ঘটনা-১:
মোস্তাক আর তার বন্ধুবান্ধব মিলে রাতে এলাকার এক গলিতে আড্ডা দিচ্ছিল। আড্ডা শেষে একে একে সবাই বিদায় নিলেও মোস্তাক একা একা সিগারেট টানতেছিল। রাত তখন এগারোটার মত। গলি প্রায় ফাঁকা।হঠাৎ পুলিশের আগমন।
-ওই ,এত রাতে কি?
মোস্তাক এলাকায় অনেকদিন ধরে আছে। একটু ত্যাঁদড় টাইপের।ও উত্তর দিল
-কি হইছে?কি প্রব্লেম?
পুলিশ এধরনের জবাবের জন্য প্রস্তত ছিল না। ত্যাঁদড় মোস্তাককে তারা গাড়িতে তুলে নিয়ে লকাপে ভরে রাখলো।
ঘটনা-২:
তোফাজ্জল সাহেবের মন খারাপ। তার মটরসাইকেল চুরি গেছে।এলাকাটা চোর-ছ্যাচড়ে ভরে গেলো।তিনি অবশ্য পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন।পুলিশ অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে তারা মটরসাইকেল চোরকে গ্রেপ্তার করবে।
ঘটনা-১ ও ২:
ভোরের দিকে কলিংবেলের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল তোফাজ্জল সাহেবের।দরজা খুলে দেখেন পুলিশ ভ্যান।
-মটরসাইকেল চোররে ধইরা ফেলছি-দাঁত কেলিয়ে জবাব দিল এক পুলিশ।
গাড়ি থেকে বের করা হল মটরসাইকেল চোরকে।
-হারামজাদারা,তোরা এইডা কারে ধইরা আনছস?তোফাজ্জল সাহেবের হুংকার ।
-ক্যান,মটরসাইকেল চোর। এরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মটরসাইকেলের খোঁজ পাওয়া যাবে।
-এইটা আমার পোলা মোস্তাক,সারারাত বাড়িত ছিল না। এই তোদের মটরসাইকেল চোর...??
ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের চেহারা কিরকম হইছিল তা সহজেই অনুমেয়।
১৬ বছরের এক কিশোরকে ডাকাত সাজায়ে জনতার মাঝে ফেলে দিল পুলিশ। আর জনতা গণধোলাই দিয়ে মেরে ফেলে দিল ডাকাত কে।
লন্ডনে ব্যাপক দাঙ্গা চলতেছে।সেই দাঙ্গা ছড়ায়ে পড়ছে গোটা ব্রিটেন জুড়ে। ইংল্যান্ড-নেদারল্যান্ডস প্রীতি ম্যাচ পর্যন্ত বাতিল হয়ে গেছে। দাঙ্গার কারণ-পুলিশ নাকি গুলি করে এক নিরপরাধ লোককে মেরে ফেলছে।
আমাদের দেশে এগুলা ডাল-ভাত। প্রায় প্রতি মাসেই পুলিশ এরকম চোর-ডাকাত সাজায়ে যারে-তারে মাইরা ফেলতেছে। ব্যাপার না। আমাদের গা সওয়া হয়ে গেছে।ব্লগে-ফেসবুকে কিছুদিন ঝড় তুলি,সুশীলরা পত্রিকায় ২/১ টা কলাম লিখে তারপর সবাই সবকিছু ভুলে যাই। এসব নিয়া দাঙ্গা-হাঙ্গামা করবো??....ধুর.....টাইম নাই।
আমরা খাবো.দাবো,ঘুমাবো,অফিস যাবো......দিন চলে যাবে........
(পোস্টে ব্যবহার করা ঘটনাটি সত্য)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



