ঘরটা অগোছালো। বিছানার ওপর ছড়ানো কিছু বই আর ম্যাগাজিন। নিজের এ ঘরটা খুব পছন্দ সজলের। পশ্চিম কোনে একটা জানালা আছে।বিকালে সেই জানালার পাশে দাড়ালে অসম্ভব খারাপ মনটাও ভাল হয়ে যায়।
এখন সন্ধ্যা সাতটা বেজে বিশ মিনিট। সজল একটু পরপর ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। কারন আজ ওর জন্ম দিন। প্রতি বছর আর কেউ তাকে উইশ না করলেও আনিশা ঠিকই উইশ করতে আসে। কিন্তু আজ এখনো আসছে না। সজলের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জড়ো হয়েছে। নিঃশ্বাসের দ্রুততাও বেড়েছে। এ পৃথিবীর একটি মানুশের কাছে সজলের দায়বদ্ধতা আছে। আছে অনেক লেনদেন।
আনিশা। সজলের দুই ব্যাচ জুনিয়র। দেখতে খুব সুন্দরী নয়। কিন্তু মুখটাতে ছড়িয়ে আছে রাজ্যের রহস্য। সজলের সঙ্গে আনিশার পরিচয় হয়েছিল ক্যাম্পাসের আড্ডাতেই।তারপর জানাশোনা এবং বন্দুত্ব।এরপর হঠাৎ একদিন আনিশা ফোন করে জানায়ওর বিয়ে। ধুমধাম সেই বিয়েতে সজলও অংশগ্রহন করেছিল। সে অনেকদিন আগের কথা। আজ সেই আনিশার দুটি বাচ্চা আছে। অথচ সজল এখনো বিয়েই করেনি। একটি ইন্টেরিয়র ডিজাইনিং ফার্মের ব্যবসা পরিচালনা করছে। এভাবেই কেটে যাচ্ছে দিন।
কলিং বেল বেজে উঠল। সজল দরজা খোলে। একটা নীল শাড়ি পরে একটি ছোট বাচ্ছাকে নিয়ে দাড়িয়ে আছে আনিশা। শুভ জন্মদিন -- এই বলে স্মিত হাস্যে ঘরে ঢোকে সে। সজল চেয়ার খানা এগিয়ে দিয়ে বসতে বলে। সুনসান নিরবতা। বাচ্চাটা একটু পরপর চোখ বড় করে সজলের দিকে চাইছে। সজল নিরবতা ভাঙলো।
কি নাম রেখেছো ওর?
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০০৮ বিকাল ৫:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


