পড়াশোনার পাশাপাশি টুকটাক টিউশনি করার অভিজ্ঞতা কম বেশী অনেকেরই আছে। আমিও সেই দলে পড়ি। একটা কোচিং সেন্টারে টুকটাক ক্লাস নেয়ার কারণে মোটামুটি কিছুটা পরিচিতি আছে। তাই সাধারণত টিউশনি তেমন একটা খুঁজতে হয় না।এভাবেই দিন চলছিলো। একদিন হঠাৎ করে ক্লোজ ফ্রেন্ড রাসেলের ফোন।
-কি রে,বিকালবেলা ফ্রি আছস?
-হুমম,আমি জবাব দেই।
-তাইলে আড্ডাখানায় চলে আয়,কথা আছে।
গেলাম। এই কথা সেই কথা চলার পর আমতা আমতা করতে করতে হঠাৎ আসল কথা পাড়ল রাসেল-
-দোস্ত,অবন্তীরে পড়াইতে হবে(অবন্তী ওর ইয়ে
-আর কইস না। ব্যাচে পড়া ক্যাচ করতে পারতাছিল না। বাধ্য হয়ে বাসায় টিউটর রাখছিলো।পরপর ২ জন। কেউই লাস্টিং করতে পারে নাই। ২ টাই লুল
-হায় আল্লাহ!
-হুমম,বোঝ অবস্থা। চেনা-পরিচিতদের মধ্যে একমাত্র তুই আছস যার উপ্রে ভরসা করতে পারি।তোরে পড়াইতেই হইবো।
এমনিতেই টিউশনি ছিল,তারউপ্রে সামনে পরীক্ষা থাকায় নতুন কোন দায়িত্ব নিতে চাচ্ছিলাম না।তবে শেষপর্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুর পীড়াপীড়িতে রাজি না হয়ে পারলাম না।
-তুই তোর সুবিধামত পড়াবি।কোন ফিক্সড শিডিউল দিতে হবে না।
-ওকে,কি আর করা।
প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখতে হয় তিন বোনের মধ্যে অবন্তী ছোট। বড় বোন রিসেন্টলি ম্যারেড।মেজ বোন আমাদের সাথে ইন্টারে একত্রে মডেল টেস্ট দিয়েছিল বলে আমায় হালকাপাতলা চিনত। বড় বোনদ্বয় রাসেল-অবন্তীর বিষয়টা জানত এবং তাদের সমর্থনও ছিল। সমস্যা ছিল মেয়ের মা কে নিয়ে। একবার অবন্তী মোবাইলে কথা বলার সময় মার হাতেনাতে ধরা খায়।সেই থেকে ওর মা রাসেল সম্পর্কে হালকাপাতলা জানত।
তো ঠিক হল যে আমি অবন্তীর চৈতী নামের এক বান্ধবীকে বাসায় গিয়ে পড়াই এবং এই লিংকেই আমার আগমন।যদিও আমি অন্য একটা বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলাম কিন্তু সেটা ওরা মানল না।
কি আর করা। নির্দিষ্ট দিনে হাজির হলাম অবন্তীদের বাসায়।ওর মা আর নয়া দুলাভাই এমনভাবে জেরা করা শুরু করল মনে হল আমি কোন রিমান্ডে আছি(নয়া দুলা তো
-আপনি কোথায় পড়েন?
-কোন ইয়ার?
-বাসা কোথায় আপনার??
এভাবে আধাঘন্টা জেরার পর মুক্তি পেলাম। ঠিক হল পরদিন থেকে পড়াব। বাইর হয়েই রাসেলরে দিলাম একটা গাইল
পরদিন হঠাৎ কইরা রাসেলের এসএমএস।তুই অবন্তী গো বাসায় যাইস না। একটু প্রবলেম হইসে।
তার পরদিন সকালে ভার্সিটিতে দেখা হইতেই ও যা জানাইলো তা প্রথমে বিশ্বাস ই করতে পারতেছিলাম না।সারমর্ম হইল-
রাসেলের কোন ধারণাই ছিল না তার হবু শ্বাশুড়ী
অনেক বুঝায়েও কাম হয় নাই। উল্টা ভদ্রমহিলা তার মেয়ের কাছে তার বান্ধবী চৈতীর নাম্বার চাইল। তার মায়ের সাথে কথা বলবে। অবন্তী চৈতীকে দিয়ে তার মা কে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু কোন লাভ হইল না।
রাসেল অবন্তীর মেজ বোনের সাথে আমারে মোবাইলে কথা বলায়ে নিল। সে স্যরি বলতে বলতে মুখ দিয়ে ফেনা তুলে ফেলল। আমারেও বাধ্য হয়ে বলতে হল আমি মাইন্ড করি নাই........
শেষ হইয়াও হইল না শেষ:
এইপর্যন্ত পড়ে যে কেউ ভাবতে পারে কাহিনী শেষ। আমিও তাই ভাবছিলাম। একদিন হঠাৎ করে আননোন এক নাম্বার থেকে আমার মোবাইলে ফোন পাই
-হ্যালো,
-হ্যালো,মুনতা বলছেন?একটা নারীকণ্ঠ শুধায়
-হ্যা হ্যা,কে বলছেন
-আমি অবন্তীর বড় বোন
সে অনেকক্ষণ ধইরা ক্যাচক্যাচ করলো।তাদের একটা প্রবলেম ছিল।সেটা মিটে গেছে।এখন আমাকে পড়াইতেই হবে ইত্যাদি ইত্যাদি....
-না আপু,এখন আর আমার সময় হবে না।আমি অনড়।
কিছুক্ষণ পর অবন্তীর মা ফোন করলো। বহুত রিকোয়েস্ট। লাভ হইল না।
পরদিন ভার্সিটিতে রাসেল আবার আমারে ধরলো।
-দোস্ত সবকিছু সেটআপ করা হইছে।বড় আপু তার হাজবেন্ডরে এমন সাইজ করছে যে ওই ব্যাটা আর কোন কথাই বলবে না।
-এখন আর সম্ভব না। আমি যথারীতি অনড়।
রাসেল আমার হাতও ধরে পাও ধরে।
-আমার প্রেম একমাত্র তুই ই পারোছ টিকায়ে রাখতে।
-মানে??আমি জানতে চাই।
-আমি ওরে বলছে তুই ছাড়া অন্য কোনো টিচার পড়াইলে রিলেশনশীপ ব্রেক আপ।আপাতত সাময়িক ব্রেকাপ চলতাছে। তুই না পড়াইলে পার্মানেন্ট হয়ে যাবে। এখন তুই ই বল তুই কি করবি?
পরিশিষ্ট:
মুনতা পাগলা এখন অবন্তীরে পড়ায়।
রাসেল-অবন্তী ভাল আছে। অত:পর তাহারা সুখে-শান্তিতে দিন কাটাইতেছে........
(অবন্তী-রাসেল নামদ্বয় ছদ্মনাম।ওরা এই পোস্ট কোনোভাবে দেখলে আমার খবর আছে.....
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


