ভারত যদি ভেবে থাকে আমাদের ক্ষোভকে তারা থোড়াই কেয়ার করে, তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। প্রতিবেশীকে খারাপ রেখে তারা ভাল থাকতে কখনও পারবে না। আগুন লাগলে পাশাপাশি থাকা সবার ঘরই পোড়ে।
একটা স্পুলিংগ যে দাবানলের সৃষ্টি করতে পারে তা অনেকেই জানেন। যেখান থেকে এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা হলো সীমান্তে পাখির মত করে বাংলাদেশীদের হত্যা। যেটা অনেকদিন থেকেই সীমান্তে উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছিল। ফেলানীর ঘটনার রেশ না যেতে যেতেই বাংলাদেশী যুবককে উলঙ্গ করে নির্যাতন কেউই মেনে নিতে পারে নি।
গত কিছুদিন থেকে ব্লগে যে সাইবার যুদ্ধ সাইবার যুদ্ধ বলে সাজসাজ রব পড়ে গেছে সেটা এখন ব্লগিং এর চৌকাঠ পেরিয়ে দেশীয় ও বিদেশী মিডিয়াতেও উঠে এসেছে। শুধু যাদের ঘুম ভাঙ্গার দরকার তাদের ভাঙ্গেনি। হয়তো ভেঙ্গেছে আমরা নাদান আমজনতা সেটা বুঝতে পারছি না।
যে যাই বলুক না কেন, ব্লগও যে এখন শক্তিশালী বিকল্প মিডিয়া হয়ে গেছে অল্প সময়ে তা কেউই এখন আর অস্বীকার করতে পারছে না। আর একে যে উপেক্ষা করবে তারও কোন উপায় নেই।
তো যা বলছিলাম, কিছু দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ তরুন নিজেদের বিপদ হতে পারে এটা মাথায় রেখেও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে প্রতীকি প্রতিবাদসরূপ ভারতীয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ন ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে এটা এখন পুরোনো খবর। তারা হ্যাকিং করে ঘোষনা দিয়েছে তাদের প্রতিবাদ কিসের জন্য। যদিও হ্যাকিং ক্রাইমের মধ্যেই পড়ে, তবে তারা যা করেছে তার সম্পুর্ন দায়-দায়িত্ব জেনেই তারা করেছে। তাই এটা নিয়ে কিছু বলছি না। তাদের এই সাফল্য যখন ব্লগে ও ফেসবুকে প্রকাশ পায়, তারপরই দেখা যায় আরও ব্যাপক আকারে ব্লগে বা ফেসবুকে ঘোষনা দিয়েই ভারতীয় সর্বস্তরের সাইট হ্যাকিং শুরু হয়ে গেছে। দিন যতই যাচ্ছে হ্যাকিং জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। প্রতিক্রিয়াসরূপ ভারতীয় হ্যাকাররাও ঘোষনা দিয়ে এদেশের কিছু সাইট হ্যাক করছে, যদিও সংখ্যায় তা যৎসামান্য।
এই পারস্পরিক হ্যাকিংকে অনেকেই সাইবার যুদ্ধ বলে অভিহিত করছেন।
এটা একসময় শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু এই দুদেশের মাঝের সাইবার ওয়ার কিছু তিক্ত সত্যকেও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিবেশী দুটি দেশের মাঝে স্বাভাবিক মধুর সম্পর্কের বদলে যে একটা তিক্ত ও ঘৃণার সম্পর্ক বিদ্যমান তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে সবাইকে দেখিয়ে দেয়া হল। এথেকে ভারতীয় সরকার যদি শিক্ষা নেয় তাহলে দুদেশের জন্যই তা মঙ্গলজনক হবে।
ভারত আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী। আমাদের দেশের জন্মের সাথে ভারতীয় সহযোগীতার যোগসুত্র সবাই অবগত। একারনে তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা আমরা কখনও ভুলব না। পাকিস্তানের প্রতি আমাদের জাতীয় ঘৃণা যতটুকু ছিলো বা আছে, ভারতের প্রতিও একদা আমাদের ভালবাসা সমপরিমানেই ছিলো। লক্ষ্য করুন এখানে ভারতের প্রতি ভালবাসার কথাটা অতীতকালে প্রকাশ করা হয়েছে। আর পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণাটা অতীত ও বর্তমানকাল নিয়েই করা হয়েছে।
ভালবাসা কখনও একপাক্ষিকভাবে অনন্তসময় চলতে পারে না। ভারতের প্রতি আমাদের ভালবাসার দাম তারা আজ এতবছরেও দিতে পারে নি। তারা তাদের কর্ম দিয়েই আমাদের ভালবাসাকে ঘৃণাতে রূপান্তরিত করেছে। ভারতের সাথে আমাদের সীমান্ত সমস্যা, গুলি করে হত্যা, পানিসমস্যা, চোরাচালান, পার্বত্য সমস্যা, বানিজ্যঘাটতি, বাংলাদেশী পন্যের ভারতে প্রবেশে সমস্যা, তিস্তা, টিপাইমুখ, ট্রানজিট,জঙ্গীবাদ ইত্যাদি হাজারো সমস্যা আছে। এই সব ব্যাপারেই আমরা আমাদের আন্তরিকতা প্রদর্শণ করেছি বারবারই। কিন্তু ভারতীয় পক্ষ শুধু পেতেই আগ্রহী, তাদের দিক থেকে নুন্যতম সহযোগীতাও তারা করছে না এটা তাদের কার্যক্রমে পরিষ্কার। এদেশের সাধারন মানুষ ভারতের প্রতি কতটুকু বিদ্বেষ পোষন করে তার কিছু ছিঁটেফোটা নমুনা ব্লগ ও ফেসবুকে গত কিছু দিনের সাইবার ওয়ার খেলাতেও দেখা গেছে।
তবে সামনে এক কঠিন সময়ের সম্মুখীন আমরা সেটা বুঝতে বেশী কষ্ট করতে হয় না। ভারত এখন বাংলাদেশের ব্যাপারে আমেরিকার ভূমিকা পালন করছে, যে দায়িত্ব আমেরিকা ঘোষনা দিয়েই ভারতকে দিয়েছে।
আওয়ামীলীগ এর মতই বিএনপি+জামাত জোটও যে ভারতের অল্টারনেট পছন্দ সেটা এখন সবাই বোঝে। যখন যাকে দরকার তাকেই তারা ব্যবহার করবে। ব্যবহার শেষ হলে ছুঁড়ে ফেলে দিতে বিন্দুমাত্র দেরী করবে না। আর বিএনপি+জামাত জোটও জাতে মাতাল তালে ঠিক। উপরে উপরে ভারতকে গালাগালী করছে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে ভারতকে তুষ্ট করার কাজেই ব্যস্ত। মাঝখানে আমাদের দেশটা ছারখার হয়ে যাচ্ছে।
অবিশ্বাস নিয়ে কোনদিন কোন সুস্থ্য সম্পর্ক টিকে থাকতে পারে না। এটা সবাইকেই বুঝতে হবে। সাধারন মানুষ এখন অনেক বেশী সচেতন। মানুষের ভাষা আমাদের সরকার ও ভারতের সরকারকে অবশ্যই বুঝতে হবে, নিজেদের স্বার্থেই ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৯:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


