somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাধীনতার ইতিহাস..................... বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর নেতাদের স্বীকৃতি দিতে আওয়ামীলীগের কার্পণ্য কেন?

১৬ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আওয়ামী লীগ সরকার দাপটের সঙ্গেই জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ‘সঠিক’ ইতিহাস শিখিয়ে চলেছে।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, সরকারের এই ‘সঠিক’ ইতিহাসের সবটুকু কৃতিত্ব চলে গেছে একজন মাত্র নেতার দখলে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর পিতা মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান। সরকার চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে শেখ মুজিব ছাড়া অন্য কোনো নেতারই ইতিহাসে কোনো স্থান বা স্বীকৃতি না জোটে, যাতে দল হিসেবেও শুধু আওয়ামী লীগের অবদানই প্রতিষ্ঠিত হয়।

একটি উদাহরণ হিসেবে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা দরকার। পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ, নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে স্বায়ত্তশাসনের পর্যায়ক্রমিক যে আন্দোলন ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে রূপান্তরিত হয়েছিল, মওলানা ভাসানী ছিলেন তার প্রধান নির্মাতা। স্বায়ত্তশাসনের প্রাথমিক আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে তাঁর ছিল বলিষ্ঠ ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে ১৯৫৫ সালের ১৭ জুন এবং ১৯৫৬ সালের ৭ ও ১৫ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত তিনটি জনসভায় তিনি ঘোষণা করেছিলেন, স্বায়ত্তশাসন না দেয়া হলে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতার কথা চিন্তা করবে। ১৯৫৭ সালের ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত কাগমারী সম্মেলনে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ তথা বিদায় জানিয়েছিলেন।
ওই দিনগুলোতে স্বাধীনতার কথা বলা ছিল রাষ্ট্রদ্রোহিতার গুরুতর অপরাধ। তাছাড়া মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগই তখন পাকিস্তানের কেন্দ্রে ও প্রদেশে ক্ষমতাসীন ছিল। প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এদিকে মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খানের প্রাদেশিক মন্ত্রিসভায় ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানসহ উল্লেখযোগ্য নেতারা। তাদের প্রত্যেকেই সে সময় পশ্চিম পাকিস্তানকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানানোয় মওলানা ভাসানীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরিণতিতে মওলানা ভাসানীকে তাঁর নিজের হাতে গড়া আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছিল, তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে নতুন একটি দল গঠন করেছিলেন (জুলাই, ১৯৫৭)।
সে অবস্থায়ও মওলানা ভাসানী তাঁর স্বাধীনতামুখী স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছেন। স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার ডাকও তিনিই প্রথম দিয়েছিলেন (৩০ নভেম্বর, ১৯৭০)। প্রচারপত্রের মাধ্যমে আহ্বান জানানোর পর পর ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর পল্টন ময়দানের জনসভায় মওলানা ভাসানী পশ্চিম পাকিস্তানের উদ্দেশে পবিত্র কোরআনের সূরা ‘কাফেরুন’ থেকে আয়াত উদ্ধৃত করে বলেছিলেন, ‘লাকুম দীনুকুম ওয়া লিয়া দীন’ (তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্ম আর আমাদের জন্য আমাদের ধর্ম)। এটা ছিল প্রকারান্তরে স্বাধীনতার ঘোষণা। এর ভিত্তিতেই মওলানা ভাসানীর ন্যাপ ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ ও পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন বর্জন করেছিল। প্রমাণিত হয়েছে, ন্যাপ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বলেই আওয়ামী লীগের পক্ষে নিরংকুশ বিজয় অর্জন করা এবং শেখ মুজিবের পক্ষে প্রধান নেতায় পরিণত হওয়া সম্ভব হয়েছিল।
১৯৭১ সালের ৪ মার্চ এক বিবৃতিতে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার ডাক দিয়েছিলেন। ৯ মার্চ পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের প্রতি ২৫ মার্চের মধ্যে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৭ মার্চ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানের জনসভায় শেখ মুজিবের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মওলানা ভাসানী বলেছিলেন, ইয়াহিয়ার সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক করার পরিবর্তে তার উচিত বাংলার সংগ্রামী নেতার ভূমিকা পালন করা। সর্বশেষ এক বিবৃতিতে মওলানা ভাসানী ২৩ মার্চকে ‘লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ গণহত্যার অভিযান শুরু হয়েছিল, ৩ এপ্রিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সন্তোষে মওলানা ভাসানীর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিল। তিনি আসামের ফুলবাড়ী হয়ে ১৫ এপ্রিল ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পাকিস্তানের রাজনীতিতে ভারতবিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিতি থাকায় ইন্দিরা গান্ধীর কংগ্রেস সরকার তাঁকে অঘোষিতভাবে নজরবন্দি অবস্থায় রেখেছিল। কিন্তু নিজের স্বাধীনতা হারিয়েও মওলানা ভাসানী দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে একজন প্রধান দেশপ্রেমিক জাতীয় নেতার ভূমিকা পালন করেছিলেন। বিবৃতি ও প্রচারপত্রের মাধ্যমে তিনি জনগণের প্রতি স্বাধীনতা যুদ্ধ এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাষ্ট্রের সরকারের কাছে বংলাদেশকে সমর্থন করার ও স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তারবার্তা পাঠিয়েছেন। কলকাতায় গঠিত মুজিবনগর সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানানো এবং ওই সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের একটি অংশের ও তত্কালীন মস্কোপন্থী কমিউনিস্টদের ষড়যন্ত্র নস্যাত্ করে দেয়া ছিল মওলানা ভাসানীর বিশেষ এবং খুবই ফলপ্রসূ অবদান। মুজিবনগর সরকার তাঁকে উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি বানিয়েছিল এবং সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত পরিষদের একমাত্র সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেছিলেন। এভাবে পর্যালোচনায় দেখা যাবে, স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনের প্রস্তুতিপর্ব থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় অর্জন পর্যন্ত দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে মওলানা ভাসানী অগ্রবর্তী অবস্থানে থেকেছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের ‘সঠিক’ ইতিহাসে তাঁর স্থান হয়নি। মওলানা ভাসানীর প্রতি অন্য কিছু দলও সুবিচার করতে পারেনি, যার জন্য কোনো কোনো দলকে ১৯৭৫-পূর্ব ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খেতে হয়, প্রতিপক্ষের সামনে মাথানত করতে হয়।

মওলানা ভাসানীর পর দ্বিতীয় একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদের কথা উল্লেখ করতে হবে। বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ইতিহাস প্রমাণ করেছে, তাজউদ্দীন আহমদ না থাকলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এত সুসংগঠিত হতে এবং এত অল্প সময়ে বিজয় অর্জন করতে পারত না। সরকার গঠন করা থেকে শুরু করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও ভারতের সহযোগিতা নিয়ে দেশকে স্বাধীন করা পর্যন্ত সমগ্র প্রক্রিয়ায় প্রধান এবং সফল নির্ধারকের ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ নেতাদের ঐক্যবদ্ধ রাখার এবং অন্যসব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা আদায়ের ক্ষেত্রেও তাজউদ্দীন আহমদের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। মুক্তিযোদ্ধাদেরও তিনিই সফলভাবে পরিচালনা করেছিলেন।
স্বাধীনতা কারো ঘোষণা শুনে আসেনি। কারও ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করেনি। স্বাধীনতা যুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছিল অস্থায়ী ‘মুজিবনগর’ সরকার। সে সরকারও হঠাত্ করে গঠিত হয়নি। ১৯৭১ সালের মার্চের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে কম-বেশি সবারই জানা রয়েছে। ৭ মার্চের ভাষণে ‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলার পরও প্রধান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদিকে আলোচনার ফাঁকে পাকিস্তানিরা গণহত্যার জন্য সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল।
প্রধান নেতা শেখ মুজিবের দিক থেকে কোনো নির্দেশনা না থাকায় এর পরের প্রতিটি পদক্ষেপ তাজউদ্দীন আহমদ নিয়েছিলেন একক সিদ্ধান্তে। বিভিন্ন পর্যায়ে রীতিমতো ইন্টারভিউ দিয়ে তাকে ভারতীয়দের কাছে প্রমাণ করতে হয়েছিল যে, তিনিই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ। তার পরিচিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয়েছিল (৩ এপ্রিল, ১৯৭১)। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং নিজেকে প্রধানমন্ত্রী করে ১০ এপ্রিল অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেছিলেন। জাতির উদ্দেশে তার একটি ভাষণও প্রচার করেছিল ভারত সরকার। ১০ এপ্রিল গঠিত সরকারই ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলায় এসে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করেছিল। এখানে ব্যক্তির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিষয়ের। আর বিষয়টি ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম সরকার গঠন ও সরকারের শপথবাক্য পাঠ। তা সত্ত্বেও ব্যক্তির মহিমা কীর্তনের উদ্দেশে স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রাধান্যে আনা হয়েছে। এজন্যই স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠনের ঐতিহাসিক দিনটি পরিণত হয়েছে ‘মুজিবনগর দিবসে’—যেন শেখ মুজিবের নামে একটি নগর বা এলাকা প্রতিষ্ঠার জন্য সেদিন বৈদ্যনাথ তলায় গিয়েছিলেন তাজউদ্দীনসহ স্বাধীনতা সংগ্রামীরা!
স্বাধীনতার পর তাজউদ্দীন আহমদের পক্ষে জাতীয় নেতার এই অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি প্রধান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে নিজে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তাজউদ্দীন আহমদকে করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। পরবর্তীকালে তাকে ক্রমাগত কোণঠাসা করা হয়েছে। সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভূমিকা নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবও তাকে দূরে ঠেলে দিয়েছেন। একপর্যায়ে ১৯৭৪ সালের অক্টোবরে তাজউদ্দীন আহমদ দুর্ভিক্ষের জন্য প্রকাশ্যে সরকারের অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের সমালোচনা করেছিলেন। তিনি সেই সঙ্গে দুর্ভিক্ষের দায়দায়িত্ব স্বীকার করে সর্বদলীয় ভিত্তিতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এটাই তার জন্য ‘কাল’ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব তাকে পদত্যাগ করতে বলেছিলেন। এ সম্পর্কিত চিঠির সঙ্গে পদত্যাগপত্রও পাঠিয়েছিলেন শেখ মুজিব। ১৯৭৪ সালের ২৬ অক্টোবর সে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন দেশের প্রথম সফল প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, মুজিব সরকারের চরম দুর্ব্যবহার এবং মাস তিনেকের ব্যবধানে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি গঠিত বাকশালের সঙ্গে কোনো সংস্পর্শ না থাকা সত্ত্বেও ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে অন্য তিন বাকশাল নেতার সঙ্গে তাজউদ্দীন আহমদকেও কারাগারে অসহায় অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে হয়েছিল।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর তাজউদ্দীন আহমদকে ১৯৯৮ সালের ‘স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার’ দেয়া হয়েছিল। তিনি ছিলেন পুরস্কারপ্রাপ্ত আটজনের একজন। তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হলো, অন্য সাতজনের সঙ্গে ‘নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখার জন্য’ তাজউদ্দীন আহমদকেও এমনভাবে স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া হয়েছিল যেন তিনি কবি-সাহিত্যিক, গায়ক বা খেলোয়াড় ধরনের কোনো ব্যক্তি কিংবা সেনা অফিসার বা সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন! উল্লেখ্য, তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে সেবার ‘বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব’ বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শেখ কামাল, শেখ ফজলুল হক মণি ও আবদুর রব সেরনিয়াবাতকেও ‘স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার’ দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। এই চারজন যথাক্রমে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মা, ভাই, ফুফাতো ভাই এবং ফুফা।
আওয়ামী লীগ সরকারের ‘সঠিক’ ইতিহাসে স্থান না পেলেও মওলানা ভাসানীর পাশাপাশি দেশপ্রেমিক জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদেরও ছিল দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রামের ইতিহাস। মওলানা ভাসানীর মতো তিনিও রাজনীতি করেছেন দেশ ও জাতির স্বার্থে। তাকে শেখ মুজিবের চাটুকারিতা করতে দেখা যায়নি, বাকশালেও যোগ দেননি তিনি। এটাই অবশ্য তাজউদ্দীন আহমদকে ‘সঠিক’ ইতিহাসে স্থান না দেয়ার একমাত্র কারণ নয়। আসল কারণ আওয়ামী লীগের ব্যক্তিকেন্দ্রিক মনোভাব—যেখানে শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়া অন্য কারও অবদানের স্বীকৃতি দেয়ার উপাদান নেই। বলা দরকার, যারা মনে করেন, অন্য কোনো নেতাকে সম্মান দেয়া হলে শেখ মুজিবুর রহমান ‘খাটো’ হয়ে যাবেন, তাদের জানা উচিত, তাজউদ্দীন আহমদ শেখ মুজিবকে প্রাধান্যে রেখে এবং শেখ মুজিবের নেতৃত্বেই স্বাধীনতা যুদ্ধ সংগঠিত করেছিলেন। বৈদ্যনাথ তলার নাম ‘মুজিবনগর’ও তাজউদ্দীন আহমদই রেখেছিলেন।

মেজর জিয়াউর রহমান সহ আওয়ামী বিরোধী অন্য জাতীয় নেতাদের কথা নসা হয় নাই বললাম।

আওয়ামীলীগের নেতা হবার পরেও মওলান ভাসানী (শেখ মুজিব যার হাত ধরে নেতা হয়ে উঠেছিলেন) ও তাজউদ্দীন আহমদ কে আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের ইহিহাসের সত্য বিনির্মাণের নামে সঠিক স্থান দেয়নি................?
জাতির বিবেকের কাছে কি এই প্রশ্নটা একবারও উদয় হয়নি..............?

# কৃতজ্ঞতা: সম্পাদকীয়, দৈনিক আমারদেশ,১৬.০৩,২০১১।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১২:৪৪
১২টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×