আমার প্রিয় পোস্ট

একটি বিতর্কিত বিষয়ঃ বঙ্গবন্ধু কি গ্রেফতার হয়েছিলেন? নাকি আত্মসমর্পণ করেছিলেন?

১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:৫৭

শেয়ার করুন:                   Facebook

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু কি গ্রেফতার হয়েছিলেন? নাকি আত্ম সমর্পণ করেছিলেন? আমাদের ইতিহাসবিদগণ আর বুদ্ধিজীবিগণ একেকসময় একেক রকমের কথা বলেন। কিন্তু সঠিক ঘটনাটি কি? এবার বিতর্কিত বিষয়টির ফয়সালা করবেন ব্লগার বন্ধুরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকোনো ষড়যন্ত্র সফল করতে হলে জাতির মধ্যে বিভাজনের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশকে মৌলবাদী, সন্ত্রাসী, ব্যর্থ ও অকার্যকর এবং প্রতিবেশী দেশের তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে একটি মহল সদা তৎপর রয়েছে। তারা স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষের ধুয়া তুলে জাতির মধ্যে বিভাজন ধরে রাখার জন্য মাঝে মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে অহেতুক বিতর্কের সৃষ্টি করে। বর্তমানে এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী দলকে রাজনীতি করতে না দেয়া, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করা ইত্যাদি। ইদানীং নারী উন্নয়ন নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। এছাড়া আরো কিছু বিতর্কিত বিষয় রয়েছে যেগুলো স্বাধীনতার ৩৭ বছরেও নিষ্পত্তি হয়নি। যেমন- স্বাধীনতার ঘোষণা, জাতীয়তাবাদ, জাতির পিতা, জাতির স্থপতি ইত্যাদি। এমনি একটি বিতর্কিত বিষয় হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ আত্মসমর্পণ করেছিলেন নাকি পাক হানাদার বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। কারো মতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন, আবার কারো মতে পাক বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে গ্রেপ্তার বরণ করা আর গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া এক কথা নয়। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত কিছু লেখকের ভাষ্য এ নিবন্ধে তুলে ধরা হলো।
মাহমুদুর রহমান লিখেছেন, ‘১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ আরম্ভের ঠিক পূর্বে আমাদের দু’জন নেতা পাকিস্তানি সামরিক জান্তার কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। একজন অবশ্যই স্বাধীনতা যুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান। দেশের সাড়ে সাত কোটি জনগণকে শত্রুর কামানের মুখে রেখে কেন তিনি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন তার ভাসা ভাসা কিছু ব্যাখ্যা আমরা শুনেছি। কেউ এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন আবার কেউ করেননি।’ (নয়া দিগন্ত ২৩.৪.২০০৮)
ফরহাদ মজহার লিখেছেন, ‘শেখ মুজিব অসাধারণ দূরদর্শী ছিলেন এবং অন্তত এই ধরা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তিনি দারুণ বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে গেছেন। এটা তার নেতৃত্বের চূড়ান্ত অভিপ্রকাশ। ধরা দেয়াটা তার মৌলিক পারফরম্যান্স। এই বিশাল সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় তিনি শুধু তার বুদ্ধি খাটাননি, তার সফল বৃত্তিকে কাজে লাগিয়েছেন। চিন্তার যে সীমানায় এসে পৌঁছালে বুদ্ধি আর বিশেষ কাজে লাগে না, যুক্তি যেখানে খুব একটা সহায় হয় না, যে সীমান্তে এসে শুধুমাত্র নিজের প্রজ্ঞার উপর নির্ভর করতে হয়। তিনি ঠিক সেই কাজটিই করেছেন। আজ যখন ইতিহাসের পেছন দিকে তাকাই তখন মনে হয় দখলদার পাকিস্তানি সৈন্যের হাতে ধরা দিয়ে তিনি যে অসাধারণ প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন তার তুলনা হয় না। এই কাজটি যদি তিনি না করতেন তবে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো কিনা সে বিষয়ে আমি ঘোরতরভাবে সন্দেহ করি।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বদরুদ্দিন উমরের লেখার উদ্ধৃতি দিয়েছেন, ‘শেখ মুজিবের আত্মসমর্পণের আসল কারণ ছিল সংসদীয় রাজনীতিতে অভ্যস্ত এবং কোনো ধরনের সশস্ত্র সংগ্রামের চিন্তা করতে অনভ্যস্ত (যদিও তার শিষ্য সাগরেদ ও মতলববাজরা তার সমস্ত সংগ্রামের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি সম্পর্কে গাঁজাখুরি গল্প এখন তৈরি করছে) থাকায় হঠাৎ করে যুদ্ধে যাওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব ছিল।’ (ভোরের কাগজ ৪.৭.১৯৯৫)
আবদুল হালিম লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু ধরা দিয়েছিলেন অর্থাৎ আত্মসমর্পণ করেছিলেন এই বক্তব্য সঠিক নয়।... আমরা বলতে চাই, বঙ্গবন্ধু তাঁর বাড়িতে যেটা তার দফতরও বটে (ওই সময় বঙ্গবন্ধু সমান্তরাল সরকার পরিচালনা করেছেন অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে একথা অনেকেই বলেছেন) অবস্থান করছিলেন এবং পাকিস্তানি সৈন্যদল সেখানে গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার বা বন্দি করে নিয়ে যায়। এটাকে ধরা দেয়া বা আত্মসমর্পণ করা বলে না। বস্তুত, পাকিস্তানিরা তাকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেই বন্দি করেছিলেন। এর আংশিক স্বীকৃতি পাওয়া যায় এ ঘটনা থেকে যে, বঙ্গবন্ধুকে বন্দি করে পাকিস্তান তথা পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যদি তাকে শুধু গ্রেপ্তার করা হতো তাহলে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখলেই চলতো। কিন্তু পাকিস্তানিরা বন্দি করেছিল বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টকে এবং মূলত সে কারণেই তারা তাকে নিয়ে যায় নিজেদের দেশ পাকিস্তানে।’ (সংবাদ ১০.৫.১৯৯৫)
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় ফিরে এসে রেসকোর্সের ময়দানে ভাষণ দানকালে বলেছিলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে বন্দি হওয়ার পূর্বে আমার সহকর্মীরা আমাকে চলে যেতে অনুরোধ করেন। আমি তখন তাদের বলেছিলাম, বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষকে বিপদের মুখে রেখে আমি যাব না। মরতে হলে আমি এখানেই মরব। বাংলা আমার প্রাণের চেয়েও প্রিয়। তাজউদ্দিন এবং আমার অন্য সহকর্মীরা তখন কাঁদতে শুরু করেন।’ (বাংলার বাণী ১৫.৮.১৯৯৫)
শফিক রেহমান লিখেছেন, ‘পচিশে মার্চের রাতে কেন তিনি পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন তার কোনো সদুত্তর তিনি দেননি। তার অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক রূপে উপস্থিত হন তাজউদ্দিন আহমদ।’ (যায়যায়দিন ১৭.১১.১৯৯৮)
বিবিসির সিরাজুর রহমান লিখেছেন, ‘যতো দূর প্রমাণ পাওয়া যায় ২৫ মার্চ রাতের আগেই পাকিস্তানিরা তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে গিয়েছিল। সে রাতে সহকর্মীদের মধ্যে সর্বশেষ তার কাছে ছিলেন তার দুই উপদেষ্টা জমিরউদ্দিন আহমেদ ও ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম। ১৯৮৬ সালে স্বাধীনতার ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমি তাদের উভয়েরই সবিস্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। তাদের উক্তি মতো শেখ মুজিব সে রাতেও আশা করেছিলেন যে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা হবে, তিনি সারা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি তার এ দুই উপদেষ্টার কাছে স্বাক্ষরিত কোনো যুদ্ধের আহ্বান রেখে গিয়েছিলেন বলে তারা উল্লেখ করেননি।’ (যায়যায়দিন ১১.৪.২০০০)
চট্টগ্রামের বেগম মুশতারী শফীর উদ্ধৃতি দিয়ে মোবায়দুর রহমান লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু নিজের ইচ্ছায় ধরা দিয়েছেন? তাকে পাকিস্তানি সৈন্যরা ধরে নিয়ে যায়নি। জহুরুল কাইয়ুম মাথা নেড়ে মুচকি হাসলেন। তারপর এদিক ওদিক ফিরে একটু নিম্নস্বরে বললেন, তবে একথা এখন কাউকে বলবেন না। তিনি যে ধরা দিলেন আমি তার সাক্ষী।’ (সাপ্তাহিক পূর্ণিমা ১৫.৩.২০০০)
খন্দকার মজহারুল করিম লিখেছেন, ‘আত্মগোপন করার বদলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার বরণ করে জাতির পিতা আসলে দূরদৃষ্টিরই পরিচয় দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু পলাতক অবস্থায় ধরা পড়লে ওই কূটনৈতিক মর্যাদা, সম্মান ও সুযোগ-সুবিধাগুলো থেকে বঞ্চিত হতেন। জাতির মুক্তি সংগ্রামও দুর্বল হয়ে পড়তো। এমনকি পলাতক অবস্থায় বিদেশে গিয়ে মুুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে সমাসীন হলেও তিনি জাতির জন্য ওই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদভুক্ত সুবিধাদি আদায় করতে পারতেন না। তাই ক্ষিপ্ত-উচ্ছৃঙ্খল সেনাবাহিনীর হাতে অপঘাত মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও তিনি নিজ বাসভবনে গ্রেপ্তার বরণ করেন।’ (দৈনিক ইত্তেফাক ২৮. ৯. ২০০০)
পশ্চিম বাংলার সাংবাদিক জ্যোতি সেন গুপ্তের উদ্ধৃতি দিয়ে মাসুদুল হক লিখেছেন, ‘আগের রাতে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ গোয়েন্দা সূত্র আওয়ামী লীগকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হামলার কথা জানিয়ে দেয়। জেনারেল ওসমানী ধানমন্ডির বাসভবনে আসেন শেখের সঙ্গে দেখা করতে এবং তিনি তাকে একই খবর দেন। ওইদিন শেষ রাত পর্যন্ত করণীয় নিয়ে তারা আলোচনা করেন। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তারা আত্মগোপন করবেন এবং পালিয়ে ভারতে চলে যাবেন। কিন্তু ২৫ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তাজউদ্দিন এসে দেখেন তিনি তার বিছানাপত্র গুছিয়ে তৈরি হয়ে আছেন। মুজিব তাকে বললেন যে, তিনি থেকে যাবেন- গ্রেপ্তার বরণ করবেন।’ (দৈনিক ইনকিলাব ২৬.৩.২০০৬)
ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু) হয়তো ভেবেছিলেন আর্মির কাছে ধরা দিলে বাংলাদেশের ওপর হত্যা নির্যাতন হবে না অথবা কম হবে। তার এই শুভ মতিটা কোনোভাবেই কার্যকর হয়নি এবং এই চিন্তা সঠিক ছিল না। পাকিস্তানিরা বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা ও অযোদ্ধা ৩০ লাখ লোককে হত্যা করেছে। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও। এতে দেখা যায়, তার উল্লিখিত চিন্তা সঠিক ছিল না।... কেউ কেউ ভাবেন, শেখ সাহেব ধরা দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের নেতাদের কাছে কোনো প্রকার কনফেডারেশনের আশা করেছিলেন। আগস্ট মাসে সোভিয়েত রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের চুক্তি হওয়ার পর একথাটাই কলকাতার প্রবাসী সরকারের কাছে পরোক্ষভাবে বলা হয়েছে। কিন্তু শেখ সাহেব এ ব্যাপারে জানতেন কি-না তা কেউ জানে না।’ (আমার দেশ ২৬.৩.২০০৬)
প্রফেসর আহমদ নূরুল ইসলাম লিখেছেন, ‘আমাদের প্রশ্ন মিত্র ভারতে আশ্রয় গ্রহণ না করে মুজিব কেন ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে শত্রু পাকিস্তানিদের হাতে ধরা দিলেন? আমার ধারণা মুজিব সম্ভবত জানতেন, পাকিস্তানিদের হাত থকে আন্তর্জাতিক সহায়তায় হয়তো বাংলার মাটিতে ফিরে আসতে পারবেন। কিন্তু ভারতে চলে গেলে বাংলার মাটিতে তিনি ফিরে না-ও আসতে পারতেন।’ (নয়া দিগন্ত ৩০.১০.২০০৭)
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৎকালীন কর্মকর্তা জেড এ খান রচিত ‘ওয়ে ইট ওয়াজ’ বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে মুস্তাফিজ শফি লিখেছেন, ‘গ্রেনেড বিস্ফোরণ এবং সাবমেশিনগানের শব্দে শেখ মুজিব বদ্ধ কামরার ভেতর থেকে ডাক দিয়ে বলেন, যদি তাকে হত্যা করা হবে না এই নিশ্চয়তা দেয়া হয় তাহলে তিনি বেরিয়ে আসবেন। তাকে নিশ্চিত করা হয়। তখন তিনি বেরিয়ে আসেন। তিনি বের হয়ে আসার পর হাবিলদার মেজর খান ওয়াজির, পরবর্তী সময়ে সুবেদার তার গালে একটা সশব্দ চড় মেরেছিল।’ (সমকাল ২৫.৩.২০০৮)
আরো উদ্ধৃতি দেয়া যায়। কিন্তু এতে লেখার কলেবর বৃদ্ধি পাবে মাত্র। পরাশক্তি ও তাদের দেশীয় তাঁবেদারদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এ দেশের জনগণই পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করেছে। ঐক্যবদ্ধ হতে হলে জাতির মধ্যে বিভাজন দূর করতে হবে। বিভাজন দূর করতে হলে বিতর্কিত বিষয়গুলোর অবসান ঘটাতে হবে। বঙ্গবন্ধু স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে গ্রেপ্তার বরণ করাতে বা তাকে গ্রেপ্তার করার ফলে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও একথা সত্য যে, পুরো দেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে বঙ্গবন্ধুর নাম করে। তিনিই ছিলেন সেদিনের বাংলাদেশের জনগণের এবং মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা।
আমাদের এখন ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। একটি ঐক্যবদ্ধ জাতির সৃষ্টি করতে অপারগ হলে আমাদের অগ্রগতি সম্ভব হবে না। জাতির অগ্রগতির লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হতে অহেতুক সফল বিতর্কের অবসান কাম্য।

সূত্রঃ এ এম কায়েস চৌধুরী; দৈনিক যায়যায়দিন তারিখঃ ১৪ জুন ২০০৮












 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ফয়সালা ;

 

  • ২৩ টি মন্তব্য
  • ২৬০ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬ জনের ভাল লেগেছে, ৫ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:১৮
comment by: আফলাতুন বলেছেন: আপনারেই আমার দরকার
২. ১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:৩৩
comment by: সোনারমানুষ বলেছেন: হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু কিছুতেই আত্ম সমর্পণ করতেপারেন না। তাকে অবশ্যই পাক সরকার গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছিলো। এ ব্যাপারে কোন বিতর্কের কারণ নেই। সব বিতর্কের অবসান হওয়া উচিৎ।
৩. ১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:৫০
comment by: রাজনীতিক বলেছেন: চট্টগ্রামের বেগম মুশতারী শফীর উদ্ধৃতি দিয়ে মোবায়দুর রহমান লিখেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু নিজের ইচ্ছায় ধরা দিয়েছেন? তাকে পাকিস্তানি সৈন্যরা ধরে নিয়ে যায়নি। জহুরুল কাইয়ুম মাথা নেড়ে মুচকি হাসলেন। তারপর এদিক ওদিক ফিরে একটু নিম্নস্বরে বললেন, তবে একথা এখন কাউকে বলবেন না। তিনি যে ধরা দিলেন আমি তার সাক্ষী।’ (সাপ্তাহিক পূর্ণিমা ১৫.৩.২০০০

হক কথা। মুজিবের আত্মসমর্পনের মনোভাব বহু পুরনো। ৬৯ সালেও তিনি ্একবার পাক বাহিনির কাছে আত্মসমর্পন করতে চেয়েছিলেন। আব্দুল গাফফার চৌধুরীর লেখাটি পড়ুন :

"1969 সালের মার্চ মাসে দেশে দ্বিতীয় দফা সামরিক আইন জারি হলো। শেখ সাহেব তখন ঢাকায়। শুনলাম তিনি চট্টগ্রাম সফর বাতিল করেছেন। চারিদিকে অসংখ্য প্রত্যাশা-ব্যাকুল মুখে ( যে প্রত্যাশা শেখ সাহেব নিজেই সৃষ্টি করেছেন) একটি মাত্র প্রশ্নের গুঞ্জরণ শুনলাম। শেখ সাহেব এখন কি করবেন? তিনি দেশের মানুষকে কি নির্দেশ দেবেন? পরদিন কাগজ উল্টালাম। না কিছু নেই। বিকেলে বহুদিন পর আবার ধানমন্ডীর বত্রিশ নম্বর রাস্তার দিকে এগোলাম। চারদিকে ঝিরঝিরে বিকেলের বাতাস। আমাকে দেখে (শেখ মুজিব) বিমর্ষ হেসে বললেন, আসুন চৌধুরী আসুন। বললাম, ব্যক্তিগত সাাতের জন্য নয়, সাংবাদিক হিসেবে এসেছি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মত কি? শেখ সাহেব বললেন, "আমি তৈরি হয়ে রয়েছি। আমি বিস্মিত হয়ে গেলাম,তৈরি হয়ে রয়েছেন কিসের জন্য? তিনি বললেন,'সুটকেস গুছিয়ে রেখেছি, যদি নিতে আসে, তারা দেখবে আমি তৈরি। জেলের গাড়িতে উঠে পড়বো।" আমি হতাশ কণ্ঠে বললাম, শুধু জেলে গেলেই কি আপনার সব সমস্যার সমাধান? তিনি আগের মতোই নিস্পৃহ কণ্ঠে বললেন, 'আর কি করতে পারি? আমি সুটকেস গুছিয়ে তৈরি হয়ে রয়েছি।'




৪. ১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:৫২
comment by: রূপান্তর বলেছেন:
বীরেরা কখনো পিছু হটেনা। বঙ্গবন্ধু হলেন জাতীয় বীর। তার আত্ম সমর্পণের প্রশ্নই উঠেনা। পালিয়ে চলে যেতে পারতেন কোথাও, কিন্তু তিনিতো তাও করেনননি। সো এটা নিয়ে বেহুদা বিতর্ক করছে রাজাকার বাহিনী এবং জাতীয়তাবাদি রাজাকারগণ এবং জাতীয়তাবাদি বুদ্ধিজীবিগণ।
৫. ১৪ ই জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৭
comment by: আরিফুর রহমান বলেছেন: আপনের এইটা হঠাৎ কচলানোর ইচ্ছা হইলো যে?
১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:০৪

লেখক বলেছেন: আরিফ সাহেব, কিছু জাতীয়তাবাদি ইতিহাসবিদ এবং জাতীয়তাবাদী রাজাকার পার্টি, সাথে আছে জাতীয়তাবাদি বুদ্ধিজীবি নিজেরা ইতিহাস বানিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হেয় করার চেষ্টা করে। তারা জানেনা, শত চেষ্টা করেও বঙ্গবন্ধুর উজ্জ্বলতা মলিন করতে পারবেনা, সেই কারণে এই প্রশনটি দেখা দিয়েছে। আজকের যায়যায়দিন পত্রিকায় এ এম কায়েস চৌধুরী এই প্রশ্নের অবতারণা করেছেন। এই জন্য এটি পোষ্ট করে আপনাদের মন্তব্য চাইলাম।

৬. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪০
comment by: রিপঅন বলেছেন: এবার বিতর্কিত বিষয়টির ফয়সালা করবেন ব্লগার বন্ধুরা ????

কি বোঝাতে চাইছেন??

ব্লগার বন্ধুরা কি ইতিহাসবিদ হয়ে গেলেন??
মহানায়ক শত মিথ্যাচার এর উদ্ধে উঠবেন্
১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:০৬

লেখক বলেছেন: আপনি ঠিকই বলেছেন, ব্লগার বন্ধুরাতো ইতিহাসবিদ নন। তবুও অনেক বন্ধুরা অনেক ভালো ইতিহাস বই পড়াশুনা করেন, পত্রপতিকা পড়ে কিছুটা হলেও তথাকথিত বুদ্ধিজীবেদের চেয়ে ভালো জানেন। এই কারনণই এই পোষ্টের অবতারণা।

৭. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১২
comment by: বোধিস্বত্ত বলেছেন: এইটা বিতর্কিত বিষয় নাকি?
বঙ্গবন্ধু 'আত্মসমর্পণ' করার পরেও ৯ মাস ধরে যুদ্ধ চলেছিল? জামাতি ষ্টাইল ধইরেন না ভাই। জামাতিরা একদিন সার কারখানায় ইনপুট হবে।
১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:১০

লেখক বলেছেন: বঙ্গবন্ধুকে কিন্তু শুরু থেকে বঙ্গবন্ধুই অ্যাড্রেস করেছি। কারণ তার প্রতি রয়েছে আমার বিনম্র ভালোবাসা। আমার পোষ্টে ঢুকলেই বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে 'বঙ্গবন্ধু, প্রিয় কবি আমার' নামে একটা কবিতা পাবেন। তাতে অনেক কবিতা বোদ্ধারা বলেছেন ভালো হয়েছে। আপনি অনুগ্রহ করে আমার পোষ্টে ঢুকে কবিতাটি পড়তে পারেন।

৮. ১৪ ই জুন, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৭
comment by: মুনমুন বলেছেন: অবশ্যই বঙ্গবন্ধু গ্রেফতারই হয়েছিলেন। এ ব্যাপারে কোন বিতর্ক সবকিছুর উর্ধ্বে। তার আগে তিনিই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
৯. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ৮:৫১
comment by: এস্কিমো বলেছেন: খুবই জ্ঞানী পুষ্ট। মাঝে মধ্যে এইগুলো না লেখলে আমরা মনে ব্যাথ্যা পাই।
১০. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ৯:০৬
comment by: আমি সাগর বলেছেন: আপনার উদ্দেশ্য সফল। আপনি লিখেছেন, 'বাংলাদেশকে মৌলবাদী, সন্ত্রাসী, ব্যর্থ ও অকার্যকর এবং প্রতিবেশী দেশের তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রে একটি মহল সদা তৎপর রয়েছে। তারা স্বাধীনতার পক্ষে-বিপক্ষের ধুয়া তুলে জাতির মধ্যে বিভাজন ধরে রাখার জন্য মাঝে মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে অহেতুক বিতর্কের সৃষ্টি করে।'

সেরকমই আপনিও অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।

তবে এই ব্লগে এটা নতুন কিছু না। চেষ্টা চালাইতে থাকেন...
১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:১১

লেখক বলেছেন: সাগর সাহেব, আগেই বলেছি, কিছু জাতীয়তাবাদি ইতিহাসবিদ এবং জাতীয়তাবাদী রাজাকার পার্টি, সাথে আছে জাতীয়তাবাদি বুদ্ধিজীবি নিজেরা ইতিহাস বানিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হেয় করার চেষ্টা করে। তারা জানেনা, শত চেষ্টা করেও বঙ্গবন্ধুর উজ্জ্বলতা মলিন করতে পারবেনা, সেই কারণে এই প্রশনটি দেখা দিয়েছে। আজকের যায়যায়দিন পত্রিকায় এ এম কায়েস চৌধুরী এই প্রশ্নের অবতারণা করেছেন। এই জন্য এটি পোষ্ট করে আপনাদের মন্তব্য চাইলাম।

১১. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ৯:১৭
comment by: হ।স।ন বলেছেন: এধরনের ব্লাসফেমি প্রশ্নের তীব্র প্রতিবাদ জানাই!
১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:১৩

লেখক বলেছেন: হাসান সাহেব, কিছু জাতীয়তাবাদি ইতিহাসবিদ এবং জাতীয়তাবাদী রাজাকার পার্টি, সাথে আছে জাতীয়তাবাদি বুদ্ধিজীবি নিজেরা ইতিহাস বানিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হেয় করার চেষ্টা করে। তারা জানেনা, শত চেষ্টা করেও বঙ্গবন্ধুর উজ্জ্বলতা মলিন করতে পারবেনা, সেই কারণে এই প্রশনটি দেখা দিয়েছে। আজকের যায়যায়দিন পত্রিকায় এ এম কায়েস চৌধুরী এই প্রশ্নের অবতারণা করেছেন। এই জন্য এটি পোষ্ট করে আপনাদের মন্তব্য চাইলাম।

আপনি খেয়াল করবেন, বঙ্গবন্ধুকে কিন্তু শুরু থেকে বঙ্গবন্ধুই অ্যাড্রেস করেছি। কারণ তার প্রতি রয়েছে আমার বিনম্র ভালোবাসা। আমার পোষ্টে ঢুকলেই বঙ্গবন্ধুকে উদ্দেশ্য করে 'বঙ্গবন্ধু, প্রিয় কবি আমার' নামে একটা কবিতা পাবেন। তাতে অনেক কবিতা বোদ্ধারা বলেছেন ভালো হয়েছে। আপনি অনুগ্রহ করে আমার পোষ্টে ঢুকে কবিতাটি পড়তে পারেন।

কাজেই এটি ব্লাসফেমি প্রশ্ন নয়।

১২. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:১৩
comment by: মাইনুল বলেছেন: বংগবন্ধু চাইলে তাজউদ্দিনদের মত পালিয়ে গিয়ে গেরিলা যুদ্ধে সরাসরি নেতৃত্ব দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে বসে থাকলেন এই মনে করে যে পাকিস্থানী শাসকদের সাথে তার একটা ফায়সালা হয়ে যাবে। সুতরাং এটা আত্নসমর্পন ই বলতে হবে।
১৩. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:১৫
comment by: রফিকুল ইসলাম ফারুকী১১ বলেছেন: ধন্যবাদ মাইনুল। আপনি সঠিক বলেছেন।
১৪. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:২৪
comment by: রন্টি চৌধুরী বলেছেন: অদ্ভুত আর আজব।
উদ্দেশ্য পরিস্কার।
১৫. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১০:৪৯
comment by: মেহরাব বলেছেন: মুজিব আসলে আত্মসমর্পন করার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয় ইমেজ রক্ষার জন্য।
১৬. ১৪ ই জুন, ২০০৮ রাত ১১:২৫
comment by: দখিনা বাতাস বলেছেন: বন্গবন্দ্বু'র ৭ই মার্চের ভাষণ টা একটু মনোযোগ দিয়ে শুনলেই আমার মনে হ্য় এই ধরনের বিষয় নিয়ে লেখতে হতোনা আপনার।

বন্গবন্দ্বু খুব পরিষ্কার করে বলেছেন, আমি যদি নির্দেশ দিবার নাও পারি............

একজন মানুষ সবসময় সেনাবাহিনীর সর্বচ্চো পর্যবেক্ষেনে থাকা অবস্তায় ধরা পড়া, আত্নসমর্পন........... এই গুলি ফালতু প্রশ্ন।

ঐ সময় যদি পাক বাহিনী তাকে হত্যাও করতো, যুদ্ব ঠিকই চলতো। কারন, উনি ৭ই মার্চ ভাষনেসব দিক নিদশনা দিয়ে গেছেন।

আসলে এই বিষয়গুলি তোলা হয়েছে, উনার অবদান খাটো করে,জিয়াকে বড় করে দেখানোর জন্য। কোন এক অখ্যাত( তখন তারে কয়জন চিনত???) মেজরের ভাষনের জন্য যুদ্ব যেন আটকে ছিল। আজব............
১৭. ১৫ ই জুন, ২০০৮ রাত ১২:৪৩
comment by: স্বাধিকার বলেছেন: যে সব রেফারেন্স দিছেন তাদের কয়জনের গ্রহনজোগ্যতা আছে? শফিক রেহমান? মেদামের পা চাইটা সময় পায় না। ফরহাদ মাজহার? হাহাহাহাহাহাহা ভাই হাসালেন।

ভাইরে, আপনিও জানেন ইতিহাস। শফিক রেহমান কি বলছে এটা দিয়া জাতির জনকের এনালাইসিস করতেছেন... ভাই একটু লেভেল maintain করেন "পিলিজ"
১৮. ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪১
comment by: তীর্যক বলেছেন: পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন স্বাধিকার নেতা খুঁজে পাওয়া যাবেনা, যে যুদ্ব শুরু হবার আগেই শত্রুর হাতে বন্দি হয়েছেন। বরং এমন পরিস্থিতি তে নেতারাই জাতীল মনোবল। কোথায় তিনি জাতি কে সংগঠিত করবেন, অন্ততঃ নেপথ্য নেতৃত্ব দেবেন - তা নয়, তিনি সেজে গুজে বসে ছিলেন, কখন পাকি সেনারা আসে, তাকে নিয়ে যায়, আর একজন স্বাধিকার নেতা কে বন্দি করা হতে পারে .. এটাতো বলাই বাহুল্য, সুতারাং মুজিব তো আত্মগোপনও করতে পারতেন। বরং তিনি পাকিস্তান গিয়ে হলফ করে বলেছেন তিনি স্বাধীনতার ড়াক দেননি।

অথচ, এই আমলের পুঁচকা অনুপ চেটিয়া'র সে কি বুকের পাটা .... বন্দি হয়েও সে বলে আমি সন্ত্রাসী কিংবা বিচ্ছিন্নতাবাদি নই, আমি স্বাধীনতাকামি। আমি আমার স্বজাতীর স্বাধীনতা চাই।

 



 


আমি একজন সাংস্কৃতিক কর্মী। ভালোবাসি কবিতা, গান. বাংলাদেশকে আর বাংলাদেশের মানুষকে। আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন আমাদের স্বাধীনতা যারা এনে দিয়েছেন,...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৮৩১৯