
এই সেই বিখ্যাত মাশরুম বিস্ফোরন। বোমাবর্ষনের পর পর তৈরী হওয়া এই মাশরুম বিস্ফোরনটি আজ নিজেই যেন একটি ইতিহাস।

"ইনোলা গাই" নামের এই বিমান হতেই ফেলা হয়েছিল বোমাটি। সামনে বিমানের ক্রুদের দেখা যাচ্ছে।

এই রকম বেশ কিছু ঘড়ি পাওয়া যায় হিরোসিমার গ্রাউন্ড জিরোতে যেগুলো থেমে গিয়েছিল সকাল ৮টা ১৫ তে। সময় তখন থমকে গিয়েছিল। নাকি থমকে গিয়েছিল ইতিহাসও?

বোমা বিস্ফোরনের পরবর্তী সময়ের হিরোসিমা। দেখে কে বলবে এখানে মানুষ থাকতো। এটা মরুভূমি না।

ইতিহাস বিখ্যাত ছবিগুলোর একটি। বিস্ফোরনস্থল হতে কিছু দূরের এই ভবনটি আজো সাক্ষ্য দেয় সেই ইতিহাসের।

এ রকম হাজারো মানুষ সেদিন জীবন্ত পুড়ে মারা গিয়েছিল।

আর তাই আজো হিরোসিমা যেন ইতিহাসের আর্তনাদ।
কিছুটা স্বপ্রণোদিত হয়েই হিরোসিমা নিয়ে একটু আধটু পড়ার ট্রাই করছিলাম। নেট তো এখন সারা দুনিয়ার আনাচে কানাচের খবরও রাখে। তাই শরনাপন্ন হলাম নেট এর ই। ১৯৪৫ সালের সেই সময়ের ছবিগলো দেখে অবাক হচ্ছিলাম্ কারন মাত্র একটা বোমা যে এত ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে তা আমার একেবারেই অজানা ছিল। এটম বোমার বিষাক্ত ছোবলে ১৯৪৫ সালের আগষ্টে ক্ষত বিক্ষত জাপানের হিরোশিমা সেই রক্তস্নাত শোকাহত স্মৃতি আজো বিশ্বব্যাপী স্মরন হয় শোক আর বেদনার অভিব্যক্তিতে। যুগে যুগে যুদ্ধ বিরোধী প্রচার এবং আন্দোলনে হিরোশিমার সেদিনের ভয়াল স্মৃতিকে তুলে ধরা হয় যুদ্ধকে ঘৃনা জানাতে।
তারপরই মনে হল আধুনিক হিরোসিমার চেহারাটা দেখতে। তাই আবারো নেট। আবারো সার্চ। তবে এইবার যা দেখলাম তাতে আমি আরো মুগ্ধ। মাত্র ৫৩ বছরের বিবর্তনে সেদিনের ধ্বংসপ্রাপ্ত এই হিরোশিমা নগরী যেন এখন আধুনিক স্থাপত্যের এক অন্যন্য নিদর্শন হয়ে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ছবি গুলি দেখলে বুঝার উপায় নেই এখানেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল শতাব্দীর সেই ভয়াবহ ধ্বংসশীলা। সাবাশ হিরোসিমা।

আধুনিক হিরোসিমা, যেন স্বপ্ন দেখায় নতুন বিশ্বকে।

অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখতে হয় আবারো জেগে ওঠা জাতিটিকে। মাত্র অর্ধশতাব্দীর মধ্যে যারা জেগে ওঠে নতুন বিশ্বের মডেল হিসেবে।

আর তাই ৫০ বছর আগের সেই হিরোসিমা যেন আজ মাথা উঁচু করে প্রকাশ করছে তার শ্রেষ্ঠত্বের।

আর এ জন্যই তো হিরোসিমা আজ বীর। হিরোসিমা একটি প্রতিবাদ। হিরোসিমা একটি অনুপ্রেরনা।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ১:১৮