somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন থেকে নেয়া -১

০১ লা অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



উচ্ছন্নে যাওয়ার শুরু ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পদার্পনের সাথে সাথেই। গ্রামের স্কুলের ফার্স্টবয়, শহরের ভালো কোনো কলেজে ভর্তি হবে এটাই ছিল সবার প্রত্যাশা। কিন্তু সে আশায় জল ঢেলে ভর্তি হলাম বাড়ির পাশের নিজামপুর কলেজে। এই আশায় যে অন্তত খেয়ে পরে ক্লাস করা যাবে!
ফার্স্ট ইয়ার, ড্যাম কেয়ার! যে ক্লাসে স্যার থাকে তাতে ছাত্র যায়না, আর যেটাতে ছাত্র যায় তাতে স্যার আসেনা! তবে একটা ক্লাস কেউ মিস দিতোনা, সবাই হাজির হত, এমনকি দাঁড়িয়েও ক্লাস করতে হতো আর তা ছিল বাংলা মেডামের ক্লাস। শহুরে মডার্ন রূপবান ম্যাডাম ছিলেন বলেই হয়তো!
প্যান্টের পিছনের পকেটে একটা পাতলা খাতা রোল করে ঢুকিয়ে নিয়ে ক্যাম্পাসে যেয়েই শুরু হয়ে যেত আড্ডা। মাঝে চলতো পাশের স্কুল মাঠে ক্ৰিকেট অথবা খ্যাপ খেলা। ক্রিকেট তখন আবার দারুন জনপ্রিয়। সদ্য বাংলাদেশ বিশ্ব কাপ খেলে এসেছে। ছেলেপেলেরা হাঁটার সময়ও স্বাভাবিক হাঁটা ভুলে হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে হাঁটে! সারাদিন আড্ডা উড্ডা মেরে বিকেলের দিকে ফিরতাম এবং ফেরার সময় প্রায়শই খাতাটা আর খুঁজে পেতামনা!

দেখতে দেখতে ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল এসে গেলো। পরীক্ষা দিতেই হবে নতুবা সেকেন্ড ইয়ারে যাওয়া যাবেনা। কি করি, কি করি। এ দিকে হঠাৎ আবিষ্কার করলাম কয়েকটা সাবজেক্টের আমার সব বইই কেনা হয়নি! বিশেষতঃ জ্যামিতি। বাল্য বন্ধু আরিফের কাছে ধার চাইলাম কিন্তু পরীক্ষার আগে আগে কেউ কি তাতে রাজি হয়?
শেষে পরীক্ষার গ্যাপে গিয়ে লাইব্রেরি থেকে পাশ করলে টাকা দিবো এই শর্তে বাকিতে জ্যামিতি বই আর সমাধান কিনে সারারাত অংকের হিসেব মিলালাম। হিসেব এমনি মিললো যে তাতেই অংকে হাইয়েস্ট মার্ক্স্! আমাকে আর পায় কে? ভালো ছাত্রের একটা তকমা পেয়ে গেলাম। আড়ালে কিছু মেয়ে কেমনে কেমনে যেন তাকায়!

সেকেন্ড ইয়ারে আর ভুল করিনি। সময় মতোই বই কিনেছিলাম।
রাজনৈতিক হাউকাউ, হরতাল, শিক্ষকদের ধরমঘট না না কারনে কলেজে ক্লাশ হওয়া আল্মোস্ট বন্ধই ছিল বলা যায়। আগে ছাত্ররা ক্লাশে আসতোনা, আর এখন চাইলেও ক্লাশ হচ্ছিল না। কোচিং করাটা খুব জরুরি হয়ে পড়ল। বন্ধু আরিফকে বলতেই বলল-"নানা, এখন আমার কোচিং এ যাওয়ার মতো হাতে বাডতি সময় নেই। সামনে ক্রিকেট মৌসুম "। উনি আবার তখন বাংলাদেশ জাতীয় দলের চট্টগ্রাম শাখার ট্রায়ালে ব্যাপক ব্যাস্ত!

যাইহোক আরও দুচারজন মক্কেলকে নিয়ে ভাবছি কই ভরতি হওয়া যায়। সব বিষয়েরি তিন চারজন শিক্ষক। বাছাই করা দায়। হঠাৎ শুনলাম প্রথম কিছু ক্লাশ ট্রায়াল হিসেবে ফ্রি। আর পায় কে?! একেকদিন একেক স্যারের শিষ্য হওয়া শুরু করলাম। টাকার কথা হলে বলতাম, ট্রায়ালে আছেন স্যার, সিলেক্টেড হলেই বলব!ওদিকে আমি মনে মনে খুজছিলাম বাংলা ম্যাডামের কোনো কোচিং আছে কিনা!

এভাবে আর কত। শেষে নিমোক্ত নিয়ামকের উপর ভিত্তি করে সিলেক্ট করেই ফেল্লামঃ

১. যার ক্লাশে ছাত্রি সব থেকে বেশি, একজন বলে-'ছাত্রিদের ব্যাচে হলেই সব থেকে বেশি পাওয়া যেত'

২. বেতন কম

৩. ফাকি বেশি মারা যাবে

৪. ক্লাশ টিচার

এদিকে আমরা যখন কোচিং স্যার খুজে বেড়াতে ব্যাস্ত, তখন বানিজ্যের আমাদেরি আরেক স্কুল ফ্রেন্ড ব্যাস্ত নিজেরি কোচিং সেন্টার খোলা নিয়ে! তার হাতে নাকি নাইন টেনের প্রচুর স্টুডেন্ট। বেশিরভাগি ছাত্রি। সে এক এলাহি কাজ কারবার, অইটা আবার আরেক বিশাল এবং মজার কাহিনি।

যেকোনো কোচিং এ ভরতি হওয়ার একটাই যোগ্যতা থাকা উচিৎ আর তা হল বেতন দেয়ার ক্ষমতা বা ইচ্ছা। তো আমার বন্ধু তার কোচিং এ ছাত্র ভর্তি করছিল এইসব শর্তের বিনিময়েঃ

১. মিনিমাম ক্লাশ নাইন

২. প্রত্যেক ছাত্রকে এটলিস্ট একজন ছাত্রি আন্তেই হবে, দুজন আনলে নিজের ফি মাপ

৩. ছাত্রিদের ফি অইচ্ছিক বা শিথিলযোগ্য

৪. নো কম্বাইন্ড ব্যাচ

৫. ছাত্রকে ওর চেয়ে মেধাবী হওয়া চলবেনা এবং

৬. অগ্রিম বেতন

পরে অবশ্য আমার পরামর্শক্রমে কম্বাইন্ড ক্লাশ দিতে বাধ্য হয়েছিল কারন মেয়েরা আলাদা পড়ে বলে ছাত্ররা বিদায় নিচ্ছিল। খালি নিজেরটা দেখলেতো হবেনা তাইনা!

যাইহোক, ভাল-মন্দ মিলিয়ে সময়টা ভালই কাটছিল। এর মধ্যে হঠাত মাথায় একটা দুস্ট বুদ্ধি এলো। সহায়তায় এগিয়ে এলো সকল দুস্টামির আরেক বাল্য সাথি আর তা হল ফাও দাওয়াত খাওয়া। বিয়ে, জন্মদিন, মেজবান চেহলাম কোন কিছুই বাদ যাচ্ছিল না। বন্ধুদের চোউদ্দগুস্টির মধ্যে কোন দাওয়াতের খোজ পেলেই সদলবলে অনাকাংখিত শুভাকাংখি হিসেবে হাজির হতাম আর এমন আচরন করতাম যেন জম্নের তরের আত্ত্বিয়! হলুদের রাতে উদ্দাম নাচা, বিয়ের দিন গেট ধরা, লেডিস গেস্টদের আপ্যায়ন সব এমনভাবে করতাম যে মুরুব্বীরা পরযন্ত সমিহ করত। আর কনে বিদায়ের সময় কনেকে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না, আহ! বলায় বাহুল্য, বরাবরের মত নিজেদের খুব আপন মনে করে গীফট দেয়ার কথা প্রয়োজন মনে করতাম না। তবে ইন দি এন্ড, হোস্ট কিন্তু মজাই পেত।

মনে পড়ে একবার এক বিয়ের দাওয়াতে বন্ধু নিলয় হলুদের রাতে বিশাল এক কান্ড ঘটিয়েছিল। বরাবরের মত আমরা সবাই অনাহুত অতিথি হিসেবে সদলবলে হাজির। বন্ধু নিলয়ের এক মেয়েকে ভীষণ মনে ধরেছে। বারবার তার চোখাচোখি হবার চেস্টা করছে, পাশে পাশে ঘুর ঘুর। পরে জানা গেল অইটাই কনে!

দেখতে দেখতে ইন্টার পরীক্ষা এসে গেলো। ইন্টার পরিক্ষায় ভালোই করলাম। আর সবশেষে আবারো প্রমান করতে পারলাম নিজেরি প্রদত্ত একটা চিরন্তণ সত্যবাণী - 'চট্টগ্রাম কলেজ, ঢাকা কলেজ বা আরো যা ভালো ভালো নামি কলেজ, তারা ভালো করে ভালো কলেজ বলে নয়, দেশের সব ভালোরা সেখানে পড়তে আসে বলে।'

পাঠক চাইলে চলবে....

(দয়া করে বানানের ভুল নিজ ভুলে ক্ষমা করে দিবেন)
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:২৯
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তুমি আছ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩৯




এই পৃথিবীতে তুমি কোথায় আছ প্রজাপতির মত ?
হৃদয়ে কি দু:খ জাগে উত্তাল ঢেউয়ের মত কত
দেখ মধু মঞ্জুরী লতায় ফুল ফুটেছে তোমার আশায়
তুমি কি ছুঁয়ে দিবেনা তারে তব ভালোবাসায়।

এই পৃথিবীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি মানবে ইসরায়েল

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১

অনিচ্ছা নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি মানবে ইসরায়েল: সিএনএন।

রাতভর উৎকণ্ঠার পর অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই খবরে বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম।
যুদ্ধবিরতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

=সবাই যে যার মত নিঃসঙ্গ=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৮



নিস্তব্ধ রাত অথবা দিনের দুপুর
যখন একাকি আনমন
নিঃসঙ্গতা এসে চোখে দাঁড়ায়, কোথাও কেউ নেই;
হতে হয় নিমেষই নিঃসঙ্গতার কাছে নমন।

কেউ আসে না মনের ঘরে
খোঁজ নিতে দেয় না কেউ উঁকি;
স্মৃতিঘরে ফিরে যেতেও চাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেপাল সিরিজ ১ঃ শিক্ষায় নুতন চেষ্টা

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:৩৬

আসেন নেপালের নুতন সরকার এসে ১০০ দিনের যে পয়েন্ট গুলো ঘোষনা দিয়েছে তার মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা এই কয়েক দিনে কি করলো, জানি! অন্যান্ন পয়েন্ট নিয়েও লিখবো, আজকে শুধু শিক্ষা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলের "ঘাস কাটা" এবং "মাটির স্তর সরিয়ে ফেলা" কৌশল

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৩৩


পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ কিছুদিন আগেই ট্রাম্পের নাম নোবেল পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। ট্রাম্পের এই ভৃত্যসুলভ মিত্র মধ্যস্থতা করে আমেরিকা-ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছে - এই খবর শুনে মনে সংশয় তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×