যাঁরা 'হিজাব' কে ইসলামী পর্দা বলছেন তারা কতটা অবুঝ ও ধর্মান্ধের মত আচরন করছেন তা তাঁরা নিজেরাও জানেন না। তারা এই মেয়েটার মতই অবুঝ, তবে সাথে সাথে তারা ধর্মান্ধও। যে মেয়ে নিজেও জানে না শালীনতা বা পর্দা কি জিনিষ। শুধু জানে মেয়ে হিসেবে হিজাব পরাই হল ইসলাম। আর যারা 'বোরখা'কে ইসলামী পর্দা বলছেন তাঁরাও যে কতটা অবুঝ ও ধর্মান্ধ তা আর নাই বা বললাম। বোরখার নাম দিয়ে আপাদমস্তক কালো কাপড়ে বেঁধে দেয়াটা কতটুকু যৌক্তিক তা তাঁরা নিজেরাও জানেন না।
মোট কথা শ্লীলতা এবং অশ্লীলতার একটা সীমারেখা আছে। এই ছবিটাকে শ্লীল না অশ্লীল বলবেন ?
আসলে হিজাব হলো মধ্যপ্রাচ্যের ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে একধরনের কালচার। পুরুষরাও সেখানে মাথার কাপড় পরিধান করে, যেটাকে ধর্মীয় লেবাস দেয়া হয় নি। আর মেয়েদেরটাকে ধর্মীয় লেবাস দেয়া হয়েছে। পার্থক্য শুধু এখানে। হিজাব বলতে যারা অজ্ঞান তাদের মানষিক পুর্নাঙ্গতা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে বৈকি !
আমাদের দেশের মেয়েরা সাধারনত যে ড্রেস পরে তা যথেষ্ট শালীন পোষাক। বরং এটাকে নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ীই ক্ষতিকর। ইসলাম উগ্রতাকে ঘৃণা করে ও নিষেধ করে, তেমনই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ীও অপছন্দ করে।
পর্দার / শালীনতার ব্যাখা আল্লাহতায়ালা পরিষ্কারভাবে দিয়ে দিয়েছেন। এটার ব্যাখ্যা নিয়ে যারা বাড়াবাড়ী করেন তাঁরাই বরং সীমা লংঘনকারী ।
আর আল্লাহতায়ালা সীমালংঘনকারীকে পছন্দ করেন না।
এখন দেখুন পর্দা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন কি বলে -
"ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।" (সুরা নুর - ২৪:৩১)
এখানে দেখুন আল্লাহ বলেছেন "যা সাধারনত প্রকাশমান"। তার মানে হলো মুখমন্ডল, দুহাতের কনুই পর্যন্ত্য / ভিন্নমতে কব্জি পর্যন্ত্য, পায়ের পাতার উপর গিরা পর্যন্ত্য। স্বাভাবিকভাবে এতটুকু প্রতিটি মানুষেরই(পুরুষ কিংবা মহিলা) দেখা যায়। এতটুকু প্রকাশে কোন বিধিনিষেধ নেই। মোটকথা শালীনতার মাত্রা রেখে পুরুষ কি মহিলা সবাইকেই চলার জন্য কোরআন গাইডলাইন দিয়েই দিয়েছে।
এর পর কি আর নতুন করে কিছু বলার দরকার আছে ?
বি:দ্র: কয়েকটা শব্দ এদিক ওদিক করে আমি চাইলে এই পোস্ট এবং এই ছবিটি দিয়ে একটা ক্যাঁচাল এর সৃষ্টি করা যেতো। তা আমি চাইনি। চেয়েছি সচেতনতা ও মতামত । এটাই ব্লগিং এর মুল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ বলে মনে করি।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ১২:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


