আইন প্রয়োগ( নির্বাহী ব্যবস্থা)
১৯৭২ সালের সংবিধানের চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ সম্পর্কে বিধান করা হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৪৮(১) রাষ্ট্রপতি
বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রপতি থাকিবেন …… যিনি সংসদ সদস্যগণ কতৃক নির্বাচিত হইবেন।
৪৮(৩) এই সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুসারে
কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন
এই বিধি রাষ্ট্রপতিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের অনুগত করে; অথচ রাষ্ট্রপতি জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতীক বা প্রতিষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়া বান্ছনীয় এবং এই প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধারী হওয়া উচিৎ।
অনুচ্ছেদ ৫২(১)
এই সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যাইতে পারিবে। …. সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরে অভিযোগ.. করা যাবে এবং…. মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন্ দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলিয়া ঘোষণা করিয়া সংসদ প্রস্তাব গ্রহন করিলে…. রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবে
রাষ্ট্রপতির অভিশংসনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গণসংসদে হওয়া উচিৎ। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা অনুচ্ছেদ ৫৫(১)
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে। (২) প্রধানমন্ত্রী কতৃক বা তাহার কতৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে। (৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন
অনুচ্ছেদ ৫৬-
(১) একজন প্রধানমন্ত্রী থাকিবেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেরূপ নির্ধারণ করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী থাকিবেন। (৩) যে সংসদ সদস্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন বলিয়া রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হইবেন, রাষ্ট্রপতি তাহাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করিবেন
এক ব্যক্তি ও দলের প্রাধান্য কমাতে প্রধানমন্ত্রী সহ অন্যান্য মন্ত্রীগণ সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হওয়া উচিৎ।
অনুচ্ছেদ ৫৭(২)
সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারাইলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিবেন কিংবা সংসদ ভাঙ্গিয়া দিবার জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শদান করিবেন
সংসদ ভাঙ্গিয়া দেয়ার পদক্ষেপের পরিবর্তে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ব্যবস্থা নিলে নির্বাচনের ব্যয় এড়ানো যায়।
অনুচ্ছেদ ৫৮(২)
প্রধানমন্ত্রী যে কোন সময় কোন মন্ত্রীকে পদত্যাগ করিতে অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং উক্ত মন্ত্রী অনুরূপ অনুরোধ পালনে অসমর্থ হইলে তিনি রাষ্ট্রপতিকে উক্ত মন্ত্রীর নিয়োগের অবসান ঘটাইবার পরামর্শদান করিতে পারিবেন। (৪) প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করিলে বা স্বীয় পদে বহাল না থাকিলে মন্ত্রীদের প্রত্যেকে পদত্যাগ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে
প্রধানমন্ত্রীকে একচ্ছত্র ক্ষমতা না দিয়ে মন্ত্রীসভাকে সমন্বয় ও কমান্ড করতে যতটুকু ক্ষমতা প্রয়োজন ততটুকু ক্ষমতা দেয়া উচিৎ ।
অনুচ্ছেদ ৫৯(১)
আইননানুযায়ী নির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত প্রতিষ্ঠান সমূহের উপর প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক প্রশাসনিক এককাংশের স্থানীয় শাসনের ভার প্রদান করা হইবে। (২) এই সংবিধান বা অন্যকোন আইনের দ্বারা যেরূপ নির্দিষ্ট করিবেন এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় উল্লিখত অনুরূপ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান যথোপযুক্ত প্রশাসনিক এককাংশের মধ্যে সেইরূপ দায়িত্ব পালন করিবেন এবং অনুরূপ আইনে নিম্নলিখিত বিষয়-সংক্রান্ত দায়িত্ব অন্তর্ভূক্ত হইতে পারিবে: (ক) প্রশাসন ও সরকারী কর্মচারীদের কার্য (খ) জনশৃঙ্খলা রক্ষা (গ) জনসাধারণের কার্য ও অর্থৈনতিক উন্নয়ন সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
অনুচ্ছেদ ৬০
এই সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের বিধানাবলীকে পূর্ণ কার্যকারীতাদানের উদ্দেশ্যে সংসদ আইনের দ্বারা উক্ত অনুচ্ছেদে উল্লিখিত স্থানীয় শাসন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান সমূহকে স্থানীয় প্রয়োজনে কর আরোপ করিবার ক্ষমতাসহ বাজেট প্রস্তুতকরণ ও নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা প্রদান করিবেন
এই বিধান অনুসারে স্থানীয় সংসদ এবং স্থানীয় পরিষদ (নির্বাহী) ব্যবস্থার প্রবর্তন করা আবশ্যক।
নির্বাহী বিভাগের বিধানাবলী লক্ষ্য করলে প্রতীয়মান হয় যে একমাত্র কেন্দ্রীয় মন্ত্রনালয় ( যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা মন্ত্রিসভা গঠনের বিধান আছে) ব্যতীত সকল নির্বাহী কার্য আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা আছে।
অনুচ্ছেদ ১১ এর
প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে
—স্পিরিটে নির্বাহী বিভাগে কোন বিধান করা হয় নাই। অনুচ্ছেদ ৫৯ ও ৬০ সংসদকে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দিলেও তা আজ পর্যন্ত উপেক্ষিত আছে এবং সংবিধান উপেক্ষার জন্য সংসদ ও সরকারকে জবাবদিহি করতে বাধ্যকরার কোন বিধান বা আইনী ব্যবস্থা নেই।
নির্বাহী বিভাগ হলো আইন প্রয়োগ বা বাস্তবায়ন ব্যবস্থা যা জনগণের কতৃত্ব ও অংশগ্রহনে হওয়া গণতান্ত্রিক রীতি।
কিন্তু ১৯৭২ সালের সংবিধানে যে নির্বাহী বিভাগের বিধি ( অনুচ্ছেদ ৪৮ থেকে ৬৪) সমূহ দেয়া হয়েছে সেখানে জনগণের অংশগ্রহন ও ক্ষমতায়ন না করে সকল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কুক্ষিগত করা হয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রপতিকেও প্রধানমন্ত্রীর অনুগত করা হয়েছে।
কারণ রাষ্ট্রপতি সংসদ কতৃক নির্বাচিত হন এবং একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ—(অনু: ৪৮(৩) ব্যতীত সকল দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে করার বিধি করা হয়েছে।
কিন্তু রাষ্ট্র প্রধান জনগণের সার্বভৌমত্বের রক্ষক ও সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান; তাকে সার্বভৌমত্বের মালিক জনগণ ব্যতীত কোনভাবে অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মুখাপেক্ষী করা সঠিক নয়।
জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে রাষ্ট্র প্রধান জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়া বিধেয় এবং তার জবাবদিহিতা জনগণের কাছে হওয়া উচিৎ। এখানে সংসদীয় বা প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতি বলে কোন বিষয় গ্রহন যোগ্য নয়।
প্রধানমন্ত্রী সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা এবং সংসদ নেতা হিসেবে আইন প্রণয়নের নেতা; প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাহী বা আইন প্রয়োগের প্রধান এবং সংখ্যাগরিষ্ট দলের রাজনৈতিক দলনেতা হিসেবে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তার হাতে।
ক্ষমতা কেন্দ্রায়নের এই একচ্ছত্র ব্যবস্থা শুধুমাত্র একনায়ক, আমলাতন্ত্র ও স্বৈরাচার উপহার দিতে পারে ; সেখানে গণতন্ত্রের আশা করা চরম বাতুলতা।
ক্ষমতা কেন্দ্রায়নের বাড়তি পাওনা হিসেবে পাওয়া যায় চরম দুর্নীতি। কারণ
“এবসলুট পাওয়ার করাপ্টস এবসলুটলি”
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ প্রথা বাতিল করে জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রী নির্বাচনের প্রথা প্রচলন করতে হবে।
সংসদ সদস্যদের হাতে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এবং নির্বাহী ব্যবস্থার শীর্ষে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের থেকে কয়েকজন মন্ত্রী নিয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠন করে গণতান্ত্রিক আইন প্রয়োগের প্রহসন করা ব্যতীত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক এবং শোষণমুক্ত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা প্রতষ্ঠা করা সম্ভব না।
জনগণের প্রতিনিধিত্ব (মন্ত্রীপরিষদ)একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারে থাকায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা জনগণের নাগালের বাইরে চলে যায়।
সরকারবিরোধী আন্দোলন; সরকারের পতন এবং পুন: নির্বাচন শুধু ক্ষমতার হাত বদল করে; জনগণের নিয়ন্ত্রণাধীন গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করে না। জনগণের আকাঙ্খা জনগণের অংশগ্রহনে ও কতৃত্বে পূরণ হওয়া বাস্তব সম্মত।
অতএব আমলতান্ত্রিক প্রশাসন নয়; সর্বস্তরে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধীনে আইন অনুসরণকারী প্রশাসন প্রয়োজন যা নির্বাচিত স্থানীয় পরিষদের ( ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌর পরিষদ, নগর পরিষদ) মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা যায়।
স্থানীয় পরিষদের জবাবদিহিতা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সংসদের কাছে থাকবে। স্থানীয় সংসদ নিজস্ব বিষয়ে আইন প্রণয়ন করবে যা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় পরিষদ বাস্তবায়ন করবে। কেন্দ্রীয় আইন সমূহও স্ব স্ব এলাকায় সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সংসদ ও স্থানীয় পরিষদের দায়িত্বে প্রয়োগ বা বাস্তবায়িত হবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীগণ কেন্দ্রীয় নির্বাহী ব্যবস্থায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং স্থানীয় নির্বাহী ব্যবস্থায় ইউনিয় নির্বাহী পরিষদ, উপজেলা নির্বাহী পরিষদ, জেলা নির্বাহী পরিষদ, পৌর নির্বাহী পিরষদ এবং সিটি নির্বাহী পরিষদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের (মন্ত্রীপরিষদ) অধীনে থাকবে কেন্দ্রীয় সচিবালয় এবং স্থানীয় নির্বাহী পরিষদের অধীনে থাকবে ( জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌর, সিটি) স্থানীয় সচিবালয়। বর্তমানের জেলা ও উপজেলা স্তরের কর্মকর্তা কমচারীগণ নিজ নিজ সচিবালয়ের অধীনে কাজ করবেন।
কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সকল কর্মকর্তাদের সিলেকশন ও নিয়োগ সংশ্লিষ্ট কর্মকমিশনের মাধ্যমে হবে। মেধা ও যোগ্যতা অনুসারে স্থানীয় উপরস্থ বা কেন্দ্রীয় স্তরে পদোন্নতির সুযোগ থাকবে। যে বিষয়গুলো কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সমন্বয় প্রয়োজন সেগুলো ব্যতীত সকল চাহিদা (পণ্য ও সেবা) স্থানীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থার মাধ্যমে পূরণ করার পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্রীয় কর্মে জনগণের ব্যাপক অংশ গ্রহন নিশ্চত করা হলে প্রচলিত সামান্য শতাংশ সমর্থন বিশিষ্ট প্রতিনিধিদের পরিচালিত রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তে জনগণের অংশগ্রহন মূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
অতএব মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নির্বাহী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হলে অনুচ্ছেদ ১১, ৫৯, ৬০ ও ১৫২(প্রশাসনিক এককাংশ অর্থ জেলা কিংবা এই সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যসাধনকল্পে আইনের দ্বারা অভিহিত অন্য কোন এলাকা) অনুসারে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করে জনগণের ক্ষমতায়ন ও অংশ গ্রহনের ব্যবস্থা করা আবশ্যক।
মানব সমাজ সুদীর্ঘ সংগ্রামের (দাস ও সামন্তবাদী সমাজ) মাধ্যমে সোসিও-পলিটিকাল ক্ষমতা (সার্বজনীন ভোটাধিকার) এবং সোসিও-ইকোনমিক ক্ষমতা(ব্যক্তি মালিকানার অধিকার) অর্জন করে।
কিন্তু প্রতিনিধিত্বকারী গণতন্ত্রে ভোটের মাধ্যমে সোসিও-পলিটিকাল ক্ষমতা কুক্ষিগত করা হয় কিছু প্রতিনিধির কাছে এবং ব্যক্তি ও পারিবরিক অবাধ মালিকানা অথবা কোম্পানি, সরকারি মালিকানার নামে সাধারণ শ্রমজীবি মানুষকে সম্পদের মালিকানা থেকে বঞ্চিত করা হয়।
স্থানীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও স্থানীয় অর্থ-ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষমতার বিকেন্দ্রায়ন ও জনগণের ক্ষমতায়ন করে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
আইনভঙ্গের প্রতিকার( বিচার ব্যবস্থা)
১৯৭২ সালের সংবিধানে বিচার বিভাগ সম্পর্কে বিধান দেয়া হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৯৪—(সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠা)-
(১) “ বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট” নামে বাংলাদেশের একটি সর্বোচ্চ আদালত থাকিবে এবং আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ লইয়া তাহা গঠিত হইবে।
(২) প্রধান বিচারপতি যিনি “বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি” নামে অভিহিত হইবেন এবং প্রত্যেক বিভাগে আসন গ্রহনের জন্য রাষ্ট্রপতি যেরূপ সংখ্যক বিচারক নিয়োগের প্রয়োজন বোধ করিবেন, সেইরূপ সংখ্যক অন্যান্য বিচারক লইয়া সুপ্রিমকোর্ট গঠিত হইবে।
(৩) প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগে নিযুক্ত বিচারকগণ কেবল উক্ত বিভাগে এবং অন্যান্য বিচারক কেবল হাইকোর্ট বিভাগে আসন গ্রহন করিবেন।
(৪) এই সংবিধানের বিধনাবলী সাপেক্ষে প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য বিচারক বিচার কার্য পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন।
অনুচ্ছেদ ৯৫ (বিচারক নিয়োগ)–
(১) প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কতৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করিবেন। অনুচ্ছেদ ৯৬(২) প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থের কারণে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন্ দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতার দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত কোন বিচারককে অপসারিত করা যাইবে না; ৯৬(৩) এই অনুচ্ছেদের
(২) দফার অধীন প্রস্তাব সম্পর্কিত পদ্ধতি এবং কোন বিচারকের অসদাচরণ বা অসামর্থ্য সম্পর্কে তদন্ত ও প্রমাণের পদ্ধতি সংসদ আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবেন”। বিচারকদের ব্যাপারে সংসদ কোন আইন করেছে বা তার কোন প্রয়োগ বাংলাদেশে আজ অবধি দেখা যায় না। অথচ বিচার ব্যবস্থা বা বিচারকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ শুনা যায় ও পত্রপত্রিকায় লেখা হয়।
অনুচ্ছেদ ১০০-( সুপ্রীমকোর্টের আসন)–
রাজধানীতে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন থাকিবে, তবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লইয়া প্রধান বিচারপতি সময়ে সময়ে অন্য যে স্থান বা স্থানসমূহ নির্ধারন করিবেন, সেই স্থান বা স্থানসমূহে হাইকোর্ট বিভাগের অধিকেশন অনুষ্ঠিত হইতে পারিবে।
অনুচ্ছেদ ১০২— (মৌলিক অধিকার বলবৎ করণ এবং কতিপয় আদেশ ও নির্দেশ দানের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতা)ঃ
(১) “ কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে এই সংবিধানের তৃতীয় ভাগের দ্বারা অর্পিত অধিকারসমূহের যে কোন একটি বলবৎ করিবার জন্য প্রজাতন্ত্রের বিষয়াবলীর সহিত সম্পর্কিত কোন দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিসহ যে কোন ব্যক্তি বা কতৃপক্ষকে হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত নির্দেশাবলী বা আদেশাবলী দান করিতে পারিবেন।
(২) হাইকোর্ট বিভাগের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে আইনের দ্বারা অন্য কোন সমফলপ্রদ বিধান করা হয় নাই তাহা হইলে-
(অ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কতৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তিকে আইনের দ্বারা অনুমোদিত নয় এমন কোন কার্য করা হইতে বিরত রাখিবার জন্য কিংবা আইনের তাহার করণীয় কার্য করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিয়া অথবা
(আ) প্রজাতন্ত্র বা কোন স্থানীয় কতৃপক্ষের বিষয়াবলীর সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোন দায়িত্ব পালনে রত ব্যক্তির কৃত কোন কার্য বা গৃহীত কোন কার্যধারা আইন সঙ্গত কতৃত্ব ব্যতিরিকে করা হইয়াছে বা গৃহীত হইয়াছে ও তাহার কোণ আইনগত কার্যকারীতা নাই বলিয়া ঘোষণা করিয়া উক্ত বিভাগ আদেশদান করিতে পারিবেন; অথবা
(খ) যে কোন ব্যক্তির আবেদনক্রমে---
(অ) আইনসঙ্গত কতৃত্ব ব্যতিরেকে বা বেআইনী উপায়ে কোন ব্যক্তিকে প্রহরায় আটক রাখা হয় নাই বলিয়া যাহাতে উক্ত বিভাগের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইতে পারে সেইজন্য প্রহরায় আটক উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত বিভাগের সম্মুখে আনায়নের নির্দেশ প্রদান করিয়া, অথবা (আ)কোন সরকারী পদে আসীন বা আসীন বলিয়া বিবেচিত কোন ব্যক্তিকে তিনি কোন কতৃত্ব বলে অনুরূপ পদমর্যাদায় অধিষ্ঠানের দাবী করিতেছেন তাহা প্রদর্শনের নির্দেশ প্রদান করিয়া উক্ত ব্যক্তিকে অদেশদান করিতে পারিবেন।
(৩) উপরোক্ত দফাসমূহে যাহা বলা হইয়াছে, তাহা সত্বেও এই সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হয়, এইরূপ কোন আইনের ক্ষেত্রে বর্তমান অনুচ্ছেদের অধীন কোন আদেশদানের ক্ষমতা হাইকোর্ট বিভাগের থাকিবে না।
অনুচ্ছেদ ১০৬—( সুপ্রিমকোর্টের উপদেষ্টামূলক এখতিয়ার)–
যদি কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট প্রতীয়মান হয় যে আইনের এইরূপ কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইয়াছে বা উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়াছে যাহা এমন ধরণের ও এমন জনগুরুত্ব সম্পন্ন যে সেই সম্পর্কে সুপ্রিমকোর্টের মতামত গ্রহন করা প্রয়োজন তাহা হইলে তিনি প্রশ্নটি আপীল বিভাগের বিবেচনার জন্য প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং উক্ত বিভাগের স্বীয় বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানির পর প্রশ্নটি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে স্বীয় মতামত জ্ঞাপন করিতে পারিবেন।
অনুচ্ছেদ ১০৭ (সুপ্রীমকোর্টের বিধি প্রণয়ন ক্ষমতা)
(১) সংসদ কতৃক প্রণীত যে কোন আইন সাপেক্ষে সুপ্রীমকোর্ট রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লইয়া প্রত্যেক বিভাগের এবং অধস্তন যে কোন আদালতের রীতি ও পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিতে পারিবেন।
(২) সুপ্রীমকোর্ট এই অনুচ্ছেদের(১) দফা এবং এই সংবিধানের ১১৩,১১৫,১১৬ অনুচ্ছেদ সমূহের অধীন দায়িত্ব সমূহের ভার উক্ত আদালতের কোন একটি বিভগকে কিংবা এক বা একাধিক বিচারককে অর্পণ করিতে পারিবেন।
(৩) এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিসমূহ সাপেক্ষে কোন কোন কোন উদ্দেশ্য আসন গ্রহন করিবেন ,তাহা প্রধান বিচারপতি নির্ধারণ করিবেন।
(৪) প্রধান বিচারপতি সুপ্রীমকোর্টের যে কোন বিভাগের কর্মে প্রবীনতম বিচারককে সেই বিভাগে এই অনুচ্ছেদের (৩) দফা কিংবা এই অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিসমূহ দ্বারা অর্পিত যে কোন ক্ষমতা প্রয়োগের ভার প্রদান করিতে পারিবেন। অনুচ্ছেদ ১০৮ ( কোর্ট অব রেকর্ডরূপে সুপ্রীমকোর্ট) সুপ্রীমকোর্ট একটি কোর্ট অব রেকর্ড হইবে এবং ইহার অবমাননার জন্য তদন্তের আদেশদান বা দন্ডাদেশদানের ক্ষমতাসহ আইন সাপেক্ষে অনুরূপ আদালতের সকল ক্ষমতার অধিকারী থাকিবেন।
অনুচ্ছেদ ১০৯ ( আদালতসমূহের উপর তত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ) হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন সকল আদালত ও ট্রাইবুনালের উপর উক্ত বিভাগের তত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকিবে।
অনুচ্ছেদ ১১১ আপীল বিভাগ কতৃক ঘোষিত আইন হাইকোর্ট বিভাগের জন্য এবং সুপ্রীপকোর্টের যে কোন বিভাগ কতৃক ঘোষিত আইন অধস্তন সকল আদালতের জন্য অবশ্য পালনীয় হইবে।
অনুচ্ছেদ ১১২ ( সুপ্রীমকোর্টের সহায়তা) প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভূক্ত সকল নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় কতৃপক্ষ সুপ্রীমকোর্টের সহায়তা করিবেন।
অনুচ্ছেদ ১১৪ ( অধস্তন আদালত সমূহ প্রতিষ্ঠা) আইনের দ্বারা যেরূপ প্রতিষ্ঠিত হইবে সুপ্রীমকোর্ট ব্যতীত সেইরূপ অন্যান্য অধস্তন আদালত থাকিবে।
অনুচ্ছেদ ১১৫( অধস্তন আদালতের নিয়োগ)
(১) বিচার বিভাগীয় পদে বা বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনকারী ম্যাজিস্ট্রেট পদে—
(ক) কোন বিচারকের ক্ষেত্রে সুপ্রীমকোর্টের সুপারিশক্রমে এবং
(খ) অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপযুক্ত সরকারী কর্ম কমিশন ও সুপ্রীমকোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কতৃক উক্ত উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধিসমূহ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করিবেন।
(২) কোন ব্যক্তি জেলা বিচারক পদে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না যদি তিনি --
ক) নিয়োগলাভের সময় প্রজাতন্ত্রের কর্মে রত থাকেন এবং উক্ত কর্মে অন্যূন সাত বৎসরকাল বিচার বিভাগীয় পদে বহাল না থাকেন; অথবা
(খ) অন্যূন দশ বৎসর কাল এডভোকেট না থাকিয়া থাকেন। অনুচ্ছেদ ১১৬ (অধস্তন আদালতসমূহের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা) বিচারকর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনে রত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ( কর্মস্থল নির্ধারণ, পদন্নোতিদান ও ছুটি মন্জুরীসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান সুপ্রীমকোর্টের উপর ন্যস্ত থাকিবে।
সুপ্রীমকোর্ট এবং প্রধান বিচারপতিসহ সকল বিচারক ও কোর্টের ক্ষমতার মৌলিক উৎস জনগণ এবং জনগণ প্রণীত সংবিধান অনুসারে বিচারিক ক্ষমতাও প্রয়োগ হওয়া বিধেয়। কিন্তু ১৯৭২ সালের সংবিধান বিচার ব্যবস্থার জন্য যে সব বিধি দিয়েছে তাতে ক্ষমতার মৌলিক উৎস জনগণকে উপেক্ষা ও ক্ষমতাহীন করা হয়েছে।
“প্রধান বিচাপতি রাষ্ট্রপতি কতৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচরককে নিয়োগদান করিবেন”-অনু:৯৫(১)। এখানে সার্বভৌম জনগণের মতামতদানের কোন ব্যবস্থা নেই। সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন যেখানে সরকার গঠনকারী সংখ্যাগরিষ্ঠদলের প্রধান্য থাকে এবং রাষ্ট্রপতি সাধারণত: উক্ত দলের সদস্য হন। ফলে রাষ্ট্রপতি কতৃক(প্রকারান্তরে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত) নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিগণ দলীয় বিবেচনায় নিয়োগলাভের সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা রক্ষা দুরূহ হয়।
মানুষের মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ক্ষমতা সুপ্রীম কোর্টের উপর ন্যাস্ত করা হয়েছে (অনু: ১০২)। কিন্তু দেশের ভূক্তভোগী জনসাধারণের কয়জন বিচার প্রার্থী হয়ে সুপ্রীম কোর্টের দ্বারস্থ হতে সক্ষম? এই বিধি বিশেষ কিছু মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ব্যবহার করা ছাড়া সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ব্যবহার যোগ্য নয় যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী।
সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য “মৌলিক মানবাধিকার রক্ষা” নামে আলাদা আদালত (জেলাকোর্ট, উপজেলা কোর্ট) গঠন করার বিধি থাকা উচিৎ।
বিচার বিভাগের বিধিসমূহ প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রীম কোর্টের কাছে একচ্ছত্র ক্ষমতা অর্পণ করায় সার্বিক বিচার ব্যবস্থা আমলাতন্ত্রিক ব্যবস্থায় পর্যবসিত হয়। জনগণের অংশগ্রহন ও প্রতিনিধিত্ব না থাকায় জনসাধারণের পক্ষে বিচার পাওয়া দুরূহ হয়ে যায়।
হাইকোর্টসহ বিভিন্ন আদালতে হাজার হাজার বিচারাধীন মামলা বিচারের নামে জনগণের হয়রানির নিদর্শন। তাছাড়া মামলার তদন্ত পদ্ধতি পুলিশি নিপীড়নের একটি চরম ক্ষেত্র যা বিচার প্রক্রিয়াকে ভয়াবহ করে তোলে।
এই সকল সমস্যা দূর করতে বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করা প্রয়োজন। যেহেতু সমাজ ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব জনগণের; সেহেতু জনগণের অনুমোদন ব্যতীত সামরিক কতৃত্বে সংবিধান পরিবর্তন করা এমনকি
অনুচ্ছেদ ১৪২ অনুসারে “ সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন্ দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে” সংবিধান সংশোধন বা রহিত করণের ক্ষমতা প্রদান অনুচ্ছেদ ৭(২) ও ৮ (২) লঙ্ঘন করে। কারণ সংসদের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা অনুচ্ছেদ ৭(২) ও ৮(২) সাপেক্ষ এবং একমাত্র জনগণের অনুমোদন ব্যতীত রাষ্ট্রীয় কোন ব্যক্তি, বিভাগ বা সংস্থা উক্ত বিধানের অন্যথা করে নিজকে ক্ষমতায়ন করতে পারে না। যেহেতু সার্বভৌম ক্ষমতা হস্তান্তরযোগ্য নয়; সেহেতু উক্ত ক্ষমতা বা কতৃত্ব একমাত্র সংবিধান প্রণয়নকারী জনগণের——সংসদ সদস্য, সপ্রিমকোর্ট, রাষ্ট্রপতি বা অন্য কারও নয়।
আইন ভঙ্গের প্রতিকার ও আইনের ফিডব্যাক পর্যায় হলো বিচার ব্যবস্থা। বিচার ব্যবস্থা শুধু অপরাধ দমনের জন্য নয়। বরং আইনের সুফল,কুফল,উপযোগিতা ইত্যাদির প্রতিফলন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া প্রয়োজন। কারণ সমাজকে ক্রমান্বয়ে সভ্য, আপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ করতে বিচার বিভাগের দায়িত্ব অপরিসীম। বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রের অন্যান্য সংস্থা তাদের ভুল শোধরানোর সুযোগ পায়।
বিচার ব্যবস্থা সুষ্ঠু ও ন্যায় হতে হলে কয়েকটা বিষয় নিশ্চিত করতে হবে; যেমন:
(ক) যে আইনটা ভঙ্গ বা অপপ্রয়োগ করা হয়েছে সেটা নির্দিষ্ট করা;
(খ) কে ভঙ্গ বা অপপ্রয়োগ করেছে তাকে সনাক্ত করা;
(গ) পরবর্তীতে যাতে আইন ভঙ্গ না হয় তার জন্য শাস্তি বা উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা এবং
(ঘ) আইন ভঙ্গ বা অপপ্রয়োগের ফলে যে বা যর ক্ষতি হলো তার ক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা করা।
বিচার ব্যস্থা এই ব্যবস্থাগুলোর সমষ্টি হওয়া উচিৎ।
কিন্তু আমাদের বিচার ব্যবস্থায় উক্ত বিষয়গুলো অগণতান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ। কারণ জনগণের মাঝে আইনের অজ্ঞতা ব্যাপক; যে জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা ব্যক্তি প্রতারণার সুযোগ পায়। আইন ভঙ্গ বা অপপ্রয়োগকারীকে সনাক্ত করার(তদন্ত) পদ্ধতি গণবিরোধী ও ত্রুটিপূর্ণ।
সরকারী আমলাতান্ত্রিক পুলিশি তদন্ত ব্যবস্থায় জনগণের বা জনপ্রতিনিধির সম্পৃক্ততা না থাকায় মামলার সত্যতা যাচাই ও সত্য উদ্ঘাটন ব্যাহত হয় এবং সব মামলাই পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থার মর্জি মাফিক রুজু হওয়ার সুযোগ পায়। অত:পর কোর্টে বিজ্ঞ আইনজীবিদের বিতর্ক এবং ধূর্ততার সাথে উপস্থাপিত সাক্ষ্য প্রমাণের জটীলতায় মূল ও সত্য ঘটনা এমন দুর্বোধ্য বিষয়ে পরিণত হয় যে বিচার তখন আর সাধারণের বোধগম্য থাকে না।
অন্যদিকে জেল জরিমানা প্রভৃতি শাস্তির ব্যবস্থা অপরাধ দমন বা নিরোধের পরিবর্তে বিস্তার ঘটায়। চোর জেল খাটার পর ডাকাত বা খুনিতে পরিণত হয়। বিচার প্রার্থী মামলার খরচ চালাতে গিয়ে নি:স্ব হয়ে যায়। আবার বিচারের রায়ে কোন অপরাধী জেলে গেলে তার পোষ্যদের জীবিকার ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ায় পুরো পরিবার ধ্বংসের সম্মুখীন হয়।
সুতরাং বিচার ব্যবস্থার এসব ত্রুটি সংস্কার করা প্রয়োজন। জনগণের নাগালের আওতায় স্বাধীন বিচারের সুযোগ সৃষ্টির জন্য ইউনিয়নকোর্ট, পৌর এলাকায় ওয়ার্ডকোর্ট, উপজেলা কোর্ট, বিভাগীয় পর্যায়ে স্থায়ী হাইকোর্ট স্থাপন করতে হবে। বিচার ব্যবস্থায় জুরী ব্যবস্থা বিশেষ করে তদন্ত ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহন ও প্রতিনিধিত্বের জন্য নির্বাচিত প্রতনিধিদের দ্বারা বিচার পরিষদ গঠন করতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মে, ২০১১ বিকাল ৫:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



