somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাটখারার বাটপারী!!!!!

৩১ শে মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিরোনাম পড়ে অনেকেই নিশ্চয়ই অবাক হয়েছেন। আমরা বর্তমানে একটা মগের মুল্লুকে বাস করছি এটা শতভাগ নিশ্চিত। দিন দিন আমাদের নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটছে, প্রতিদিন আমরা পদে পদে কিভাবে যে প্রতারিত হচ্ছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। সেইসব প্রতারণার কিছু কিছু আমার লেখায় ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরব।

কেসস্টাডি-১ ওজনে কম দেয়া:

গত শুক্রবার শান্তিনগর মোড় থেকে চার কেজি আম কিনলাম ২৮০ টাকা দিয়ে। দোকানী আমাকে চারকেজির চেয়ে ওজনে বেশি দেখিয়ে দিল। আমি বাসায় ফিরে ঠোঙ্গা থেকে আম বের করলাম। আমের সংখ্যা দেখে আমার ওজন নিয়ে সন্দেহ হল। আমি বাসার ওজন মাপার মেশিন দিয়ে আমগুলো মেপে দেখলাম ওজন ৩৬৫৭ গ্রাম। দোকানদার আমাকে ওজনে বেশি দেখানোর পরও ৩৪৩ গ্রাম ওজনে ঠকলাম। সাথে সাথে ওজনের মেশিন এবং আম নিয়ে ছুটলাম সেই দোকানে। গাড়িতে ওজনের মেশিন রেখে দোকানীর কাছে আম নিয়ে বললাম ওজনে কম হয়েছে। কিন্তু দোকানী আবার মেপে দেখাল ওজন চার কেজির চেয়ে বেশি। আমি রাগে উত্তেজিত হয়ে ঠাস্‌ ঠাস্‌ করে তার দুই গালে দুইটা চড় মারলাম। আমার চড় খেয়ে সে অবাক হয়ে গেল এবং মুহুর্তের মধ্যে দোকানে ভীড় জমে গেল। কাছেই একটা পুলিশের টহল ভ্যান ছিল। ভিড় দেখে তারা দোকানে এসে ঘটনা জানতে চাইল। আমি গাড়ি থেকে ওজন মেশিন বের করে দেখালাম কিভাবে আমাকে ওজন কম দেয়া হয়েছে। মজার ব্যাপার কি জানেন, ওই দোকানের দুইপাশে আরো দুইটা ফলের দোকান আছে তারা দোকানদারের পক্ষে সাফাই গাইতেছিল যখন আমি প্রমাণ করলাম আমি ওজনে ঠকেছি কিছুক্ষনের মধ্যে ওরা দোকান বন্ধ করে চম্পট। এ ঘটনায় পুলিশের সিপাহি মোটা লাঠি দিয়ে দোকানীকে তিনটা বাড়ি দেয়ার পর সে স্বীকার করল যে সে গত পাঁচ বছর যাবৎ মানুষকে ওজনে ঠকাচ্ছে। তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় কিছুদিন সঠিক মাপে ফল বিক্রি করত গত ডিসেম্বর থেকে আবার আগের মত ওজনে কারচুপি শুরু করে। যাহোক পুলিশ তখন তার দোকান বন্ধ করে তাকে থানায় নিয়ে গেল।আমিও বাসায় ফিরে আসলাম। শনিবার সকালে দেখলাম সে বহাল তবিয়্যতে আবার দোকানদারী করছে। গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম সে কিভাবে ছাড়া পেল? সে বল্ল পুলিশকে ২০০০ টাকা দিয়ে সে ছাড়া পেয়েছে। আমি জানতে চাইলাম সে আর কোনদিন ওজনে কারচুপি করবে কিনা? জবাবে সে কিছু বল্ল না চুপ করে রইল।

শনিবার সন্ধ্যায় বাসায় আমার খালাত ভাই বেড়াতে এসেছিলেন। তার নবাবপুরে ইলেকট্রিক পণ্যের পাইকারী দোকান আছে। তাকে ঘটনাটা বল্লাম। ঘটনা শুনে উনি আমাকে অবাক করা কিছু তথ্য দিলেন। তিনি বল্লেন কাপ্তান বাজার সিটি কর্পোরেশন মার্কেটে পাইকারী দরে বাটখারা বিক্রি হয় যেগুলোর বেশিরভাগই বিএসটিআই অনুমোদনহীন। বাটখারা কিনতে গেলে দোকানীরা জিজ্ঞাসা করে কেনার জন্য নাকি বেচার জন্য। কেনার বাটখারা ১ কেজির টার ওজন ১১০০ গ্রাম (সাধারণত গ্রামে গঞ্জে পাইকাররা সব্জি কিনতে ব্যবহার করে। ঢাকায় কাগজ ফেরিওয়ালা অথবা ভাঙ্গারীর দোকানদাররা ব্যবহার করে)। বেচার বাটখারা ১ কেজির টার ওজন ৯০০ গ্রাম যা সারা বাংলাদেশের ৫৫% দোকানী ব্যবহার করে :-* :-* :-* :-* :-*। তাকে জিজ্ঞাসা করলাম পুলিশ বা প্রশাসন জানে কি না? তিনি বল্লেন সবই ওপেন সিক্রেট।

খুবই ভয়াবহ অবস্থা, এভাবে আমরা আর কত দিন ঠকব? পাঠক কিভাবে এটা প্রতিরোধ সম্ভব?

আমাদের কথা বলার সময় আমার পুচকে ভাগ্নেটা পাশেই খেলছিল, সে বল্ল মামা প্রথম আলোর শপথ যান ওখানে গেলে ভাল হবে, সবাই শপথ করবে সবাই বদলে যাবে। তার কথা শুনেতো আমি একদম থ :(:(:(
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০০৯ সকাল ৮:২৬
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×