আমার প্রিয় পোস্ট
- বোকা বাউলের পদ্য: নিজেকে ওভাবে মেলতে নেই - প্রণমি যীশু, মনসুর আল হাল্লাজ অথবা হুমায়ুন আজাদ - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- সিংহপুরের ডায়েরী - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- আমরা ভালো আছি - রাসেল ( ........)
- কুয়ালালামপুরের ডায়েরী: গোপালীয় খানাপিনা আর রোবোকন প্রতিযোগিতা - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- কনক্রিটের সৌধে পুস্প দেওয়া ইসলাম সম্মত না - বলেছেন রাম সন্না। ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- কুরবাণী করতে হুকুম প্রাণ প্রিয় ধন। গরু ছাগল হইলো কি তোর এতই প্রিয় ধন? - ফিরে দেখা কুরবাণী - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- আমাদের সক্রেটিস - আরজ আলি যেভাবে একজন আরজ আলি হয়ে ওঠেন - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- ধর্মান্ধরা মুড়ি খাও: চাঁদ দেখতেই হবে? - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- শেষ কবে আপনি একেবারে নতুন কিছু করেছেন? - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- প্যারাডক্স : সব পূর্ব-নির্ধারিত (প্রিডেস্টিনেশন বা ভাগ্য) হলে আপনার আমার কি দোষ (শেষ বিচার, কর্মফল -এর ধারনা অর্থহীন )? - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- অভিযানের নাম 'মেজবান সঙ্গে লইয়া ভ্রমন'। গন্তব্য শুভর বাড়ি এবং চতুর্থ মৃতু্যর উপাখ্যান - সাদিক মোহাম্মদ আলম
- 100তম পোস্ট: আগন্তুকের সাথে মৌন কথোপকথন - সাদিক মোহাম্মদ আলম
আমাদের সক্রেটিস - আরজ আলি যেভাবে একজন আরজ আলি হয়ে ওঠেন
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৩০
ভবানীপ্রসাদ সাহুর "অধার্মিকের ধর্ম-কথা" বইটা পড়ছিলাম। হিন্দু, খ্রিস্টান, ইসলাম ধর্মরে পুরা ধুয়ে দিছেন। সমালোচনার ধাঁর ক্ষুরের চাইতেও বেশি। ধমর্ান্ধতার বিরুদ্ধে খুব চমৎকার একটি বই হইলেও দূর্বল ইমানদারদের এই বই পড়া নিষেধ। বইটা শেষ হওনের আগেই নাস্তিক হওনের প্রবল সম্ভাবনা হ্যাজ।
আরজ আলি মাতুব্বরকে নিয়ে লেখা অংশটা পড়ছিলাম। তিনি আরজ আলিকে ডেকেছেন ইসলামী 'চার্বাক' নামে। মাতুব্বরের জীবনের কথা লিখতে গিয়ে আরজ আলির একজন সক্রেটিসে পরিনত হওয়া অংশটা থেকে উদ্ধৃতি করছি (সংক্ষেপিত):
"তারা ছিলেন 3 ভাই, 2 বোন। আরজ আলির 4 বছর বয়সে তার বাবা এন্তাজ আলি মারা যায়। চরম অনটনে তার বিধবা মা লালমন্নেছা বিবি এলাকার কুখ্যাত কুসীদজীবী জনার্দন সেনের কাছ থেকে টাকা ধার করতে বাধ্য হয়। টিনের বসতবাটিও নিলাম করে নেয়। থাকে শুরু ভিটেটুকু। বিধবা মা বাসার কাজ করে সন্তানের খাবার জুটিয়েছেন, লেখাপড়ার যথাসাথ্য চেষ্টা করেছেন।
আরজ আলির যখন 32 বছর তখন তার প্রাণাধিক প্রিয় মা মারা যায়। মায়ের স্মৃতিকে নিজের কাছে চিরজাগরূক রাখার উদ্দেশ্যে মায়ের অন্তত মৃত মুখের একটি ছবির জন্য আরজ আলি মরীয়া হয়ে উঠেন। শহর থেকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে নিয়ে আসেন একজন ফটোগ্রাফার, মায়ের প্রিয় মুখের ছবি তোলেন।
কিন্তু দাফন কাফনের সময় এল চরম আঘাত; 'ধর্ম' তার হিংস্র দাঁত বের করল। গ্রামের ধমর্ীয় গুরুরা মহাক্রোধে অগি্নশর্মা হয়ে উঠেন। তারা জানাজা পড়াতে অস্বীকার করলেন, যেহেত ু মৃত হলেও মহিলার ছবি তোলা হয়েছে।
.... তার মনে শুরু হলে ধমর্ীয় সংস্কার ও রীতিনীতি নিয়ে প্রবল দ্্বন্দ্ব এবং সেই থেকে শুরু। তারপর দীর্ঘ সময় ধরে স্রষ্টা, কোরান, হাদিস ও ধমর্ীয় নিয়মকানুন সম্পর্কে নিজের চেষ্টায় পড়াশুনা করছেন; বিজ্ঞান ও প্রকৃতি সম্পর্কে নানা বই সংগ্রহ করে পড়তে শুরু করলেন। নানা প্রশ্ন তার মনে জাগল ...."
বেচারা আরজ আলি প্রিয় মায়ের প্রিয় মুখখানি স্মৃতিতে ধরে রাখাকে ধর্মান্ধদের ধর্ম নিয়ে মনোপলি খেলার একটা সুযোগ করে দিয়েছিলো। মানবিক অনুভূতির কোন স্থান নেই তাদের ধর্ম ব্যবসায়। হায়রে আমাদের ধর্মবোধ! ধর্ম গ্রন্থে আছে এক শ্রেনীর মানুষের দিল (হৃদয়) নাকি স্রষ্টা কঠিন আবরন দিয়ে আবৃত করেন; হৃদয় তাদের কঠিন হয়ে যায়; ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাঠিন্য দেইখা মনে হয় সেই শ্রেনীর একটা বড় অংশই বোধহয় তেনারা।
......
মারা যাওয়ার পূর্বে নিজের দেহতে দান করে দেওয়ার অছিয়তনামায় তিনি (আরজ আলি) বলেন,
"1. মৃতু্যর পর আমার শবদেহটি জলে ধৌতপূর্বক পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে বস্ত্রাবৃত করবা। হয়তো খোশবু ব্যবহার করবা। তাছাড়া অন্য কোন রূপ চিরাচরিত প্রথা রক্ষার জন্য উদ্্বিগ্ন হবা না।
2. আমার বিদেহী আত্নার কল্যানের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করার জন্য কাউকেও পীড়াপীড়ি বা সেজন্য অর্থব্যয় করবা না। [গাঢ়] তবে কারো স্বেচ্ছায় প্রার্থনা বা আশীর্বাদ আমার অবাঞ্চিত নয়। [/গাঢ়]
3. ... "
এই মহামানবের আত্নার কল্যানে আমি স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে প্রার্থনা করি স্রষ্টার কাছে। স্রষ্টার আশর্ীবাদ হউক তার আত্নার প্রতি। সালাম হে সক্রেটিস।
প্রকাশ করা হয়েছে: ধমর্ান্ধরা মুড়ি খাও বিভাগে ।
অতিথি বলেছেন:
চমৎকার লেখা। উনার বই থেইকা কিচু তুইলা দিয়া সিরিজ দেওয়া যায় না?
অতিথি বলেছেন:
আমাদের, আমাদের আরজ আলী।
অতিথি বলেছেন:
ami 1jonk bolecilam matubbor saheber boi porar jonno,se aj amak bollo ei boi ami porum na,pagol hoia zamu....sroddha roilo tar sritir uddesshe.
অতিথি বলেছেন:
বইটা কিইন্না পড়লে খারাপ হয় না। আজিজে পাইতে পারেন। আমি কিনছি পড়ুয়া থেকে। @ জ্ঞানপাপীএকমত, শতমত, কৌশিক। আমি গর্বিত আরজ আলিকে নিয়ে।
অতিথি বলেছেন:
পছন্দের লিংকে এখনই আমার নাম ঢুকান, আজকাল জোর না করলে কেউ ভালবাসতেও চায় না!
অতিথি বলেছেন:
আমার নাম উফরে উডান, পছন্দের লিংকে সবার প্রথমে! হু!
অতিথি বলেছেন:
পাঠক সমাবেশ থিকা একটা সমগ্র বাইর হইছিল 1993 এর দিকে। চাইর খন্ডে।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
আরজ আলীকে নিয়ে এত বেশি এক্সাইটমেন্ট কেন জানি কখনো আসেনি। এস.এস.সি-র পরে উনার সমগ্র পড়ার সুযোগ হয়েছিলো, কেন জানি উনার কোশ্চেনই তখন চাইলডিশ মনে হইছিলো। এখন আবার পড়লে মতামত চেঞ্জ হবে কিনা জানি না, তবে হাইলি রিকমেনড করলে চান্স নিতে পারি।
যদিও বই জোগাড় করা খুব টাফ।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
উনার কোশ্চেনই= উনার অনেক কোশ্চেনই ।
অতিথি বলেছেন:
অনেক কোয়েশ্চেন চাইলডিশ, কারন লোকটা সম্পূর্ণ অন্য রকম একটা অবিশ্বাস্য ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে উঠে এসেছেন, পড়েছেন, ভেবেছেন এমন পরিস্থিতিতে যখন ঐ মাত্রায় প্রশ্ন করা অসম্ভব । এ কারনেই তাকে মূল্য দেই। আমার কাছে তাই তিনি তার সময়ের পয়গম্বর।
অতিথি বলেছেন:
দারিদ্রের কারনে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়টুকুও পার হতে পারেন নি। পেশা ছিলো চাষাবাস আর জমির মাপজোক। এই কারনেই তার শিশুতোষ প্রশ্নগুলো আর শিশুতোষ থাকে না। এ কারনেই সে কখনো চার্বাক কখনো সক্রেটিস
অতিথি বলেছেন:
সহমত@সাদিক
কনফুসিয়াস বলেছেন:
সাদিক ভাই,এই নীতিটা একটু কেমন যেন হয়ে গেল না? ব্যাকগ্রাউন্ড বিবেচনা করতে হয় তখুনি যখন যোগ্যতায় ঘাটতি থাকে। পারিপার্শিক সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে যেতে পারলেই তবে তাকে মহামানবের কাতারে তোলা উচিৎ, তাই না?
আপনাকে যেকোন একটা চুজ করতে হবে, যদি তাকে মহামানব বলেন, তাহলে তার সীমাবদ্ধতাগুলা বিবেচনায় আনা যাবে না।
( উনার লেখা কিছুই মনে নাই, তাই আমার কথা বার্তা একটু অপ্রাসঙ্গিক মনে হইতে পারে। দু:খিত। )
কনফুসিয়াস বলেছেন:
বদ্দা, সাদিকভাই,মানতে পারলাম না। প্রাথমিক শিক্ষা না থেকেও উনি যেই লেভেলে চিন্তা করেছেন, সে জন্যে আমরা অবাক হইতে পারি, মুগ্ধ হইতে পারি, এবং বড়জোর বাহবা দিতে পারি। কিন্তু এর ফলে কি সেই প্রশ্নগুলোর ওজন বেড়ে যাবে? বা যাওয়া কি উচিৎ?
অতিথি বলেছেন:
উহু, কনফু, কনটেক্সট সবসময়েই বিবেচ্য। একজন চাষী তার তৎকালীন সমাজের মূল্যবোধকে চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করছে। একজন প্রাতিষ্ঠাণিক শিক্ষাবিহীন মানুষ জানাজা, কাফনের মতো রীতিকে ছাড়িয়ে গিয়ে তার দেহ দান করে দিচ্ছে, এই কাজটা তার কনটেক্সটে তাকে একজন আধুনিক যীশুর জায়গায় নিয়ে যায়। (আমার ব্যক্তিগত দর্শনে)।
আপনি অবশ্যই দ্্বিমত রাখতে পারেন @ কনফু
অতিথি বলেছেন:
তিনি এমন কিছু প্রশ্ন করছেন যা চাইলডিস, কিন্তু দামড়ারা তার কোন উত্তর না দিতে পাইরা ইশ্বররে বানাইছে। উনি সেই প্রশ্নের নিজে দিছেন, ইশ্বর বানান নাই। বলতে পারেন, সেই ইশ্বর হইছে। ডিফারেনস এই যে, ঐ প্রশ্নগুলান যাদের কাছে চাইলডিস মনে হয় তারা আসলে এখনও ঐ চাইলডিস স্তরেই আছে।
অতিথি বলেছেন:
না, প্রশ্নের ওজন বেড়ে যায় নাই। আরজ আলি মাতুব্বর নামের একজনের ওজন বেড়ে যায় ঐ আপাত শিশুতোষ প্রশ্নে, যদিও প্রশ্নগুলা শিশুতোষ কি না, তাতে যথেষ্ট বির্তক হইতে পারে। সে কবরের আজাব নিয়ে যে প্রশ্ন করছে; যে একজন মানুষ আজকে মরলো তার কেয়ামত পর্যন্ত শাস্তি; আর আরেকজন সব পাপী কেয়ামতের কাছাকাছি সময়ে মরলো - তার অল্প দিন শাস্তি হওয়া ; এইটারে সে যুক্তিতে আনতে প্রশ্ন করছে।
এবং তার প্রশ্ন করায় অনেক ভাসাভাসা ধর্ম বিশিষ্টের মননে ঢেউ লাগছে। আমি একটা উদাহরন দিলাম। তার আরো বহুত জায়গা মতো প্রশ্ন আছে। তয় সেগুলার উত্তর হয়তো আমার আছে বা তার সব মতরে আমি সমর্থন করি না; কিন্তু মানুষ হিসাবে আরজত আলিরে আমি যীশুর মতোই শ্রদ্ধা করুম।
অতিথি বলেছেন:
সংশোধন আগের মন্তব্যে 'আরজ আলি'
কনফুসিয়াস বলেছেন:
কৌশিক ভাই মনে হচ্ছে রেগে গেছেন, তাই উনার সাথে আলাপে পোষাবে না। সাদিক ভাই,
আমি নিজেও এটাই ভাবি। মানুষ হিসেবে উনাকে আমিও শ্রদ্ধা করি এবং সেটাও ঐ কনটেক্সট বিবেচনার জন্যেই।
তবে, একটা কথা, আপনি ভালো করে পড়ে দেখবেন, আমার ধারণা- উনার অনেক প্রশ্নের উত্তর এমনকি আপনারও জানা আছে। সুতরাং কেউ উনার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন নাই- এি কথাটা সঠিক মনে হয় না।
পোষ্টের জন্যে ধন্যবাদ।
অতিথি বলেছেন:
কথা সইত্য। আরজ আলির বই পইড়া আমি নাস্তিকতা গ্রহন করুম না। আবার অনেক নাস্তিক পুলোকিত হবে বা ভালোবাসবে। তার প্রশ্নের অনেকগুলার উত্তর সাধারনেও বুঝবে।
কিন্তু আরজ আলির সন্মানের জায়গাটা: একজন পয়গম্বরের মতো প্রচলিত মতের বিরুদ্ধে দাড়ানো আর প্রশ্ন করার আস্পর্ধায়।
যে আস্পধর্া আমরা মুর্তি ভাঙ্গা ইব্রাহিমের ভিতরে, দেখি নমরুদের সামনে দাড়ানো নির্ভিক মুসার ভিতরে, দেখি ইহুদী মন্দিরে উদ্ধত যুবক যীশুর ভিতরে।
অতিথি বলেছেন:
কনফু,প্রশ্ন উত্থাপন করতে পারা একটা মৌলিক যোগ্যতা। তার এই প্রশ্ন করতে পারার মধ্যে অন্য একটা ইতিহাস লুকাইয়া আছে। রাষ্ট্রের সাথে অন্ত্যজজনের দ্্বন্দ্ব।সাবঅলর্তেনো শুধু প্রাকৃতিক অভিজ্ঞতা থিকাই ভুতের র্কতৃত্ব মানে নাই। তারে মানতে বাধ্য করা হইছে পিটাইয়া। সুতরাং ওই অবস্থান থিকা একজন যখন ভুতের বিষয়ে প্রশ্ন তোলে সেইটার নৃবৈজ্ঞানিক ভ্যালু অনেক। রাজনৈতিক তো বটেই।
অতিথি বলেছেন:
ভালা কইছেন @ সুমন
কনফুসিয়াস বলেছেন:
বদ্দা, সেই যোগ্যতা নিয়া আমি কোন প্রশ্ন তুলি নাই কিন্তু। আরজ আলীর চিন্তার ব্যাপ্তি দেখে আমিও উনারে শ্রদ্ধা করি, কিন্তু সেটা কখনৈ উনার প্রশ্নগুলার ব্যাপারে আমার দৃষ্টিভঙ্গীর উপর কোন প্রভাব ফেলবেনা। বা ফেলা উচিৎ বলেও আমি মনে করি না।
আমার বক্তব্য এইটুকুই।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
সঠিক সাদিক ভাই।কিন্তু দু:খ এই যে, এখন দেখি যে ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে যিনি কথা বলে গেছেন, তাঁরও অনেক অন্ধভক্ত তৈরি হয়ে গেছে।
( আপনি যেই উদাহরণ টানলেন, সেটা নিয়া একটু ভাবলাম। কেয়ামতের কাছাকাছি যে মারা যাবে তার অল্পদিন শাস্তি হবে, কিন্তু সেই শাস্তির পরিমাণ যে হাজার বছর আগে যে মারা গেছে তার চেয়ে বেশি হবে না তার গ্যারান্টি কি? )
অতিথি বলেছেন:
আরজ আলির বইপত্র, তার চিন্তার গতিবিধি, তার প্রশ্নমূলক জ্ঞানের ধরণে প্রজ্ঞার প্রকাশ সব অনেক উল্লেখ্য...কিন্তু আসলে তার যেই জায়গাটা আমার পছন্দের সেইটা হইলো তার প্রতিবাদের ধরণ! সে জনবিচ্ছিন্ন হইয়া কখনো কিছু ভাবে নাই বইলা তারে আমার সমরণীয় মনে হয়। ঐটা না থাকলে সে এই পৃথিবীর এমনকি বাংলাদেশেরও হাজার একইরম উপলব্ধি আলা মানুষের একজন হইয়া যাইতেন। আলাদা কইরা আরজ আলীরে সমরণ করনের কোন দরকার হইতো না।
অতিথি বলেছেন:
ঠিকাছে @ ভাস্করদা
অতিথি বলেছেন:
ভাস্করদার সাথে সহমত হয়েই বলি, ব্যক্তি হয়ে উঠাটা আগে জরুরী, তারপর সংগঠিত হওয়া ।কৃতজ্ঞতা সাদিক । কনফু'র কনফিউশনটা ও ঠিক আছে , তবে তাঁর প্রতিবেশে নিজেকে স্থাপন করলেই বোঝা যায় প্রশ্নগুলোর উপস্থাপন কেনো আমাদের কাছে কখনো কখনো শিশুতোষ মনে হতে পারে ।
নজমুল আলবাব বলেছেন:
ভাল লাগছে এই লেখা। বিষয় নির্বাচন দারুন, ভাবনার গভীরতা সাদিকের প্রশংসা করতে হয়।
অতিথি বলেছেন:
কনফু,আরজ আলিরে বিশেষ কইরা স্মরণ করাটারে আমি অন্ধসমর্থন বলতে চাই না। তারে আমাগো ধম্মভিরু আমজনতার একটা বিরাট অংশই অন্য চোখে দেখছে, তার প্রশ্ন করাটারে ধর্মে আঘাত মনে করছে এবং করে ... নাস্তিক কইয়া গালি দিয়া সুখ পায়। এই জায়গা থেইকাই তারে অন্যভাবেও যে বুঝা সম্ভব, ঠিক কোন পরিপ্রেক্ষিতে আরজ আলি তার ভাবনাগুলা ভাবতে শুরু করছিলো সেইটারে তুইলা ধরনটাই আমার নিয়্যত ছিলো।
প্রিয় মায়ের মুখটারে স্মৃতি কইরা রাখনের অপরাধে ধর্মের দোহাই দিয়া মায়ের দাফনে অস্বীকারকারী ধর্মান্ধ মোল্লাগোর ভূমিকাটাই প্রধান থিম এইখানে। আরজ আলির প্রতি অন্ধভক্তিটা মনে হয় না।
জামাল ভাস্কর, নজমুল, হাসান মোরশেদ, ধ্রুপদী সহ বাকি সবাইরে মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
নজমুল,
শরীর খারাপ সত্ত্বেও সময় দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা। আশা করি ভালোভাবেই এখন সিলেটে পৌছাইছেন।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
সাদিক ভাই,আপনার এই মন্তব্যটা আসলে কন্টিনিউয়িটি ব্রেক করছে। খুব চট করে করা মন্তব্য।
আপনার এই পোষ্টটা অন্ধভক্তির ফল- আমার কোন কমেন্ট পড়েই এই ধারণা হবার কথা না। কারন আমি সেরকম কিছু বলিনি বা ভাবিনি।
আমার ধারণা এবং দৃষ্টিভঙ্গী বলেছি বেশ কয়েক বার, আর রিপিট করতে ইচ্ছা করছে না।
আরজ আলীর অন্ধভক্ত বেশ কয়েকজন দেখেছি। যারা কিছুতেই তাঁকে কোন রকম জাজমেন্টে ফেলতে রাজি নন। শিক্ষিত এবং প্রগতিশীল মানুষদের মধ্যেও এই সংখ্যাটা বিরল নয়।
তারচে বড় কথা, আরজ আলীর অন্ধভক্তদের সাথে মওদূদীর ভক্তদের বেসিক কোন পার্থক্য নেই, এই দু'পক্ষের প্রত্যেকেই তাঁদের গুরুকে নিয়ে কোন রকম মানবিক বিচারের ধার ধারে না।
কথাগুলোর প্রমাণ খুঁজতে বেশি দূর যেতে হবে না আপনাকে আশা করি, খানিকটা খুঁজলেই পেয়ে যাবেন।
যাকগে, এই বিষয়ে আরো লিখুন, আমিও পড়ি। এরপরে হয়তো এমন করে নাও ডিস্টার্ব করতে পারি।
শুভেচ্ছা।
ঝরা পাতা বলেছেন:
চমৎকার লেখাটার জন্য অসংখ্য সাধুবাদ। আবার নতুন করে পড়ার প্রেরণা জোগালো।
অতিথি বলেছেন:
সাদিক হারাধনের তোমারে মনে ধরছে
আরশাদ রহমান বলেছেন:
আমি আরজ আলী মাতুব্বরের রচনা সমগ্র 1, 2 এবং 3 পড়েছি। 4র্থটা খুঁজে পাইনি তবে শুনেছি চতুর্থ খন্ডে তেমন কিছু নেই। আমার কাছে আরজ আলী মাতুব্বর কে একজন অসাধারাণ মানুষ মনে হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁর ছিলনা কিন্তু তাঁর চিন্তা চেতনা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাঁর সব প্রশ্ন বা উত্তরের সাথে আমাদের একমত হতে হবে এমন কোন কথা নেই। কিন্তু আক্ষরিক অর্থেই যে লোকটি একজন কৃষক নিজের চেস্টায় সে নিজেকে তৈরি করেছে, শিক্ষিত করেছে, ধর্ম নিয়ে, দর্শন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক এবং ছাত্র দের সামনে কথা বলে কিংবা আলোচনা করে তাঁদেরকে মুগ্ধ করতে পেরেছে। আমরা ইস্কুল কলেজে গিয়েও চিন্তা ভাবনা গুছিয়ে বলতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করিনা। এই হিসাবে আমি তাঁকে শ্র দ্ধা করি।
অতিথি বলেছেন:
কনফু,কনটিনিউটি ব্রেক করার জন্য ধন্যবাদ। আমি আসলে আপনার পুরাতন একটা মন্তব্যের প্রতি উত্তর মাথায় রাইখা লিখছিলাম। যেটা আপনি করছিলেন জামাল ভাস্করের আগের মন্তব্যে। 'তাঁর অনেক অন্ধভক্ত তৈরী হয়ে গেছে' প্রসঙ্গেই।
অন্ধত্ব কোন অবস্থাতেই গ্রহনযোগ্য না। সেইটা আরজ আলির পক্ষে হউক বা ধর্মের পক্ষে। মানুষ হইয়া মানবিক বিচার যারা পরিহার করে তাদের অমানুষ ডাকলে ভুল ডাকা হবে না।
আর আপনার মন্তব্য পুরা ঠিক আছে। ডিস্টার্ব বলেন কেন। সবসময়ই নিমন্ত্রন থাকে।
ঝরা পাতা,
ধন্যবাদ, ভালো লাগা জানানোর জন্য।
মূর্খতা,
ক্যামনে কি?
আরশাদ রহমান,
ঠিকাছে। কৃতজ্ঞতা।
অপরাজেয় বলেছেন:
শামায়েল - এর "স্রষ্টার সন্ধানে" বইটা পড়ে দেখার অনুরোধ রইল। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দান করুন। আমীন।


















