বারান্দায় জ্যোৎস্নার ঢল নেমেছে আজ।
যে যে আজকের চাঁদ দেখেনি, তাড়াতারি বারান্দায় থেকে ঘুরান দিয়ে আসুন, যদি ছাদ না পান।
রোজকার চাঁদটারই আজকের ঝলক যেন অন্যরকম লাগছে পুরো। বর্ষার আকাশে মেঘ থাকলেও বাতাস পরিষ্কার থাকে, তাই মেঘের আড়াল থেকে বেরোলেই যেন ঝলসে দিচ্ছে চাঁদ আজকে।
আমি বেশ অনেকক্ষণ ছিলাম বারান্দায়, লেখাটা শেষ করে হয়তো আবার খানিকক্ষণের জন্য যাবো।
বৃষ্টি আর চাঁদ আমার অন্যরকম ভালো লাগে। দেখলেই মন ভালো হয়ে যায় একেবারেই। যাই হোক না কেন।
আর আজ আমার মন এমনিতেই ভালোই ছিলো- খুব ভালো না হলেও খারাপ ছিলো না। ছুটিতে আছি- সুতরাং টেনশন নাই। বাতাসে গুজব শুনলাম, পরীক্ষা নাকি খুব শীঘ্র দেয়ার ইচ্ছা নাই পোলাপানের। আপাতত মন খারাপের জন্য আমাকে কারণ খুঁজে বের করতে হবে, আর ভূতের কিল খাওয়ার ইচ্ছে এখন হচ্ছে না।
খুব রোমান্টিক টাইপ মুডও না।
চুপ করে মোড়ায় বসে চা খেতে ভালোই লাগছিলো। শেষ হয়ে গেল দেখেই কাপ রাখতে আসা, আর ব্লগে বসা।
সময়-জীবন সংক্রান্ত ফিলসফি বরং থাক, নস্টালজিক দ্রবণও না হয় আজ না বানালম শুধুই এলোমেলো বকবকানিই লিখি না।
অকারণেই নিজের সাথে কথা বলিনি অনেকটা সময়- না হয় আজ চাঁদের সাথে বললাম।
মেঘের দ্রুত বেগে উড়ে চলা ন্যাটজিওর কথা মনে করিয়ে দেয়- টিভি দেখিনা কতদিন। একসময় যে আমি চলমান টিভি গাইড ছিলাম, নিজেই ভুলে গেছি। মোবাইলে রিমাইন্ডারের পরেও কত কিছু মিস করেছি।
একটা সময় অনেক ছবি তুলেছি। সখ এতবার পাল্টেছি জীবনে যে আমার সখকে আমিও আর পাত্তা দিতাম না। তাই কিনেছিলাম অটো ক্যামেরা- কীইবা এমন ছবি তুলবো চিন্তা করে। পরে বুঝেছি নিজেকে আরেকটু পাত্তা দেয়া মনে হয় উচিৎ ছিলো- খালি হাতে ৬ এমপিতে চাঁদের শার্প ছবি তুলতে পারাটা একটা অ্যাচিভমেন্ট।
ছেড়ে দিয়েছি তারপর, সবসময় ফ্রেম করে দেখতে ভালো লাগতো না, সবসময় লেন্সের ভিতর দিয়ে দেখতে টায়ার্ড লাগতো।
লিখতাম একসময় অনেক- অর্থহীন কথাই লেখা হত বেশি, কিন্তু অভ্যাসটা ছিলো। বৃষ্টির আধিপত্য বেশি ছিলো তাতে- বৃষ্টিকন্যা নাম দিয়েছিলো কতজন, কেউ কেউ মেঘবালিকা।
তারপরে এমনই একদিনে চাঁদের দিকে তাকিয়ে মনে হয়ছিলো থাকুক, অনেক হয়েছে ছেলেমানুষী।
চাঁদটাকে ছোঁয়ার স্বপ্ন আমার কখনোই ছিলো না। বরং চাঁদ হতে ইচ্ছে করতো খুব, এখনও করে।
যদি হতে পারতাম।
থাকুক বরং আজ এখানে,অনেক হয়েছে ছেলেমানুষী।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


