শিরোনাম শুনে হয়তো অনেকের বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে যে, সৌদি আরব এমন কাজ করতে পারে ? তাহলে ব্যাপারটা একটু খোলাশা করেই বলি। আপনারা হয়তো ব্যাপারটা খেয়াল করেছেন যে, সৌদি আরব প্রতি বছর প্রত্যেক ঈদের চাঁদ আমাদের আগে দেখে, আমাদের আগে রোযা শুরু করে। অনেকে হয়তো বলবেন এটাই তো স্বাভাবিক, সেই কবে থেকে এরকম হয়ে আসছে। কিন্তু কয়েকটা বিষয় চিন্তা করলে আপনার সন্দেহের তীর সৌদি আরবের দিকে ধাবিত হবে। এখানে আমি ৩ টি বিষয় তুলে ধরলাম যা প্রেক্ষিতে চিন্তা করলে একটা সূক্ষ ষড়যন্ত্রের আভাস আপনিও পাবেন। বিষয়গুলো হলোঃ (১) চাঁদ সুর্যের ন্যায় পূর্বে উদিত হয়ে পশ্চিমে অস্ত যায় (২) আমরা অর্থাৎ বাংলাদেশ সৌদি আরবের পূর্বে অবস্থিত এবং (৩) বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের সময়ের পার্থক্য ৩ ঘন্টা। এবার বিষয় ৩টি নিয়ে একটু চিন্তা করা যাক।
প্রথম বিষয় নিয়ে চিন্তা করলে বুঝা যায় যে, যদি চাঁদ পূর্বে উদিত হয়ে পশ্চিমে অস্ত যায় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সূর্যের ন্যায় পূর্বের দেশে আগে চাঁদ দেখা যাবে কিন্তু বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন। আজ পর্যন্ত কোন বছরের কোন ঈদের চাঁদই বাংলাদেশ সৌদি আরবের আগে দেখেনি অর্থাৎ বরাবর সৌদি আরব আমাদের আগে চাঁদ দেখার দাবি করে আসছে। প্রসংগত উল্লেখ্য যে, বরাবর পশ্চিমের দেশের তুলনায় পূর্বে দেশে আগে চাঁদ দেখার সম্ভবনা বেশী থাকে।
দ্বিতীয় বিষয় নিয়ে চিন্তা করলে বুঝা যায় যে, আমরা পূর্বে অবস্থিত দেশ হওয়ায় সৌদি আরবের পূর্বে আমাদের দেশে সূর্য উদিত হয় অর্থাৎ আমরা আগে সূর্য দেখতে পাই কিন্তু চাঁদের বেলায় সব সময় এই ব্যতিক্রমতা কি সন্দেহকে ঘনীভূত করেনা?
তৃতীয় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ৩ ঘন্টা সময়ের পার্থক্য হয়েও কি করে প্রতিনিয়ত সৌদি আরব আমাদের ১দিন পূর্বে চাঁদ দেখার দাবী করে। এটা কতটুকু বাস্তব সম্মত তা একটু ভেবে দেখবেন। আমার যৎসামান্য আলোচনা থেকে পাঠকগণ হয়তো এতক্ষণে একটু নড়েচড়ে বসেছেন। কিন্তু এটাই সত্য যে, সৌদি ওহাবী সরকার ইহুদী-নাছারদের গোলামীর কারণে মুসলমানদের হজ্জ সহ গুরুত্ব ইবাদতগুলো নষ্ট করার জন্য এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
এখন প্রশ্ন করতে পারেন, চাঁদ আগে পরে দেখা নিয়ে কি সমস্যা?
জবাবে বলতে হয়, মুসলমানদের অধিকাংশ ইবাদত চাঁদের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমনঃ রোযা,শবে বরাত, শবে ক্বদর, ঈদের নামায, কুরবানী, হজ্জ ইত্যাদি। একটা হাদীছ শরীফ উল্লেখ করলে আপনারা হয়তো ব্যাপারটা আরো পরিস্কার বুঝতে পারবেন। হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, আরফার ময়দানের হজ্জই হজ্জ। হজ্জের সময় ৯ই জিলহজ্জ আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকতে হয়। এখন কোন কারণে যদি চাঁদ দেখা নিয়ে ষড়যন্ত্র করে আগে চাঁদ দেখার দাবী করা হয় তাহলে ৭ কিংবা ৮ ই জিলহজ্জ আরাফার ময়দান উপস্থিত থাকা হবে ফলে সকল হাজীর হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে। সৌদি ওহাবী সরকার ঠিক এই কাজটি করছে। আসা করি পাঠকগণ এতক্ষণে চাঁদ সংক্রান্ত সৌদী ওহাবী সরকারের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারটি ধরতে পেরেছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




