পৃথিবী তখন অনেক পাল্টে গেছে। স্বপ্নবাজ লেখকদের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী বেশির ভাগই পরিনত হয়েছে বাস্তবে। আর পৃথিবীটাকে নিজেদের মনের মত করে দেখতে চাওয়া ঐসব বিবর্তনবাদীদের আশাও পূর্ণ হচ্ছে। যদিও মানুষের সেই পুরোনো বদ অভ্যাস যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চলছে। তবে আরেকটু ভয়ঙ্কর রূপে। এর বেশি কিছুনা। পরমাণু বোমার কল্যাণে এক সময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা জনসংখ্যা বৃদ্ধি আশাতীত ভাবে কমে গেছে। তখন সবাই হাসি-খুশী জীবন যাপন করছে।
ঐ সময়ের বর্তমান অত্যাধুনিক পৃথিবীতে পিছিয়ে পড়া একটি দেশ ধনী ও সমৃদ্ধ দশটি দেশের সরকার প্রধানকে দাওয়াত করলো কোন এক শুভ উপলক্ষে। অনেক যাচাই-বাছাই করে অবশেষে তারা রাজী হলেন। তবে বেশ কিছু শর্ত শাপেক্ষে। যেগুলোতে যুক্ত আছে নানান রকমের দাবী দাওয়া। মেজবান হতে চাওয়া দেশটি তাও মেনে নিল।
এদিকে দাওয়াতের যাবতীয় ব্যয় সম্বন্ধে ঐ দেশের একটি জাতীয় পত্রিকা প্রকাশ করলো এক চাঞ্চলকর তথ্য। পুরো প্রথম পৃষ্ঠাই অতিথিদের জন্যে করতে চাওয়া খরচের খুটিনাটি তথ্যেও সমৃদ্ধ প্রকাশ। সব কথার মূল কথা এ দাওয়াত পর্বে যে খরচ হবে তা দেশের আগামী এক বছরের জাতীয় বাজেটের পুরোটাই।বিপরীতে কী পাওয়া যাবে কিছুই জানা যায়নি।মানে এখনো রহস্যে আবৃত। ফুঁসে উঠলো পুরো দেশ। প্রতিটি শহরের প্রতিটি রাস্তায় হতে লাগলো তীব্র প্রতিবাদ। এমনকি সরকারকে হুমকি-ধামকি। কিন্তু সরকার পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা গেল না। শুধুমাত্র বিক্ষুব্ধ জনতা কিছু ভাঙচুর করতে গেলেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাঁধা দেয়। সরকারের এমন স্থির,শান্ত কিন্তু রহস্যময় আচরণে দেশবাসী দ্বিধায় পরে গেল। অনেকে বিক্ষোভ বাদ দিয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো ঘটনা বোঝার। কিছুতেই কিছু করতে না পেরে এবার সবাই সেই পত্রিকার দিকে তাকালো। এবং হতাশ হতে হল তাদের। নতুন কিছুই জানা গেল না। উড়াউড়া খবর শোনা যায় মোটামুটি প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারী দেশটি নিলামে বিক্রী করার চেষ্টা চলছে। তবে এ খবর তেমন পাত্তা পেলনা। যারা বিশ্বাস করলো তারা কিছুমাত্র উত্তেজিত না হয়ে অপেক্ষা করতে লাগলো সত্যি নিলাম হবে কিনা, হলে কিভাবে হবে, কে পাবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব কান্ড-কারখানা দেখে সারা বিশ্ব অবাক। কিসব তাজ্জব কাহিনী-কির্তী চলছে!
অবশেষে ভি.আই.পি-দের প্লেন গরীব দেশটির মাটি ছুঁলো। বিশাল জেট প্লেন। দেখে বোঝাই যাচ্ছে এ প্লেন সহজে আহত হবেনা।
একে একে নেমে এলেন দশজন ক্ষমতাশালী ব্যক্তিত্ব। এঁরা যে একসাথে আসবেন এ খবর পাওয়া গেছিলো একেবারে শেষ মুহুর্তে। সবার অজান্তে তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই জাতিসংঘের সদর দপ্তরে মিলিত হন। সেখান থেকে একসাথে আসা। এর কারণ, নিরাপত্তা। তখনকার পৃথিবীতে এই দশটি দেশই শুধু মতা রাখে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে লাগার। একসাথে আসায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে কেউই দুষ্ট বুদ্ধি চালেননি। সৌজন্য স্বাক্ষাত ছাড়া ভুলেও নিজের রুম ছেড়ে বের হননি। ধন্যবাদ জানাতে হয় তাকে, যে এমন সুন্দর, নিরাপদ বুদ্ধি দিয়েছিলেন।
খবরটা পাওয়া গেছিলো একেবারে শেস মুহুর্তে। গরীব দেশ বলে কী আত্মসম্মান বোধ নেই? তাই দশটির পরিবর্তে একটি বিশেষ লিমুজিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিলো। অতিথিদের প্রশ্ন ও বিস্ময়মাখা দৃষ্টির উত্তর, “একসাথে থাকা অধীক নিরাপদ।” তাঁরা খোঁচা অনুভব করলেন এবং মেজবানের এমন দুঃসাহস দেখে যারপরনাই বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ হলেন। কিন্তু তাঁদের মুখে ঝুলে রইলো মিষ্টি হাসি।
চলবে........

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



