আমার প্রিয় পোস্ট

পচা কথা বলি। আবালেরা অফ যাও।

আদমচরিত 03

২১ শে এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৮:১৩

শেয়ার করুন:                   Facebook


আদম মনে মনে হাসে।

হুঁ হুঁ বাওয়া, একদম নিখুঁত পিলান! জ্ঞানবৃক্ষের ফল আদম খেয়েই ছাড়বে, সে ঈশ্বর যত 144 ধারা জারি করুন না কেন।

আদম নিজের ভবনে বসে হাওয়া খেতে খেতে অনেক গবেষণাই করেছে। জ্ঞানবৃক্ষের বিশ হাতের মধ্যে যাওয়া নিষেধ, এক ভীষণদর্শন তাগড়া স্বর্গদূত লাঠি হাতে সে বৃক্ষ পাহারা দেয়, পশুপক্ষী কারো সাধ্য নেই জ্ঞানবৃক্ষের কাছে গিয়ে তার ফলে মুখ দেয়।

আদম মহা বিরক্ত জ্ঞানবৃক্ষ নিয়ে এসব ফালতু বিধিনিষেধে। আরে বাবা, ফল যদি না-ই খাওয়া, তো ঐ ফল সৃষ্টির দরকারটা কী? জ্ঞানবৃক্ষের ফল খেলে তো জ্ঞানই বাড়ার কথা, আর জ্ঞান বেড়ে গেলে ঈশ্বরের সমস্যাটা কোথায়?

সেটাও ভেবে বার করেছে আদম। ঈশ্বর তাবৎ সৃষ্টিকে বোকাচো-- বানিয়ে রাখতে চান। কারো জ্ঞান পেকে উঠুক সেটাই তিনি চান না। তবে জ্ঞানবৃক্ষের ফল কেন বানানো হয়েছে ভেবে পায় না আদম।

স্বর্গদূতরা যে জ্ঞানবৃক্ষের ফল মাঝেসাঝে খায়, সেটা আবিষ্কার করে মহা ক্ষেপে গিয়েছিলো আদম। এই ফল খেলে নাকি কীসব শক্তি বৃদ্ধি পায়, দূতগুলো ফল খেয়ে স্বর্গের অপ্সরাগুলোর সাথে রাতভর হুল্লোড় করে। আদম তাই ঠিক করেছে, চুপিচুপি ফল পেড়ে এনে খেয়ে সে-ও ঈভের সাথে হুল্লোড় করবে। এমনিতে ঈভ কিচ্ছু করতে দেয় না, কিন্তু জ্ঞানবৃক্ষের ফল খেলে জোশ অনেক বেড়ে যায়, তখন ঈভের সাধ্য নেই আদমকে ঠ্যাকায়।

কিভাবে ফল হস্তগত করবে, ছকে ফেলেছে আদম। পাহারাদার স্বর্গদূতটার সাথে ষড় করে রেখেছে সে, এমনকি ওর লাঠিটা দিয়ে গুঁতিয়েই ফল পাড়া হবে। আধাআধি বখরা হবে, তাতে আদমের আপত্তি নেই। রক্ষক তো ভক্ষক হতেই পারে, সমস্যা কোথায়? খাক সবাই, খেয়ে দেয়ে জ্ঞান বাড়াক, জোশ বাড়াক ...।

ধরা পড়ার ভয় আছে, কিন্তু আদম ভেবে রেখেছে সে দিকটাও। ঈশ্বর কৈফিয়ৎ চাইলে সে বলবে, ঈভই তাকে এ ফল পেড়ে এনে খেতে ফুসলি দিয়েছে, মুহুহুহুহুহু ... আদম অশ্লীল হাসে, তার মনে আজ বড় ফূর্তি।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি  বিভাগে ।

 

  • ৪ টি মন্তব্য
  • ৪৬৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৮:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: জ্ঞানবৃক্ষের এই যদি মহিমা হয় তাইলে নিউটন, আইনস্টাইন কি ফল খেতেন?

সৃষ্টিকর্তারই বা এ কেমন ইনসাফ! অবুঝ সৃষ্টিকে জ্ঞানের নামে 'জোশ' বাড়ানো শেখায়
২. ২২ শে এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৮:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: এই সব নাস্তিক প্রশ্ন করতে হয় না সর্বংসহা ভাই।
আইনস্টাইন নিউটন এরা নিয়মিত কোরান পইড়া এই সব তত্ত্ব আবিস্কার করছে এই খবর রাখেন মিয়া?
ওগোর কফিনেও এক কপি কোরান দেওয়া আছে, কবরের ফেরেশতা যখন প্রশ্ন করবো তখন চোস্ত আরবিতে উত্তর দেওয়ার জন্য ওরা সৈদি আরব থেকে লোক আইনা আরবি ভাষা শিকছে, এই সব গোপন খবরগুলা আপনের কাছে ফাঁস কইরা দিলাম। স্কুপ
৩. ২৪ শে এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৪:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেই বুঝি নাস্তিক হয়? তাইলে যাই হিজাব দিয়ে চোখ কান ঢাকি! আপনার স্কুপে স্কুপানি্নত হইলাম ;) এখন যদি দয়া করে আমারেও আরবী উত্তরগুলা শিখায়া দেন তাইলে কৃতজ্ঞ থাকি! আমার দৌড় আবার "কাইফা হালুকা" পর্যন্ত
৪. ২৬ শে এপ্রিল, ২০০৬ রাত ১০:০৪
comment by: অতিথি বলেছেন: ... তা বলি কি দাদা, সেই হুল্লোড় এর ঘটিকা কখন আসবে? বেলা যে পড়ে এলো, শুরু করেণ আদম আব্বার চতুর্থ পার্ট! আমরা পাঠককুল, বড়ই বেচৈন আছি জ্ঞানবৃক্ষের ফলের কার্যক্ষমতা সম্পর্কে জানতে....

 



 


তোমরা শুধায়েছিলে মোরে ডাকি
পরিচয় কোনো আছে নাকি,
যাবে কোনখানে।
আমি শুধু বলেছি, কে জানে।
...
সেই গান শুনি
কুসুমিত তরুতলে তরুণতরুণী...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২০৭৯৫