আমাদের দেশে হাজারো সমস্যা। প্রতিদিনই এসব সমস্যা নিয়ে যুঝতে যুঝতে আমরা কাহিল। প্রতিদিনই সরকার বা প্রশাসনের মুন্ডুপাত করছি, টকশো, পেপারিং, মানববন্ধন কত কিছু করছি। কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাদের দায়িত্ব কি তাই মনে হয় জানেন না। তাদের জানানোর সব চেষ্টাই প্রায় বৃথা যেতে বসেছে।
ভারতীয় চ্যানেলে একটি এড দেখেছিলাম। স্কুলের স্টুডেন্টরা সবাইকে লিফলেট দিচ্ছে। কেউ পড়ছে না। তখন একজন বুদ্ধি দিল লিফলেটটি দুমড়িয়ে দিতে। দেখা গেল তখন কাজ হচ্ছে।
আমাদের বিল্ডিংয়ের ২য় তলার বাসিন্দা প্রতিদিন আমাদের বলতেন ড্রাইভওয়ের ছাদে যেন কিছু না ফেলি। আমরা কানেই নিতাম না। একদিন তিনি কিছু ফুলের টব এনে সেখানে বসিয়ে দিলেন। তখন আপনা আপনি আমরা ময়লা ফেলা বন্ধ করে দিলাম।
একসময় একটা অংক করতাম বাজারে কোন পন্যের মূল্য ২৫% বেড়ে যাওয়ায় আমাদের তার গ্রহন কতটুকু কমাতে হবে? একবার রোযায় মরিচ/বেগুনের দাম অনেক বেড়ে গেল। আমরা অফিসে এ নিয়ে বিস্তর আলাপ করছি। আমাদের এক কলিগ বলল মরিচ/বেগুনের দাম বাড়লে এগুলো খাওয়া বন্ধ করে দিন। এগুলো তো আর খেতেই হবে এমন না।
আমাদের সময় এসেছে উল্টো করে ভাবার। দেশ আমাদের, পথ আমাদের। নিরাপত্তা তাই আমাদের। আমরা আর সরকারের দিকে ফিরে থাকব না। যা কিছু করার আমাদেরই করতে হবে। তার মানে এই না যে আমরা সরকারী দায়িত্ব কাধে তুলে নিব বা আইন হাতে তুলে নিব। আমি শুধু নিজেদের জন্য কিছু ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছি।
পথঘাটের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা এত কথা বলি। কখনও কি ভেবেছি আমি কিভাবে রাস্তা পার হই। অথবা আমার গাড়ী রাস্তায় কিভাবে চলে? বহুবছর ধরে ইলিয়াস কাঞ্চন বলে চলছেন নিরাপদ সড়কের কথা। কতজন তা কানে তুলেছেন? এই ঈদেও হয়ত দেখা যাবে বাস এক্সিডেন্ট, নৌকাডুবি . . .. . প্রানহানি। হাইওয়েতে যেসব এক্সিডেন্ট হয় তার বেশীরভাগ কারন অবশ্যই রাস্তা বা চালকের। জীবনটা যেহেতু আমার তাই আমিও একটু চিন্তা করি। আরেকটু সচেতন হই। জিরো রিস্কে থাকার চেষ্টা করি। একটা কবিতা আছে না -
কত হাজার মরলে পরে মানবে তুমি শেষে
বড্ড বেশী মানুষ গেছে বানের জলে ভেসে।
আমাদের অবস্থাও এখন এমন। আরও কত বড় আঘাত আসলে আমরা বুঝব সমাধানের পথে আমাদের হাটতে হবে। প্রতি পরিবারের একজন করে হারালে বুঝব?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

