somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গার্মেন্টস এর মেয়েরা দুপুরে কী খায় ?

২১ শে মে, ২০১৩ রাত ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটা কি কোন প্রশ্ন হল ?

হা, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। যে মেয়েরা দিন রাত পরিশ্রম করে দেশের অর্থনীতি সচল রাখে যাদের উছিলায় ব্যাঙ্ক, বীমা, শিপিং লাইন্স, ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি চলে তারা দুপুর কী খায় তা আপনাদের জানার অধিকার রয়েছে।

লাঞ্চ আওয়ারে আমি অনেক সময় ফ্লোরে ঘোরাঘোরি করি। মাঝে মাঝে খেয়াল করি কে কি খায়। সুইং অপারেটর যারা সেলাই করে তাদের মাসিক বেতন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। তারা নিয়মিত ভাতের সাথে একটা ভাজি খায় কখনো কখনো ভাজির বদলে ভর্তা খায়। তারমানে তারা একই সাথে ভর্তা ভাজি খেতে পারে না। আপনারা হয়ত ভাবছেন ভর্তার সাথে ডাল অথবা ভাজির সাথে ডাল হলে তো খাওয়াটা খারাপ হয় না। কিন্তু আপনারা জেনে অবাক হবেন যে তাদের বেশিরভাগ ডাল খায় না মানে ডাল কেনার সামর্থ্য নেই। তারমানে ওদের খাবার শুধুমাত্র ভর্তা+ভাত আর ডালের পরিবর্তে অনেকে লবন পানি মেশায় যাতে খাওয়াটা গলা দিয়ে নামে। শুকনো খাবার সহজে গলা দিয়ে নামে না।
যেসব অবিবাহিত মেয়েদের বেতন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা তারা টাকা পেয়ে প্রথমে বাড়ি ভাড়া দেয়, আশুলিয়া অঞ্চলে সিট ভাড়া ১০০০ টাকার নিচে নেই। ছেলেরা যেকোন স্থানে থাকতে পারে কিন্তু মেয়েরা একটু নিরাপদে থাকতে চায়। এজন্যই ওদের একটু বেশি ভাড়ায় থাকতে হয়। যে আইটেমের খাবারের কথা বলেছি এই আইটেম আপনি যদি নিজে রান্না করেন তাহলেও কম হলেও বিশ থেকে পঁচিশ টাকা খরচ হবে। তাহলে ঘুরে ফিরে মাসে দুই হাজার টাকা খাওয়ার পেছনে চলে যাবে। এইসব মেয়ের প্রত্যেকের টার্গেট থাকে মাসে কপক্ষে দুই হাজার টাকা বাড়িতে পাঠাবে, তা না হলে বাড়ির লোকজন কষ্টে থাকবে।
এক মেয়েকে লাঞ্চে কখনো খেতে দেখতাম না অথচ সে লাঞ্চের সময় ফ্যাক্টরিতেই থাকে। যারা লাঞ্চের সময় ফ্যাক্টরিতে থাকে তারা সাধারণত খাবার নিয়ে আসে। বাকিরা বাসায় গিয়ে ভাত খায়। ঐ মেয়েকে জিজ্ঞেস করলাম এ ব্যপারে।
সে উত্তরে জানাল দুপুর হলে সে পাঁচ টাকার বাদাম খায়। বাদাম খেলে নাকি খিদা লাগে না। সন্ধ্যা সাতটায় ছুটি হলে বাসায় গিয়ে রাতের খাবার খায়। সকালে বাসা থেকে বেশি করে খেয়ে আসে যাতে দুপুরে সহজে খিদা না লাগে।
একজন মানুষ সকাল সাত টায় যতই পেট ভরে খাক কাজ করতে করতে দুপুর একটায় তার ভাল খিদা লাগবে। মেয়েটার কথায় যুক্তি নেই। অবশ্য যুক্তি থাকলেও কিছু করার নেই, কারণ তার বাড়িতে বাবা অসুস্থ, ইনকাম করতে পারে না। এই মেয়েকে বাড়িতে প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা পাঠাতে হয়। এই টাকা পাঠাতে হলে তাকে একবেলা না খেয়ে কাটাতে হয়।
সন্ধ্যা সাতটার পর ডিউটি করলে যেকোন ফ্যাক্টরি টিফিন দেয়। সেই টিফিন হল সাধারন এক পিস বন রুটি, একটা কলা আর একটা সেদ্ধ ডিম। ফ্যাক্টরি টু ফ্যাক্টরি ভেদে এই টিফিন ভিন্ন হয়। এই টিফিন খেয়ে তাদের ৯টা পর্যন্ত ডিউটি করতে হয়। অনেকে আছে এই টিফিন খেয়ে রাতে আর ভাত খায় না শুধু টাকা বাঁচানোর জন্য। আবার অনেকে এই টিফিন বাসায় নিয়ে যায়। টিফিনের সময় পেট ভরে পানি খায়। বাসায় গিয়ে রাতে ভাতের বদলে এই টিফিন খায়। কিছু মেয়ে দেখেছি যারা সকালে বাসায় কিছু খায় না ফ্যাক্টরিতে ভাত নিয়ে আসে। এই ভাত তারা এগারটার দিকে দশ মিনিট ছুটি নিয়ে খায়। তাতে সকালের খাবার হল আর দুপুরের খাবারও হল।

এটা হল বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের একটা অংশের খাদ্য তালিকা। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে অন্যান্যদের খাদ্য তালিকার একটা বর্ণনা দিব।

সংগৃহীত ।

*** ইচ্ছা করে ছবি দিলাম না । পড়ে খারাপ লাগলো, ছবি দিলে মন আরও খারাপ হতো । আল্লাহ পাক এদের মংগল করুন ।

সবাইকে ধন্যবাদ ।
২৭টি মন্তব্য ২৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×