somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি রোমান্টিক(??!) টিউশনীয় পোস্ট

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পড়াশোনার পাশাপাশি টুকটাক টিউশনি করার অভিজ্ঞতা কম বেশী অনেকেরই আছে। আমিও সেই দলে পড়ি। একটা কোচিং সেন্টারে টুকটাক ক্লাস নেয়ার কারণে মোটামুটি কিছুটা পরিচিতি আছে। তাই সাধারণত টিউশনি তেমন একটা খুঁজতে হয় না।এভাবেই দিন চলছিলো। একদিন হঠাৎ করে ক্লোজ ফ্রেন্ড রাসেলের ফোন।
-কি রে,বিকালবেলা ফ্রি আছস?
-হুমম,আমি জবাব দেই।
-তাইলে আড্ডাখানায় চলে আয়,কথা আছে।
গেলাম। এই কথা সেই কথা চলার পর আমতা আমতা করতে করতে হঠাৎ আসল কথা পাড়ল রাসেল-
-দোস্ত,অবন্তীরে পড়াইতে হবে(অবন্তী ওর ইয়ে:P,পড়ে ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে)। -কেন? স্যারদের কাছে পড়ত যে?আমি শুধাই
-আর কইস না। ব্যাচে পড়া ক্যাচ করতে পারতাছিল না। বাধ্য হয়ে বাসায় টিউটর রাখছিলো।পরপর ২ জন। কেউই লাস্টিং করতে পারে নাই। ২ টাই লুল:P
-হায় আল্লাহ!
-হুমম,বোঝ অবস্থা। চেনা-পরিচিতদের মধ্যে একমাত্র তুই আছস যার উপ্রে ভরসা করতে পারি।তোরে পড়াইতেই হইবো।
এমনিতেই টিউশনি ছিল,তারউপ্রে সামনে পরীক্ষা থাকায় নতুন কোন দায়িত্ব নিতে চাচ্ছিলাম না।তবে শেষপর্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধুর পীড়াপীড়িতে রাজি না হয়ে পারলাম না।
-তুই তোর সুবিধামত পড়াবি।কোন ফিক্সড শিডিউল দিতে হবে না।
-ওকে,কি আর করা।
প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখতে হয় তিন বোনের মধ্যে অবন্তী ছোট। বড় বোন রিসেন্টলি ম্যারেড।মেজ বোন আমাদের সাথে ইন্টারে একত্রে মডেল টেস্ট দিয়েছিল বলে আমায় হালকাপাতলা চিনত। বড় বোনদ্বয় রাসেল-অবন্তীর বিষয়টা জানত এবং তাদের সমর্থনও ছিল। সমস্যা ছিল মেয়ের মা কে নিয়ে। একবার অবন্তী মোবাইলে কথা বলার সময় মার হাতেনাতে ধরা খায়।সেই থেকে ওর মা রাসেল সম্পর্কে হালকাপাতলা জানত।
তো ঠিক হল যে আমি অবন্তীর চৈতী নামের এক বান্ধবীকে বাসায় গিয়ে পড়াই এবং এই লিংকেই আমার আগমন।যদিও আমি অন্য একটা বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলাম কিন্তু সেটা ওরা মানল না।
কি আর করা। নির্দিষ্ট দিনে হাজির হলাম অবন্তীদের বাসায়।ওর মা আর নয়া দুলাভাই এমনভাবে জেরা করা শুরু করল মনে হল আমি কোন রিমান্ডে আছি(নয়া দুলা তো;))
-আপনি কোথায় পড়েন?
-কোন ইয়ার?
-বাসা কোথায় আপনার??
এভাবে আধাঘন্টা জেরার পর মুক্তি পেলাম। ঠিক হল পরদিন থেকে পড়াব। বাইর হয়েই রাসেলরে দিলাম একটা গাইলX(। বেচারা অতিকষ্টে আমারে ম্যানেজ করল।
পরদিন হঠাৎ কইরা রাসেলের এসএমএস।তুই অবন্তী গো বাসায় যাইস না। একটু প্রবলেম হইসে।
তার পরদিন সকালে ভার্সিটিতে দেখা হইতেই ও যা জানাইলো তা প্রথমে বিশ্বাস ই করতে পারতেছিলাম না।সারমর্ম হইল-
রাসেলের কোন ধারণাই ছিল না তার হবু শ্বাশুড়ী:P তার সম্পর্কে কতটুকু জানত।আমি আর রাসেল ক্লাসমেট হওয়ায় ২ জনের ভার্সিটি,ইয়ার তো এক ছিলই,এমনকি বাসাও একই এলাকায় ।সো,আমার ইনফোগুলা শোনার পর উনি দুয়ে দুয়ে চার মিলায়ে ঘোষণা দিলেন-এইটাই সেই ছেলে,এইটাই রাসেল।গুন্ডা,বাসা মিরপুর-১। B-)
অনেক বুঝায়েও কাম হয় নাই। উল্টা ভদ্রমহিলা তার মেয়ের কাছে তার বান্ধবী চৈতীর নাম্বার চাইল। তার মায়ের সাথে কথা বলবে। অবন্তী চৈতীকে দিয়ে তার মা কে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু কোন লাভ হইল না।
রাসেল অবন্তীর মেজ বোনের সাথে আমারে মোবাইলে কথা বলায়ে নিল। সে স্যরি বলতে বলতে মুখ দিয়ে ফেনা তুলে ফেলল। আমারেও বাধ্য হয়ে বলতে হল আমি মাইন্ড করি নাই........

শেষ হইয়াও হইল না শেষ:
এইপর্যন্ত পড়ে যে কেউ ভাবতে পারে কাহিনী শেষ। আমিও তাই ভাবছিলাম। একদিন হঠাৎ করে আননোন এক নাম্বার থেকে আমার মোবাইলে ফোন পাই
-হ্যালো,
-হ্যালো,মুনতা বলছেন?একটা নারীকণ্ঠ শুধায়B-)
-হ্যা হ্যা,কে বলছেন;)
-আমি অবন্তীর বড় বোন:((
সে অনেকক্ষণ ধইরা ক্যাচক্যাচ করলো।তাদের একটা প্রবলেম ছিল।সেটা মিটে গেছে।এখন আমাকে পড়াইতেই হবে ইত্যাদি ইত্যাদি....
-না আপু,এখন আর আমার সময় হবে না।আমি অনড়।
কিছুক্ষণ পর অবন্তীর মা ফোন করলো। বহুত রিকোয়েস্ট। লাভ হইল না।
পরদিন ভার্সিটিতে রাসেল আবার আমারে ধরলো।
-দোস্ত সবকিছু সেটআপ করা হইছে।বড় আপু তার হাজবেন্ডরে এমন সাইজ করছে যে ওই ব্যাটা আর কোন কথাই বলবে না।
-এখন আর সম্ভব না। আমি যথারীতি অনড়।
রাসেল আমার হাতও ধরে পাও ধরে।
-আমার প্রেম একমাত্র তুই ই পারোছ টিকায়ে রাখতে।
-মানে??আমি জানতে চাই।
-আমি ওরে বলছে তুই ছাড়া অন্য কোনো টিচার পড়াইলে রিলেশনশীপ ব্রেক আপ।আপাতত সাময়িক ব্রেকাপ চলতাছে। তুই না পড়াইলে পার্মানেন্ট হয়ে যাবে। এখন তুই ই বল তুই কি করবি?:-*

পরিশিষ্ট:
মুনতা পাগলা এখন অবন্তীরে পড়ায়।
রাসেল-অবন্তী ভাল আছে। অত:পর তাহারা সুখে-শান্তিতে দিন কাটাইতেছে........

(অবন্তী-রাসেল নামদ্বয় ছদ্মনাম।ওরা এই পোস্ট কোনোভাবে দেখলে আমার খবর আছে.....:P)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৪
৩০টি মন্তব্য ৩০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×