somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চার দলীয় জোটের নির্বাচনে যাবার ঘোষণা: জনগণের বিজয়

২১ শে নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
বাংলাদেশের মানুষকে দীর্ঘ দিন ধরে অন্ধকারে রাখার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যাবার বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে। এ ঘোষণায় সচেতন সবাই স্বস্ত্বির নি:শ্বাস ফেলেছে। আওয়ামীলীগও সব বিবেচনা করে ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন করার পক্ষে মত দেবে বলেই মনে হচ্ছে। চার দলীয় জোট নির্বাচনে না গেলে আয়োজনটা যে ভালো ভাবে জমবে না ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য হবে না, তা সবাই জানে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, চার দলীয় জোট এত দেরিতে কেন এ বিষয়ে তৎপর হলো?
চার দলীয় জোটের প্রধান দল বিএনপি-র সিদ্ধান্তহীনতাই এর মূল কারণ। জামায়াতে ইসলামী প্রথম থেকেই নির্বাচনে যাবার পক্ষে ছিল। কিন্তু বিএনপির কারণে তারা স্পষ্ট ঘোষণা দিতে পারেনি। দুটি বিষয় ভাবতে ভাবতেই বিএনপির সময় চলে গেছে; জেনারেল এরশাদের শাসনামলের মতো আপোষহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিতকরণ অথবা ভগ্ন বিএনপিকে সুসংগঠিত করার স্বার্থে হলেও নির্বাচনে অংশ নেয়া। দ্বিতীয় ভাবনারই বিজয় হয়েছে। দ্বিতীয় ভাবনার বিজয়কে আমি বিএনপির বিজয় বলেই মনে করছি।
বিএনপি-র নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে জিতবে কি না, সে ব্যাপারে এখনই কিছুই বলা যাচ্ছে না। জেতার সম্ভাবনা উড়িয়েও দেয়া যাবে না কোন যুক্তিতেই। নির্বাচনে না জিতলেও চার দলীয় জোট যে সংসদে একটি শক্তিশালী জোটের মর্যাদা পাবে,তা সহজেই অনুমেয়। কারণ বিএনপি-তে ভাঙ্গন দেখা দিলেও তৃণমূল পর্যায়ে দলটি এখনও বেশ শক্তিশালী। যেভাবেই হিসেব নিকেশ করা হোক না কেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের একটা ইতিবাচক ফল বেরিয়ে আসবেই। এছাড়া, নির্বাচনে যাবার ঘোষণার ফলে বিএনপির সব নেতাই এখন খালেদা জিয়ার কাছে ভিরবেন এবং ইচ্ছে করলে তিনি এ সুযোগে দলকে ভগ্নদশা থেকে উদ্ধার করতে পারবেন। এ সুযোগে দ্বিধাগ্রস্ত রাজনীতিকদের মনে নতুন করে চাঙ্গা ভাব জাগিয়ে তোলাও সম্ভব হবে। সংস্কারপন্থীরাও আরও কোনঠাসা হয়ে পড়বে। নির্বাচনে যাবার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জোট থেকে হারানোর আশংকাও পুরোপুরি কেটে গেছে।
কিন্তু নির্বাচনে না গেলে কি হতো? হতে পারতো অনেক কিছুই। ভগ্ন বিএনপি পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়তো দূরের কথা, অস্তিত্ব সংকটে পড়তো। সংস্কারপন্থীরা আরও শক্তিশালী হতো। এখনও দলের যেসব নেতা-কর্মী জেলে আছে,তাদের মুক্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যেতো। চার দলীয় জোটও হয়তো ভেঙ্গে যেতো। আর দেশবাসী বঞ্চিত হতো জরুরি অবস্থার খড়গমুক্ত পরিবেশে ভোট দানের অধিকার থেকে। সরকার চার দলীয় জোটের আন্দোলন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে আসন্ন নির্বাচনে জরুরি অবস্থা পুরোপুরি বহাল রাখার সুযোগ পেত। চার দলীয় জোট স্বাভাবিক ভাবেই আন্দোলনের নামে নানা পন্থায় নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে দেশে আবারও ১/১১-র পূর্বের পরিস্থিতি সৃষ্টির আশংকা ছিল,যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতাম আমরা জনগণ। কাজেই চার দলীয় জোটের নির্বাচনে যাবার ঘোষণার ফলে জনগণেরই বিজয় হয়েছে।
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×