somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুপার সিক্সটি নাইন-১ (ধারাবাহিক)

২৪ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৫:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক্সকিউজ মি, 'সুপার সিক্সটি নাইন' বাস কাউন্টারটা কোথায় বলতে পারেন? আচমকা এরকম একটা মেয়েলি কণ্ঠ শুনে পেছনে ফিরে তাকালাম। হাঁটার গতিটাও থামিয়ে দিলাম। দেখলাম এক ভয়ংকর সুন্দর মেয়ে আমার সহযোগিতা চাইছে। তখন সন্ধ্যে ছ’টার মতো হবে। যে যার মতো গন্তব্যে ফিরতে ব্যস্ত। বন্ধুর সাথে দেখা করতেই বনানী এলাকায় আসা। এই এলাকা তরুণীর মতো আমারো ত্যামন পরিচিত না হলেও 'সুপার সিক্সটি নাইন' বাস কাউন্টার আমি চিনি। আমি নিজেও ঐ বাসে করে বাসায় ফিরবো বলে ঐ কাউন্টারের দিকে এগুচ্ছি। মেয়েটির ছুঁড়ে দেয়া প্রশ্নটা স্পষ্ট শুনলেও আবারো তাকে জিজ্ঞেস করলাম; 'জ্বি, আমাকে বলছিলেন? বলুন, কিভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি?' ততক্ষণে আমার ব্যস্ততার কথা ভুলে গিয়ে মেয়েটির দিকে মনোযোগ দিলাম। ছিপছিপে গড়নের শ্যামলা রঙের মেয়েটি উচ্চতায় ৫ ফিট ২/৩ হবে। ক্লান্ত-শ্রান্ত মুখটা দেখে মনে হলো সারাদিন অনেক ধকল গেছে ওর ওপর দিয়ে। এতো ক্লান্তিতেও চেহারায় এক ধরণের মায়া আছে। যা ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ সবাইকে আকর্ষণ করবে। একই প্রশ্ন মেয়েটি আবার করলো। বললো, 'এখানে এসেছিলাম একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কভার করতে। হলে ফিরতে হবে। তাই আপনার কাছে জানতে চাচ্ছিলাম কাউন্টারটা কোথায়। তা আপনি এমন আত্ম-ভোলা ছিলেন যে, ৩/৪ বার জিজ্ঞেস করার পর আপনার মনোযোগ পেলাম।'
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কভার করতে মানে? আপনি কি রিপোর্টার? মানে সাংবাদিক? কোন্ পত্রিকার?
জ্বি, মানে আমি 'দৈনিক শ্যামলিমা'র কালচারাল রিপোর্টার কাম ফটোগ্রাফার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম ডিপার্টমেন্টের থার্ড ইয়ারে পড়ছি। গন্তব্য শামসুন্নাহার হল।'
'করছেন কি? দম ছাড়ুন। এক দমে আপনার বায়োগ্রাফি বলে ফেললেন যে! আমিও একই বাসে ধানমন্ডি ফিরবো। আমার পর আপনাকে নামতে হবে। মানে নিউ মার্কেটে। চলুন, সামনেই কাউন্টার।'
টিকিট কেটে দাঁড়িয়ে আছি লম্বা লাইনে। বাস আর আসছেনা। অনেকে অধৈর্য হয়ে বাস কোম্পানির চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করতে থাকলো। আমরাও আমাদের আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকলাম। নিজেদের মধ্যে পরিচয়ের চ্যাপ্টার শেষ হলো। জানা গেল মেয়েটির নাম স্বর্ণ। বাড়ি যশোর। আমার নাম বললাম। 'আমি অনিন্দ্য। সম্প্রতি ইকোনোমিকসে অনার্স-মাষ্টার্স শেষ করে একটি বেসরকারী ব্যাংকে ক্রেডিট এন্ড লোন সেকশনে কাজ করছি। দিনাজপুরের ফুলবাড়িয়ায় গ্রামের বাড়ি। ধানমন্ডি ৪ এ দু-রুমের একটা ফ্ল্যাট নিয়ে একা একা আছি। রাবুরমা নামে এক মহিলা সকাল সন্ধ্যায় আমার রান্না-বান্না সহ যাবতীয় কাজ করে দেয়। রাবুরমা আমাকে মামা ডাকে আর তার সিক্সে পড়ুয়া রাবু আমাকে দাদা বলে ডাকে।' এইবার স্বর্ণ আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, 'থামুন থামুন। আপনিতো আপনার ইতিহাস চালিয়ে যাচ্ছেন। আরেকটু হলেতো, বাচ্চা-কাচ্চা, ভাগ্নে-ভাগ্নী, নাতি-পোতা সবার নাম বলে ছাড়বেন'। আমরা আলোচনায় এমন ভাবে মশগুল থাকলাম যে, মিনিট দশেক আগে যে আমাদের পরিচয় হলো, তা বেমালুম ভুলে গেলাম। এরই মধ্যে 'আগে কি সুন্দর দিন কাটাতাম' গানের টোনে ওর মোবাইলটা বেজে ওঠলো। আমার কাছ থেকে পারমিশান নিয়ে মেয়েটি ফোন রিসিভ করলো।
'আরে বাবা এতো টেনশান করার কি আছে? আমি বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। বাস এলে হোপ ফুল্লি ঘন্টা খানেকের মধ্যে চলে আসবো। কি বলছো এইসব? দুই ঘন্টা ধরে তুমি আমার হলের গেইটে কেন? কি করছো ওখানে? কার সাথে আবার...' বলে স্বর্ণ আমার দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হাসলো। গলাটা একটু ঝেরে-কেশে আবার শুরু করলো, 'দ্যাখো মন, মাঝে মাঝে তোমার আহ্লাদ একটু বাড়াবাড়ি মনে হয়। ঠিক আছে, আমি কি তোমাকে বারণ করেছি নাকি? আমিওতো ডাইনিংয়ে নিষেধ করেছি দুজন একসাথে খাবো বলে। হ্যাভ প্যাশেন মন, আমি আসছি। বাই..' বলে ফোন কেটে দিয়ে আমার দিকে মনোযোগী হলো আবার। যার সাথে কথা হলো, তার পরিচয়ও দিলো। 'আমার বয় ফ্রেন্ড। আমাকে ছাড়া খাবেইনা। একদিন দেখা না হলে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। বলে আমি নাকি ওর টনিক। আমার সাথে কথা না বলতে পারলে ওর ব্যাটারী ফিউজ হয়ে পড়ে। ওর নাকি বডির রিচার্জ হয়না।'
ওর নাম বুঝি মন? খুউবই রোম্যান্টিক নাম। দেখতেও নিশ্চয়ই খুউবই হ্যান্ডসাম।
আরে নাহ। ওর নাম হলো সুমন। আমি ওকে মন বলে ডাকি। আর দেখতে মোটামুটি ভালোই। তবে আপনার মতো অত স্মার্ট না। আপনার নামটাওতো খুউবই সুইট। অনিন্দ্য।
নিজের প্রশংসা শুনে অনেকে লজ্জায় লাল হয়ে যায়। আমি একটু মুচকি হাসলাম। তারপর বললাম, ভাগ্যিস আপনার মতো কেউ আমাকে আদর করে সংক্ষিপ্ত করে ডাকেনা। তাহলে কি জঘণ্য হতো।
কি হতো অনিন্দ্য?
আরে সুমনকে যদি আদর করে আপনি মন ডাকেন, তাহলে আমাকে ডাকতে হতো নিন্দ্য। কারো কাছে সেটা হয়ে যেতো নিন্দা। হা হা হা।
আপনি হাসাতেও পারেন দেখছি। আপনার সেন্স অব হিউমার খুউবই শার্প।

(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১০:১৭
২৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×