বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম তাঁর শেষ সম্বল নয় কেদার জমি বিক্রি করে ‘কালনী ঢেউ’ গানের বই প্রকাশ করেছিলেন। এই বইটি প্রায় ত্রিশ বছর পূর্বে প্রকাশিত তাঁর পূর্ণাঙ্গ গানের বই। এ বছরে (২০১০) শাহ আব্দুল করিম সমগ্র প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন সংকলনও বাজারে রয়েছে। কিন্তু ১৯৮১ সালে প্রকাশিত ‘কালনীর ঢেউ’ গ্রন্থটি বাজারে দুষ্প্রাপ্য। আমি যখন জেনেছি তিনি নয় কেদার জমি বিক্রি করে বইটি প্রকাশ করেছিলেন, তখন থেকে ঐ বইটি দেখার প্রবল ইচ্ছে জাগে। কেমন ছিল বইটির প্রচ্ছদ, কতটি গান ছিল! বর্তমানে তাঁর জনপ্রিয় গানের সাথে সেই বইয়ের গানগুলো অবিকল মিল রয়েছে কি? কতগুলো গান সে বইয়ে আছে! অবশেষে একটি বই আমার চাচা শাহ মখলিছুর রহমানের কাছে পাওয়া যায়। কিছুদিন আগে তার ভগ্নিপতি আব্দুস ছালিক বাংলাদেশে গিয়েছিলেন, তিনি সেই বইটি নিয়ে এসেছেন।
বইটি ১৯৮১ সালের সেপ্টম্বরে প্রকাশিত হয়। প্রকাশ করেন বাউল সম্রাটের পুত্র মো: নূর জালাল ( বাবুল)। মূল্য ছিল পনের টাকা। উৎসর্গ করেন তাঁর সহধর্মিনী সরলাকে। বইয়ের প্রথমে বাউল সম্রাটে যৌবনের একটি ফটো। যে ফটোটি ইতির্পূবে কোন পত্র-পত্রিকায় দেখিনি। এই ফটোটিও বাউল ভক্তদের একটি সম্পদ। ‘আমার কথা’ শিরোনামে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাউল সম্রাট বলেন, আমি জানিনা আমার লিখিত গানগুলি গুণ এবং মান সম্পন্ন হইয়াছে কি না দেশের সুধীসমাজ গানের সমজদার ব্যক্তিরা গানগুলি যাচাই করিয়া দেখিবেন, এই আশা রাখি। পরিচিতি অংশে দীর্ঘ গানের মাধ্যমে নিজের পরিচয় তুলে ধরেন এভাবে, কেউ বলে শাহ আব্দুল করিম কেউ বলে পাগল। যার যা ইচ্ছা তাই বলে বুঝিনা আসল নকল .....
আমাদের প্রিয় গনমানুষের কবি দিলওয়ার দীর্ঘ দু’পৃষ্টায় ‘দুটি কথা’ ভূমিকায় একপর্যায়ে লেখেন, ‘‘.....এ গ্রন্থ প্রকাশিত হোক এটা ছিলো শিল্পী কাছে আমার দীর্ঘদিনের দাবী। এ সমাজে মৃত্যুলীলা এতো বেশী প্রাধান্য লাভ করেছে যে একজন মানুষের প্রয়াণ ঘটার সাথে সাথে সে যেন চিরতরে লোপাট হয়ে যায়। জীবদ্দশায় এ লোকটি কোনো উল্লেখ যোগ্য গুণের অধিকারী ছিল কিনা, সেটা যেন অচিরেই বাহুল্য হয়ে পড়ে। আমি তাই চেয়েছিলাম, তার সৃষ্টি কর্মের দলিল যেন তিনি রেখে যান। অবশেষে বেরোল তার ‘কালনীর ঢেউ’। কিছু কিছু মুদ্রণ প্রমাদ থাকা সত্বেও এ গ্রন্ত্রটির আবির্ভাব আমার কাছে উল্লাস কর।
শিল্পী আব্দুল করিমের গান রচনা ও গান গাওয়ার ইতিহাস প্রায় চল্লিশ বছর সময় কাল কে ধরে রেখেছে। সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চল তো বটেই, অন্যান্য স্থানেও শিল্পীর উদাত্ত কণ্ঠ হাজার হাজার নর-নারী শিশু বৃদ্ধকে দিয়েছে প্রাণের নতুন স্পন্দন। মাল জোড়া, মুর্শিদী, জারীসারী, বাউল, ভাটিয়ালী, লোকগীতি, গণসংগীত প্রায় সর্বক্ষেত্রেই তিনি সমান প্রতাপে বিচরণ করেছেন। এটা কোনো গর্বোদ্ধত রাজদন্ডের ইতিহাস নয়, এ হচ্ছে মানবতার জন্য একটি রাজসিক চিত্তের অনুপম উপাখ্যান।.....’’
একশ তিপ্পান্ন পৃষ্টার এই গ্রন্থে একশ তেষট্রি গান রয়েছে। এগুলো বিভিন্ন বিষয়ে ভাগ করা হয়েছে। যেমন; আল্লাহর স্মরণে, রছুল (স
এসব গান বিভিন্ন শিল্পীর কন্ঠে বিভিন্ন ভাবে পরিবেশিত হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মূল বইয়ের গানের কথা থেকে মাঝে মাঝে শব্দ বিলুপ্তি ঘটানো হচ্ছে। এটা আদৌ ঠিক নয় যদি না তিনি নিজে অনুমতি দিয়ে থাকেন। এব্যাপারে শিল্পী শ্রোতা সকলের সতর্ক থাকা উচিৎ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১০ রাত ১০:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


