সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কভার করতে মানে? আপনি কি রিপোর্টার? মানে সাংবাদিক? কোন্ পত্রিকার?
জ্বি, মানে আমি 'দৈনিক শ্যামলিমা'র কালচারাল রিপোর্টার কাম ফটোগ্রাফার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম ডিপার্টমেন্টের থার্ড ইয়ারে পড়ছি। গন্তব্য শামসুন্নাহার হল।'
'করছেন কি? দম ছাড়ুন। এক দমে আপনার বায়োগ্রাফি বলে ফেললেন যে! আমিও একই বাসে ধানমন্ডি ফিরবো। আমার পর আপনাকে নামতে হবে। মানে নিউ মার্কেটে। চলুন, সামনেই কাউন্টার।'
টিকিট কেটে দাঁড়িয়ে আছি লম্বা লাইনে। বাস আর আসছেনা। অনেকে অধৈর্য হয়ে বাস কোম্পানির চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করতে থাকলো। আমরাও আমাদের আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকলাম। নিজেদের মধ্যে পরিচয়ের চ্যাপ্টার শেষ হলো। জানা গেল মেয়েটির নাম স্বর্ণ। বাড়ি যশোর। আমার নাম বললাম। 'আমি অনিন্দ্য। সম্প্রতি ইকোনোমিকসে অনার্স-মাষ্টার্স শেষ করে একটি বেসরকারী ব্যাংকে ক্রেডিট এন্ড লোন সেকশনে কাজ করছি। দিনাজপুরের ফুলবাড়িয়ায় গ্রামের বাড়ি। ধানমন্ডি ৪ এ দু-রুমের একটা ফ্ল্যাট নিয়ে একা একা আছি। রাবুরমা নামে এক মহিলা সকাল সন্ধ্যায় আমার রান্না-বান্না সহ যাবতীয় কাজ করে দেয়। রাবুরমা আমাকে মামা ডাকে আর তার সিক্সে পড়ুয়া রাবু আমাকে দাদা বলে ডাকে।' এইবার স্বর্ণ আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, 'থামুন থামুন। আপনিতো আপনার ইতিহাস চালিয়ে যাচ্ছেন। আরেকটু হলেতো, বাচ্চা-কাচ্চা, ভাগ্নে-ভাগ্নী, নাতি-পোতা সবার নাম বলে ছাড়বেন'। আমরা আলোচনায় এমন ভাবে মশগুল থাকলাম যে, মিনিট দশেক আগে যে আমাদের পরিচয় হলো, তা বেমালুম ভুলে গেলাম। এরই মধ্যে 'আগে কি সুন্দর দিন কাটাতাম' গানের টোনে ওর মোবাইলটা বেজে ওঠলো। আমার কাছ থেকে পারমিশান নিয়ে মেয়েটি ফোন রিসিভ করলো।
'আরে বাবা এতো টেনশান করার কি আছে? আমি বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। বাস এলে হোপ ফুল্লি ঘন্টা খানেকের মধ্যে চলে আসবো। কি বলছো এইসব? দুই ঘন্টা ধরে তুমি আমার হলের গেইটে কেন? কি করছো ওখানে? কার সাথে আবার...' বলে স্বর্ণ আমার দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হাসলো। গলাটা একটু ঝেরে-কেশে আবার শুরু করলো, 'দ্যাখো মন, মাঝে মাঝে তোমার আহ্লাদ একটু বাড়াবাড়ি মনে হয়। ঠিক আছে, আমি কি তোমাকে বারণ করেছি নাকি? আমিওতো ডাইনিংয়ে নিষেধ করেছি দুজন একসাথে খাবো বলে। হ্যাভ প্যাশেন মন, আমি আসছি। বাই..' বলে ফোন কেটে দিয়ে আমার দিকে মনোযোগী হলো আবার। যার সাথে কথা হলো, তার পরিচয়ও দিলো। 'আমার বয় ফ্রেন্ড। আমাকে ছাড়া খাবেইনা। একদিন দেখা না হলে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। বলে আমি নাকি ওর টনিক। আমার সাথে কথা না বলতে পারলে ওর ব্যাটারী ফিউজ হয়ে পড়ে। ওর নাকি বডির রিচার্জ হয়না।'
ওর নাম বুঝি মন? খুউবই রোম্যান্টিক নাম। দেখতেও নিশ্চয়ই খুউবই হ্যান্ডসাম।
আরে নাহ। ওর নাম হলো সুমন। আমি ওকে মন বলে ডাকি। আর দেখতে মোটামুটি ভালোই। তবে আপনার মতো অত স্মার্ট না। আপনার নামটাওতো খুউবই সুইট। অনিন্দ্য।
নিজের প্রশংসা শুনে অনেকে লজ্জায় লাল হয়ে যায়। আমি একটু মুচকি হাসলাম। তারপর বললাম, ভাগ্যিস আপনার মতো কেউ আমাকে আদর করে সংক্ষিপ্ত করে ডাকেনা। তাহলে কি জঘণ্য হতো।
কি হতো অনিন্দ্য?
আরে সুমনকে যদি আদর করে আপনি মন ডাকেন, তাহলে আমাকে ডাকতে হতো নিন্দ্য। কারো কাছে সেটা হয়ে যেতো নিন্দা। হা হা হা।
আপনি হাসাতেও পারেন দেখছি। আপনার সেন্স অব হিউমার খুউবই শার্প।
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুন, ২০০৮ রাত ১০:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


