শিরোনাম পড়ে অনেকেই নিশ্চয়ই অবাক হয়েছেন। আমরা বর্তমানে একটা মগের মুল্লুকে বাস করছি এটা শতভাগ নিশ্চিত। দিন দিন আমাদের নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটছে, প্রতিদিন আমরা পদে পদে কিভাবে যে প্রতারিত হচ্ছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। সেইসব প্রতারণার কিছু কিছু আমার লেখায় ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরব।
কেসস্টাডি-১ ওজনে কম দেয়া:
গত শুক্রবার শান্তিনগর মোড় থেকে চার কেজি আম কিনলাম ২৮০ টাকা দিয়ে। দোকানী আমাকে চারকেজির চেয়ে ওজনে বেশি দেখিয়ে দিল। আমি বাসায় ফিরে ঠোঙ্গা থেকে আম বের করলাম। আমের সংখ্যা দেখে আমার ওজন নিয়ে সন্দেহ হল। আমি বাসার ওজন মাপার মেশিন দিয়ে আমগুলো মেপে দেখলাম ওজন ৩৬৫৭ গ্রাম। দোকানদার আমাকে ওজনে বেশি দেখানোর পরও ৩৪৩ গ্রাম ওজনে ঠকলাম। সাথে সাথে ওজনের মেশিন এবং আম নিয়ে ছুটলাম সেই দোকানে। গাড়িতে ওজনের মেশিন রেখে দোকানীর কাছে আম নিয়ে বললাম ওজনে কম হয়েছে। কিন্তু দোকানী আবার মেপে দেখাল ওজন চার কেজির চেয়ে বেশি। আমি রাগে উত্তেজিত হয়ে ঠাস্ ঠাস্ করে তার দুই গালে দুইটা চড় মারলাম। আমার চড় খেয়ে সে অবাক হয়ে গেল এবং মুহুর্তের মধ্যে দোকানে ভীড় জমে গেল। কাছেই একটা পুলিশের টহল ভ্যান ছিল। ভিড় দেখে তারা দোকানে এসে ঘটনা জানতে চাইল। আমি গাড়ি থেকে ওজন মেশিন বের করে দেখালাম কিভাবে আমাকে ওজন কম দেয়া হয়েছে। মজার ব্যাপার কি জানেন, ওই দোকানের দুইপাশে আরো দুইটা ফলের দোকান আছে তারা দোকানদারের পক্ষে সাফাই গাইতেছিল যখন আমি প্রমাণ করলাম আমি ওজনে ঠকেছি কিছুক্ষনের মধ্যে ওরা দোকান বন্ধ করে চম্পট। এ ঘটনায় পুলিশের সিপাহি মোটা লাঠি দিয়ে দোকানীকে তিনটা বাড়ি দেয়ার পর সে স্বীকার করল যে সে গত পাঁচ বছর যাবৎ মানুষকে ওজনে ঠকাচ্ছে। তত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় কিছুদিন সঠিক মাপে ফল বিক্রি করত গত ডিসেম্বর থেকে আবার আগের মত ওজনে কারচুপি শুরু করে। যাহোক পুলিশ তখন তার দোকান বন্ধ করে তাকে থানায় নিয়ে গেল।আমিও বাসায় ফিরে আসলাম। শনিবার সকালে দেখলাম সে বহাল তবিয়্যতে আবার দোকানদারী করছে। গাড়ি থামিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম সে কিভাবে ছাড়া পেল? সে বল্ল পুলিশকে ২০০০ টাকা দিয়ে সে ছাড়া পেয়েছে। আমি জানতে চাইলাম সে আর কোনদিন ওজনে কারচুপি করবে কিনা? জবাবে সে কিছু বল্ল না চুপ করে রইল।
শনিবার সন্ধ্যায় বাসায় আমার খালাত ভাই বেড়াতে এসেছিলেন। তার নবাবপুরে ইলেকট্রিক পণ্যের পাইকারী দোকান আছে। তাকে ঘটনাটা বল্লাম। ঘটনা শুনে উনি আমাকে অবাক করা কিছু তথ্য দিলেন। তিনি বল্লেন কাপ্তান বাজার সিটি কর্পোরেশন মার্কেটে পাইকারী দরে বাটখারা বিক্রি হয় যেগুলোর বেশিরভাগই বিএসটিআই অনুমোদনহীন। বাটখারা কিনতে গেলে দোকানীরা জিজ্ঞাসা করে কেনার জন্য নাকি বেচার জন্য। কেনার বাটখারা ১ কেজির টার ওজন ১১০০ গ্রাম (সাধারণত গ্রামে গঞ্জে পাইকাররা সব্জি কিনতে ব্যবহার করে। ঢাকায় কাগজ ফেরিওয়ালা অথবা ভাঙ্গারীর দোকানদাররা ব্যবহার করে)। বেচার বাটখারা ১ কেজির টার ওজন ৯০০ গ্রাম যা সারা বাংলাদেশের ৫৫% দোকানী ব্যবহার করে
খুবই ভয়াবহ অবস্থা, এভাবে আমরা আর কত দিন ঠকব? পাঠক কিভাবে এটা প্রতিরোধ সম্ভব?
আমাদের কথা বলার সময় আমার পুচকে ভাগ্নেটা পাশেই খেলছিল, সে বল্ল মামা প্রথম আলোর শপথ যান ওখানে গেলে ভাল হবে, সবাই শপথ করবে সবাই বদলে যাবে। তার কথা শুনেতো আমি একদম থ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


