ইতিহাস বিকৃতিঃ কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে এল!!
পুরো সংবাদটি
আদালত এখন সরকারের হাতের লাঠি। সে লাঠি উদারভাবে প্রহার বৃষ্টি করে সরকারের বিরোধী দলের মাথায়, শাসক দলের সমর্থকদের দিয়ে। ভারাক্রান্ত আদালত এখন সংবিধান পরিবর্তনের কাজে ব্যবহার হয়। কিন্তু সত্য ও ন্যায়নীতি বর্জিত রায়ে পরস্পর বিরোধিতা থাকবেই। আদালত পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করেছে, এক লাফে ফিরে গেছে বায়াত্তরের সংবিধানে। কিন্তু স্বৈরাচারী বাকশালী চতুর্থ সংশোধনী, রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী তৃতীয় সংশোধনী এবং জননির্যাতক দ্বিতীয় সংশোধনী যে অন্যায় ছিল সে কথা স্বীকার করার সৎসাহস আজকের শাসকদের নেই।
সপ্তম সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল । রায়ে আরো বলা হয়েছিল যে, নির্বাচিত সরকারকে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা হাতিয়ে নেয়ার জন্য এরশাদের বিচার করতে হবে। জনসাধারণ জানে যে, এরশাদের বিচার করার সৎ সাহস এ সরকারের হবে না।
আওয়ামী লীগ নেত্রী এরশাদের সামরিক অভ্যুথানকে সমর্থন দিয়েছিলেন, এরশাদের সাজানো নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন এবং ভুয়া সংসদে যোগ দিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সারা দেশ যখন স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আওয়ামী লীগ নেত্রী তখন প্রধানত সে আন্দোলনে বিভক্তি সৃষ্টিরই চেষ্টা করেছেন। অন্যথায় সে সামরিক স্বৈরতন্ত্র ৯ বছর স্খায়ী হতে পারত না। এরশাদের বিচার হলে শাক দিয়ে ঢেকে রাখা বহু মাছ আবার লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসবে।
পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট অভ্যুথান করেছিল কয়েকজন সেনাকর্মকর্তা। সেনাবাহিনীকে বঞ্চিত করে রক্ষী বাহিনীকে প্রাধান্য দেয়ায় সেনাবাহিনীর মুক্তিযোদ্ধা অংশ খুবই ক্ষুব্ধ ছিল। রিপ্যাট্রিয়ট অফিসারদের নিয়েও আরো অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন ছিল সেনাবাহিনীতে। সবচেয়ে বড় কথা, দেশব্যাপী কুশাসন, অর্থনৈতিক সঙ্কট, দুর্ভিক্ষ এবং দুর্নীতি নাগরিক হিসেবেও সেনাবাহিনীকে ক্ষুব্ধ করেছে। সবচেয়ে বড় কথা, বাকশালী পদ্ধতি জারি করে স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ অনুসারী সেনাসদস্যরা মেনে নিতে পারেননি। অভ্যুথান হয়েছিল সে জন্য। সে অভ্যুথান খন্দকার মোশতাক করেননি। সে দিন সকাল ৮টায় বিদ্রোহী অফিসাররা মোশতাককে তার বাড়ি থেকে শাহবাগের ব্রডকাস্টিং হাউজে নিয়ে আসে। কিন্তু সোয়া ১১টার আগে তিনি প্রেসিডেন্ট হতে রাজি হননি। তার আগে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ, নৌবাহিনী প্রধান , বিমান বাহিনীর প্রধান , বিডিআর প্রধান এবং পুলিশ প্রধান ও রক্ষী বাহিনীর উপপ্রধান ব্রডকাস্টিং হাউজে এসে মোশতাককে দায়িত্ব নিতে রাজি করান। তারা তার প্রতি আনুগত্যের শপথ নেয়ার পরই মোশতাক রেডিওতে ঘোষণা দেন যে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার হাতে নিয়েছেন। উপরোল্লিখিত অফিসাররা জানতেনই না কারা অভ্যুথান ঘটিয়েছিল। তখনকার সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ কখনো দাবি করেননি যে মোশতাক সে অভ্যুথান ঘটিয়েছিলেন। তা ছাড়াও মফিজ চৌধুরী ও মনোরঞ্জন ধরসহ মুজিবের মন্ত্রিসভার আটজন সদস্য মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন।
সরকারের সঙ্কীর্ণ দৃষ্টির প্রচারবিদরা এ সত্যও চাপা দিতে চাইছেন যে, মোশতাক আর জিয়ার মাঝে আরেকটি সামরিক অভ্যুথান করেছিলেন ভারতপন্থী বলে বিবেচিত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফ এবং সেদিন দিল্লিতে উল্লাস সৃষ্টি হয়েছিল, সাউথ ব্লকে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছিল। সরকারের প্রচারবিদরা আরো গোপন করার চেষ্টা করছেন যে, জেনারেল জিয়াউর রহমান কোনো অভ্যুথান করেননি। খালেদ মোশাররফ ৩ নভেম্বর তাকে গৃহবন্দী করে কড়া সামরিক পাহারায় রেখেছিলেন। খালেদ মোশাররফের হত্যার পর ৭ নভেম্বর সিপাহিরা বিদ্রোহ করে জিয়াকে মুক্ত করে এবং সেনাসদর দফতরে নিয়ে যায়। প্রকৃত সত্য এই যে, দিল্লিতে পৌনে ছয় বছর অবস্খানের পর দেশে ফিরে এসে আওয়ামী লীগ নেত্রী তার পিতার হত্যার পর যারাই সে সঙ্কটপূর্ণ সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাদের সবাইকেই (একমাত্র ভারতপন্থী খালেদ মোশাররফ ছাড়া) খুনি বলে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছিলেন, গালাগালি করেছেন।
আওয়ামী লীগের প্রচারবিদরা কিভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করেন এই হচ্ছে তার দুয়েকটি নমুনা। এবং সে বিকৃত ইতিহাসই তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শেখাতে চান। সন্দেহ নেই, যে ঘৃণা আর প্রতিহিংসা দিয়ে তারা বর্তমানের বাংলাদেশের আকাশ-বাতাস বিষাক্ত করে তুলেছেন, সে হানাহানি তারা ভবিষ্যতের জন্যও পাকাপোক্ত করে রেখে যেতে চান। কথা হচ্ছে, ভুল ইতিহাস যাদের শেখানো হচ্ছে তারা ইতিহাসের প্রকৃত মূল্যায়ন করবে কী করে? এবং ইচ্ছাকৃত কতগুলো মিথ্যার বোঝা জাতির ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে রাখার পরিণতি কোনোমতেই শুভ হতে পারে না।
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।