হুমায়ুন আজাদের জন্মদিনে তাঁর ‘ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল’ উপন্যাসের কিছু অংশ...
২৮ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ৮:৩৪
জেনারেল উদ্দিন মোহাম্মদ
বড়ো ভাঁড়টি বেশ নায়ক হয়ে উঠছে, দিন দিন ঘটছে তার নানা রঙের বিকাশ, এভাবে চালাতে পারলে, পারবে বলেই মনে হচ্ছে, সে মহানায়ক হয়ে উঠবে কোনো এক ভোরবেলা। দশকে দশকে এখানে একেকটা উৎকট পরিহাস নায়ক হয়ে দেখা দেয়, এর আগেও একটিকে দেখেছে রাশেদ, তার আগেও দেখেছে একটিকে, তারও আগে একটিকে দেখেছে, বেঁচে থাকলে পরেও একটিকে দেখবে, তার পরেও একটিকে দেখবে। প্রথম একটা খুব জরুরি কাজ সে করেছে, ঠিকঠাক ক’রে নিয়েছে নিজের নামটা; মোহাম্মদ ছলিমউদ্দিন নাম মানায় না প্রধান সামরিক আইন প্রশাসককে, যে একটার পর একটা রাষ্ট্রপতি রাখতে পারে, যেগুলোর নাক ঘষতে পারে বুটের গোড়ালি দিয়ে, যে একটার পর একটা উপদেষ্টা রাখছে, যেগুলো করছে তার চাকরের কাজ, কোনোটিকে দিয়ে রাস্তা ঝাঁড়ু দেয়াচ্ছে কোনোটিকে দিয়ে মুজো ধোয়াচ্ছে কোনোটিকে দিয়ে পা টেপাচ্ছে; নিজের নামটা ভেঙে পেছনের দিকটা আগে এনে, আর ছলিমের বানান আধুনিক রীতিতে সংস্কার ক’রে সে হয়েছে জেনারেল উদ্দিন মোহাম্মদ সালিম। ভাঁড়টার প্রতিভায় রাশেদ মজা পাচ্ছে যেমন অনেকে, রাশেদ ভাবছে ওকে একটা পিএইচডি বা পিউবিক হেয়ার ড্রেসার উপাধি দেয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে, হয়তো এ সম্পর্কে কোন উপাশ্চার্য চিন্তাভাবনাও করছেন। উপাশ্চার্য শব্দটি চমৎকার, জিপ্পুদের বেশ মানায়। পত্রিকায় তার নতুন নাম ছাপা হচ্ছে বড়ো বড়ো অক্ষরে, আরো বড়ো বড়ো অক্ষরে ছাপা হতো যদি কম্পিউটারগুলো আরো বড়ো বড়ো অক্ষর প্রসব করতে পারতো; টেলিভিশনের বালিকাগুলো ওই নাম চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে ছোঁট বাঁকা করে ফেলছে, আধ বছরের মধ্যে তারা আর ওই ঠোঁট দিয়ে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোন কাজকামই করতে পারবে না। ক্ষমতায় এসেই প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকেরা নিজেদের একটা পদোন্নতি দেয়, তাতে দেশের ও জনগণের মর্যাদা বাড়ে; উদ্দিন মোহাম্মদও নিজেকে দিয়েছে আরেকটা পদোন্নতি, আরেকটা তারা ঝুলিয়েছে উর্দিতে; বিশপঁচিশটি পদোন্নতি দিলেও কেউ আপত্তি করতো না; অতগুলো পদোন্নতি দেয়ার সুযোগ নেই ব’লেই দেয় নি, আর একেবারেই ফিল্ড মার্শাল হওয়া হাস্যকর হবে, তা সে নিজেও বুঝতে পারে।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): হুমায়ুন আজাদ, ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল ;
প্রকাশ করা হয়েছে: ডায়রি বিভাগে ।
লেখক বলেছেন: উদ্দিনরা যুগে যুগে জন্মায়!
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
নতুন বলেছেন:
জন্মদিনে শুভেচ্ছা।
আরিফুর রহমান বলেছেন:
শুভেচ্ছা!
আকাশচুরি বলেছেন:
কবির জন্মদিনে শুভেচ্ছা। +
হ্যারি সেলডন বলেছেন:
মুকুলভাই, অনেক ধন্যবাদ। উপন্যাসটা পড়েছিলাম, অসাধারণ।
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
ছাগুতাড়ক পাইওনিয়ার হুমায়ুন আজাদকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি ।
লেখক বলেছেন: দারুণ উপমা দিয়েছেন, "ছাগুতাড়ক পাইওনিয়ার"!!!
শফিউল আলম ইমন বলেছেন:
কবিকে স্বরণ করছি।মুকুল ভাই শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
আপনাকে ইদানীং দেখিনা ক্যান??
ভালো আছেন তো??
লেখক বলেছেন: আমি আছি তো! আমি তো নিয়মিতই আছি। তবে বিদ্যূতের সমস্যার কারণে সন্ধ্যার পর নিয়মিত থাকতে পারিনা।
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন:
নিঃসন্দেহে হুমায়ুন আজাদের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। ধন্যবাদ মুকুল ভাই।
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ রিয়াজ ভাই
রাশেদ বলেছেন:
শুভেচ্ছা!
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
প্রতিষ্ঠিত বুদ্ধিজীবিদের মধ্যে জামাতরে হুমায়ুন আজাদের মতো পোন্দানি কেউ দিতারেনাই । সে হাসিনা খালেদারেও সমানে গাইল্লাইছে । যেইটা অনেকের লেখাতে পাবেন না । সবাই একটা পোলারাইজেসনের মধ্যে থাকে । রাজনীতিবিদ বইটা না পড়লে পড়ে ফেলেন ।
লেখক বলেছেন: রাজনীতিবিদ বইটা পড়া হয় নাই। দেখি জোগাড় করতে পারি কি না। তবে জামাত তারে জন্মের শত্রু মনে করতো। দেখেন না, বিদেশের মাটিতে গিয়া তাঁরে মাইরা ফালাইছে।
তাঁর মত সত্য কথা অকপটে বলার মত লেখক এখন খুব কমই আছে। বেশিরভাগই তো সুবিধাবাদী!
হাসিব মাহমুদ বলেছেন:
জার্মানীতে জামাত হুমায়ুন আজাদরে মেরে ফেলছে এটা অত্যন্ত কষ্টকল্পনা । এইখানে জিনিসটা এতো সোজা না । জার্মানির পুলিশ দক্ষ আর সত । সেরকম কিছু হলে কাউরেই ছাড়তো না ওরা ।
লেখক বলেছেন: কিন্তু জঙ্গিবাদীদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কতো খুবই শক্ত। তাছাড়া পত্রপত্রিকায় এ ধরনের ইঙ্গিতও দেয়া হয়েছিলো। কি জানি!
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন:
আমার জীবনে পড়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ বই হলো "আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম?"। এতো সুন্দর বিশ্লেষণ আমি আর দেখিনি।
লেখক বলেছেন: "আমরা কি এই বাঙলাদেশ চেয়েছিলাম" এখনো পড়া হয় নাই। অথবা পড়লেও ভুলে গেছি!
তারার হাসি বলেছেন:
শুভেচ্ছা !
লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
বিগব্যাং বলেছেন:
হুমায়ুন আজাদ, লাল সালাম।হুমায়ুন আজাদ, লাল সালাম।
হুমায়ুন আজাদ, লাল সালাম।
মানুষ সিংহের প্রশংসা করে, আর গাধাদের পছন্দ করে...
-হুমায়ুন আজাদ
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। সুন্দর উক্তি দিয়েছেন।
দ্বিধা বলেছেন:
আমার প্রিয় বইগুলোর একটা...
লেখক বলেছেন: আমারও.... ক্ল্যাসিক উপন্যাস
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সবাক। শুভেচ্ছা।



















মোহাম্মদ এরশাদ হোসেন---> হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ।
কবির জন্মদিনে শুভেচ্ছা।