somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রযু্ক্তি কথন। প্রাইভেসীর স্যাক্রিফাইস জীবনের পরতে পরতে

২৭ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
এখন থেকে ২০ বছর আগে বসে ২০১০ সাল টাইপের সময়টাকে কল্পনা করা হতো সায়েন্স ফিকশন টাইপ জামানা। সাই সাই করে উড়ন্ত গাড়ি, আকাশ ফুড়ে ওঠা ঘরবাড়ি, রোবোট সব ঘরের কাজ করে দেবে টাইপ সময়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভয়াবহ গতিতে এগিয়েছে গত কুড়ি কি ত্রিশ বছরে, যে সময়টায় মানুষের অনেক অর্জন বিগত পুরো মানবসভ্যতার ইতিহাসের বিপরীতে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই।

এই ২০০৭ সালের মাঝামাঝি সময়টায় বসে আমরা সেই একসময়ে সায়েন্সফিকশন গল্পে পড়া ম্যাজিকাল সময় ২০১০, বা ২০২০ সাল থেকে খুব দূরে নেই। এই ২০০৭ সালে যখন দেখি কেউ কেউ মোবাইল ব্যবহার করে না, তখন এক ধরনের ঈর্ষাই হয়। ভালা লাগার ঈর্ষা। মনে হয়, আহারে আমিও যদি এই মরার মোবাইলটা ছুড়ে ফেলে দিতে পারতাম।

২.
মোবাইলের মতো প্রাইভেসীতে হস্তক্ষেপ আর কোন আধুনিক প্রযুক্তির ফল আমাদের করে বলে আমার মনে হয় না। অফিসে বসে আছো, কাজে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা; অথবা ক্লান্তিকর দিন শেষে বাড়ি ফিরে একটু বিছানায় গা এলিয়ে না শেষ করা প্রিয় বইটা তুলে নিলাম - ওমনি মোবাইল বেজে উঠছে। আরে বাপ, আমার তো কথা বলতে নাও ইচ্ছা করতে পারে এখন! কিন্তু ক্যামনে অপর পক্ষরে সেইটা বুঝাই।

উইকএন্ড, ঠিক করেছি দিন কাটাবো নিজের মতো, অলস দিন কাটবে পুরো স্বাধীনতায়। নো হাংকি পাংকি। হঠাৎ জুনিয়ার নিংসঙ্গ প্রবাসী কেউ ফোন করে বসলো, 'চলেন সাদিক ভাই ঘুইরা আসি লিটিল ইন্ডিয়া থেইকা, ভালো লাগতাছে না।' লে ঠেলা। সব সময় বলাও যায় না: 'ইচ্ছা করছে না, তুমি একলা যাও।' অথবা ব্ন্ধুরা ঠিক করলো ঘুরতে যাবে, নয়তো খাবে, নয়তো সিনেমা দেখবে। ফোন করে আয় আয় ডাকা ডাকি। ইচ্ছার বিরুদ্ধতা হজম করে ফালতু সিনেমা গিলো।

অথবা আরো ভয়ংকর হলো উইকএন্ডে বা অফিস সময়ের বাইরে মোবাইলে বসের ফোন, নতুন কাজ ধরিয়ে দেওয়া।

মেজাজটা তখন গরম হয় মোবাইলটার উপরে।

৩.
"নিজের মতো থাকতে চাই টাইপ গোবেচারী মানুষদের" বিপদে ফলার পিছনে মোবাইলের এত ভূমিকা থাকা সত্বে এ মাল ফেলে দেওয়া সম্ভব না। দুপুরে, রাতে ঠিকঠাক খেয়ে নিয়েছি কি না সেটা জানতে বাবা এসএমএস করবে। দ্রুত এসএমএস রিপ্লাই না করলে টেনশন শুরু! তিন চারদিন পরেপরে প্রিয় সন্তানের কন্ঠ শুনে আস্বস্ত হতে ফোন করবে মা। মুঠোফোনে গলা শুনে দূরদেশে বসে তারা স্বস্তিপান ছেলে ভালো আছে। আর যদি এর উপরে থাকে একখান প্রেমিকা, পুরা সাড়ে বাইশ। প্রাইভেসীর এসপার ওসপার। সময় অসময়ে ফোন এসএমএসে জীবন কেরোসিন।

তারপরেও সব ছাপিয়ে দ্রুত যোগাযোগ আর নিজেকে এ্যাভেইলেবেল করতেও মোবাইলটার ভূমিকটা অস্বীকারই বা করি কিভাবে। তাই ফেলে দিতে গিয়েও দিতে পারি না এমওয়ান এর এই মোবাইল কানেকশনটা। প্রতি মাসে ফিক্স লাইন চার্জ ছাড়িয়ে কতগুলা টাকা যে দিলাম, বাংলাদেশী টাকায় হিসাবে গেলে মেজাজটাই খিচরে যাবে, তাই সেই গণিত ভূলেও কষি না।

৪.
গুগল ইন্টারনেটের মেগাগুরু, সেই থেকে শুরু ... এখন হার্ডডিস্কের ভিতরেও পৌছে যাচ্ছে এই গুগুল। গুগলডেস্কটপ এরকম একটা ফিচার যা কম্পিউটারের আনাচে কানাচে সার্চ করছে, সেভ করে রাখছে। ইন্টারেনেটে সারাদিন সংযুক্ত থাকা একটা মেশিন তখন স্বভাবতই প্রাইভেসী সংকটে পড়ে।

সম্প্রতি ওয়েব হিস্টোরি ফিচার দিয়ে গুগল আরেকধাপ মাতব্বরি চালাবে আমাদের ওয়েব এ্যাক্টিভিটি মনিটর সম্পর্কে। অনেক ওয়েবসাইটে বসানো কুকিজ, স্পাইওয়ার তো ঝাকে ঝাকে।

তবে যা বুঝি যে এই প্রাইভেসী হরন সম্পর্কে বেশি চিন্তা বা দূশ্চিন্তা করে লাভ নাই। প্রযুক্তির সর্বগ্রাসীতায় প্রাইভেসীর স্যাক্রিফাইস - হইতেই থাকবো, হইতেই থাকবো। প্রযুক্তির সুবিধার নামে মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে এই প্রাইভেসী স্যাক্রিফাইসের ট্রেন্ড আমরাই ঢালাও জড়িয়ে নিচ্ছি জীবনে।

আমরাই জেনেশুনে বিষপান করেই চলেছি এই "হতে পারে সায়েন্সফিকশনের জামানায়"।

অনুপ্রেরণা: মাহবুব মোর্শেদের ব্লগে ক্লেবেনেটের গুগল নিয়ে করা কার্টুনটা
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১:৫৫
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×