somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের ক্রিকেটঃ কিছু টার্নিং পয়েন্ট এবং স্মৃতিচারণ ৩

৩০ শে মে, ২০১৩ বিকাল ৪:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১ম পর্বের লিঙ্ক- Click This Link

২য় পর্বের লিঙ্ক- Click This Link

শ্রীলঙ্কার সাথে সাকিবের ৯২* (৬৯)

এই ম্যাচের আগে সাকিবকে এরকম মারমার কাটকাট ব্যাটিং করতে দেখিনি। ও আগে নিয়মিত রান করত, কিন্তু এরকম এক্সপ্লোসিভ ব্যাটসম্যান ছিল না। হঠাৎ করেই যেন রূদ্রমূর্তি ধারণ করে সাকিব। ট্রাইনেশন সিরিজে বাংলাদেশের অবস্থা তখন খারাপ। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের সাথে হেরে গিয়ে ফাইনালের আগেই বিদায় নেয়ার দারপ্রান্তে আমরা। বাংলাদেশে খেলা অথচ ফাইনাল খেলবে জিম্বাবুয়ে আর শ্রীলঙ্কা-এটা মেনে নেয়াই কষ্টকর। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতেই হবে। আর হারানোর দায়িত্ব নিলো সাকিব।

ভার্সিটি খোলা। ক্লাস যখন চলছে তখন শ্রীলঙ্কা ব্যাটিঙে। বৃষ্টিবিঘ্নিত ৩১ ওভারের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ১৪৭ রান তোলে শ্রীলঙ্কা। রুবেল এই ম্যাচে স্লগ ওভারে দারুণ বল করে ৪ উইকেট পায়। কিন্তু এই টার্গেট সহজ নয়। একে তো পিচ খুব একটা ব্যাটিং সহায়ক নয়, তার ওপর আবার বৃষ্টি। শুধু তাই নয়, আমাদের জিততে হবে বোনাস পয়েন্টসহ। নাইলে ফাইনাল খেলবে জিম্বাবুয়ে আর শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশের ব্যাটিং যখন শুরু হয় আমি তখন রাস্তায়, ভার্সিটি থেকে ফিরছি। বাসায় ঢুকে দ্রুত টিভিতে স্কোর দেখলাম। অবস্থা সুবিধার না। ৪৮ রানে ৩ উইকেট। সাকিব ধুমায়া পিটাচ্ছে। কিন্তু জিতব কিনা বুঝা যাচ্ছে না। সাকিবের দুইটা শর্ট এখনো আমার চোখে ভাসে। প্রথমে কুলাসেকারাকে একটা স্কুপ করে ফাইনলেগ দিয়ে চার মারল। পরের বলে পয়েন্টের ওপর দিয়ে দুর্দান্ত আপার কাটে ছয়। মুরালি আর মেন্ডিসকে ও যেভাবে খেলল, আমি রীতিমত মুগ্ধ। সাকিব তার ট্রেডমার্ক স্লগ সুইপে মুরালিকে মিড উইকেট দিয়ে চার মারল দুই তিনবার। মুরালি মিড উইকেটে এক্সট্রা ফিল্ডার নিল। যার ফলে অফসাইডে বাউন্ডারিতে কোনো ফিল্ডার নেই। সাকিব স্ট্যাম্প থেকে সরে অফসাইডে জায়গা করে এবার কাভার দিয়ে চার মারল। দারুণ সব ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নিচ্ছিল, আর প্রায় সবই পেইড অফ হচ্ছিল। এতটা ম্যাচিওরড ইনিংস আমি এর আগে বাংলাদেশের কারো কাছ থেকে দেখিনি। এমনকি আমি এত আশাবাদী সাপোর্টার হয়েও এই ধরণের ইনিংস এদেশের কারো কাছ থেকে আশা করিনি। আমার সমবয়সী এই ছেলেটার দারুণ ভক্ত হয়ে যাই আমি।

এরপর আসল সেই ফাইনাল। আবার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ। সম্পূর্ণ পকেটে ঢুকে যাওয়া ম্যাচটা আমরা হারলাম। মুরালি অবিশ্বাস্য একটা ইনিংস খেলেছে ঐদিন। অথচ ও যখন রুবেলকে প্রথম দুইটা চার মারল, আমি খুশিই হয়েছিলাম। ভাবছিলাম আরে কয়টা আর টাইমিং করবি, মারতে থাক, আর দুএকটা মারলেই বল আকাশে উঠবে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে মুরালির প্রতিটা বলই ব্যাটের মাঝ ব্ল্রেডে লেগে বাউন্ডারির বাইরে গেল। যাও একটা টপ এজ হল, তাও কিপারের মাথার ওপর দিয়ে চার।

সাকিবের এই ইনিংসের মাধ্যমে আমরা আরেকজন সত্যিকার ম্যাচ উইনার পাই। এর আগে সাকিব ছিল অনেকটা হাবিবুল বাশারের টেস্ট ভার্সন টাইপ। বাশার টেস্টে নিয়মিতভাবে রান করে গেছে। ২৩টা ফিফটি, সাথে ৩টা সেঞ্চুরি। কিন্তু বেচারা প্রায় ৩০০০ এর বেশি টেস্ট রান করেও একবারও ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়নি। অথচ যেই গুল্লুকে নিয়ে আমরা এত হাসি তামাশা করি, সেই গুল্লু টেস্টে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়েছে। এমনকি ইংল্যান্ডে বাংলাদেশের প্রথম সফরে বাংলাদেশের পক্ষে ম্যান অফ দ্য সিরিজও হয়েছে! সাকিবও ছিল অনেকটা সেরকম। রান করত নিয়মিত, কিন্তু প্রতিপক্ষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে যে রান করার একটা ব্যাপার আছে, ওর ব্যাটিঙের সময় প্রতিপক্ষ অধিনায়ক বারবার ফিল্ডিং পরিবর্তন করবে, কনভেনশনাল ফিল্ডিং সেট না করে একটু ভিন্ন ধরণের ফিল্ডিং সেট করবে-এই ব্যাপারগুলি ছিল না। এই ইনিংসের মাধ্যমে তার ব্যাটিং অনেক পরিবর্তন এসেছে। আমরা একজন পারফেক্ট ম্যাচ উইনার পেয়েছি। যে কিনা আমাদের পরবর্তিতে অনেক দুর্দান্ত জয় উপহার দিয়েছে।

(চলবে)

©Muhit Alam
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

প্রতিটি শিশুর মৃত্যু রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার একটি নির্মম দলিল।
ইউনূস ক্ষমতা দখল ছিল লুটের উদ্দেশ্যে। কেন শিশুদের টিকা দেয়া হয় নাই? তাদের দায়িত্ব ছিল টিকা পৌঁছে দেওয়া, জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গার্মেন্টসের ভিতরে লুকানো বাস্তবতা—যা আমরা কখনো দেখি না

লিখেছেন Sujon Mahmud, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



সকাল ৬টা। ঘুম ভাঙার আগেই যেন জীবন তাকে টেনে তোলে। রহিমা চোখ খুলেই কিছুক্ষণ ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। মনে হয়—
আরেকটা দিন, আবার সেই একই লড়াই।

রহিমা একজন গার্মেন্টস কর্মী। বয়স মাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×