somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অণুগল্প - উপলব্ধি

৩০ শে জুন, ২০১৩ রাত ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেলা এগারোটা। তিনি এখন বাড়িতে, বসার ঘরে চলছে অস্থির পায়চারি।
সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে বসেছেন, ঠোঁটে জ্বলছে সিগারেট।

লাল সাদা স্ট্রাইপ টিশার্টটা ঘামে ভেজা, কপালেও দুশ্চিন্তার মেঘ। একটু আগে বড় এক যন্ত্রণা থেকে বাচা গেছে। মুরাদ মামা ছিলেন বলে রক্ষা, সাক্ষাত দেবতা তিনি, যমের হাত থেকে টেনে বের করে এনেছেন। অত বড় বাড়িটা হুড়মুড় করে ভেঙে পরলে তার নীচে আটকা পরা, সেখান থেকে আবার অক্ষত বের হয়ে আসা, এতো চাট্টিখানি কথা নয়। তার উপর উন্মত্ত গেয়ো জানোয়ারগুলোর চোখে যেভাবে আগুন খেলছিল, ওদের হাতে পরলে অক্কা পাওয়া ছিল নিশ্চিত। দিন সাতেক ধরেই বোঝা যাচ্ছিল অমনটা ঘটবে, কিন্তু আজই যে ঘটবে কে জানত?

উশখুশ পায়চারির ফাঁকে টিভিটা ছাড়লেন। পাশের ঘরে বউটা ব্যাগ গোছাচ্ছে, এত দেরি করে কেন ? কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে পালাতে হবে। কোথায় যাবেন এখনো ঠিক করেন নি। আগে ঢাকা ছাড়তে হবে, এটাই হলো বিষয়। এত দেরি করছিস কেনো? খেঁকিয়ে উঠে বলে উঠলেন তিনি, জানিস না পুলিশ খুঁজছে। তাড়াতাড়ি কর, তাড়াতাড়ি কর।

ঘণ্টা দুই আগের কথা। সোহেল সাহেব তখন খুব ব্যস্ত।
কাজ সেরে মাত্রই নিজের নামে করা দশতলা ভবনের বেজমেন্ট অফিসে ঢুকলেন। একটু আগে মেলা হ্যাপা গেছে। তিন চার হাজার শ্রমিক কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে অফিসে ঢোকানোর কাজটা নিজে দাড়িয়ে করতে হয়েছে। গার্মেন্টসের মালিকগুলোও কেমন বলদ, বোঝে না বন্ধ রাখলে নিজেদেরই ক্ষতি। ওদিকে ব্যাঙ্কের বদমাশগুলো অফিস বন্ধ করে আঙ্গুল চুষছে; কী আশ্চর্য! এত সুন্দর শক্ত পোক্ত একটা বিল্ডিং নাকি ধ্বসে পড়বে, বললেই হল ?

সামনের খাটটাতে গা এলিয়ে দিলেন, একটু তন্দ্রামত এলো। ঘড়িতে বেলা বারোটা। দুপুর একটার দিকে শ্রমিকদের নিয়ে লাঞ্চ আওয়ারে মিছিল শুরু করতে হবে। কত বড় সাহস শালাদের হরতাল করে। সব কটাকে বুঝিয়ে দিতে হবে হরতালের মজা। সেলিমকে বলে রাখা আছে ওর লোকদের রেডি রাখতে। হকি স্টিক, গজারি, চাপাতি কিংবা বন্দুক কোন কিছুরই কমতি রাখা চলবে না...

কাঁধে হঠাত হাতের স্পর্শ, চমকে উঠে সোহেলের চিৎকার, কে কে? কি ব্যাপার, ভয় পাচ্ছ কেন, সাবধানী স্বরে বললেন তার স্ত্রী। গোছানো ব্যাগটা দেখেই টেনে নিয়ে তিনি বলে উঠলেন, কেউ এসে যদি জিজ্ঞেস করে রানা ভাই কই, বলবি জানি না।

তিনি দরজার কাছে গেলেন, দরজা খুলে বেড়িয়ে যাবার সময় স্ত্রীর প্রশ্ন, তুমি কই যাও ? উত্তর না দিয়ে শুকনো মুখে পালাবার পথ খুঁজছেন। মাথার উপরে তার কত মানুষের লাশের বোঝা, সেটা উপলব্ধির ক্ষমতা তার ছিলনা। সম্ভবত সোহেল রানাদের থাকে না, কোনদিন ছিলো না, আগামীতেও থাকবে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১৩ রাত ১২:৪৬
২৮টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ঘটনা নয়, এগুলো আগে থেকেই তৈরি করা মৃত্যু

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০৫

চারপাশ থেকে কালো ধোঁয়া ঘিরে ধরছে। দুই চোখ প্রচণ্ড জ্বলছে । সুন্দর করে সাজানো হলরুমের প্লাস্টিক, ফোম, সিনথেটিক সবকিছু পুড়ে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বিষাক্ত গ্যাসে। ঘরের অক্সিজেন প্রতি সেকেন্ডে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×