এবার, আমি বেশ মুষরে পরলাম। মেনে নিতে পারালাম না আমার শরীরের ভিতর থাকা সেলগুলোর এই অস্বাভাবিক আচরণকে। এত অল্প সময়ের মধ্যে প্রাথিমক পর্যায়ের ক্যান্সার সাধারণতঃ ফিরে আসে না এরকমই ধারণা দিয়েছিল আমার এখানকার ডাক্তাররা। আমিও জীবনটাকে আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করছিলাম। পলাশকে বলতাম, আমার শরীরে যদি আবার কখনও ক্যান্সার ফিরে আসে, তাহলে আমি আর কেমোথেরাপি নিবো না। কিন্তু, না, আনার মুখের দিকে তাকিয়ে এখানকার ডাক্তারদের পরামর্শে কেমোথেরাপি শুরু করে দিলাম। যদিও ইন্ডিয়ান ডাক্তার ই-মেইলে আমাকে কেমোথেরাপি শুরু করার আগে বায়োপসি করার কথা বলছিলেন। এখানে নিডেল বায়োপসি করাও হল, কিন্তু তাতে কোনো কিছু পাওয়া গেলো না।
ফলে, এখানকার ডাক্তারদের প্রতি কিছুটা আস্থার সংকট সত্ত্বেও কেমোথেরাপি শুরু করে চলে গেলাম চেন্নাই-এর তেনামপেট এলাকার এ্যাপোলো ক্যান্সার হাসপাতালে মেডিকেল অনকোলজিস্ট ডাক্তার শংকর শ্রিনিবাসানের কাছে। তিনি কেমোথেরাপি বন্ধ না করেই বায়োপসির জন্য সার্জারির ডাক্তার মিস বাগিয়ামের কাছে রেফার করে দিলেন। ডাক্তার বাগিয়াম সেখানে আবার আমার চেস্টের সিটি স্ক্যান করালেন। এরপর তিনি আল্ট্রাসনো গাইডেড ট্রু-কাট বায়োপসি করলেন। মজার বিষয়টি তথা বেদনার দিকটা এখানেই, আমার প্রথমবারের বায়োপসির সাথে এবারের বায়োপসির কোন মিল নেই। তখন আমার ইআর ও পিআর ছিল পজেটিভ এবং হার২ ছিল নেগেটিভ। অথচ, এবার ইআর ও পিআর নেগেটিভ এবং হার২ পজেটিভ। হার২-র ফিস টেস্টেও পজেটিভ আসলো। পাল্টে গেলো আমার ক্যান্সারের ধরণ, শুরু হলো নতুন করে আবার চিকিৎসা। কেমোথেরাপি জেমসিটাবিন চললো ডে-১ ও ডে-৮ এবং এক সপ্তাহ বন্ধ- এভাবে ৬ সাইকেল, সাথে চললো হারসেপটিন মনোকোনাল এন্টিবডি ৬টি। প্রতি একুশ দিন পর পর ২ লাখ টাকার ধাঁক্কা এসে দাড়ালো জীবনের সন্ধীখণে।
তবে পাশে পেলাম অনেককেই, সকলের সহযোগিতা এবং অপরিসীম ভালোবাসায় চিকিৎসার ১৪ সাইকেল কেমোথেরাপি এবং ১৪ সাইকেল হারসেপটিন এন্টিবডি সম্পন্ন করেছি বেশ শারীরিক এবং মানসিক দৃঢ়তার সাথেই। সকলের এই অপরিসীম ভালবাসা আমি তো কখনই শোধ করতে পরবো না। তবে যতদিন বেঁচে আছি ততদিন ক্যান্সার আক্রান্তদের জন্য আমিও কিছু ক্ষুদ্র প্রয়াস রেখে যেতে চাই। আর আমার বুকের ধন ছোট্ট আনাকে দিয়ে যেতে চাই জীবনের শ্রেষ্ঠ দিনগুলো। ওর বয়োঃসন্ধি কালটি পার করে রেখে যেতে পারলে মরে গিয়েও শান্তি পেতাম। কিছুটা মানুষের মত মানুষ বানিয়ে যেতে চাই। কিন্তু, আমার চিকিৎসা এই ১৪ সাইকেল হারসেপটিন ও ১৪ সাইকেল কেমোথেরাপিতে শেষ হলো না। চালিয়ে যেতে হবে দীর্ঘদিন, যতদিন বেঁচে থাকবো ততোদিন, বললেন ডাক্তার। শুনালেন আশার কথা, ঔষধগুলো আমার শরীরে কাজ করছে, তাই এটা বন্ধ করা যাবে না।
এই পৃথিবীতে কোন কিছুই অবিনশ্বর নয়, সবাইকেই চলে যেতে হবে। কখনও আগে আর কখনও পরে, একথা আমাদের সকলেরই জানা। এও জানি কারও জন্য কোন কিছু থেমে থাকে না, সময়ের সাথে সাথে আনাও বড় হয়ে উঠবে। আপনারা আমাকে স্বার্থপর বলবেন কিনা, জানিনা। তবে হ্যা, আমার মিষ্টি মেয়েটার সাথে থাকতে বড়ই লোভ হয়। তার বেড়ে উঠার দিনগুলোতে পাশে থাকতে বড়ই সাধ জাগে। তাই, আপনাদের সকলের কাছে আকুল মিনতী রাখছি- এই মিনতী রাখতেও আমার বেশ কষ্ট হচ্ছে, দ্বিধাবোধ হচ্ছে, তবুও রাখছি- “আর একটিবার আপনারা আমাকে আপনাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন”। আপনাদের বিন্দু বিন্দু সহমর্মিতাই হয়তো পারে আমাকে আবার জীবনের আশার আলো দেখাতে, আর আমার ছোট্ট আনা পেতে পারে মায়ের ভালোবাসা।
নাহিদ জাহান লীনা
আমাকে সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা:
ষ্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক
একাউন্ট নাম: নাহিদ জাহান
একাউন্ট নম্বর: ১৮৩৪১১০৪৪০১
সুইফট কোড: SCBLBDDX
আমার মোবাইল নম্বর: +৮৮০১৯১৯৯৯৯১০১
পলাশের মোবাইল নম্বর: +৮৮০১৭১৩২২৯২০৭
আমার ই-মেইল: [email protected]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


