রাতের খাবার খেয়ে গল্পের বাই হাতে নিয়ে বিছনায় মাত্র শরীরটা এলিয়ে দিচ্ছিলাম।এমন সময় মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলো।তিথি,আমার জ্ঞাণীবন্ধু ফোন করেছে।রিসিভ করলাম।‘ওহে,আমার জ্ঞাণীবন্ধু!এতরাতে ফোন?’
‘এতরাত পেলে কোথায়?মাত্র সাড়ে এগারোটা বাজে।’তিথি বললো।গলার স্বরে নিখাঁদ গাম্ভীর্য অনুভূত হচ্ছে।
‘ওহ-হে।তাইতো!খেয়াল করিনি।’তাড়াতাড়ি বললাম।‘কোন সমস্যা?গলা এমন গম্ভীর কেন?অসুখ করেনিতো?’
‘নাহ।’এবারে গলায় উদাস উদাস ভাব।‘মনটা কিঞ্চিত খারাপ।’
‘কেন?কি হয়েছে?’কিছুটা উদ্ভিগ্ন হলাম।সচরাচর তিথি এমন আচরণ করেনা।
‘চাদটাকে মনে হয় কেউ ছুরি মেরেছে।’সহজ স্বর।
‘বলে কী আমার জ্ঞাণীবন্ধুটা!মাথা-টাথা খারপ হয়ে গেছে নাকী?’ মনে মনে বললাম।সত্যিকার একটা চমক খেলাম।খানিকটা বিভান্ত।মুখে বললাম,‘মানে?’
‘মানে,চাদটা এখন রক্তাক্ত অবস্থায় আকাশে ঝুলে আছে।বাইরে বেরিয়ে দেখ।’
‘হুমম!একখনি দেখছি।’আমি বললাম।বারান্দায় এসে আকাশের দিকে তাকালাম।আ-রি,তাইতো!চাদটা সত্যিই লাল হয়ে আছে।এমনকী ওটার চারদিকও রক্তিম।আশেপাশে কোন তারা নেই।একাকী চাদটাকে সত্যিই রক্তাক্ত মনে হচ্ছে।কয়টা বাজে?সাড়ে এগারোটা না?একটু আগেই বাসায় আসার পথে চাদটাকে দেখলাম।হালকা ঘোলাটে লাল চাদ।কই আমারতো মনে হয়নি এমন কথা?কোন উপমাও মাথায় আসেনি?তিথিটা সত্যিই জিনিয়াস!‘চাদটাকে কেউ যেন ছুরি মেরেছে।’দারুণ কথা বলেছেতো!
এতণে খেয়াল হলো তিথি লাইনে আছে।মোবাই ফোন কানে লাগিয়ে বললাম,‘হ্যালো,তিথি ?’
‘হু।বলো।’সেই উদাসী শান্ত স্বর।
‘অসাধারণ!’
‘কী অসাধরণ?’
‘ঐ রক্তিম চাদটা।ওটাকে সত্যি অসাধারণ দেখাচ্ছে।’
‘ঠিক।একদম ঠিক।তুমিতো কবি।তোমারইতো আগে খেয়াল করার কথা।’মনেহলো যেন হালকা হাসির শব্দ শুনলাম।
‘উ-হু।কবি না ছাই।মস্তিষ্কে গোবর পোড়া।’
‘এ-ই,বাজে কথা বলবেনা।’
‘সরি,সরি।মুখ ফসকে বেরিয়ে গলো।প্লীজ ডোন্ট মাইন্ড।’নিজের উপর বিরক্ত হলাম।প্রচুর পরিমাণে।
‘না,মাইন্ড করিনি।এখন এক কাজ করো,ছুরিকাঘাত প্রাপ্ত চাদটাকে নিয়ে একটা কবিতা লিখে ফেলো।লিখে আমাকে শুনাও।’
‘উহু।কবিতা লিখতে পারবোনা।’
‘কেন?’
‘তুমি এখন কী করছো?’আমি উল্টো প্রশ্ন করলাম।
‘ছাদে বসে আছি।কেন?আবার প্রশ্ন।
‘ভাল করে চাদটার দিকে তাকাও।’আমি বললাম।
‘হুমম।তাকালাম।’
‘ওটার কাছকাছি চারদিকে তাকাও।’
‘হুমম।’
‘আস্তে আস্তে।’
‘ও-কে।’এবার শব্দ করে হাসলো।
‘এবার তার চারদিকে যতখানি তারা নেই ঠিক ততখানি লালচে অথবা কালচে নীল জায়গার দিকে খেয়াল করো।কী মনে হচ্ছে?’গম্ভীর স্বরে বললাম।
‘কী মনে হচ্ছে?’তিথি উল্টো প্রশ্ন করলো।
‘মনে হচ্ছেনা,চাদটা তার তার চারপাশের সৌন্দর্য নিয়ে নিজেই একটা আস্তো কবিতা হয়ে বসে আছে?’
‘আ-রি।তাইতো!’তিথির গলায় নিখাঁদ বিস্ময়....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



