somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুপার সিক্সটি নাইন-২ (ধারাবাহিক)

২৫ শে জুন, ২০০৮ রাত ৯:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এরি মধ্যে আমাদের প্রত্যাশিত বাস ,সুপার সিক্সটি নাইন' চলে এসেছে। বাসে প্রচন্ড ভীড়। ঠাসাঠাসি অবস্থা। আমি কোন রকমে ওঠতে পারলেও স্বর্ণকে আর ওঠানো যাচ্ছেনা। আমি দুই সিঁড়ি পেরুতে পেরেছি, স্বর্ণ মাত্র পা ফেলতে পেরেছে। মেয়ে মানুষতো আর ওভাবে গেইটে ঝুলে যেতে পারবেনা! ওখান থেকেই চিৎকার করে বলছে,' হেল্প মি, অনিন্দ্য, হেল্প মি । হাতটা একটু ধরেন।' সবাইকে রিকোয়েস্ট করি ওকে একটু ওঠানোর জন্য যেন রাস্তা বের করে দেয়। অবশেষে সবাইকে এড়িয়ে ওর দুহাত ধরে টেনে হিচড়ে ওকে বাসের ভেতরে ওঠানো সম্ভব হলো। বাসে এমন ঠাসাঠাসি যে, একজন, আরেকজনের গায়ে ল্যাপ্টালেপ্টির মতো অবস্থা। একজন যাত্রির গায়ের ঘামে আরেকজনের জামা ভিজে যাওয়ার মতো অবস্থা। স্বর্ণ আর আমি মুখোমুখী এমন ভাবে দাঁড়িয়ে আছি যে ওর শ্বাস-প্রশ্বাস, হার্ট-বিট আমি টের পাচ্ছি। আমার পার্লস ওঠানামার শব্দ যেন ও শুনতে পাচ্ছে। এক হাতে বাসের রড ধরে আরেক হাতে ওকে ধরে রাখছি। ওর চোখ ভিজে ওঠেছে। 'আপনি না থাকলে কি যে হতো। আমি আর কখনো এরকম অবস্থায় পড়িনি। আমার খুউবই কান্না পাচ্ছে। জানেন, কোন সিএনজি অটো রিক্সা বা ট্যাক্সি যেতে রাজি হলোনা। এরপর ট্রান্সপোর্ট সুবিধা না পেলে আর কোন এসাইনমেন্টে আসবোনা'।
ওকে বেবি ওকে। রিলেক্স। পথে ঘাটে এরকম হয়ই। নিজেদের ভিইকল না থাকলে মাঝে মাঝে এরকম হ্যানস্থায় পড়তে হয়।
তখনো ও স্বাভাবিক হতে পারেনি। অনেকটা নেতিয়ে পড়েছে। আমার শরীরের ওপর ভর দিয়ে নিজের শরীরের হাল ছেড়ে দিয়েছে। ওর মাথাটা এখন আমার বুকে। মনে হচ্ছে ও ঘুমিয়ে পড়বে। আশে পাশে তাকিয়ে সিটে বসা লোকগুলোকে মনেমনে হিংসা করা শুরু করলাম। কেন ওরা নামছেনা কেউ? কেন আমরা বসতে পারছিনা, এ কারণে সবার ওপর রাগ করতে শুরু করলাম মনেমনে। ততক্ষণে বাস মহাখালী চলে এসেছে। ঠিক তখনি আমাদের পাশের সিটের দুই ভদ্রলোক দুটি সিট খালি করে মহাখালী নেমে গেলেন। সিট দুটো পেয়ে মনে হলো আকাশের চাঁদ পেয়ে গেছি। চাঁদ পেলে মানুষ এতোটা খুশী হয় কিনা জানিনা। তবে সিট দুটো পেয়ে আমার কাছে দূর্লভ কিছু মনে হচ্ছিল। জানালার পাশে স্বর্ণকে বসিয়ে আমি তার পাশের সিটে বসলাম। স্বর্ণ আমার কাঁধে ওর মাথাটা রেখে চোখ বন্ধ করে দিলো। মনে হলো ও এখন কিছুটা কমফোর্ট ফিল করছে। চুলগুলো বেয়ে কিছু আমার নাকে এসে ঝাপটা মারছে। জানালার বাতাসে চুলের বড় বেণীটা আমার পিঠে এবং ঘাড়ে এসে ঠেকছে। আমার ডান হাতের কয়েকটা আঙুল দিয়ে ওর কপালের পাশের চুল নেড়েচেড়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, 'কোন সমস্যা? খারাপ লাগছে?'
চোখ বন্ধ করেই বললো, 'মাথাটা ঝিমঝিম করছে'।
প্রসঙ্গ পাল্টে আবার জিজ্ঞেস করলাম, সুমন কি পড়ে?
বুয়েটে, ফাইনাল ইয়ারে।
ওর গ্রামের বাড়ি কোথায়?
লক্ষীপুর।
চোখ বন্ধ করেই আমার সাথে কথা চালিয়ে যাচ্ছে।
লক্ষীপুর মানে নোয়াখালীর লক্ষীপুর।
হুম।
ওর সাথে কিভাবে পরিচয় হলো তোমার?
মন খুউব ভালো গান করে। টাচি গান। আমাদের নবীণ বরণে গাইতে এসেছিলো। আমিই এগিয়ে গিয়ে ওর সাথে পরিচিত হলাম। সেই থেকে.....।
এইবার মাথাটা তুললো। আপনি এত কথা জানতে চাচ্ছেন কেন অনিন্দ্য?
না মানে কৌতুহল, জাস্ট কিউরিসিটি। স্যরি।
ইটস ওকে। আমি এমনিতেই সব বলতাম আপনাকে। কিন্তু এই মুহূর্তে কিছু বলতে ভালো লাগছেনা।
ঠিক আছে। আপনার যখন ইচ্ছে বলবেন, কিন্তু সামনে তো আমার বাস স্টপেজ। আমাকেতো নেমে যেতে হচ্ছে।
স্বার্থপরের মতো আমাকে একা রেখে নেমে যাবেন? দেখছেন না আমি সিক। আপনার কি বুকে লোম আছে?
বুকে লোম? কেন বলুন তো?
না মানে আপনি একটু পাষাণ প্রকৃতির। দয়া-মায়া নেই। শুনেছি বুকে যাদের লোম নেই, তারা এরকম নিষ্ঠুর হয়।
আমি হো হো করে হেসে ওঠলাম। এতো বড় মেয়ে, এমন বাচ্চা বাচ্চা কথা বলে?
আমার এতোক্ষণের আচরণে কি আমাকে পাষাণ প্রকৃতির মনে হয়েছে?
এতক্ষণ মনে হয়নি। এখন মনে হচ্ছে। এতক্ষণতো আমাকে আগলে রেখেছেন, ঠিক আমার বাবার মতো অথবা আমার যদি বড় কোন ভাই থাকতো, সেই বড় ভাইয়ের মতো অথবা আমার বন্ধুর মতো। জানেন অনিন্দ্য! আমার যে বয়ফ্রেন্ড মন, তার কাঁধেও কখনো আমি মাথা রাখিনি বা রাখার সুযোগ পাইনি। আপনার কাঁধে মাথা রেখে মনে হয়েছে আপনার কাঁধটি আমার একটা শান্তির জায়গা। এরকম শান্তি আমি কখনো পাইনি।
কি পাগলের মতো প্রলাপ বকছেন? আপনি অসুস্থ্য। মাথাটা ঝিমঝিম করছিলো, তাই হয়তো এমন মনে হচ্ছে আপনার।
আপনি এতো আপনি আপনি করছেন কেন? আমি কি আপনার চেয়ে সিনিয়র? বাজে লাগছে শুনতে।
আরে বাবা, এইতো পরিচয় হলো। পরিচয়ের প্রথম দিনেই কেই তুমি করে বলে?
এইতো পরিচয় হলো মানে? আপনার সাথে আমার আরো বিশ বছর আগে পরিচয় ছিলো। সেই ছোট বেলা থেকেই আমরা বন্ধু ছিলাম। আপনি তখন যশোরে থাকতেন। একই পাড়ায় দুজনে থাকতাম। এই কয়েক বছর আপনি হারিয়ে গিয়েছিলেন। আপনার মনে নেই, সেই যে মেলাতে গিয়ে আপনি আমার কাছ থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন?
আমি আবার হো হো করে হেসে ওঠলাম। আপনারতো সেন্স অব হিউমার খুউব শার্প! আপনিওতো হাসাতে পারেন খুউব। চমৎকার একটি গল্প বানালেন। ঠিক ফিল্মী স্টাইল। কিন্তু জানেন, সত্যি সত্যি আমি যখন ফোরে পড়ি, আমরা তখন যশোর থাকতাম। সত্যি সত্যি যদি আপনার সাথে পরিচয় থাকতো?
আবার আপনি? আমরা না শিশুকালের বন্ধু। সো নো মোর আপনি। ওকে?
ওকে। বাট ইউ অলসো শুডনট বি ইউজড আপনি। বিকজ উই আর ফ্রেন্ড ফ্রম ভেরি চাইল্ডহুড। ওকে? হা হা হা।
ওকে।


(চলবে)

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০০৮ রাত ১০:০৬
১৫টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×