somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঈদের বাজার ভারতীয় পোশাকের দখলে : স্বদেশি পণ্য স্লোগানেই রয়ে গেল!

২২ শে আগস্ট, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এবারও ঈদের বাজার দখল করে নিয়েছে ভারতীয় পোশাক
সাধারণ মার্কেটগুলোতে তো বটেই, রাজধানীর বড় বড় শপিংমল, ওয়ানস্টপ মল ও অভিজাত এলাকার বুটিক শপগুলোতেও দেশি কাপড় নেই বললেই চলে। সবই ভারতীয়। শাড়ি ও থ্রিপিসসহ অল্প কিছু পোশাক এসেছে পাকিস্তান থেকে। গত বছর পর্যন্ত বাংলাদেশি কাপড় ও পোশাকের অবস্থা কিন্তু এতটা শোচনীয় ছিল না। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছরের ঈদে অর্ধেক দেশি এবং অর্ধেক বিদেশি—এই অনুপাতে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু এবারের ঈদ উপলক্ষে ২৫ শতাংশ বেশি কাপড় আমদানি করা হয়েছে। ভারতীয় কাপড়ের বিক্রিও এরই মধ্যে গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। ফলে ধরে নেয়া হয়েছে, বাংলাদেশের পোশাক শুধু মারই খাবে না, একেবারে আছাড় খেয়ে পড়ে যাবে।
অনেক কারণের কথাই বলেছেন ব্যবসায়ীরা। ভারতের নায়িকা ও অভিনেত্রীদের অনুকরণের জন্য তরুণীদের উথালপাথাল হয়ে ওঠা একটি বড় কারণ। আগে বোম্বের তথা আজকের মুম্বাইয়ের নায়িকারা এদেশের তরুণীদের মাতিয়ে রাখতেন। ক’বছর ধরে ভারতের বিভিন্ন টিভি সিরিয়ালের নায়িকা ও অভিনেত্রীরাও মুম্বাইয়ের নায়িকাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। এমনকি ভিলেন চরিত্রের কোনো কোনো অভিনেত্রীর মতো পোশাক পরার জন্যও আমাদের মেয়েরা বিপণিবিতানগুলো তছনছ করে বেড়ায়। রুচির উন্নতি হচ্ছে বটে! ফ্যাশনে তো আমাদের মেয়েরা ভারতীয়দের পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে। যুবা-তরুণদের সম্পর্কেও একই কথা অনেকাংশে সত্য। তবে জাতির ভাগ্য ভালো যে, বিশেষ করে পাঞ্জাবিতে বাংলাদেশের কারিগররা এখনও মার খাননি। প্রতি বছরই তারা নতুন নতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবি নিয়ে আসছেন। বাহারি ফতুয়া ও টি-শার্ট নামাচ্ছেন তারা। ফলে ভারত এখনও ছেলেদের পোশাকের বাজার দখল করতে পারেনি।
প্রতিটি আমলে বরং মুক্তবাজার ও বিশ্বায়নের দোহাই দিয়ে দেশি পণ্যের বিকাশ ঠেকানো হয়েছে। অথচ ভারত নিজেও কিন্তু আগে দেশি পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। দেশি পণ্য বিক্রি হওয়ার পর যদি বিশেষ কারণে কোনো পণ্য আমদানির প্রয়োজন দেখা দেয় কেবল তখনই ভারত অন্য দেশ থেকে সীমিত পরিমাণে এবং সাময়িকভাবে ওই বিশেষ পণ্যটি আমদানি করতে দেয়। এর প্রক্রিয়াও সরকার এত জটিল, কঠিন ও সময়সাপেক্ষ করে রেখেছে যে নিতান্ত দায়ে না পড়লে ভারতের কোনো ব্যবসায়ী সহজে কোনো পণ্য আমদানির কথা চিন্তা পর্যন্ত করেন না। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। পণ্যের বাজার শুধু নয়, ভারতের জন্য সীমান্তও উন্মুক্ত রেখেছে বাংলাদেশ।
শুধু তা-ই নয়, শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য সহায়তা না পাওয়া গেলেও ভারতীয় পণ্য আমদানির জন্য অনেক কম সুদেও ঋণ পাওয়া যায় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে! অথচ অর্থনীতি সম্পর্কে সামান্য ধারণা যাদের আছে তারাই একবাক্যে বলবেন, শিল্পের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আত্মঘাতী নীতি অনুসরণ করে চলেছে। আর এভাবে ভারতের প্রভাব বাড়তে থাকলে বছর কয়েকের মধ্যেই দেশ থেকে দেশি সব পণ্য হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। প্রতিটি জিনিসের জন্যই মানুষকে ভারতের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে হবে। ভারতীয়রা তখন কিন্তু আর এখনকার মতো কম দামে জিনিস দেবে না। যেহেতু উপায় নেই, সেহেতু ভারতীয়দের ইচ্ছামত দাম গুনতে হবে।
বিশ্লেষণের এই দৃষ্টিকোণ থেকেই ঈদের বাজারে ভারতীয় পোশাকের বিক্রি ও পরিমাণ বেড়ে যাওয়াটাকে আমরা মোটেই ভালো ভাবতে পারি না। সরকারের উচিত জাতীয় শিল্পের বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরি করা এবং ব্যবসায়ীদের সর্বান্তঃকরণে সহায়তা দেয়া। ভারতীয় বা বিদেশি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশি পণ্য যাতে টিকে থাকতে পারে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের কর্তব্য। সরকারকে আমদানির ব্যাপারে কঠোর হতে হবে, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে চোরাচালানের বিরুদ্ধেও। সব মিলিয়ে এমন এক ভবিষ্যতের কথা আমরা চিন্তা করতে চাই যখন স্বদেশি পণ্য শুধু স্লোগানের বিষয় হয়ে থাকবে না; সব বয়সের মানুষই তখন দেশি পণ্যকে যথেষ্ট মনে করবে, যেমনটি ভারতীয় পণ্যকে মনে করে ভারতীয়রা।

৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×