লক্ষ্য করবেন, আমি "শহুরে" শব্দটা ব্যবহার করেছি। গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষের মুখে কিন্তু আমরা মানে বাংলাদেশীরা খারাপ একথাটা আমি কখনও শুনিনি, যেটা শহরের শিক্ষিত নাগরিকজনের মুখে অহরহই শোনা যায়। যাঁরাই এই সমাজটাকে খারাপ বলছেন তাঁরাই কিন্তু এই সমাজের সবচাইতে বেশী সুবিধাভোগী শ্রেণী। আর সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণীর মানুষজনের কিন্তু কোন অভিযোগ নেই ! আশ্চর্য্যজনক নয় ব্যপারটা ?
যেখানে নিজেকেই নিজে সম্মান করতে পারছি না সেখানে অপরে (বিদেশীরা) আমাকে সম্মান করবে এটা আমাদের ভাবনায় আসে কি করে ?
এই দেশটাকে যদি আমরা বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে তুলতে চাই আমাদের এই হীনমন্যতার খোলশ থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। অশিক্ষিত শ্রেণী কিন্তু এই খোলসের বাইরেই আছে। যত সমস্যা আমাদের শিক্ষিত শ্রেণীরই। শিক্ষিতশ্রেণী যত দ্রুত এই হীনমন্যতার ছেড়ে বেরিয়ে এসে নিজেকে সম্মান করেতে শিখবে তত দ্রুত এদেশ সামনে এগিয়ে যাবে।
স্বাধীনতার আজ চল্লিশ বছর পেরিয়ে গেছে। আমরা হয়তো বেশী দুর যেতে পারিনি, তবে কমও তো যাই নি ১৬ কোটিরও বেশী মানুষকে সাথে নিয়ে !
পৃথিবীতে সেই জাতিই সামনে এগিয়ে গেছে, যাদের আত্মঅহংকার ও আত্মসম্মানবোধ ছিলো । আর ছিলো কর্মক্ষম জনশক্তি ও গৌরবোজ্জল অতীত।
আমাদের কর্মক্ষম জনশক্তি ও গৌরবোজ্জল অতীত এই দুটি তো আছেই। দরকার শুধু আত্মঅহংকার ও আত্মসম্মানবোধ। আর সাথে যদি একতা থাকে তাহলে আমরা হবো ১৬ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে দুর্বার জাতি।
আমাদের শক্তি কোথায় কোথায় ? আমাদের কি কি অর্জন আছে তার দিকে একবার আমরা চোখ বুলাই ? আমরা তাহলে নিজেকে নিজে পুনরাবিষ্কার করতে পারবো।
আমাদের অর্জন:
১) জাতীয়তাবাদের উম্মেষ এর মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল বিজয়।
২) ভাষা আন্দোলনের মত অসাধারন একটা অধ্যায়।
৩) একক জাতি হিসেবে বিশ্বের ৩য় পোষাক রপ্তানিকারক দেশ।
৪) মোট জনসংখ্যার ৬০ % অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন। আর তরুনদের সিংহভাগই শিক্ষিত।
৫) স্বাধীনতার ৪০ বছরে নারীদের প্রভুত উন্নয়ন।
৬) খাদ্যে স্বয়ংসম্পুর্নতা।
৭) প্রায় ২০ বছরের গনতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা সামান্য একটু ব্যতিক্রম ছাড়া।
৮) জনগনের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা তথা ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা।
৯) প্রায় ৮০০ মার্কিনডলার গড় আয়।
১০) সংবাদপত্রের অবাধ স্বাধীনতা।
১১) বিশ্বের ৯ টি টেষ্ট খেলুড়ে দেশের একটি।
১২) শিশুমৃত্যুর হার প্রায় শুন্যের কাছে নিয়ে আসা।
আমাদের শক্তি:
১) ১৬ কোটি জনসংখ্যার অদম্য শক্তি, যার সিংহভাগই তরুন। আর তরুনদের সিংহভাগই শিক্ষিত।
২) অদম্য মনোবল তথা হার না মানার মানষিকতা শত ঝড়-বাদল, বন্যা-খরা সত্বেও।
৩) সারা বিশ্বে ছড়িয়ে আছে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটির মত মানুষ যারা বিশ্বের কমক্ষম জনগোষ্ঠিরই গুরু্ত্বপূর্ণ অংশ।
৪) পজিটিভ মানষিকতা সম্পন্ন জাতি। উদাহরন: যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয় , ক্যামন আছেন ? উত্তর আসে : ভাল আছি। যতই খারাপ থাকি না কেনো আমরা বলতে ভালবাসি , আমি ভাল আছি। এরকম মানিষিকতাসম্পন্ন জাতি পৃথিবীতে বিরল।
৫) জাতিগত ভাবে আমরা ক্ষমাশীল । বংশপরম্পরায় আমরা হিংসা বিদ্বেষ জিইয়ে রাখি না।
৬) প্রায় পুরোটাই সমতল কৃষিভূমি।
৮) চরমভাপাপন্ন নয় এমন জলবায়ু।
৯) একক ভাষাভাষী একটা দেশ, যেখানে জাতিগত হানাহানী নেই।
১০) পার্বত্যাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য।
১১) কক্সবাজারে অবস্থিত বিশ্বের সবচাইতে বড় সী-বিচ।
১২) সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট।
১৩) অসাম্প্রদায়িক মানষিকতাসম্পন্ন জাতি।
১৪) কয়েক হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।
এখন দরকার নিজেকে জানা, নিজেকে চেনা, সর্বোপরি নিজেকে নিজে সম্মান করতে হবে, তাহলেই সবার সম্মান পাওয়া যাবে। ফলশ্রুতিতে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ হবে। নতুন প্রজন্মের ভিতর একথাগুলি রোপণ করে দিতে হবে। তাহলেই............
পরিশিষ্ট:
"যে নিজের সম্মান উদ্ধার করতে পারে না, এ পৃথিবীতে সে সম্মান পায় না" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
"যখন মানুষ নিজের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, তখনই তার মৃত্যু হয়" - হুইটার
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১২ রাত ১২:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


