গত ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস। দেশে নয় বিদেশে আছি তবুও তো স্বাধীনতা দিবসকে ভুলিনা, ভুলতে পারিনা।
এই শহরে আমরা অল্প কয়জন বাংলাদেশী। স্বাধীনতা দিবসে একে অপরকে sms করার মাধ্যমে আমাদের বিজয় দিবস উৎযাপন শুরু হয়েছিল। ২৫ শে মার্চ বাংলাদেশ সময় রাত ঠিক ১২.০১ মিনিটে প্রথম sms আসে। তারপর আসতে থাকে একের পর এক sms। sms গুলো ছিল এরকমঃ
১। ''এক নদী রক্ত পেরিয়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলবনা...'' --- বাংলার স্বাধীনতার জন্য যাদের রক্তের নদী বয়ে গিয়েছিল বাংলার বুকে সেই সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায়-- স্বাধীনতা দিবস সফল হোক।
২। ''প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ...'' আমাদের জীবন-মরণ এই বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে সবাইকে সুভেচ্ছা।
৩। ''স্বাধীনাতা তুমি ......'' মহান স্বাধীনতার জন্য যে সকল অকুতোভয় বীর সন্তানরা বিলিয়ে দিয়েছিলেন তাদের তাজা প্রাণ সে সকল শহীদদের স্মরণে..... সকলকে মহাণ স্বাধীনতা দিবসের অভিনন্দন।
এভাবে আরো অনেকগুলো sms এসেছিল। তবে যে জন্য আজকের এই লেখা সেটা মুলত নিচের sms দুটির জন্য
**** ''' একটি বাংলাদেশ তুমি... জনতার, সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকার।'''' সারা বিশ্বের বিস্ময় এই বাংলাদেশের জন্য আসুন আমরা সবাই মিলে কাজ করি। মহান স্বাধীনতা দিবসের এটাই হোক আমাদের শপথ।
**** ''''কি বলার কথা, কি বলছি। কি শোনার কথা কি শুনছি। কি দেখার কথা কথা কি দেখছি। ... ত্রিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি।'''' ভাই অনেক বড় বড় কথা না বলে বরং দেশের জন্য আমরা কি করেছি এবং কি করতে পারি সেটাই ভাবি এবং আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততটুকু করার চেষ্টা করি।
এই গুলো পরবাসের sms ই নয় আমাদের দেশের বড় বড় সভা সমাবেশেও একই কথার বিভিন্ন সংস্করণ আর কি! সেই ১৯৭২(স্বাধীনতার পরের বছর) থেকে আজ পর্যন্ত অনেক সমাবেশ হয়েছে, অনেক মিছিল মিটিং হয়েছে। অনেক বড় বড় কথা বলা হয়েছে। মঞ্চে উঠে গান কবিতা আর বিশাল বিশাল ভাষণে সারা দেশে আলোড়ণ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু দেশ কি পেয়েছে?
আমরা স্বাধীন হয়েছি আজ ৩৬ বছর। খুবই ছোট একটা সময় নয়। অনেক অনেক গুলো বছর। কিন্তু কি করেছি আমরা। কি পেয়েছি বলবনা কারণ পাব কার কাছ থেকে? আমাদের তো করতে হবে। তাই কি করেছি আমরা? দেশের জন্য কি করেছি? আমরা সব সময় রাজনৈতিক দলের দোষ দেই। রাজনৈতিক দলকে ভোট দেয় কে? তাদেরকে ক্ষমতায় বসায় কে? আমরাই তো করি। তাদের ঐ কুৎসিত চেহারা আমাদের কাছে উন্মুক্ত হওয়ার পরও আমরা নির্লজ্জের মত তাদেরই গুনগান গাচ্ছি। স্বাধীনতার পক্ষে বিপক্ষে অনেক তর্ক আমরা করেছি। কিন্তু পক্ষের শক্তিই বা কি করছে আর বিপক্ষের শক্তিই বা কি করছে। রাজাকারদের বিরুদ্ধে অনেক স্লোগান দিয়েছি, রাজাকার বলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমারই সহপাঠিকে পিটিয়েছি, হাত পা কেটে দিয়েছি অথচ আসল রাজাকারদের একটি চুল পর্যন্তও ছুতে পারিনি। নিজের এবং দলের স্বার্থের কথাই চিন্তা করেছি এবং সে জন্য কাজ করেছি।
৩৬ বছর অনেক লম্বা একটা সময়। অনেক কিছু করার ছিল আমরা করিনি। দারিদ্রতার দোহাই দিয়েছি। কিন্তু বিশ্ব থেকে আমরা পিছিয়ে পরছি প্রতিদিনই আমরা বিশ্ব থেকে পিছিয়ে পড়ছি। আর কত ? আর কত দিন যাবে এভাবে?
আর একটি দিনও নয়। এখনই এই মুহুর্ত থেকে আসুন সবাই দেশের জন্য কাজ করি। নেতাদের জন্য অপেক্ষা না করে আমরা যে যেখানে আছি সেখান থেকে যে ভাবে যতটুকু সম্ভব দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করি। আর কত এভাবে পিছিয়ে থাকব? আমরা সবাই মিলেই পারি আমাদের সেই সব শহীদ ভাইদের রক্তের মুল্যায়ন করতে।
আমরা কি করলাম? আমাদের দেশের নেতারা কি করল? এই বিতর্ক দুরে রেখে বরং আমি দেশের জন্য কি করলাম? আজ কি করলাম? এবং আগামী কাল কি করব? সেটাই ভাবি এবং আমার পাশের ভাইকেও এ ব্যাপারে সহযোগীতা এবং উদ্ভুদ্ধ করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

