ঘটনাটা ৯০ অথবা ৯১ সালের দিকের………
গোলাম আযমের নাগরিকত্ব নিয়ে মামলা চলছে এবং গোলাম আযম তখন জেলে। গোলাম আযমের মুক্তি চেয়ে ছাপানো পোষ্টার তখন দেয়াল জুড়ে। পোষ্টার লাগাতো জামাত ছাত্রশিবির সবাই।
একদিন দুপরের ঘটনা…… মোঃপুর বাবর রোডে দোস্তের বাসায় দল বেধে যাচ্ছি আড্ডা মারতে, দেখি শিবিরের পোলাপাইন ‘গো আযমের মুক্তি চাই’ পোষ্টার লাগাইতেছে। আমাদের দোস্তের বাসার গ্যারেজ এর লোহার গেট, দুইটা পোষ্টার তার উপরও লাগানো। সহ্য হয়? গ্যারাজের পাশেই ছোট বসার ঘর- বাইরের মানুষের জন্য……
আমার দোস্তের আব্বা ছিলেন বিরাট মৌলানা এবং হেকিম,(আল্লাহ উনাকে বেহেস্ত নসীব করুন) যথার্থ অর্থেই তিনি ছিলেন ধার্মিক এবং ভালমানুষ। তার বসার ঘরে সব সময়ই দু একজন হুজুর কে আমরা দেখতাম।এই ধরনের ধর্মের আবহ আমাদের আড্ডা এবং যাবতীয় বাদঁরামীর কোন ব্যাঘাত ঘটাত না বলাই বাহুল্য, মৌলানা চাচা আমাদের যাবতীয় দোষ উনার আপন ঔদার্যে মাফ করে দিতেন।
সেদিন দুপুরে আমরা যখন বাবর রোডের বাসায় ঢুকছি- শিবিরের পুলাপাইন তখনও সেখানে উপস্থিত…… রাস্তার অপর পাশে তখন তারা ব্যস্ত পোষ্টার লাগাইতে। আমার ইচ্ছা একটা গ্যঞ্জাম বাধানোর- বাসার গেটে পোষ্টার লাগানো তো রীতিমতো বেয়াদপী আর অভদ্রতা ………
আমার সাথের আর এক দোস্ত- ইনষ্ট্যান্ট বুদ্ধি আর স্মার্টনেশের জন্য বিখ্যাত- সে হটাৎ তেড়ে গেল নাউজুবিল্লাহ… তওবা তওবা--লা হাওলা অয়ালাকুউয়াৎ বলতে বলতে……
-মানুষের তসবির ঝুলানো গুনার কাজ, জানো না? তোমাদের বাপ মায়ে শিক্ষা দেয় নাই? এইখানে নামাজ পড়ার জায়গা আর তোমরা মানূষের ছবি টাঙ্গাইছো? মিয়া হাবিয়া দোজখে যাইবা………
ব্যস, শিবিরের পুলাপাইনরে নতুন ফতোয়া শুনাইয়া আমরা মহা উৎসাহে পোষ্টার ছিড়া শুরু করলাম…… এক দম কাঁচা আঠা- ধরতেই পুরা পোষ্টার হাতের মধ্যে উঠে আসছে। তারপর দলা পাকিয়ে ড্রেনে।
রাস্তায় ছোট খাট একটা জটলা জমে গেল… সবাই আমাদের তামশা দেখছে। পাবলিক আমাদের মাশালা শুনে আর মুচকি মুচকি হাসে…… দোস্তর বাসা থেকে দুই পিচ্চি হুজুর এসে আমাদের সাথে জয়েন করলো। মুহুর্তের মধ্যে আশেপাশের দু তিন টা বাসা সহ সব পোষ্টার ছিড়ে টুকরা টুকরা ।
শিবিরের পুলাপাইন যাকে বলে কিংকর্তব্যবিমুঢ়—লা জবাব।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

