somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ওয়েলকাম টু ইউসিএলএ। পশ্চিম উপকূলের ডায়েরী

০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৪:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.
ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার বা সংক্ষেপে ইউসি'র অনেকগুলো শাখার মধ্যে সবচাইতে ডাকসাইটে ধরা হয় ইউসি বার্কলে। তারপরে ধরা যায় ইউসি লস এ্যাঞ্জেলেস, কখনো ডেভিস। এ ছাড়াও ইউসির অন্যান্য ইউনভার্সিটিগুলো সারা ক্যালিফোর্নিয়া জুড়ে আছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আরভাইন, সান ডিয়াগো, রিভারসাইড, সান ফ্রান্সিসকো ইত্যাদি। মর্যাদার দিক থেকে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া লস এ্যাঞ্জেলেসকে আমেরিকার তো বটেই, পৃথিবীর অন্যতম সেরা স্কুল ধরা হয়।

বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে ইউসিএলএর অবস্থান এক থেকে পাঁচের ভিতরে যার পেছনে মূলত ক্রেডিট দেওয়া যায় এখানকার খুব নামী মেডিকেল রিসার্চ ইন্সটিটিউটগুলোকে। এইসিএলএর হসপিটাল পশ্চিম উপকূলের রেংকিং-এ এক নম্বর। বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং কারিকুলামে মেডিকেল রিসার্চ ইন্সটিটিউটের যোগসাজস খুব বেশ বলে ইউনিভার্সিটির হাসপাতালের একটা বড় ভূমিকা থাকে। হাসপাতালের পাশাপাশি এখানে ব্রেইন ম্যাপিং ইন্সটিটিউট, জিন ম্যাপিং ইত্যাদি অনেকগুলো হাইটেক সুযোগসুবিধা আছে।

২.
গত দুই সপ্তাহ গেলো ওরেয়েন্টেশনের পর ওরিয়েন্টেশনে। ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট হিসাবে এক গাদা ওরিয়েন্টেশন, তারপরে গ্রাজুয়েট স্কুলের, তারপরে নিজ ডিপার্টমেন্টে। ইউসিএলএ এতটাই বিশাল ইউনিভার্সিটি যে এটাকে অনেকেই আলাদা শহর বলে থাকে। ইউনির্ভার্সিটির ক্যাম্পাসটা বিশাল, অনেকটা জায়গা নিয়ে। বিশালত্বের ধারনা পাওয়া যাবে যদি বলি ইউনির্ভার্সিটির ভেতরে নিজস্ব পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (বিখ্যাত এলএপিডি) থেকে শুরু করে পাওয়ার প্ল্যান্ট - কি নাই!

ইউনির্ভার্সিটির বিশাল ভলিউমের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য তাই হাজার রকম সার্ভিস আর সেগুলো সম্পর্কে অল্প বলতে গেলেও পুরো দুই সপ্তাহ লাগলো ওরিয়েন্টেশনে।

৩.
ইউসিএলএ তে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম আমেরিকার ও বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রোগ্রাম। অসম্ভব কম্পিটেটিভ এবং এখানে খুব বেশি ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টরা চান্স পায় না। আমেরিকার নিজস্ব মেধাবীরাই ভিড় জমায় ইউসিএলএতে। সেই হিসাবে বাংলাদেশী হিসেবে সরাসরি ফেলোশিপে পিইএচডি প্রোগ্রামের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে বসে নিজেকে অদ্ভুত লাগছিলো। অদ্ভুত কারন প্রথমত আমি বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে এখানে আসি নি, অথচ আসেপাশের সব গ্রাজুয়েট স্টুডেন্টরা প্রায় সবাই বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মেজর করা। আমি আমার সাথে বয়ে বেড়াই গরীব একটা দেশের গরীব একটা ইউনিভার্সিটির ডিগ্রী এবং সেটাও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের। বায়োর ধারে কাছেও নয়। অন্যদিকে আমার আশেপাশে যারা বসে আছে তারা কেবল বায়োইঞ্জিনিয়ারিংই না, কেউ জন হপকিন্স থেকে, কেউ এমআইটি, কেউ স্বয়ং ইউসিএলএ বা ইউসি বার্কলী থেকে এসেছে। অদ্ভুত কোন এক যোগসাজশে এইরকম একটা প্রোগ্রামে ফেলোশিপ (যেখানে অনেকে এখনো ফান্ডিং পায় নি) নিয়ে বসে ইউনিভার্সিটি ডিনের ভাষণ শুনতে পুরো বিস্ময়করই লাগছিলো। উপরওয়ালা নিতান্তই রহস্যময়!

৪.
কোথা থেকে এসেছো, উততের বাংলাদেশ বললে অনেকেরই কিছু সময় লাগে নামটা বুঝতে! কয়েকজনতো কনফিডেন্সের সাথে বলেই বসে, ও বাংলাদেশ তো ভারতে তাই না?! এক মদন সবচেয়ে হাসির রিয়্যাকশন দিয়েছিলো, বলে বাংলাদেশতো ভারতের রাজধানী, তাই না?!

আমার বুঝায়ে বলতে হয়, না এইটা ভারতে না। ভারতের পাশের একটা দেশ। আশ্চর্য্য এই আমেরিকানরা! নিজের দেশের বাইরে দুনিয়া সম্পর্কে পুরা বেখবর!

৫.
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে গিয়ে সবচেয়ে ভালো লেগেছে ইউসিএলএর আর্কিটেকচার। অনেকগুলো মূল ভবনের ডিজাইন সেই ৬০এর দশকের ডিজাইনে। দেখতে খুব রাজকীয়। খুব ক্লাসিক ডিজাইনের। বিশেষ করে পাওয়েল লাইব্রেরীটার ভবনটা অসাধারন। দেখলে মনে হবে যেন ১০০ বছর পেছনে চলে এসেছি।


...
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা অক্টোবর, ২০০৭ ভোর ৪:১৭
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×