বাবার সাথে সবসময় একটা দূরত্ব ছিল। কারনটা হয়ত উনি সারাদিন পড়তে বলত বলে। হয়ত সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছি হঠাৎ বলে বসল পড়তে যাও। বিশেষ করে বাসায় কোন গেষ্ট আসলে তো বলতই। আর কতভাবে যে মারা যায় তার একটি ডেমনস্ট্রেষন আব্বার কাছ থেকে পেয়েছিলাম। সেই কারনে আব্বা আমার খুব একটা প্রিয় কোনকালেই ছিল না।
এই মনোভাবটা বদলে যেতে থাকল যখন আমি বুঝতে পারলাম আমার জন্য তার মনে অনেকটা আদর ছিল। তখন আবছাভাবে মনে পড়ল খুব ছোটবেলায় আমার একবার জ্বর হল। আব্বা অনেকটা সময় আমাকে কোলে নিয়ে বারান্দায় হাটাহাটি করেছিল। আমি যখন তাদের ছেড়ে দূরে কিছুদিন ছিলাম, যতবার চলে আসতাম ততবার বাবাকে বুঝতাম কতটা ভাল তিনি আমাকে বাসেন। মাঝে মাঝে যখন জ্বর হয় তখন দেখি আমার বাবা কতটা অস্থির হয়, একদম ছোটবেলার মত। এমনকি ঐ রাতে ঘুমের কোন ঔষধও খায় না।
আমরা যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে তাদের কাছে বাবাদের একটাই চাওয়া থাকে। ছেলে-মেয়ে যেন ভাল লেখাপড়া করে। আমি আমার আব্বার এই ইচ্ছার সামান্য তম মর্যাদাও রাখি নাই।
এখন আমি আর আমার আব্বা খুব ভাল বন্ধু। প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফিরেই শুরু হয় আব্বা-আম্মার সাথে আড্ডা। আমার এখনের সব কথা, প্ল্যান, ইচ্ছা সবই তাদের সাথে শেয়ার করি। আমার আব্বার কিছু মুদ্রা দোষ ছিল। এখন আমি ঐসব বাসায় প্রাকটিস করি আর আব্বার সাথে মজা করি।
আজকের বাবা দিবসে পৃথিবীর সব মমতাময় বাবার জন্য বিনম্র শ্রদ্ধা।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০১১ দুপুর ২:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




