১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছিল, তারা কি দেশমাতৃকার মুক্তি, দেশপ্রেমের টানে যুদ্ধ করেছিল নাকি ভবিষ্যতে সুবিধা লাভের আশায় যুদ্ধ করেছিল। এ্ই প্রশ্ন আমার মনে প্রতিনিয়ত ঘুরপাক খায়।
কেননা দেশপ্রেমের টানে, মাতৃভূমি রক্ষার্থে সেদিন যারা যুদ্ধে গিয়েছিল, জীবন উৎসর্গ করেছিল তা ছিল স্বাধীনতার জন্যে। ভবিষ্যতে সরকারী চাকরিতে কোটার সুবিধা (রাষ্ট্রীয় করুণা) নিয়ে তাদের সন্তানদের চাকরি হবার জন্যে নয়।
আর কেউ যদি সন্তানদের কোটার আশায় যুদ্ধ করে থাকেন তবে সে যুদ্ধ তার দেশপ্রেম থেকে নয়।
বর্তমান সরকার আবার মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান না পেলে নাতিপুতিদের কোটার ব্যবস্থা করেছে। জাতির সাথে চরমতম এক তামাশা আর কি?
কোটা প্রণেতা আর এর সুবিধা ভোগকারী সুবিধাবাদীদের উদ্দ্যেশে প্রশ্ন আমার মত অনেকের বাবা-মা যাদের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বয়স ছিল ৮-১০ বছর , কিংবা তখন বাংলাদেশের যে সব এলাকায় যুদ্ধ হয়নি বললেই চলে সে সব এলাকার লোকজনের সন্তানেরা কি করবে?
অথবা আমাদের যাদের মুক্তিযু্েদ্ধর অনেক পরে জন্ম তাদের িক অপরাধ?
কোটার কারণে দেশ দিনে দিনে মেধাহীন প্রশাসন পাচ্ছে আর জাতি হিসেবে আমরা হয়ে পড়ছি দূর্বল। এর দায় নেবে কে?
কোটার কারণে ক্লাশের দ্বিতীয় সারির ছাত্র হচ্ছে বড় কর্মকর্তা। আর তার ই শ্রেনীর মেধাবীরা থাকছে বেকার অথবা কর্মচারী।
এর দায় নেবে কে?
আর আমাদের অামজনতার কি হবে যাদের নেই মুক্তিযোদ্ধা বা আদিবাসী কোটা, নেই মামা-খালু, নেই রাজনৈতিক প্রভাব , নেই বাবার অবৈধ কিংবা অঢেল টাকা, নেই আওয়ামী মার্কা স্বাধীনতার পক্ষের সিল মারা।
মাঝে মাঝে ভাবতে কষ্ট হয় এই দেশকে নিয়ে তবুও অামরা স্বপ্ন দেখি!!!
দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য শতকরা ৪৫ ভাগ, ১ লাখ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের জন্য ৩০ ভাগ, মহিলাদের জন্য ১০ ভাগ, জেলা কোটায় ১০ ভাগ এবং উপজাতির জন্য ৫ ভাগ—সরকারি চাকরির এই কোটার ফেরে পড়ে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন দেশের মেধাবীরা। তারা ঝরে পড়ছে চাকরির প্রতিটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়। আর কোটা বৈষম্যের কারণে মেধার দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে দেশ।
প্রতি বছর বিসিএসে সাধারণত ৭ হাজার প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষা পর্যন্ত যেতে পারে। এই হিসাবে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী থাকার কথা ২ হাজার ১০০ জন । কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় মৌখিক পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের মধ্য থেকে যেতে পারে মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ জন । অথচ মেধা কোটায় ৭ হাজারের মধ্যে ৬ হাজার গেলেও জেনারেল ক্যাডারে চাকরি হয় মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ জনের। এমন প্রমাণ মিলেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ২৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে। ২৯তম বিসিএসে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এদের মধ্যে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় ৭ হাজার ২১৭ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়। ১৭ আগস্ট থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষায় ৬ হাজার ৫২৩ জন প্রার্থী অংশ নেয়। অনুপস্থিত ছিল ৬৯৪ জন। এদের মধ্যে ৫ হাজার ৬২ জন চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হলেও ক্যাডার পদে নিয়োগ পাচ্ছে মাত্র ১ হাজার ৭২২ জন। পিএসসি সূত্র জানিয়েছে, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও শূন্য পদের সংখ্যা কম থাকায় সবাইকে বিসিএস ক্যাডার পদে সুপারিশ সম্ভব হয়নি। অথচ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় লোক না পাওয়ায় ৫৩৮টি পদ খালি থাকছে। এছাড়া উপজাতি ১১১ ও মহিলা কোটায় ৮১টি পদ পূরণ করা যাচ্ছে না। মোট অপূরণকৃত পদের সংখ্যা ৭৯২টি। ২৮তম বিসিএসেও ঘটেছে একই ঘটনা। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নির্ধারিত কোটার পূরণ হয়েছে শতকরা ১৯ ভাগ। বাকি ১১ ভাগ এখনও পূরণ হয়নি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

