somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ছুটি

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যেকাজে ছুটি নিয়েছিলাম সেকাজটি গতকাল দুপুরেই বাতিল হয়ে গেছে। কাজটি থাকলে আজ আমাকে ঢাকার বাইরে থাকতে হতো। তারপরও ছুটি যেহেতু নিয়েছি অফিসে যাবনা মনস্থির করে ফেললাম, এবং অনিয়ম করে গভীর ঘুমের আশায় রাত ৯ টায় সোজা বিছানায়।

আমি দেখেছি, ছূটির দিনে অতিভোরে ঘুম ভেঙ্গে যায়। আজও তার ব্যাতিক্রম হলো না। হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেলো মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখলাম ৪ টা বেজে ৫৭ মিনিট। আবার ঘুমানোর চেষ্টা করে বিফল হয়ে মোবাইলেই সামু খুলে বসলাম। ৬ টার দিকে ঘুম আবার আসলো। ৯ টা পর্যন্ত্য গভীর ঘুম। অনেক কষ্টে ১০টার দিকে উঠে হাতমুখ ধুয়ে পেপার টা হাতে নিয়ে ভাবছি কি করা যায়। আম্মু বললেন, একটু কাঁচাবাজারটা করে দিতে। নাস্তাটা সেরে নিয়ে বাজার মুখি হলাম। বিল্ডিং থেকে নেমেই রিক্সা নিতে চাইলাম। বাজারের নাম বলাতেই রিক্সাগুলি কিছু না বলেই ঘুরে চলে যাচ্ছে। হঠাৎ মনে পড়ল শালার ট্রাফিক পুলিশ যত নষ্টের গোড়া। আমিতো শুক্রবার ছাড়া বাজারে যাই না। আজতো অফিস ডে। আমার বাজারের রাস্তায় তো রিক্সা চলতে দিবে না। মনে মনে ট্রাফিক পুলিশদের শাপশাপান্ত করে কিছুদুর হেঁটে গিয়ে রাস্তা ক্রস করে তারপর ঘুরাপথে একটা রিক্সা নিয়ে বাজার সেরে আসলাম।

সকাল ১১.৩০। কম্পিউটার টা কালরাত থেকে বিগড়ে গেছে। এটা ঠিক করা দরকার। এলিফ্যান্ট রোড যাব মনস্থির করলাম। হঠাৎই মনে পড়ল আজ মঙ্গলবার। আজ নিউমার্কেট-এলিফ্যান্টরোড এরিয়ার বন্ধের দিন। কাজ হবে না। কি করি, কি করি ?

তপন কে ফোন দিলাম। দৈনিক বাংলায় তার অফিস। সে জানাল ফকিরাপুলের এখানে কম্পিউটার সারানোর তার পরিচিত দোকান আছে। সিপিইউটা নিয়ে আসলে সে আমার সাথে গিয়ে ঠিক করে দিবে।

১২ টা। সিপিইউ নিয়ে তার অফিস হয়ে সারাইয়ের দোকান। পাওয়ার সাপ্লাই গেছে। নগদ ৯০০ টাকা দিয়ে ঠিক করে বাসায় এলাম যখন তখন ২টা বাজে।

আজ যেহেতু আমার ছুটি, প্রতিদিনের নিয়ম মেনে গোসল করব না। খাওয়াদাওয়া করে আবার বের হলাম। কি করি কি করি ভাব। হাঁটতে হাঁটতে বায়তুল মোকাররম হয়ে স্টেডিয়াম। ইলেক্ট্রনিক্স এর দোকানগুলি ঘুরতে ভালই লাগে। ঘুরছি আর ঘুরছি, এটা দেখি তো সেটা দেখি। আমি রাতে ঘুমানোর সময় পরা ড্রেসেই বের হয়ে গিয়েছিলাম। আমার হতচ্ছাড়া ড্রেসের কারনে সেলসম্যানরা আমাকে তেমন পাত্তাদিচ্ছিলো না। এতে একঅর্থে ভালই হলো। কেউ কি কিনবেন প্রশ্ন করছিলো না।

ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম মনে হয়। কে যেন বলল, স্টেডিয়ামে খেলা চলছে। ভাবলাম আমার যেহেতু কাজ নাই, টিকেট কেটে খেলাই দেখি। গেইটে গিয়ে দেখি টিকেট করা লাগবে না। মজা পেয়ে ভিতরে ঢুকে গেলাম। পছন্দমত একটা সিট দখল করে বসেও পড়লাম। ফুটবল খেলা হচ্ছে। হলুদ ও টিয়া কালারের দু পক্ষ। সবগ্যালারীতেই যথেস্ট মানুষ আছে । খুব হৈচৈ হচ্ছে। জায়ান্ট স্ক্রীনে দেখলাম বিটিভি সরাসরি খেলাটি দেখাচ্ছে। তারমানে গুরুত্বপূর্ন খেলা। আচ্ছা বিপদেতো পড়া গেলো। দলগুলির কালার দেখেতো চেনা মনে হচ্ছে না।

লজ্জার মাথা খেয়ে পাশের একজনকে জিজ্ঞেস করে জানলাম, শেখ জামাল বনাম বিজেএমসি খেলা হচ্ছে। ফেডারেশন কাপের ফাইনাল। শেখ জামালের সমর্থরা হলুদ ড্রেস পরে আমার ডানপাশের গ্যালারীতে চিৎকার করে যাচ্ছে। ফোনটা হাতে নিলাম। ৮৬ টা কল । ফোন বন্ধ না করে সাইলেন্ট করে রেখেছি। গুরুত্বপূর্ন কলই শুধু ব্যাক করব। মাঝে মাঝেই এরকম করি। এতে অনেকেরই বিরক্তির কারন হই। তবুও এরকম আমি প্রায়ই করি, যখনই ফোন ধরতে ইচ্ছা না করে। একটা নাম্বারেই শুধু ব্যাক করলাম।

আধাঘন্টা মত ছিলাম সেখানে। ভাল লাগলো না। উঠে পড়লাম। আবার হাঁটতে হাঁটতে মতিঝিল। নকিয়ার শোরুমে ঢু দিলাম। নতুন কিছুই চোখে পড়ল না। বের হয়ে পড়লাম। ফুটপাথ দিয়ে হাঁটছি। কি সুন্দর সুন্দর জুতা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। কি নেই ফুটপাথে ? সবকিছুই বিক্রি হচ্ছে। চাল, ডাল , মাছ, তরকারী থেকে শুরু করে বইপত্র, জামা-কাপড়।

হাঁটতে হাঁটতে পুরানাপল্টনের ফুটপাথের পুরোনো বইয়ের মার্কেট। আমার প্রিয় স্থানগুলির একটি। হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে আজ নতুন কিছু পেলাম না।

অনেক হাঁটা হলো । পা আর এগুচ্ছে না। এবার রিক্সায় উঠতে হবে। রিক্সায় উঠে নিজের হাতের দিকে তাকালাম। একটা টেস্টার, একটা থ্রিপিন প্লাগ, একটা স্কচটেপ, এককেজি বরই, দুটা টিভির রিমোট, একডজন পেন্সিল ব্যাটারি, একটা মোবাইল ফোন কভার, একটা চা-ছাঁকনী, ৬টা চিরুনী।

বাসায় যখন ফিরলাম তখন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেছে। একটা অর্থহীন ফালতু দিন কাটালাম মনে হচ্ছে ? না, অনেকদিন পর নিজের জন্য একটা পুরো দিন ব্যয় করলাম। কাল সকাল বেলা মোবাইলটিকে সাইলেন্ট মুড থেকে মুক্তি দেবো।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:১২
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×