somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু শৈশব........মা তুমি

১০ ই এপ্রিল, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ি তখন। স্কুল এর বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। দৌঁড়াচ্ছিলাম। প্রথমজনের পরেই ছিলাম। হঠাৎ পাশ থেকে ছোট্ট ধাক্কা। মূহুর্তেই মাটিতে আমি। পড়ে রইলাম। স্যারেরা দেখলেন না। খুব অভিমান হয়েছিল সেদিন। কাঁদতে কাঁদতে বাসায় এসেছিলাম। তুমি মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেছিলে, এত মন খারাপ করতে হয় না। সামনের বার তুমি প্রাইজ পাবে। মন খারাপটা কমে নি। কিন্তু পরের বার ঠিক ই প্রাইজ পেয়েছিলাম। এভাবেই জীবনকে দেখতে শিখিয়েছিলে তুমি মা। অসম্ভব দুষ্টু ছিলাম। সারাদিন একমাত্র কাজ ক্রিকেট খেলা দেখা আর খেলা।কখনো রাগ কর নি। পরীক্ষায় ফার্স্ট হতেই হবে, এমন কথা কখনো বলতে না। তবুও কিভাবে কিভাবে যেন হয়ে যেতাম! কেমন সুন্দর করে তুমি পড়াতে যে!কখনই পড়াটাকে চাপিয়ে দিতে না। সারা দিন কাজ করে শেষ বিকালে খেতে বসেছ তুমি, এমন সময় দরজায় ভিক্ষুক, নিজে হাতে খাবার দিয়ে আসতে , পানি দিয়ে আসতে, আরো কিছু লাগবে কিনা জিজ্ঞেস করতে।

মধ্যবিত্ত সংসার। সব দিকে সামলানোটাই মুশকিল। তবুও প্রতি মূহুর্তে অসংখ্য আব্দার আমার। কখনো না বলেছ বলে মনে পড়ে না।সমবয়সীদের কাছে যখন শুনতাম তাদের বাবা- মায়েরা গল্পের বই পড়াকে চরমতম অপরাধ বলে গণ্য করেন, তখন আমার বই পড়ার নেশা দেখে নিয়মিত টাকা দিয়ে যেতে তুমি বই কেনার জন্য। কখনো জানতে চাইনি এই সীমিত আয়ের সংসারে কোথায় পাচ্ছ তুমি তা।পরীক্ষার আগের রাতে ফাঁকিবাজ আমার জান-প্রাণ দিয়ে পড়তে থাকা আর পাশের রুমে জানালার পাশে রাত জেগে থাকা তুমি। যদি আমার কিছু লাগে! জর হয়েছে আমার। বিছানায় শুয়ে থাকা সারাদিন। দশ মিনিট পর পর আমার মুখে থার্মোমিটার দিয়ে দেখ জ্বর কমল কিনা!


সেদিনের কথাটা খুব মনে পড়ে। রিকশায় যাচ্ছিলাম তোমার সাথে। কিছু বোঝার আগেই পেছন থেকে আরেকটা রিকশার প্রচন্ড ধাক্কা। ছিটকে পড়ে যাচ্ছিলাম আমি।নিজেকে না সামলে আমাকে ধরে রাখলে তুমি। রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথায় ব্যথা পেয়ে অজ্ঞাণ হয়ে গিয়েছিলে। ডাক্তাররা বলছিলেন ৪৮ ঘন্টা দেখবেন তারা, এরপর আর কিছু করার থাকবে না। ফিরে এসেছিলে তুমি।এরপর থেকেই মাইগ্রেন ব্যথার সাথে যুক্ত হল এই ব্যথা, এখনো খুব ভোগায় তোমাকে এটা। তবুও তোমার মুখে দেখিনি বিন্দুমাত্র দুঃখবোধ।

ঝুম বৃষ্টি নেমেছে রাতের আকাশে। রাতের খাবার রান্না করে সবে রান্না ঘর থেকে এলে তুমি। খিচুড়ি খাব, আমার ইচ্ছা। একটুও বিরক্ত না হয়ে আবার চুলোর পাশে চলে যেতে আমার বর্ষা যাপনের আবদার রক্ষায়! সবসময় বলতে মানুষকে ভালোবাসতে শিখতে। ছোটবেলায় বুঝতাম না কথাটার অর্থ। তবুও মাথা নেড়ে সায় দিতাম।মা তোমার মনে আছে সেই বৃদ্ধ মহিলাটার কথা, যাকে নিয়মিত পুরোন কাপড় সহ অনেক কিছু দিতে তুমি? তোমার সামনে একদিন সেই ভিক্ষুক মহিলা আমার মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করেছিল বলে আমি রাগ করে আজেবাজে কিছু বলেছিলাম। ভিক্ষুক হয়ে নোংরা হাত দিয়ে আমাকে ছুঁবে কেন! এই ছিল আমার যুক্তি! খুব জোরে গালে চড় মেরেছিলে সেদিন। তারপর বুঝিয়ে বলেছিলে, মানুষকে ঘৃণা করতে হয় না। মা তুমি শিখিয়েছিলে ভুল করলে সরি বলে সেই ভুলের আর পুনরাবৃত্তি না করতে।বলতে, অনেক অনেক বড় মানুষ হওয়ার দরকার নেই, খুব ভালো মানুষ হওয়ার দরকার।

তোমার কাছ থেকে অনেক দূরে থাকি এখন। নিজের পড়াশোনা, টিউশনি, সাথে অন্যান্য কাজ, খুব ব্যস্ত সময় কাটে। যোগাযোগ করা হয় না নিয়মিত। তবুও কখনো অভিমান নেই তোমার কথায়। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে বিছানা অগোছাল রেখে যাওয়া হয় না, তুমি তো নেই, যে এসে গুছিয়ে দিয়ে যাবে! জমে থাকা ময়লা কাপড় গুলো নিজেকেই ধুতে হয়। হাত বাড়ালেই হাতের কাছে সব তৈরি পাই না।তাইতো মাঝে মাঝে দীঃর্ঘশাস আসে অজান্তে। ছুটির দিনগুলোতে বাড়ি এলে কত ব্যস্ততা তোমার আমাকে নিয়ে! প্রতিটা মুহুর্তে, প্রতিটা দিনে যে স্নেহ –ভালোবাসায় বড় করেছ আমায় তা ব্যাক্ত করার মত যোগ্যতা আমার নেই। একারণে তোমার প্রতি শুধু শ্রদ্ধা জানিয়ে তোমাকে ছোট করার দুঃসাহস
আমার নেই। তবুও বলব, মা তোমাকে খুব ভালোবাসি।


সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০১২ সকাল ৭:০৫
১৫টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×