কথিত আছে কোন এক গঞ্জিকা সেবন কারিকে একদা একজন মহাশয় সুধাইয়াছিলেন, 'ওহে নির্বোধ, তুই গঞ্জিকা সেবন করিস কেন?' সেই নির্বোধ সুবোধ বালকের মত নত শীরে, সলজ্জ্ব ভঙ্গিমায় প্রতিউত্তরে কহিল, 'উহার নাম ই গঞ্জিকা তাই, যদি উহার নাম ভাত কিংবা ইলিশ হইত তবে আমি কেবল ভাত কিংবা ইলিশ ই সেবন করিতাম।' এইরূপ উত্তর শুনিয়া প্রশ্ন কর্তার মুখোচ্ছবির কথা অবশ্য জানিতে পারিনাই তবে শীত নামক ঋতুটি আমাকে সেই গঞ্জিকা সেবন কারীর কথাই বার বার
স্মরন করিয়া দেয়।
এই ঋতুটির নাম যতই পুরোহিত ডাকিয়া, মন্ত্র পড়াইয়া বদলাইয়া দেওয়া হউকনা কেন উহার প্রকোপ আর কমিবার নহে। এই গন্ডাঞ্চলে না আসিলে জানিতেই পারিতাম না এক ঋতু কতকাল ধরিয়া তাহার তান্ডব চালাইতে পারে।
স্নান করিবার উপায় নাই, জল পান করিবার কথা ভাবিলেও শরীর কাঁপুনি দিয়া উঠে। উপরন্তু মাথার উপর চুলের জট পাকাইয়া নিজেকে অদ্ভুত দেখাইতে লাগিতেছিল। তাহা না হইয়াছে সাধুসম না হইয়াছে শয়তান তুল্য। মুখদর্শন দেখিয়া সেদিন সদ্য দাঁত গজানো শিশু পাগল পাগল বলিয়া ভাগিয়া গেল। মনে বড় আঘাত পাইলাম। এই শীতে চুল কাটিব ভাবিতেই শরীর টা যেনো শুকাইয়া যায়।
তথাপি মনে বিস্তর সাহসের সঞ্চার করিয়া মনোস্থির করিলাম খানিকটা কেশ বিন্যাসের নিমিত্তে কোন এক নরসুন্দরের নিকট মাথাটাকে সমর্পন করিব। মনোবাসনা পূর্নের হেতুতে বিস্তর খুঁজিয়া - পাতিয়া এক নরসুন্দরের নিকট গিয়া কহিলাম, 'বালক, আমার কুন্তল সুমহকে এইরূপ ভাবে ছাটিয়া দাও যাহাতে প্রথম দর্শনে কেহ বুঝিতে না পারে উহা সদ্য ছাটা হইয়াছে। উপরন্তু নারীকূলেও যেনো তাহা যথাযথ সমাদৃত হয়।
সেই অকালকুষ্মান্ড কি বুঝিল তাহা আমার বোঝার উপায় ছিলনা। বিধাতা আমাকে কারো অন্তর পড়িবার ক্ষমতা দেন নাই। যাহাই হোক। সে কিছুকাল চিন্তিত ভঙ্গিতে তাকাইয়া কুন্তল সমুহকে লইয়া এক নির্মম খেলায় মাতিয়া উঠিল। উহাকে ধরিয়া এমন ভাবে টানিতে লাগিলো যাহাতে চুল না উঠিলেও শীরোচ্ছেদ
হইবার আতঙ্কে চক্ষু মুদ্রিত করিয়া ফেলিলাম। এইরূপ কতকাল ছিলাম তাহা ঠিক স্মরনে নাই। হঠাৎ তাহার নিনাদ কর্নকুহরে আসিয়া ঠেকিল। চক্ষু উন্মোলিত করিয়া একটু ধাক্কা খাইলাম মনোমাঝে। মনে মনে ভাবিলাম দর্পনে যাহাকে দেখা যাইতেছে সে কি আমি! প্রমাদ গুনিলাম। ভীরু নয়নে আবার তাকাইলাম। সন্দেহ নাই উহা আমি। রাগে ক্রুদ্ধ না হইয়া শোকে ইস্পাত হইয়া গেলাম। উহার দিকে রক্তচৰু দিয়া তাকাইলাম। যদি তাহাকে ওই দৃষ্টিতে ভস্ম করিয়া দিতে পারিতাম তবে তাহাতে কিছুটা শোক পশমিত হইত। কিন্তু অবাক করিয়া দিয়া সেই
অর্বাচিন নরসুন্দর তাহার হলুদ দন্ত বিকশিত করিয়া বলিতে লাগিল বেশ হইয়াছে, আপনাকে মানুষ বলিয়া মনে হইতেছে এখন।
মাথায় রক্ত বন্যা বইতে লাগিল। সেই বন্যায় যদি ভাঙ্গন আরম্ভ হইয়া যায় সে আশংকায় তাহার পূর্বেই কোনক্রমে আপনাকে লইয়া ঘরমুখে যাইতে লাগিলাম। হঠাৎ পথোমধ্যে দুই ষোড়শী রমনী আমাকে দেখিয়া মুগ্ধ হইবার বদলে দেখিলাম আপনার মাঝে গা টেপা টিপি করিয়া হাসিতেছে। মরমে মরিয়া যাইতে লাগিলাম, মনে হইতেছিল মাটির সাথে কোনক্রমে যদি মিশিয়া যাইতে পারি তাহা হইলেও জীবনের কিছু অর্জন হয়ত অক্ষুন্ন রাখা যাইবে। মনে মনে বক্রবাক্য নিক্ষেপ করিতে লাগিলাম সেই সকল ভাষাবিদদের জন্য যাহারা এক অকালকুষ্মান্ড, কুপমুন্ডুকের নাম রখিয়াছিল নরসুন্দর। আরো ভাবিতে লাগিলাম অতঃপর আমাকে জলস্পর্শে আসিতে হইবে। ভাবিতেই আতঙ্গে সর্বাঙ্গে একখানা শীতল স্রোত বহিয়া গেল। ইহা আমার কি হইল! কেন আমাকে লইয়া এই খেলা চলিতেছে? ইহার শেষ কোথায় কবে হইবে কেহ কি আমাকে বলিতে পারে?
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ৯:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




