নিজেই আবার নিজেকে উত্তর দেই। নাহ, মনে হয় না। এই প্রজন্মকে আমরা চিনি না। ওদের ভেতর যে কি অপার সম্ভাবনা তা আমরা জানিনা। এখনকার প্রতিটি বাচ্চাই মনে হয় এরকম। ওদের ভাবনার ধরনটা অন্যরকম।
কম্পিউটারের ক্ষেত্রে মুরস-ল বলে একটা ল আছে। যেখানে বলা হয়েছে প্রতি ৬ মাসে কম্পিউটারের গতি ডাবল হবে। যদিও অনেক আগেই এই রেকর্ডটি ভেঙ্গে গেছে, কম্পিউটারের গতি এখন প্রতিদিনই পূর্বেরটাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এখনকার বাচ্চারাও কম্পিউটারের মত পরের প্রজন্ম পূর্বের প্রজন্মকে চিন্তায় কর্মে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
আমার একটা মিষ্টি বুড়ি আছে। অসম্ভব আদুরে, বয়স মাত্র ৩, কিন্তু কথাবার্তায় চোখের চাহনিতে পাকনি বুড়ি। এই বয়সেই তার কিছূ কিছু কথায় এবং আচরনে আমি নিজেও বোকা হয়ে যাই। নিচে তারই কিছু উদাহরন দিচ্ছি :
১)
কম্পিউটারে কাজ করছিলাম। কম্পিউটার থেকে মনোযোগ সরিয়ে তার নিজের দিকে আমার মনোযোগ নেবার জন্য তার ছোট মাথায় যত বুদ্ধি আছে তার সব চেষ্টাই সে করে যাচ্ছে। তার কিছু কাজে হাসি আসছে। কিছু কাজে ছোট করে বকা দিয়ে তাকে সরিয়ে দিচ্ছি। বকা খেয়েও তার দুষ্টোমির কোন কমতি নেই। বকা খেয়েও তার হাসিমুখ বলে দিচ্ছে, বকা দিয়ে হলেও তুমি তো আমার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছ, কম্পিউটার এর দিকে নয়। হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই আমার কম্পিউটার টেবিলের ড্রয়ার খোলার জন্য উঠে পড়ে লাগলো।
যথারীতি কপট রাগ দেখিয়ে-
আমি : এটা কে-নো খুলছো ?
তিতির: এখানে অনেক জরুরী জিনিষ আছে........
আমি : কি জরুরী জিনিষ ?
তিতির : দুটা জরুরী জিনিষ।
আমি : তা কি কি জরুরী জিনিষ বলতো ।
মুখটা গম্ভীর করে -
তিতির : একটা ছবির বই। আর একটা স্বরে-অ স্বরে-আ র বই !
২)
কেউ আমাকে ফোন দিলে যদি সে আশেপাশে থাকে আগে সে কথা বলবে তারপর আমাকে সুযোগ দেয়া হবে, এই তার ইচ্ছা।
তো যাক ফোন ধরেই সে: হ্যালো, তুমি কে ?
ঐ পাশ থেকে উত্তরের আগেই আমি তাকে বললাম : আমার ছোটবেলার বন্ধু, সুমন।
এটা শুনেই সে ফোনের সুমন কে বলল : আচ্ছা সুমন চাচ্চু, তুমি কি ছোট আছ ? আমার মত ?
আমি তার প্রশ্ন শুনে লা-জবাব। আর ঐদিকে সুমনের কি অবস্থা তা.........
৩)
সুযোগ পেলেই আমার চশমাটা তাকে পরতেই হবে। একদিন আমার চশমা জোরাজুরি করে আমার কাছ থেকে নিয়ে নিজে পরেছে। তারপর আমাকে উদ্দেশ্য করে বলছে "বাবা বাবা দেখো না, খাট সিঁড়ি হয়ে গেছে"। আমিতো বুঝতেই পারছিলাম না কি বলছে। যতই না বুঝি সে একই কথা বলেই যাচ্ছে। আর আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। অনেক কষ্টের পর বুঝতে পারলাম, সে কি বলতে চাচ্ছে। তার মানে চশমার পাওয়ার এর কারনে তার ছোটচোখ সবকিছুকে উঁচু-নিচু দেখছে। তার উদাহরনটা বুঝতে পেরে আমি কি চমৎকৃত না হয়ে পারি।
এখন তার নিয়মিত খেলার একটি উপকরণ হলো আমার চশমা, তার সিঁড়ি সিঁড়ি খেলার জন্য। যদিও তার কাছ থেকে যথাসম্ভব এটি দুরে রাখা হয়।
৪)
আমার আব্বুর কাছে তার একটা কঠিন অনুযোগ :
"দাদা, শোন তোমার ৪টা ছেলেমেয়ে। তোমার বড় ছেলে আমাকে বকা দেয়। তোমার বড়মেয়ে আমাকে বকা দেয় আর মারে। তোমার ছোট ছেলে আমাকে বকাও দেয়না, মারেও না। তোমার ছোটমেয়ে আমাকে বকাও দেয়না, মারেও না। এটা কি ঠিক হচ্ছে ? তুমি বলতো ? তোমার বড় ছেলে আর মেয়েকে তুমি কিছু বলনা কেন ?"
এখানে এটা উল্লেখ্য, বড় ছেলে ও বড় মেয়ে মানে আমি ও আমার স্ত্রী। ছোট ছেলে ও ছোট মেয়ে মানে হল, আমার ছোট ভাই ও তার স্ত্রী।
৫)
ড্রয়িংরুমে বসে সবাই মিলে পারিবারিক একটা ব্যাপার নিয়ে সিরিয়াসলী আলোচনা করছিলাম। কোন কোন সময় উচ্চস্বরেও তা চলে যাচ্ছিল। তার (তিতির) হৈ-চৈ এর কারনে কেউই অন্যের কথা পুরোপুরি বুঝতে পারছিলাম না।
আমার আম্মু তিতিরকে বলল, দাদুমনি তুমি একটু চুপ করতো । এত চিৎকার করে না লক্ষ্মী দাদু।
উত্তরে সে আম্মুকে বলল : দাদু তোমাদের হৈ-চৈ এর কারনেই না আমি হৈ-চৈ করি !
অতিরিক্ত সংযোজন:
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দেখলেই সে চিৎকার করে উঠে। বলে বাবা দেখো দেখো বাংলাদেশ। যতই তাকে বলি বাবা এটা বাংলাদেশের পতাকা, সে তার পরও কখনও পতাকা শব্দটা উচ্চারন করে না। বলে বাংলাদেশ........
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


