somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারীর নামাজে নেতৃত্ব দেওয়া। নারীরা এখনও সোস্যাল ট্যাবু

১৪ ই জুলাই, ২০০৭ সকাল ১১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"ডাইনামিক ইসলামকে" টেন হিচড়ে স্ট্যাটিক একটা "আরব সোশ্যাল কালচারাল আচার আচরনের" বস্তুতে পরিণত করা মোটামুটি বহুত বছরের ট্রেন্ড। যেখানে নবী মুহাম্মদ বারবার চেষ্টা করেছেন আরব সমাজের সংকীর্ণ চিন্তাভাবনার উততীরণ, সেইখানে বারবার আবার ইসলামকে সেই অশিক্ষিত, বর্বর আরবের মাইন্ডসেটের পারস্পেক্টিভে ইন্টারপ্রেট করা হয়েছে।

নবী বিদায় হজ্জের ভাষনে আবার মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, অনারবের উপরে আরবের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই। খোদার সৃষ্টিতে সবাই সমান। কোন হাবসী, কালো কালো চামড়ার দাসের বংশধরও যদি যোগ্যহয়, তবে তাকে খলিফা মেনে নিতে হবে। তারপরেও ১৪০০ বছর পার হওয়ার পরেও আরবদের মাইন্ডসেট খুব একটা পরিবর্তন হয় নাই। তারা এখনও অনারব মুসলমানদের মুসলমান মনে করতে কুন্ঠা বোধ করে। ঠিক একই ধরনের মাইন্ডসেট নিয়া ধর্মরে ইন্টারপ্রেট করলে কি হয় সেইটার উদাহরন তো লক্ষ কোটি।

মাজহাব বা স্কুল অফ থটগুলো সময়ের সাথে সাথে মানুষের তৈরী। কারা ঐ মানুষগুলা ছিলো। তারা মূলত আরবদের সমাজের আচার আচরন, যেখান নারীর মূলত কোন ধরনের অধিকার নেই, সেইরকম আচার আচরন মাথায় নিয়েই বড় হয়েছে। ফলে হাজার বছর আগে ইসলামের ইন্টারপ্রেটেশন, তার রুলিং তৈরীতে সেগুলোই প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছে।

তাই এখনও জোব্বায় বন্দী নারী যাদের চোখটাও মশারীর কাপড় দিয়ে ঢাকা এবং তারা সেটাকেই ইসলামের আইন বলে চালাতে চায়।

একটা কুতসিত সময় গেছে ইসলামের প্রাথমিক যুগে যখন ধর্মকে ব্যবহার করে কুতসিত সব শাসকেরা শোষণ করেছে। আর সেই শোষণ খুব সুবিধার হয় যদি তাদের যাবতীয় শোষণের সামনে ও পেছণে ধর্মের মোল্লাদের মাধ্যমে 'ইয়েস' বলিয়ে নেওয়া যায়। সেটা ঘটেছে এবং ইসলাম বদলেছে সময়ে সময়ে। জন্ম নিয়েছে রাজনীতি।

সেই রাজনীতির স্বীকার কেবল ধর্মের মূল জায়গাগুলো না, স্বীকার হয়েছে ধর্ম পালনকারীর আচার আচরনেও। যেখানে ইসলামে নারীর লিবারেশন হওয়ার কথা, সেই খানে আরব মোচলমানদের কালচারাল প্রভাবে মুসলিম নারী মানেই অপ্রেসড, অধিকারহীন, জোব্বার নিচের একতাল মাংশপিন্ড যার মুখটাকেও ঢেকে রাখার নিয়মটাও ধর্মের মাধ্যমে বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। আফসোস।

হাদীস নিয়েও এই শোষণ রাজনীতি কম হয় নি। ঐ শোষক শাসকদের গদী টিকানো এবং ইচ্ছেমতো নিজেদের বক্তব্য ধর্মের মাধ্যমে হালাল করতে ব্যবহার করা হয়েছে হাদীসকে। নিজেদের সামাজিক আচরনকে, যতটাই খারাপ লাগুক তাকে হালাল করতেও ব্যবহার করা হয়েছে হাদীস।

নারীর প্রতি বৈষম্যের হাদীসের মাধ্যমে হালালী করনের একটা অতি কটু উদাহরন দেখতে বেশিদুর যেতে হয় না। সো কলড সহীহ (!!!) হাদীসে গেলেই চলবে যেখানে নারীকে তুলনা করা হয়েছে কুকুর আর গাধার কাতারে এবং সেটাকে নবীর মুখের বানী হিসেবে বসানো হয়েছে।

Hadiths insult women.
Sahih Bukhary 8/102 and Hanbel 4/86

"If a monkey, a black dog or a woman passes infront of a praying person, his prayer is nullified."

This hadith that was narrated by Abu Hurayra was strongly denied by Aysha, the Prophet's wife and accused Abu Hurayra of not telling the truth. Despite that this hadiths is still found in the middle of the so called authentic (Sahih) hadiths.

নবী স্ত্রী আয়েশা কেন এই হাদীসের বিরোধীতা করেছেন? কারন নবী নিজেই তার ছোট্ট কুটিরে যখন নামাজ পড়তেন, অনেক সময়েই আয়েশা তার জায়নামাজের সামনে বিশ্রাম নিতেন। কখনো আয়েশা ঘুমিয়ে আছেন, নবী একদিকে কোনভাবে জায়গা করে নামাজ পড়ে নিতেন। নবী বিলাশ বৈভবে বাস করতেন না। এ কারনে নবী স্ত্রী ভালো করেই জানতেন এভাবে নামাজ নষ্ট হয় না এবং নবী কখনোই একথা বলতে পারেন না।

আফসোস আসলেই। এই হইলো মাইন্ডসেট আমাদের এবং সেইটার উততোরনের কথা বলতে গেলেই, "হ! ব্যাটা তুই বেশি জানস!!" টাইপ গান শুরু হয়ে যায়।

বলাই বাহুল্য, বেশিরভাগ মাজহাব বা স্কুল অফ থট মানুষের তৈরী ইন্টারপ্রেটেশন এইটা বুঝতে আল আজহারের ডিগ্রী লাগে না। সুতরাং যেইখানে মাজহাবের সমালোচনা করা হয়, তার পরিবর্তনের দিকে আহবান করা হয়, সেইটা মূলত ইসলামের ডাইনামিজমকেই এ্যাপ্রিসিয়েশন করার জন্যই করা হয়। ১৪০০ বছর আগের আরব কালচারের বায়াসনেস থেকে বের হওয়ার জন্যই করা হয়। কিন্তু সমস্যা হলো, সেই বায়াসনেস থেকে বের হইতে রেজিস্ট্যান্স প্রচুর এবং তাদের মাধ্যমেই যারা নিজেদের ধর্মের হেফাজতকারী মনে করে।

সৌদিতে আছে এরকম একদল হেফাজতকারী যারা মক্কার চাবি পারিবারিকভাবে রক্ষনাবেক্ষন করে নিজেদের অতি উচ্চ বংশ মনে করে সেই সৌদি রাজবংশ এবং তাদের তাবেদার মোল্লা গ্রুপ, ওয়াহাবীরা। সমস্যা হইলো পয়সার জোরে ইসলামের হার্ড-ইন্টারপ্রেটেশনের ব্রেইনওয়াশা এই ওয়াহাবীদের স্পন্সরেই হয়।

যেখানে নবীর সময়ে তিনি নারী পুরুষ সবাইকে মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য আহবান করেছেন, মসজিদে নারীর প্রবেশাধিকার ছিলো পুরুষের সমান; সেইখানে আমাদের ওয়াহাবী ভাইজানদের স্পন্সর করা মসজিদে নারীরা আসেন না। কারন তাদের জায়গা ড্রইংরুমে জি টিভির সামনে। পাছে বৌরা বেগানা হয়ে যায়! নারীরা এখনও সোস্যাল ট্যাবু। আরবের অন্ধকার সময়েও যা ছিলো তা থেকে খুব একটা উন্নত হয় নাই সেই সেন্স, বিশেষ করে ধর্মের ক্ষেত্রে।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০০৭ সকাল ১১:৫১
২৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×