somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হ্যাকিং নিয়ে ডেভিড মিটনিকের দশ উত্তর

০১ লা জানুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৩:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কম্পিউটার বিজ্ঞানের বিস্তর জ্ঞান এই ভদ্রলোকের । কম্পিউটার কৌশল এবং নেটওয়ার্ক বিদ্যা তার জানা শোনার মূল জায়গা। নেটওয়ার্কেও নিরাপত্তা নিয়ে তার লেখা খান দুয়েক বই, দুনিয়াজুরেই বহুল পঠিত। অথচ ডেভিড মিটনিক দুনিয়াখ্যাত হয়েছেন হ্যাকার হিসেবে। সর্বজন পরিচিত এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তাও এসেছে অন্যের কম্পিউটারে বা নেটওয়ার্কে লুকানো কিংবা সংগ্রহে থাকা তথ্যভান্ডার গায়েব অথবা ওলট পালট করে দেয়ার কারনেই বেশ কয়েকবার অপরাধি সাব্যস্তও হয়েছেন, পুলিশি ঝামেলাও হয়েছে।

তার পরও অনেকেই তার নামের আগে বিশেষন হিসেবে কুখ্যাত না লিখে বিখ্যাত হ্যাকারই লিখেন। যেবার মিটনিক পুলিশের হাতে ধরা পরেন, সেবার তিনিই ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট অপরাধের হিসাবে 'মোস্ট ওয়ান্টেড'।

মাত্র ১২ বছর বয়সে 'সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং' মাধ্যম ব্যবহার করে বিনা ভাড়ায় বাসে ভ্রমন করতে পাঞ্চকার্ড পদ্ধতিকে পাশ কাটিয়ে পুরো লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের বাস সার্ভিস ওলট পালট করে ফেলেছিলেন এই হ্যাকার। এরপর মটরোলা, নকিয়া, ফুজিৎসুর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নিরাপত্তা পদ্ধতি ওলট পালট করে দিয়ে নাম উঠিয়েছেন অপরাধির তালিকায়। এর বাইরেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক। যার কিছু এরই মধ্যে প্রমানিত, আবার কিছু প্রমানের অপেক্ষায়।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও খেটেছেন মিকনিক। এই হ্যাকারের পাঁচ বছরের জেলজীবন এবং দীর্ঘ হ্যাকারজীবন নিয়ে প্রশ্ন করেছে টাইম সাময়িকী। জানতে চেয়েছে হ্যাকিংয়ের আদ্যোপান্ত। আর উত্তর দিয়েছেন ডেভিড মিটনিক।


■ আপনি কি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত বেস্ট-সেলার বইয়ের তালিকাটি হ্যাক করে সেখানে আপনার লেখা তারের ভেতর ভূত বইটির র্যাংকিং অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবেন?

ডেভিড মিটনিক : সম্ভত ! এখন অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের নিরাপত্তা ঠিকঠাক আছে কিনা তা দেখার জন্য আমাকে ভাড়া করে। দেখতে চায়, আমি তাদের প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে পারি কিনা। আমি জানিনা, নিউইয়র্ক টাইমস এর বেলায় আমি বিষয়টিকে কীভাবে নেব। তবে হয়ত সম্ভব! ওহ্ হ্যা, আমি কেবল দায়িত্ব পেলেই (প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের পরই) কাজটি করব।

■ আপনার প্রথম অপরাধ ছিল, বাস চলাচলের সিস্টেম পরিবর্তন করে ফেলা। আপনিকি মনে করেন, ওই সময় অর্থাৎ শুরুতেই যদি আপনাকে কেউ এ কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দিত তাহলে আপনার জীবনটা অন্যরকম হতে পারত।

ডেভিড মিটনিক : আমার হাইস্কুল জীবনেই ব্যাপারটা (হ্যাকিং) শুরু। কম্পিউটার ক্লাসে আমাদের প্রথম কাজ হিসাবে দেয়া হয় এমন একটা প্রোগ্রাম লেখার, যার মাধ্যমে প্রথম ১০০ ফিবোনাক্কি সংখ্যা প্রিন্ট করা যাবে। অথচ এর বদলে আমি এমন একটা প্রোগ্রাম লিখি, যা কিনা যে কোনো ছাত্রের পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারবে! তবে যাই বলুন, ওই ক্লাসে আমার কম্পিউটার শিক্ষক আমাকে কাজটির জন্য 'এ' নম্বর দিয়েছিলেন!

■ দুর্বল কোডিং প্রতিভা নাকি অতিমাত্রায় সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং - কোনটা আপনাকে ভালো হ্যাকার বানিয়েছে?

ডেভিড মিটনিক : যাদের হাতে কম্পিউটার আছে এবং সেটা দিয়ে কিছু করার সুযোগও আছে, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আসলে সেই মানুষগুলোকে প্রবঞ্চনা, লোভ, উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে প্রলুব্ধ করে। যেমন ধরুন, এমন কেউ একটি ই-মেইল পেল, যেখানে লেখা অ্যাটাচমেন্টটা ক্লিক করো। জানেন কি, বেশির ভাগ কম্পিউটার (ব্যাবহারকারী) ওই প্রতারনার সঙ্গে আপ করে এবং ওই প্রবঞ্চনায় সায় দেয়! একই সঙ্গে বরং অর্থাৎ একজন হ্যাকার বা আক্রমনকারীকে তার ওয়ার্ক স্টেশনে ঢোকার সুযোগ তৈরি করে দেয় এরপর ওই হ্যাকারকে ঠেকানো সত্যিই দুষ্কর।

■ সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং কি হ্যাকিংয়ের ব্যাপারটিতে কোনো পরিবর্তন এনেছে?

ডেভিড মিটনিক : আসলে ব্যাপারটিকে অনেক সহজ করে দিয়েছে যেমন, আমি এখন লিংকড ইনে ঢুকে প্রথমে নেটওয়ার্ক প্রকৌশলিদের খুঁজে বের করতে পারি এবং সেখান থেকেই আমি আমার টার্গেটগুলোকে (টোপ গিলবে এমন টার্গেট) বছাই করে আবার ফিরে আসতে পারি। কেননা ওই নেটওয়ার্কগুলো প্রকৌশলিদের কছেই নেটওয়ার্কের পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা আছে। সে ক্ষেত্রে ওই প্রকৌশলিদের নেটওয়ার্কে টার্গেট করার মতো কাউকে তো পাওয়া যায়ই। এরপর একই ভাবে আমি টুইটার কিংবা ফেসবুকে গিয়ে চাতুরি করে ব্যাবহার কারিদের দিয়ে কিছু করানো চেষ্টা করতে পারি এবং সে সুযোগ আমার আছে। ধরুন, যদি কোনোভাবে আমি জানতে পারি যে আপনি উট পাখি পছন্দ করেন, তাহলে এমন হতে পারে যে আমি আপনাকে এমন একটা ই-মেইল পাঠাব, যেখানে উটপাখি সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। অথবা নতুন কোনো অফার থাকবে; থাকবে নতুন অনেক তথ্য। আর ওতে প্রলুব্ধ হয়ে কেউ যখনই এটা ডাউনলোড করবে, আমি তার নেটওয়ার্ক বা ফোনে ঢুকে পড়ার সুযোগ পেয়ে যাব!

■ সে ক্ষেত্রে কোনো তারকার ফোন হ্যাক করা একজন ট্যাবলয়েড রিপোর্টারের জন্য বিষয়টা কতটা সহজ?

ডেভিড মিটনিক : এটা আমাকে সত্যিই ইতস্তত করে। বেশির ভাগ সেল ফোন সংযোগদাতা তাদের গ্রাহকদের ভয়েস কলের জন্য গোপন নিরাপত্তা নম্বর বা পিন হিসেবে ১১১১ বা ১২৩৪ দিয়েদেয় (ডিফল্ট)। কোনো হ্যাকারের জন্য যা মোটেও নতুন নয়।

■ তাহলে পারফেক্ট পিন কোনটা?

ডেভিড মিটনিক : পারফেক্ট পিন কখনো চার সংখ্যার হবেনা। শুধু তাই নয়, বরং ওটা এমন একটা পিন হবে, যেটা আপনার জীবনের সঙ্গে কোনো ভাবেই সম্পর্কযুক্ত নয়। যেমন, সেটা আপনার আগের টেলিফোন নম্বর টি হবেনা। পিনটা হতে হবে এমন একটা নম্বর, যেটা আপনার জন্য মনেরাখা সহজ আথচ অন্যের জন্য ধারনা কারও কঠিন।

■ জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ, কিংবা উকিলিকস সম্পর্কে আপনার ধারনা কি?

ডেভিড মিটনিক : এটার দায় আসলে ব্র্যাডলি ম্যানিংয়ের (ইরাকে কর্মরত অবস্থায় এই মার্কিন সেনা ইউকিলিকসকে তথ্য দেয়ার জন্য গ্রেফতার হন) মত লোকগুলোর। তাছাড়া মার্কিন গোপন ব্যাবস্থা থেকে দেশের জন্য অতিগোপনিয় তথ্য 'সিক্রেট ইন্টারনেট প্রটোকল রাউটার নেটওয়ার্ক' সিডিতে ঢেলে রাখার জন্যও তো লোক নিয়োগ করা আছে। ইউকিলিকসের ব্যাপারটা আমার দেখা ও জানা মার্কিন সরকারের নিরাপত্তা ব্যাবস্থার সবচেয়ে বড় ত্রুটি ও ব্যর্থতা।

■ আপনার কোন হ্যাকিং নিয়ে আপনি গর্ব করেন?

ডেভিড মিটনিক : যখন আমি প্যাক বেল সেলুলার হ্যাক করেছিলাম, ওটাই সেরা। ওটার মাধ্যমেই আমি আমি এফবিআইয়ের এক এজেন্টের কর্মকান্ড খেয়াল করছিলাম। ওই এজেন্ট আবার আমাকে খুঁজছিল প্যাকবেল হ্যাক করেছি বলে নয়, বরং কিভাবে কাজটা হয় সেটা জানতে।

■ মানির র্যাংকিং ব্যবহার করে আপনি বসবাসের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে সেরা ১০ শহরের খোঁজ করছিলেন, লুকানোর জন্য! এফবিআই ওটা খেয়াল করেনি?

ডেভিড মিটনিক : না, আমি শুধু মানি কে আমার পছন্দগুলোর সম্ভাব্যতাটুকু যাচাইকরে দেখতে অনুমুতি দিয়েছিলাম। তবে সে ক্ষেত্রে যদি আমার কোনো নির্দিষ্ট পছন্দ থাকত এবং তা মানিকে জানাতাম, তাহলে হয়ত ওরা আমাকে খুঁজে বের করতে পারত।

■ জেলখানায় পাঁচ বছর কেটেগেল। জেলে আপনাদের (হ্যাকারদের) সঙ্গে কেমন আচরন করা হয়?

ডেভিড মিটনিক : খুব ভালো! এক কলম্বিয়ান মাদক পাচারকারি আমাকে ৫০ লাক্ষ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল জেলের নেটওয়ার্ক (বু্যরো অব প্রিজন নেটওয়ার্ক) হ্যাক করে তার ছাড়া পাওয়ার তারিখটা এগিয়ে দিতে! আমি বলেছিলাম, চলো বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করি!
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×