলো ধর্মীয় অপরাধ ছিল। এখন রাস্তায় নামায় এটা ধর্মীয় অপরাধের সাথে সাথে এটা সামাজিক অপরাধ হিসেবেও গন্য হয়ে যাচ্ছে। এটা এখন অস্বীকার করার কোন উপায় ই নেই যে সারা দুনিয়ায় এই পেশা বৈধ বা অবৈধ যে কোন উপায়ই চলে আসছে। থাইল্যান্ডের মত কিছু দেশ এর মুল ব্যাবসাই হল পতিতাবৃত্তি। সেখানে আমাদের দেশে তো আসলে কোন ধর্মীয় পদ্ধতির শাষন বা আইন এখোনো চলেনা। আমরা বিচার করি পেনাল কোড অনুযায়ী। যা বৃটিশ আইন।
বর্তমানে বাংলাদেশের একটা বড় সমস্যা হল ইভ টিজিং। এগুলো উঠতি বয়সী ছেলেরা যারা বখাটে হিসেবে পরিচিত, তারাই করে বেড়ায়। আবার ঢাকায় ভাল মেয়েরাও আধুনিকতার কারনে অনেক খোলামেলা পোশাক পরে। এটা পরার অধিকার তাদের অবশ্যই আছে। কিন্তু আমাদের দেশের পেক্ষাপটে এই পোশাক দেখে যাদের যৌন সঙ্গি নাই তাদের চাহিদা তৈরি হওয়া তো অস্বাভাবিক না। আবার বিশাল একটা শ্রমিক শ্রেনী আছে , যারা হয়ত দুই তিনমাসেও একবার বউ এর কাছে যেতে পারে না। সেই সকল ক্ষেত্রে তাদের দৈহিক চাহিদাটাকে অস্বীকার করার উপায় কি আছে?
বৈধ উপায়ে একজন বয়স্ক যুবক যদি টাকা দিয়ে তার চাহিদা মেটাতে পারে , সেটা কি সামাজিক কোন আইনে আপনি অবৈধ বলতে পারবেন?। বা অন্যায় ও তো বলা যাবে না। অন্যায় হবে যদি কোন মেয়েকে জোর করে এই পেশায় নিয়ে আসা হয়। সেটা তো এখোনো মাঝে মাঝেই শোনা যায় যে জোর করা হচ্ছে। কিন্তু পতিতালয়গুলোর ব্যাপারে সরকারের কোন স্বচ্ছ ধারনা না থাকায় সেই অপরাধগুলো কমানো ও যাচ্ছে না।
রাজধানীতে এবং রাজধানীর বাইরে বেশ কিছু আবাসিক হোটেলে এই ব্যবসাটা যে খুব রমরামা এটা তো আমরা সবাই জানি। সেই সকল জায়গায় ব্যবসাটা ঠিকই চলে , কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনকে টাকা দিয়ে দিয়ে সাময়িক বৈধতা নিয়ে এই ব্যবসা চলছে। এগুলো যদি চলেই তবে কেন সরকারী এখতিয়ারের বাইরে থাকবে। সরকার ভাব করবে যে এটা অবৈধ, আবার এ সংক্রান্ত স্পষ্ট কোন আইনও থাকবে না , এটা তো অন্যায়। সরকারের কিছু পদ্ধতিগত সমস্যাই প্রশাসন ও পুলিশকে এই ঘুষ খেয়ে খেয়ে অবৈধ উপার্জনের সুযোগ করে দেয়।
একটি পুর্নবয়স্ক পুরুষ ও একটি পূর্নবয়স্কা নারী একে অপরকে পছন্দ করে যদি মেলামেশা করে সেটাকে কি সামাজিক বা পেনাল কোডের কোনো আইনে অন্যায় বলা যাবে? ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে এক এক ধর্মের এক এক আইন হয়ত আছে। কিন্তু আমাদের দেশের সংসদ বা আইন আদালত কি ধর্মীয় আইনে চলে? তবে এটার বেলায় কেন? আবার যখন পুলিশ চাহিদামত টাকা না পায় তখন হোটেলে রেইড করে। আর পতিতাদের সাথে সাথে অনেক সাধারন প্রেমিক প্রেমিকাকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। ভাবতে পারেন সেই সকল ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়েটিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া বা কোন ভাবে যদি মিডিয়াতে চেহারা দেখা যায় তো সেই মেয়েদের সম্মান কোথায় যায়? বা ছেলেটির পরিবারের ও তো সম্মান আছে, তাইনা। যদি একটি উঠতি বয়সী ছেলে বা মেয়ে ভুল করেই , তো তার শাস্তি কেন পুরো পরিবার পাবে? সেই অধিকারই বা পুলিশকে কে দিয়েছে? পূর্নবয়স্ক ছেলেমেয়েরা গোপনে যে মেলামেশাটা করে সেটা কি এতই ”অপরাধ যে এজন্য তার পরিবারের কেউ আর সমাজে মুখ দেখানোর যোগ্যতা হারাবে? অসহায় অভিবভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের ছাড়াতে গিয়ে একদম দিশেহারা হয়ে যায়। আর আমাদের (সাংবাদিকদের) দেখলে তো আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। ব্যাক্তগতভাবে আমি কখোনোই তাদের সেই অসহায় অবস্থার সুযোগ তোলার চেষ্টা করিনি। তবে কত রকমের ধান্দাবাজ মিডিয়াকর্মী আছে , তাদের পাল্লায় পড়লে তো একেবারেই ধন ইজ্জত সব শেষ হয়ে যায়। তাছাড়া ধরে নিয়ে যাওয়ার পর সেই মেয়েদের সাথে পুলিশ কি ব্যবহার করে , বা পুলিশ কতৃক তাদের প্রতি যৌন হ্যারেজমেন্টকে কি একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায়?
***ব্লগে দেয়া ছবিগুলো সম্পর্কে আমি সচেতন। এখানে পরিচয় বোঝা যায় এমন কিছু নাই । যে ছবিগুলোতে মুখ দেখা যায় সেগুলো প্রকাশ করা হয় না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


