somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আত্মজা

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মাঝে ওর দিকে তাকিয়ে ভাবি, ওর মত বয়সে আমরাও কি এমন করে ভাবতাম ? এমন করে বলতাম ? এমন ভাবে দেখতাম ?

নিজেই আবার নিজেকে উত্তর দেই। নাহ, মনে হয় না। এই প্রজন্মকে আমরা চিনি না। ওদের ভেতর যে কি অপার সম্ভাবনা তা আমরা জানিনা। এখনকার প্রতিটি বাচ্চাই মনে হয় এরকম। ওদের ভাবনার ধরনটা অন্যরকম।

কম্পিউটারের ক্ষেত্রে মুরস-ল বলে একটা ল আছে। যেখানে বলা হয়েছে প্রতি ৬ মাসে কম্পিউটারের গতি ডাবল হবে। যদিও অনেক আগেই এই রেকর্ডটি ভেঙ্গে গেছে, কম্পিউটারের গতি এখন প্রতিদিনই পূর্বেরটাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এখনকার বাচ্চারাও কম্পিউটারের মত পরের প্রজন্ম পূর্বের প্রজন্মকে চিন্তায় কর্মে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

আমার একটা মিষ্টি বুড়ি আছে। অসম্ভব আদুরে, বয়স মাত্র ৩, কিন্তু কথাবার্তায় চোখের চাহনিতে পাকনি বুড়ি। এই বয়সেই তার কিছূ কিছু কথায় এবং আচরনে আমি নিজেও বোকা হয়ে যাই। নিচে তারই কিছু উদাহরন দিচ্ছি :

১)
কম্পিউটারে কাজ করছিলাম। কম্পিউটার থেকে মনোযোগ সরিয়ে তার নিজের দিকে আমার মনোযোগ নেবার জন্য তার ছোট মাথায় যত বুদ্ধি আছে তার সব চেষ্টাই সে করে যাচ্ছে। তার কিছু কাজে হাসি আসছে। কিছু কাজে ছোট করে বকা দিয়ে তাকে সরিয়ে দিচ্ছি। বকা খেয়েও তার দুষ্টোমির কোন কমতি নেই। বকা খেয়েও তার হাসিমুখ বলে দিচ্ছে, বকা দিয়ে হলেও তুমি তো আমার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছ, কম্পিউটার এর দিকে নয়। হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই আমার কম্পিউটার টেবিলের ড্রয়ার খোলার জন্য উঠে পড়ে লাগলো।

যথারীতি কপট রাগ দেখিয়ে-

আমি : এটা কে-নো খুলছো ?

তিতির: এখানে অনেক জরুরী জিনিষ আছে........

আমি : কি জরুরী জিনিষ ?

তিতির : দুটা জরুরী জিনিষ।

আমি : তা কি কি জরুরী জিনিষ বলতো ।

মুখটা গম্ভীর করে -
তিতির : একটা ছবির বই। আর একটা স্বরে-অ স্বরে-আ র বই !


২)
কেউ আমাকে ফোন দিলে যদি সে আশেপাশে থাকে আগে সে কথা বলবে তারপর আমাকে সুযোগ দেয়া হবে, এই তার ইচ্ছা।

তো যাক ফোন ধরেই সে: হ্যালো, তুমি কে ?

ঐ পাশ থেকে উত্তরের আগেই আমি তাকে বললাম : আমার ছোটবেলার বন্ধু, সুমন।

এটা শুনেই সে ফোনের সুমন কে বলল : আচ্ছা সুমন চাচ্চু, তুমি কি ছোট আছ ? আমার মত ?

আমি তার প্রশ্ন শুনে লা-জবাব। আর ঐদিকে সুমনের কি অবস্থা তা.........

৩)
সুযোগ পেলেই আমার চশমাটা তাকে পরতেই হবে। একদিন আমার চশমা জোরাজুরি করে আমার কাছ থেকে নিয়ে নিজে পরেছে। তারপর আমাকে উদ্দেশ্য করে বলছে "বাবা বাবা দেখো না, খাট সিঁড়ি হয়ে গেছে"। আমিতো বুঝতেই পারছিলাম না কি বলছে। যতই না বুঝি সে একই কথা বলেই যাচ্ছে। আর আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। অনেক কষ্টের পর বুঝতে পারলাম, সে কি বলতে চাচ্ছে। তার মানে চশমার পাওয়ার এর কারনে তার ছোটচোখ সবকিছুকে উঁচু-নিচু দেখছে। তার উদাহরনটা বুঝতে পেরে আমি কি চমৎকৃত না হয়ে পারি।

এখন তার নিয়মিত খেলার একটি উপকরণ হলো আমার চশমা, তার সিঁড়ি সিঁড়ি খেলার জন্য। যদিও তার কাছ থেকে যথাসম্ভব এটি দুরে রাখা হয়।

৪)
আমার আব্বুর কাছে তার একটা কঠিন অনুযোগ :

"দাদা, শোন তোমার ৪টা ছেলেমেয়ে। তোমার বড় ছেলে আমাকে বকা দেয়। তোমার বড়মেয়ে আমাকে বকা দেয় আর মারে। তোমার ছোট ছেলে আমাকে বকাও দেয়না, মারেও না। তোমার ছোটমেয়ে আমাকে বকাও দেয়না, মারেও না। এটা কি ঠিক হচ্ছে ? তুমি বলতো ? তোমার বড় ছেলে আর মেয়েকে তুমি কিছু বলনা কেন ?"

এখানে এটা উল্লেখ্য, বড় ছেলে ও বড় মেয়ে মানে আমি ও আমার স্ত্রী। ছোট ছেলে ও ছোট মেয়ে মানে হল, আমার ছোট ভাই ও তার স্ত্রী।

৫)
ড্রয়িংরুমে বসে সবাই মিলে পারিবারিক একটা ব্যাপার নিয়ে সিরিয়াসলী আলোচনা করছিলাম। কোন কোন সময় উচ্চস্বরেও তা চলে যাচ্ছিল। তার (তিতির) হৈ-চৈ এর কারনে কেউই অন্যের কথা পুরোপুরি বুঝতে পারছিলাম না।

আমার আম্মু তিতিরকে বলল, দাদুমনি তুমি একটু চুপ করতো । এত চিৎকার করে না লক্ষ্মী দাদু।

উত্তরে সে আম্মুকে বলল : দাদু তোমাদের হৈ-চৈ এর কারনেই না আমি হৈ-চৈ করি !

অতিরিক্ত সংযোজন:
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দেখলেই সে চিৎকার করে উঠে। বলে বাবা দেখো দেখো বাংলাদেশ। যতই তাকে বলি বাবা এটা বাংলাদেশের পতাকা, সে তার পরও কখনও পতাকা শব্দটা উচ্চারন করে না। বলে বাংলাদেশ........
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:১৯
১৩টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×