পড়ছি হুমায়ূন আহমেদের 'জোছনা ও জননী' বইটি। মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা একটি বই। এখনও পড়ে শেষ করতে পারি নি। পড়ছি কেবল। বিভিন্ন দিনের উপর ঘটে যাওয়া ঘটনা উপন্যসের চরিত্রদের মাঝে দেখাচ্ছেন লেখক। আমি কেবল ২৫ মার্চ গনহত্যা পর্যন্ত এসেছি।
আহা কত সরল ভাষায় হুমায়ূন আহমেদ বলে গেলেন যুদ্ধ দিনের কথা। আর আমাদের ঐতিহাসিকরা, নেতানেত্রীরা এখনও ব্যস্ত মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু আর জিয়াকে নিয়েই। তাদের কথা শুনলে মনে হয় মুক্তিযুদ্ধ মানে ৭মার্চ, ২৬/২৭ মার্চ আর ১৬ ডিসেম্বর। শুধুমাত্র ২৫ মার্চ রাতে যে গনহত্যা হয়েছিল তা পড়লেই তো শিউড়ে উঠতে হয়। আর যে চোখে দেখেছে সে এই জীবনে কত যন্ত্রনা নিয়ে ঘুমাচ্ছে কে জানে।
নিরপরাধ লোকদের ধরে হাত-পা বেধে গুলি করা বা পানিতে ডুবিয়ে মারা তো হয়েছেই। নারীদের ধর্ষন তো বলার অপেক্ষাই রাখে না। সাথে আর যা কিছু হয়েছে তা পড়লে বা জানলে খুব অসহায় লাগে। আর এই বিশাল কার্যক্রমে বিহারীদের ছিল সর্বাত্নক সমর্থন এবং অংশগ্রহন। নারীদের উপর অত্যাচারের মাত্রার কথা জানলে মনে হয় না কোন বাংলাদেশী নারী পাকিস্তানীকে বলত 'মেরী মি'। কত বিশাল এক যুদ্ধ হয়ে গেল। আর আমরা কেবল মনে করি মুক্তিযুদ্ধ মানে ৯মাস, বঙ্গবন্ধু আর জিয়া। যুদ্ধে নেতৃত্ব অবশ্যই একটি বিশাল ব্যাপার। তবে নিরীহ লক্ষ লক্ষ মানুস যে শহীদ হল তা কি করে ভূলি?
আমার একান্ত কিছু ভাবনা:
আমি অনেক দিন ধরেই পাকিস্তানী পন্য বর্জন করে আসছি। আপনাদের কক্সবাজার যাওয়ার কথা বলেছি। আপনাদের বলা হয়নি ফ্লাইটে পাকিস্তানী এক জুস খেতে দেয়া হয়েছিল যা আমি গ্রহন করি নি। আমি যে সেলুনে চুল কাটাই সেখানে বিহারী লোকজন চুল কাটায়। যাদের হাতে শহীদ হয়েছিল নিরীহ বাঙ্গালী সেই হাতে আমার মাথার চুল কাটা কি সম্ভব? বিহারী ক্যাম্পেও মনে হয় না আর যাওয়া হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০১২ সকাল ১০:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

