নিজের কথা বলব আজ। কারন সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক কিছু লেখা দিব ভাবছি। ১/১১ এর প্রেক্ষাপটে আমরা যে; যে অবস্থান থেকেই সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষন করি না কেন, এটা কিন্তু সত্য যে, আমরা একটা পরিবর্তন আশা করেছিলাম। আজ প্রায় ২ বছর পর আমরা হতাশ। সত্যি বলতে কেন ১/১১ এল এর জন্য যে; যে যুক্তিই মাথায় আনুন না কেন, আজ বেলা শেষে কোন হিসাবই কিন্তু মিলছে না।
কিন্তু এটা তো কোন জাতির ভবিষ্যতের পথ হতে পারেনা। যে জাতির আছে ভাষা আন্দোলনের মত এত অসাধারন একটা আন্দোলনের ইতিহাস, আছে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা পাওয়ার মত এত বড় একটা অনন্য অর্জন। আছে ৯০ এর গন-অভ্যূথানের এর মাধ্যমে গণতন্ত্র উদ্ধার করার ইতিহাস, সেই আমরা ২ বছর পর হিসাব মেলাতে গিয়ে কিছুই পাবোনা তা কিভাবে হয়? বা তা হলেও চুপচাপ দেখবো তা কি হতে পারে?
কখনোই না। আমাদের ইতিহাস সেই সাক্ষ্য দেয় না।
আমি চাই আপনারা আমার ভাবনাগুলোকে পড়ুন। মন্তব্য করুন। তার আগে আজকের প্রথম লেখায় নিজের ব্যাপারে কিছু বলতে চাই।
আমি ন্যায় এর পক্ষে। সবসময় ন্যায়ের দিকে থাকতে, ন্যায়ের কথা ভাবতে চেষ্টা করি। ক্ষতি হয় এতে। কারন যেহেতু চাটুকারিতা করাটা সজ্ঞানেই Avoid করি। এতে জীবনে অনেক জায়গাতেই যোগ্যতার সম্পূর্ণ প্রমান রাখার সুযোগ পাইনি। নিজের ন্যায্য পাওনাটাও হারিয়েছি অন্য চাটুকারের সরব উপস্থিতিতে। তারপরও কখনো আফসোস হয়নি খুব বেশী, সব কিছুকেই জীবনের অংশ ধরে নিয়ে তাকিয়েছি সামনের দিকে।
আমি আমার দেশের জন্য নিজের অবস্থানে থেকে কিছু করতে চাই। নিজে সৎ থেকে আমার নিজের চাইতে আমার দেশের কথা আগে ভাবতে চাই। কিন্তু তাই বলে কোনো অন্ধ বিশ্বাস নিয়েও পথ চলতে চাইনা।
ভালো কে ভালো বলে বলাই শিখেছি। আর অন্যায়কে "না" বলা। আমার সরকারী চাকরী করা বাবা-মা আমাকে তাদের শত ব্যাস্ততার মাঝেও অন্তত এই শিক্ষাটা দিতে ভুল করেন নাই।
আমি অনেক অনেক গান শুনি। উপন্যাস পড়ি। ঘরের চিপায় ঢুকে সারাদিন খালি লেখাপড়া করার মত গুডবয় আমি কোনো কালেই ছিলাম না। আমার বাবা ছাত্রমৈত্রীর জি.এস. ছিলেন। উনার সুবাদেই কার্ল মার্কস-লেনিন মতবাদের অনেক বই পড়ার ই সৌভাগ্য হয়েছে। আমার ২ চাচা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমার এক চাচা মারা গেছেন যুদ্ধের সময় (উনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, কিন্তু যুদ্ধের সময় আমাদের পরিবার কে লুকিয়ে এখানে সেখানে থাকতে হয়েছে স্বাভাবিক কারনেই। তখন বিনা চিকিৎসায় মারা যান আমার এই চাচা)। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমার মধ্যে নাই- এমন টা ভাবারও কোনোই কারন নেই। আর আমার চাচাত ভাই এখনো শাহজালাল ইউনিভার্সিটির শিবিরের দায়িত্বশীল। আমি শিবিরকেও জানি। বামপন্থী পরিবেশে ডানপন্থী আলোচনার পথটা সহজ ছিলনা।
আর আমার নিজেরই পলিটিকাল মারামারিতে ইনজুরড হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে। খুব বেশীদিন হয়নি। নিজেও দলের প্রয়োজনের তাগিদে যোগ্যতা না থাকাও সত্ত্বেও ছোট-বড় দায়িত্ব পালন করেছি বা করছি। শুধু বাবা-চাচাদের কাছে থেকে শুনেই না, নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই সব পলিটিক্যাল দলকে কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। কখনো আনন্দঘন পরিবেশে। কখনো বা সম্পুর্ণ বিপরীত ধরনের পরিবেশে।
৭১ এর রাজাকারদের অবশ্যই ঘৃণা করি। যারা ৭১ এর আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে "গৃহ যুদ্ধ" বলেন তাদেরকে "থু" দেই। প্রাণভরে "থু" দেই। ৭১ এ নির্য়াতিতাদের সংখ্যা কত এইটা নিয়ে যে যে পরিসংখ্যানবিদরা পরিসংখ্যানের ধারের কাছেও যান। তাদেরকেও আমি 'থু' দেই। বুক ভরে 'থু' দেই। পরিসংখ্যানের সংখ্যা দিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমরা নিজেদের জাতি হিসেবে কতটা ছোট করে ফেলছি, তা কি আমরা একবারো ভেবেছি?
কিন্তু তাই বলে চোখ-কান বন্ধ করে ধর্ষনের সেঞ্চুরী করা নেতাকে আমি আমার নেতা বলে মেনে নেব? যদি সে প্রগতিশীল ছাত্র সমাজ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহনকারী দল থেকে নির্বাচিত হয়, তারপরও কি আমি তাকে নেতা বলে মাথায় তুলে নাচব? জামাত খারাপ। তাদের কিছু নেতা আমাদের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানে ছিলেন ৭১ এ। কিন্তু এই জামাত এর সাথেই তো ১৯৯১,১৯৯৬,২০০১ এ আওয়ামী লীগ বি.এন.পি. জোট বেধেছে। এখন বলুন আমি কোন যুক্তিতে আওয়ামী লীগ বা বি.এন.পি. কে বিশ্বাস করব? সুতরাং অন্ধের মত শুধু দল না। ব্যক্তিকে দেখতে চাই। আমি রাজাকারের বিচার চাই। তাই বলে যে, চোখ-কান শাট ডাউন করে শেখ হাসিনাকে বা তারেক জিয়াকে সাপোর্ট দিতে হবে, এটাও সমর্থন করতে পারি না।
চাই যোগ্য ও সঠিক নেতৃত্ব। চাই সততা। চাই ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার সৎসাহস। সেইটা যেখান থেকে আসবে আমি তার নেতৃত্বেই কাজ করতে চাই। নেতা যদি সাবের হোসেন চৌধুরীর মত হন তো আমি কেন আওয়ামী লীগকে সাপোর্ট দেব না? নেতা যদি হন মাহবুবুর রহমান এর মত(যদিও তিনি নানা কারনে এখন বিতর্কিত কিন্তু মানুষ হিসেবে সৎ, ব্যক্তিগত পরিচয় থেকে বলছি) কেন আমি বি.এন.পি. কে সাপোর্ট দিব না? কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য একজন মাহবুবুর রহমান বা একজন সাবের হোসেন চৌধুরীর মত নেতৃত্বকে আমরা দলীয় ভুল অবস্থানের জন্য ঠিক সেইভাবে কখনোই পাইনি যেভাবে আমরা তাদের পেতে পারতাম বা তারা আমাদের দিতে পারতেন।
আর তাই তো একজন হাসান মশহুদ চৌধুরীকে (আমার এটা ভাবতে খুবই গর্ব লাগে যে এই অসাধারন মানুষটির কাছে থেকে ক্যাডেট কলেজে আমার ২বার পুরস্কার নেয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল) দেখে আমাদের আফসোস হয় এটা ভেবে যে, "ইশ!! আমাদের নেতারা যদি এমন হতেন!!"
আজ এত কথা বললাম, নিজের অবস্থান পরিস্কার করার জন্য। রাজনৈতিক অন্ধত্ব আমার পছন্দ না। আবারো বলছি,
চাই যোগ্য ও সঠিক নেতৃত্ব। চাই সততা। চাই ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার সৎসাহস। সেইটা যেখান থেকে আসবে আমি তার নেতৃত্বেই কাজ করতে চাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

