somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১লা ডিসেম্বর ও একটি কাল্পনিক গল্প

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০০৯ রাত ১০:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটি একটি পুরনো লেখা। এই লেখাটি লিখেছিলাম ১লা ডিসেম্বর। পোস্ট করেছিলাম ৫ ডিসেম্বর। কিন্তু এখন কেন আবার এই পুরোনো লেখা? তখন আমি জানতাম না কি করে প্রথম পাতায় লেখা পাঠাতে হয়। মাত্র কাল জেনেছি। তার জন্যে ভাঙ্গা পেন্সিলকে ধন্যবাদ। তাই এটা আমার পরীক্ষামূলক প্রচেষ্টা বলতে পারেন!! ধন্যবাদ সবাইকে।


ছোট ছোট টিনের ছাউনি দেওয়া খুপরি মতন অনেকগুলো ঘর। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের শখের নাম 'ডর্মেটরি'। এখানে শখ নেই, এখানে স্থুল বাস্তবতা। কয়েকটি ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ, বাকিগুলোর সামনে বেশ কয়েকজন নারী। কারো বয়সই ৩০-এর বেশি হবে না। কয়েকটি ১২- ১৪ বছরের বালিকাকেও দেখা যাচ্ছে। প্রত্যেকের শরীরে কেমন যেন একটা হেরে যাওয়া মানুষের প্রতিচ্ছবি। সবারই মুখে প্রচুর পরিমাণ পাউডার দিয়ে সাদা হওয়ার চেষ্টা, আর ঠোঁটে লাল লিপস্টিক-এর ছোঁয়া। কয়েকজনের মুখে আবার কিছুটা লেপ্টানো। বাইরে বাজার। হই-হট্টোগোল। ভেতরে এর রেশমাত্র নেই। রয়েছে শুধু কোন একজনের আসার অপেক্ষা। আর কেউ এলেই তাকে নিয়ে টানা-হেঁচড়া। এ যে রুটি-রুজির প্রশ্ন। তাই সবাই শকুনের মত তক্কে তক্কে থাকে কোন একজনের আসার জন্যে। কেউ এলেই হল। তাকে নিয়ে কাড়াকাড়ি। হোক সে ৫০ বছরের বৃদ্ধ, ২৫ বছরের যুবা কিংবা ১৮ বছরের সদ্য কৈশোরউত্তীর্ণ কেউ। সবাই এখানে সমান। সবাই এখানে খরিদ্দার।

হঠাৎ মূল গেইট খোলার শব্দ শোনা যায়। একে অপরের দিকে আড়চোখে দেখে সবাই। দুইটি ছায়া এগিয়ে আসতে থাকে। কাছে আসার পর একজনকে চেনা যায়। ৩৫ বছর মত হবে। বাধা। প্রায়ই আসেন। এমনভাবে এগিয়ে আসতে থাকেন, পুরো পাড়া-ই তার নিজের হাতের তালুর মতই চেনা। তাকে দেখে একজনের মুখে ঈষৎ হাসি ফোটে। নীরবে ঘরে ঢুকে দরজা ভেজিয়ে দেয় সে। লোকটি-ও তার পিছু পিছু ঘরে ঢোকে।
ভেতরে কিছুক্ষণ হাসির আওয়াজ, কিছুটা হুটোপুটির শব্দ পাওয়া যায়। তারপর কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর...

পেছনের কথা:
বিকেল প্রায় ৪ টা। নিজাম সাহেব আজ খুব ব্যস্ত। সারাদিন আজ মিছিল, মিটিং, সেমিনার। 'বিশ্ব এইডস দিবস'-এর জন্যে আজ সারা শহর সাজানো হয়েছে। সর্বত্র একটি লেখা, 'বাঁচতে হলে, জানতে হবে'। এই স্লোগানকে সামনে রেখে আজ নানা অনুষ্ঠান। এগুলোর কয়েকটায় তিনি প্রধান অতিথি। "আমাদের আসলে সবার সাথে এ বিষয়গুলো নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করা উচিত। এগুলো আসলে লুকোনোর বিষয় নয়। আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তার জন্যে এইডস নিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে হবে। তাদেরকে বিজ্ঞানমনস্ক ব্যাখ্যা দিতে হবে। তা না হলে এ যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে। আর এক্ষেত্রে আমাদের সেলুন ও পতিতাপল্লীগুলোতে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।"
হাততালি আর থামেই না। খুব প্রসংশা পান নিজাম সাহেব তার স্পষ্ট বক্তব্যের জন্যে।
বক্তব্য শেষ করেই তিনি বেরিয়ে পড়েন। একাই রিকশা নেন। বাজারের একটু দূরে নেমে একটা পান কিনে হাঁটতে থাকেন কিছুটা উদ্দেশ্যহীনভাবেই। এরপর হঠাৎ যেন কিছু একটা মনে পড়েছে এমন ভাব করে ঢুকে পড়েন ভেতরে।

ভেতর থেকে নারীকন্ঠের আওয়াজ ভেসে আসে, "এটা ছাড়া আমি আপনার সাথে নাই। কাইল এক আপায় আইছে, উনি কইছে। নিরাপদ থাকতে হলে আর সুস্থ থাকতে হলে এর কোন বিকল্প নাই।"
রেগে ওঠেন তিনি, "কী?? তুই আমারে বিশ্বাস করস না?? আমার অসুখ??"
"আমি কী তা বলছি?? সবাই কয়, আমি শুনছি। আপনি অসুস্থ। তাই আপনি এখানে, আমার কাছে আসেন। আমি আর আপনার সাথে নাই।"
"তোর.. তোর.. মুখ আমি ভাইঙ্গা দিব। আর কে আসছিল কাল?? কোন এনজিও থেইকা আসছিল ক.." মুখ দিয়ে আর কথা বেরুচ্ছিল না নাজিম সাহেবের। শুধু গালি-গালাজ করে যাচ্ছিলেন। একটা সময় আর কথাই বলতে পারলেন না। হাঁপানী উঠে ওখানেই বসে কোঁকাতে থাকলেন।
করুণার চোখে তার দিকে চেয়ে থাকলো মেয়েটি। পান খেয়ে লাল করা ঠোঁট থেকে ফিক করে পানের পিক ফেলে আর এক দিকে চেয়ে থাকল সে।
একটু পর, হয়ত বেশ কিছুক্ষণ পরই হবে। একটি মেয়েকে বের হতে দেখা যায় পাড়া থেকে। পরদিন পাশের নদীর ঘাটে একটি মেয়ের লাশ ভেসে থাকতে দেখা যায়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছিল। তাই কে বেরিয়েছিল তা আর বোঝা যায়নি।
হয়ত ঐ মেয়েটিই হবে। অথবা হবে নাজিম সাহেবের মত কিছু মানুষের প্রতারণার শিকার হওয়া সমাজের অচ্ছ্যুৎ কোন মেয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সকাল ১০:২৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×