যে বইটির জন্য বাউল সম্রাট নয় কেদার জমি বিক্রি করেছিলেন
০৬ ই মে, ২০১০ বিকাল ৪:৫০
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
![]()
বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম তাঁর শেষ সম্বল নয় কেদার জমি বিক্রি করে ‘কালনী ঢেউ’ গানের বই প্রকাশ করেছিলেন। এই বইটি প্রায় ত্রিশ বছর পূর্বে প্রকাশিত তাঁর পূর্ণাঙ্গ গানের বই। এ বছরে (২০১০) শাহ আব্দুল করিম সমগ্র প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন সংকলনও বাজারে রয়েছে। কিন্তু ১৯৮১ সালে প্রকাশিত ‘কালনীর ঢেউ’ গ্রন্থটি বাজারে দুষ্প্রাপ্য। আমি যখন জেনেছি তিনি নয় কেদার জমি বিক্রি করে বইটি প্রকাশ করেছিলেন, তখন থেকে ঐ বইটি দেখার প্রবল ইচ্ছে জাগে। কেমন ছিল বইটির প্রচ্ছদ, কতটি গান ছিল! বর্তমানে তাঁর জনপ্রিয় গানের সাথে সেই বইয়ের গানগুলো অবিকল মিল রয়েছে কি? কতগুলো গান সে বইয়ে আছে! অবশেষে একটি বই আমার চাচা শাহ মখলিছুর রহমানের কাছে পাওয়া যায়। কিছুদিন আগে তার ভগ্নিপতি আব্দুস ছালিক বাংলাদেশে গিয়েছিলেন, তিনি সেই বইটি নিয়ে এসেছেন।
বইটি ১৯৮১ সালের সেপ্টম্বরে প্রকাশিত হয়। প্রকাশ করেন বাউল সম্রাটের পুত্র মো: নূর জালাল ( বাবুল)। মূল্য ছিল পনের টাকা। উৎসর্গ করেন তাঁর সহধর্মিনী সরলাকে। বইয়ের প্রথমে বাউল সম্রাটে যৌবনের একটি ফটো। যে ফটোটি ইতির্পূবে কোন পত্র-পত্রিকায় দেখিনি। এই ফটোটিও বাউল ভক্তদের একটি সম্পদ। ‘আমার কথা’ শিরোনামে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাউল সম্রাট বলেন, আমি জানিনা আমার লিখিত গানগুলি গুণ এবং মান সম্পন্ন হইয়াছে কি না দেশের সুধীসমাজ গানের সমজদার ব্যক্তিরা গানগুলি যাচাই করিয়া দেখিবেন, এই আশা রাখি। পরিচিতি অংশে দীর্ঘ গানের মাধ্যমে নিজের পরিচয় তুলে ধরেন এভাবে, কেউ বলে শাহ আব্দুল করিম কেউ বলে পাগল। যার যা ইচ্ছা তাই বলে বুঝিনা আসল নকল .....\
আমাদের প্রিয় গনমানুষের কবি দিলওয়ার দীর্ঘ দু’পৃষ্টায় ‘দুটি কথা’ ভূমিকায় একপর্যায়ে লেখেন, ‘‘.....এ গ্রন্থ প্রকাশিত হোক এটা ছিলো শিল্পী কাছে আমার দীর্ঘদিনের দাবী। এ সমাজে মৃত্যুলীলা এতো বেশী প্রাধান্য লাভ করেছে যে একজন মানুষের প্রয়াণ ঘটার সাথে সাথে সে যেন চিরতরে লোপাট হয়ে যায়। জীবদ্দশায় এ লোকটি কোনো উল্লেখ যোগ্য গুণের অধিকারী ছিল কিনা, সেটা যেন অচিরেই বাহুল্য হয়ে পড়ে। আমি তাই চেয়েছিলাম, তার সৃষ্টি কর্মের দলিল যেন তিনি রেখে যান। অবশেষে বেরোল তার ‘কালনীর ঢেউ’। কিছু কিছু মুদ্রণ প্রমাদ থাকা সত্বেও এ গ্রন্ত্রটির আবির্ভাব আমার কাছে উল্লাস কর।
শিল্পী আব্দুল করিমের গান রচনা ও গান গাওয়ার ইতিহাস প্রায় চল্লিশ বছর সময় কাল কে ধরে রেখেছে। সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চল তো বটেই, অন্যান্য স্থানেও শিল্পীর উদাত্ত কণ্ঠ হাজার হাজার নর-নারী শিশু বৃদ্ধকে দিয়েছে প্রাণের নতুন স্পন্দন। মাল জোড়া, মুর্শিদী, জারীসারী, বাউল, ভাটিয়ালী, লোকগীতি, গণসংগীত প্রায় সর্বক্ষেত্রেই তিনি সমান প্রতাপে বিচরণ করেছেন। এটা কোনো গর্বোদ্ধত রাজদন্ডের ইতিহাস নয়, এ হচ্ছে মানবতার জন্য একটি রাজসিক চিত্তের অনুপম উপাখ্যান।.....’’
একশ তিপ্পান্ন পৃষ্টার এই গ্রন্থে একশ তেষট্রি গান রয়েছে। এগুলো বিভিন্ন বিষয়ে ভাগ করা হয়েছে। যেমন; আল্লাহর স্মরণে, রছুল (স
স্মরণে, অলীদের স্মরণে, মুর্শিদ স্মরণে, ভক্তি মূলক, দেহতত্ত্ব, মন মানুষের সন্ধানে, মনশিক্ষা, নিগূঢ় তত্ব, ভক্তিমূলক পল্লী গীতি আরো অনেক বিষয় রয়েছে। উক্ত গ্রন্থে জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে; ১) সয়ালের দয়াল বন্ধুরে তুমি যে সরল...।২) রাখ কি মার এই দয়া কর....৩) মুর্শিদ ধন হেÑ কেমনে চিনিব তোমারে....৪) আমি তোমার কলের গাড়ি, তুমি হও ড্রাইবার....৫) আগের বাহাদুরী এখন গেল কই....৬) মানুষ হয়ে তালাশ করলে মানুষ পায়....৭) মেয়েরূপী ফুল ফুটেছে বিশ্ব বাগানে....৮) শুনবে কি বুঝবে কি ওরে মন ধোন্ধা....৯) সখী তোরা প্রেম করিও না....১০) বন্ধুয়ারে যত দোষী তোমার লাগিয়া....১১) কেন পিরীতি বাড়াইলায়রে বন্ধু ছেড়ে যাইবায় যদি....১২) আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু করলায়রে দেওয়ানা....১৩) বাঁচি না বাঁচিনারে বন্ধু পরানে বাঁচি না....১৪) হাত বান্ধিব পাও বান্ধিব মন বান্ধিব কেমনে....১৫) শ্যামল ও সুন্দরও রূপ আমি যেদিন হইতে হেরি গো....১৬) ভাবিলে কি হবে গো, যা হইবার তা হইয়া গেছে....১৭) বসন্ত বাতাসে সইগো বসšত বাতাসে....১৮) সখী কুঞ্জ সাজাও গো....১৯) ফুরু থাকতে খেইল খেলাইতাম....২০) আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম....২১) চাল ছানিত কামলা চাচা দিলায় না....২২) আমি ঠেকলাম ভবের বোঝা লইয়া....২৩) কোন মে¯তরী নাও বানাইলও কেমন দেখা যায়....২৪) হাওয়ায় দৌড়েরে আমার ময়ূরপঙ্খী নাও....২৫) জিঞাস করি তোমার কাছে বল গো গোঁসাই.....ইত্যাদি।
এসব গান বিভিন্ন শিল্পীর কন্ঠে বিভিন্ন ভাবে পরিবেশিত হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মূল বইয়ের গানের কথা থেকে মাঝে মাঝে শব্দ বিলুপ্তি ঘটানো হচ্ছে। এটা আদৌ ঠিক নয় যদি না তিনি নিজে অনুমতি দিয়ে থাকেন। এব্যাপারে শিল্পী শ্রোতা সকলের সতর্ক থাকা উচিৎ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১০ রাত ১০:২৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
রাহা বলেছেন:
তথ্যবহুল পোস্ট +
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ
জয়নাল আবেদীন বলেছেন:
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম!
রুবাই রেনো বলেছেন:
ধন্যবাদ...অনেক মুল্যবান ছবি এবং তথ্য....
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও
আহমদ ময়েজ বলেছেন:
ধন্যবাদ বেলাল। প্রচ্ছদ দেখেই মনের করতে পারছি - এই গ্রন্থটি আমারও সংগ্রহে ছিল। এখন আর নেই।
হ্যা, কবি দিলওয়ারের লেখা ভূমিকাটা মনে পড়ছে। তখন আবদুল করিম এতো মিডিয়া প্রধান হয়ে উঠেননি। তখন তিনি ছিলেন কেবলই সাধারণের - এখন সকলের। এই গ্রন্থের গানের সাথে এখন অনেক গানেরই মূলগত মিল নাই তা আমিও লক্ষ্য করেছি। তবে জীবদ্দশায় আবদুল করিম নিজেও অনেক গানের বাক্য ও শব্দ পরিবর্তন করেছেন। কিন্তু সুর বদলাননি। আজকাল যখন দেখি বাউল গানকে বাংলা সিনেমার ঢঙ-এ কিংবা খেমটামি করে গীত হয় তখন ব্যথিত হই। তাছাড়া করারই বা কী আছে বলো? যেখানে আমাদের রাষ্ট্রই স্বচ্ছ নয় সেখানে বোধের ঘাটতি তো থাকবেই।
শুভ হোক।।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ময়েজ ভাই আপনার ভাবুক মনের কিছু কথা লেখার জন্য। যা জানা আমাদের প্রয়োজন।
রোহিত রায়হান বলেছেন:
thanks for your nice post . can you please scan all the pages and then send us .or upload the file wherever you wish and give us the link to download . I really want to read it . please ........... লেখক বলেছেন: আপনার আগ্রহের জন্য ধন্যবাদ। বইটি খুব পুরনো বিধায় স্কেন করতে গেলে পৃষ্টা ছিড়ে যায়। তাই কয়েকটি মাত্র করেছি। বাজারে এবছর শাহ আব্দুল করিম সমগ্র বেরিয়েছে।
ইমন জুবায়ের বলেছেন:
অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভিয়েনাস বলেছেন:
তথ্য সমৃদ্ধ পোস্ট। শাহ আব্দুল করিমের গান ভালো লাগে।
পাহাড়ের কান্না বলেছেন:
ধন্যবাদ বেলাল।
জাহাঙ্গীর হাবিব বলেছেন:
অসাধারন পোষ্ট
আই.কিউ. বলেছেন:
এমন পোস্টে কে মাইনাস দিলো রে বাবা ???????
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















