তীরন্দাজের দৃষ্টিপাত, প্রথম আলোর কার্টুন ও ইসলামী উন্মাদনা!
১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ বিকাল ৩:১১
প্রথম আলোর কার্টুন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে ব্লগে। কার্টুনটি মহানবীর যে ছবি আমাদের সামনে আছে, তার কতোটা অবমাননা করেছে বা না করেছে, তা নিয়েও তর্ক বিতর্ক হয়েছে যথেষ্ট। আমার নিজের অবস্থান কি, তা নিয়েও কথা বলার কোন প্রয়োজন আছে বলেও মনে হয়না আর। কিন্তু এই কার্টুনকে কেন্দ্র করে যা ঘটে গেলো ও যে বিতর্কের সৃষ্টি হলো ব্লগে ও তা থেকে আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক চেহারা ফুটে উঠলো আমাদের সামনে, এ নিয়ে আলোচনার যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি। "কান টানলে মাথা আসে" আমাদের দেশের রাজনৈতিক মহল, তা থেকে প্রভাবিত হয়ে আমরাও এ সত্যটাকে আমাদের সুবিধাবাদী চরিত্রের কারণেই সবসময়েই এড়িয়ে চলতে চেয়েছি। কিন্তু এ সত্য প্রতিবারই আরো বেশী ভয়ংকর হয়ে আমাদের চোখের সামনে এসে দাঁড়ায়। তাই আরো বেশী সচেতনতা নিয়ে এ সত্যের মুখোমুখি হবার জন্যে প্রস্তুত হওয়া দরকার বলে মনে করি।
ব্লগে এ আলোচনা তিনটি দল দেখতে পেয়েছি।
দল ১) এরা প্রথম আলোর এই কার্টুনটিকে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে মওকা হিসেবে লুফে নিয়েছেন সাথে সাথে। এসব ধর্মান্ধদের নিয়ে আলোচনার কোন দরকার আছে বলে মনে করি না। ব্লগে এরা সবাই প্রতিক্রীয়াশীল ও মানবিকতাবিরোধী বলে চিহ্ণিত। এদের চেহারা সবারই চেনা। এরা প্রতিটি সময়ে, প্রতিটি দেশে, প্রতিটি সমাজে ভিন্ন ভিন্ন চেহারা নিয়ে সবসময়েই বিরাজমান। এদের প্রতি আমার সার্বক্ষনিক ঘৃণা নতুন করে প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই।
দল ২) এই দল ধর্ম পালক করলেও ধর্মান্ধ নন। এদের অনেকেরই শিক্ষা আছে, বিবেক আছে, তারপরও এরা এদের মতামতে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবে প্রভাবিত। এরা যদি রাজনৈতিক ও সামাজিক হতাশার কবলে পড়েন, তাহলে ও অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় খোঁজার পথে মৌলবাদীদের সাথেও হাত মেলাতে দ্বিধা বোধ করেন না। ভিন্ন পরিস্থিতিতে এরাই আবার সুস্থ ও মুক্ত চিন্তার ধারক বাহক। একটি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে এদের প্রভাবেই একটি দেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি নির্ধারিত হয়। বলতে দ্বিধা নেই, এরা সুবিধাবাদী হলেও এদের অস্বীকার কোন উপায় কারো নেই, কারণ এদের হাতেই রাজনৈতিক মতামত সৃষ্টি হয়। পার্লামেন্টের শক্তির ভারসাম্য নির্ধারিত হয় এদের ইশারাতেই।
দল ৩) এই দলের কেউ কেউ ধর্ম মানলেও, ধর্মকেই চলার প্রথম পথ হিসেবে দেখেন না। তাই এদের দলের নাস্তিকদের সাথেও এদের কোন বিরোধ তৈরী হয়না। এরা এদের বুদ্ধি, বিবেককে যুক্তির পথে বিস্তারিত করার চেষ্টা করেন। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখেন এরা, কোন ধর্মের হাতিয়ার হিসেবে দেখেন না। কিন্তু অনেক সময়েই নিজেদের বুদ্ধিবৃত্তির পাখায় ভর করে এদের ভেতর যে উন্নাসিকতার প্রকাশ ঘটে, তার প্রভাবে অন্য দলগুলো থেকে দুরে সরে যান এরা। এদের বুদ্ধি, যুক্তি আর মেধা বৃহত্তর সমাজে কোন প্রভাব ফেলতে পারে না।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামী মৌলবাদীদের জায়গা এখনও বড় হয়ে উঠতে পারে নি। কিন্তু তারপরও সে জায়গা বেড়ে উঠছে ধীরে ধীরে। (দেশটি বাংলাদেশ বলেই ইসলামী মৌলবাদীদের কথা তুলছি, ভারত হলে হিন্দু মৌলবাদের ও ইউরোপে খ্রীষ্টান হলে খ্রীষ্টান মৌলবাদের কথা বলতাম।) উপরে বর্ণিত দ্বিতীয় দল থেকে ধীরে ধীরে অনেকেই ভিড়ছেন প্রথম দলে। ব্লগেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেসব মতামত পাওয়া গিয়েছে, তা থেকেও এই স্রোতের ধারা দেখতে পাওয়া যায়। এর জন্যে কারা দায়ী?
আমি বলবো আমাদের দেশের রাজনৈতিক হতাশা এর প্রধান কারণ। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতাশীন আওয়ামী, বিএনপির রাজনীতিবিদরা তাদের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার যে কদর্য চেহারা দেখিয়েছেন, তা থেকে এমন হওয়াই স্বাভাবিক। তারাই প্রথমাক্ত দলের পায়ের নীচের মাটি শক্ত করে দিয়েছেন। তারাই সেখানে তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থের জন্যে সে মাটিতে পানি ঢেলে মাটি সরস করেছেন। এখন আমরা তাদের কুকর্মের বিধ্বংসী ফলাফল আমাদের ধমনীতে রক্ত প্রবাহের তালে তালে অনুভব করি। আমার কষ্ট হয়, ঘৃণা হয়, নিজের সমাজ ও দেশের কথা ভাবলে শিউরে উঠে মন।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাবও রয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর মুসলিমদের প্রতি উন্নাসিক দৃষ্টিভঙ্গী, ইসরাইল ও তার দোসরদের মানবতাবিরোধী কর্মকান্ড, বুশের ইরাক যুদ্ধ প্রতিমূহুর্তেই আরো বেশী ক্ষুব্ধ করে তুলছে মুসলিমদের। কিন্তু আন্তর্জাতিক কর্মকান্ডে আমাদের প্রভাব কতটুকু? নেই বললেই চলে। সেজন্যেই আন্তর্জাতিকভাবে ভাবার আটে নিজের ঘর আগে ঠিক করা দরকার।
অমি রহমান পিয়াল সুন্দর, মুল্যবান এক পোষ্ট দিয়েছেন। এস্কিমো প্রতিদিন যুদ্ধ করে যাচ্ছেন, কৌশিক আহমেদ নানা ভাবে চেষ্টা করেছেন সত্য অবস্থাকে তুলে ধরার। এমনি আরো অনেকেই বিভিন্ন ভাবে এই প্রতিক্রীয়াশীল অমানবিক পথ থেকে আমাদেরকে দুরে আনার চেষ্টা করেছেন। তাদেরকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে সততার বাতাস না বইলে তাদের এই সব প্রচেষ্টা ব্যার্থতায় পরিনত হবে, তা একবার ভেবে দেখেছেন কি? যদি তা না ভাবেন, তাহলে দ্বিতীয় দল থেকে আপনাদের দুরত্ব আরো বেশী বেড়ে উঠবে, আর সে দুরত্বের সুযোগ গ্রহন করে শক্তিশালী হয়ে উঠবে সর্বনাশা হয়েনাদের প্রথমাক্ত দল। বাংলাদেশ হয়ে উঠবে বিশ্বের মৌলবাদীদের মহাপীঠস্থান। নিজেদের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করাই এই সর্বনাশ থেকে পরিত্রানের একমাত্র পথ। আপনাদের প্রতি আমার এই আহব্বানই রইল।
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ইসলাম, ইসলাম ;
প্রকাশ করা হয়েছে: দেশ, মানুষ, সময় বিভাগে ।
বহুরুপি বলেছেন:
একমত
পুতুল বলেছেন:
তীরন্দাজ, চমৎকার ভাবে তুলেধরেছেন বাংলাদেশের মৌলবাদী ধারা। ৫
এস্কিমো বলেছেন:
একমত।
মো: খায়রুল বাসার বলেছেন:
যতই নাড়াচাড়া করবেন ততই আপনাদের মুখোস খুলে যাবে ।
তীরন্দাজ বলেছেন:
কক, আমি কোন দলের নই। যোগ্য কোন দল খুজে পাইনি, তাই!বাসার সাহেব, আপনার দৃষ্টিশক্তির প্রশংসা করতে পারছি না। আমার চেহারায় মুখোশ দেখলেন কোথায়? নিজে যতো মুখোশ পড়বেন, তত বেশী মুখোশ দেখবেন!
সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
নগর বাউল বলেছেন:
তীরন্দাজ ভাইয়া খুব ভালো বলেছে।
তীরন্দাজ বলেছেন:
জান্নাত, আমার অবস্থান তিন এ রাখতে চেষ্টা করি সবসময়ে। কিন্তু সেখানেও ব্যার্থতা রয়েছে। তার দায়ভারও বহন করতে হবে।
তুষারমানব বলেছেন:
ভাল বলেছেন।
রাগ ইমন বলেছেন:
একজন বুদ্ধিমান , ওয়েল ইনফর্মড পর্যবেক্ষক দেশপ্রেমিকের জন্য এই কালটা সবচেয়ে ভয়ংকর । দেশ কাদের হাতে টের পাই প্রতিদিন আর মনে হয় , যদি স্বপ্ন হতো! যদি ঘুম ভেঙে দেখা যেত ভিন্ন ভোর! কিন্তু না । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের ফল দেখেছেন? টিভির টক শো বন্ধ । আর প্রথম আলোর কার্টুন মানে আরো অনেক কিছু বন্ধ । সব পাতানো খেলা। দেশের মৌলবাদী ধর্ম ব্যবসায়ী দলটিকে ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা চলছে বহুত দিন ধরে । কিন্তু সংস্কৃতি আর রাজনীতি সচেতন ১৪ কোটি মানুষের চেতনা বার বার ভেস্তে দিচ্ছে যত পাশার দান। দেহের আরো অনেক জায়গায় অস্ত্রপ্রচার করা হবে । কষ্ট পাওয়া আর কিছু স্পোরাডিক প্রতিবাদ ছাড়া এই প্রক্রিয়া ঠেকানো যাবে কিনা , সে বিষয়ে সন্দেহ আছে।
খারাপ লাগে । প্রতিদিন একটু একটু করে মরে যাই। তবু চেষ্টা থামবে না । ওদের জানা দরকার , এত সহজ নয় । বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি । দরকার হলে সব কটা মানুষকে রগ কেটেই ওদের ক্ষমতায় বসতে হবে। বিনা যুদ্ধে না দিব সুচাগ্র মেদিনী ।
জান্নাত বলেছেন:
@তিরন্দাজ...আমি লাদেন,জেএমবি এদের ঘৃনা করি।মোলবাদ প্রস্রয় দেই না।জামাতের প্রকাশ্য বিচার চাই।এমনকি তবলীগের ঘোরামিও অপছন্দ।আমি ধর্ম নিয়া সরাসরি মতামত দেই যেটা মন চায়।আপনার বিশ্লেষনে আমি কোন দলে পড়ি দয়া করে জানাবেন
তুষার ০০৭ বলেছেন:
তীরন্দাজের তীর নিয়মিত চলুক।
মো: খায়রুল বাসার বলেছেন:
তীরন্দাজ, আপনার মুখোশের সাথে যেমন প্রথম আলোর মুখোশ মিলে যায় । আমার কোন মুখোশ নাই । আমি ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসী । পালন হয়ত ঠিক মত করতে পারি না - এই যা ।
আপনাদের অন্তরে আছে ইসলাম বিদ্বেসী । অথচ আমাদের জ্ঞান দান করেন অন্যভাবে । সুযোগ পেলে কোপ ঠিকই মারেন ।
পুতুল বলেছেন:
রাগ ইমন, বাংলা সংন্সকৃতি এত সগজে কেউ নড়াতে পারবে বলে মনে করিনা। যদিও এসব ধান্দাবাজরা সব সময় সক্রিয় থাকবে। ভাই হমপজদ এভাবে ভদ্রলোক কথাবলে? তাও আবার ধর্মপ্রান হয়ে? ভাই মোঃ খায়রুল বাসার বলুনতো; প্রথম আলোর কার্টুন বা তীরন্দাজের মত্মতের কারণে আপনার কত ওয়াক্ত নামাজ কাজা হল?
পুতুল বলেছেন:
জান্নাত, আমার মনে হয় আপনি 'নিজে বাঁচ এবং অন্যকে বাঁচতে দাও' এই মতের ধারক। এটা খুব ভাল। ধর্ম মানুষের মৌলিক অধীকার তা নিশ্চিৎ করাও গনতন্ত্রের একটা কাজ। কিন্তু বেশীর ভাগ মানুষ অন্য কোন মত শুনলেই তাকে ধর্ম বা ইসলাম বিদ্বেষী বানিয়ে ফেলে। এটা দুঃখেল ব্যাপার।
তীরন্দাজ বলেছেন:
জান্নাত, আপনি যে প্রথম দলে নেই, তা পরিস্কার। বাকীটা আমি কি ভাবে বলবো বলুনতো ? আমি নিজেকে একেবারেই তা বলার যোগ্য মনে করি না।
তবে এটুকু বলতে পারি যে, আপনি একজন সুস্থ মননের মানুষ। তা আপনি নিজেও জানেন।
পুতুল, সমর্থনের জন্যে অশেষ ধন্যবাদ। তবে এদের কানে কখনও কোন কথা ঢুকে নি, এবারও ঢুকবে বলে মনে হয়না।
তীরন্দাজ বলেছেন:
রাগিমন, আপনার আত্মানিঙড়ানো কথা মন ছুয়ে গেল। ভাল থাকবেন।
তীরন্দাজ বলেছেন:
কিভাবে অবমাননা করা হলো, একটু বুঝিয়ে বলবেন কি হুদা সাহেব? পিপড়া হাতিকে কামড়ালে কতোটা ব্যাথা পায় হাতি ?
কারণ এই জাতির একটা বদভ্যাস আছে
!! আমরা চাইলেও পরাধীন থাকতে পারি না
!!
তুষার ০০৭ বলেছেন:
সামনে আরও ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে। মোহাম্মদ কুদ্দুস নামের কোন এক চোরার নামের পাশে চোর লেখলে সেটাও ধর্মীয় অবমাননা হবে বৈকি...।
মুকুল বলেছেন:
সহমত। *****
তীরন্দাজ বলেছেন:
আপনাদেরকে অনেক ধন্যবাদ!
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
চমৎকার বিশ্লেষণসবকিছুই শেষমেষ রাজনীতির পেটের ভিতর ঢুকে, যেটা সবচেয়ে হতাশাজনক ব্যাপার
মাহবুব সুমন বলেছেন:
অনেকদিন পর দারুন বিশ্লেষনাশ্রয়ী লেখা পড়লাম। ধর্মের কচকচানি নেই, নেই মুক্তবুদ্ধির নামে আঁতলামো, নেই শেকড়হীন বুদ্ধিজীবির ভন্ডামি। সত্য ও সাহসী কিন্তু সহজ সাবলীল বিশ্লেষন । তিরুদা স্যালুট। অনেকদিন পর এরকম একটি লেখা পড়লাম। অন্ধত্ব ও ভন্ডামীর ফাঁকে পড়ে বড়ই কষ্টে আছি। দেশ সবার আগে। মানবীকতা সবার আগে। রাজনীতি তো এ দুটোর জন্যই।
ধন্যবাদ।
আমাকে ১ টা মেইল করা যাবে। আপনার সাথে একটু পরিচিত হতে চাচ্ছি।
রাশেদ বলেছেন:
৫
আজাইরা বলেছেন:
কাল পড়তে পারিনি আজ পড়লাম, তীরু'দা আপনি তো সব ধর্মান্ধ ব্লগার রে বসাইয়া দিলেন । লজ্জা থাকলে আর কথা কইবো না । জোস হইসে লেখাটা ।
তীরন্দাজ বলেছেন:
দেখলেন তো আজাইরা। এইসব ধর্মান্ধ ব্লগাররা সত্যবাদিতা কাকে বলে জানেনা। এদের যে লজ্জা বলে কিছু একটা থাকবে, তাও আশা করি না।দেখেন না, আজ আবার একজন কেমন ইনিয়ে বিনিয়ে জামাত বিরোধীদেরকে ইসলামবিরোধী বানানোর চেষ্টায় পোষ্ট ঝেড়েছে!
মানবী বলেছেন:
তীরন্দাজ, আমি ধর্ম পালন করি এবং যে কোন ধর্মের অবমাননার বিরুদ্ধে। ইসলাম নিজের ধর্ম, এবিষয়ে অত্যন্ত সেনসিটিভ। সাধারন একটি কার্টুন নিয়ে যে অযৌক্তিক বিতর্ক এবং ধর্মকে এক্সপ্লয়েট করেছে কিছু মানুষ আমি তার বিরুদ্ধে। এই কার্টুনে কিভাবে ইসলাম নবী(সঃ) কে অপমান করা হয়েছে, কারো কাছে কোন যুক্তি সঙ্গত জবাব পাইনি। শুধু আলপিন বা শিবিরের পত্রিকা নয়, আমার ধারনা এধরনের কৌতুক বেশ আগে থেকেই প্রচলিত।আপনার উল্লেখিত তিন দলের কোথাও নিজেকে খুঁজে পেলাম না!
পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
*টাইপের ভুলে ভরা, আগের মন্তব্য মুছে দিলে ভালো হয়*
তীরন্দাজ বলেছেন:
মানবী, আপনি ধার্মিক, যদি ধর্মান্ধ না হন, নিজের বিবেক আর বুদ্ধিকে যদি ব্যাবহার করে চলেন, তাহলে ২য় বা তৃতীয় দলে নিজেকে অবশ্যই পাবেন। মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।
মানবী বলেছেন:
দ্বিতীয় দলে নেই, তৃতীয় দলের শেষ অংশের সাথে পুরোপুরি একমত নই(হয়তো উন্নাসিকতার কারনেই :-)যাইহোক, মিলে খুঁজে না পাওয়া আমার নিজের সীমাবদ্ধতা।
আপনার অধিকাংশ লেখার ভাষা অত্যন্ত ধারালো। ব্লগে নিয়মিত লেখা পোস্ট করলে ভালো হয়, ধন্যবাদ।
রাগ ইমন বলেছেন:
তীরুদা , ইনিয়ে বিনিয়ে লাভ নেই । তবে আমাদের ও বোধ হয় একটু সতর্ক হওয়া দরকার । একেবারে ফাকা মাঠে গোল দিয়ে আসছে এরা অনেক দিন ধরে ।ইসলামকে তুলে ধরি না আমরা সঠিক ভাবে , তাই জামাত শিবির কিংবা লালসালুর মজিদ টাইপের লোক জন যা বলে , মানুষ সেই সব গ্রহনের সুযোগ পায়। আমাদেরকেও তো একটু দায়িত্ব নিতে হবে, তাই না? ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে আর গুটিয়ে থাকার উপায় নেই। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাচ্ছে ।
ওয়ামি বলেছেন:
আমার মনে হয় সবার মতামতকে এই তিন দলে ভাগ করার চেষ্টাটা ঠিক হবেনা। অনেকে গ্রে এরিয়ায় মতামত দিয়েছেন।দ্বিতীয় দলের ব্যখ্যায় বললেন, "এদের মতামত দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবে প্রভাবিত"। আমার মনে হয় অর্থনৈতিক এবং সামাজিক প্রভাব "তৃতীয়" দলের মতামতেও পাওয়া যাবে। মতামত দেয়ার প্রয়োজন অনুভব করাটাও তো এক ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই। কারো পক্ষেই আসলে পুরোপুরি প্রভাবমুক্ত হওয়া সম্ভব না। সেটা কতটুকু সহনীয় মাত্রায় আছে সেটাই দেখার বিষয়।
তৃতীয় বা প্রথম দলের অবস্থান থেকে দ্বিতীয় দলকে দেখলে তাদেরকে সুবিধাবাদী মনে হতে পারে। কিন্তু বিরোধ নিষ্পত্বির জন্য দ্বিতীয় দলের ডমিন্যান্সের উপরেই অপর দুই দলকে আস্থা রাখতে হয়।
"সুবিধাবাদী" কথাটার কনোটেশন আছে। কাউকে "সুবিধাবাদী" বললে তার আদর্শহীনতাই প্রকাশ পায়। অথচ "সুবিধাবাদী" না হয়েও মানুষ সেন্সিবল মতাতম দিতে পারে।
তৃতীয় দলরে যে সার্টিফিকেট দিলেন তাতে এমন মনে হতে পারে যে নাস্তিকদের সাথে বিরোধ তৈরী না হওয়াটাই এই দলের প্রধান বৈশিষ্ট, কিংবা এমনও মনে হতে পারে যে সকল মেধাবীরা এই দলের অন্তর্ভূক্ত -- যার কোনটাই সঠিক না। তাদের মধ্যেও অন্ধতা আছে, মোহ আছে, নির্বুদ্ধিতা আছে, কনট্রাডিকশন আছে।
অন্যরকম বলেছেন:
কোন দলের সাথে মেলাতে পারছিনা। আবার মনে হয় সব দলেই আংশিকভাবে আছি। বিশ্লেষন ধর্মী পোস্ট। চালায়া যান!
তীরন্দাজ বলেছেন:
রাগীমন: আপনার কথা ঠিক। তবে যেহেতু আমি নিজে ধার্মিক নই, ইসলামকে সঠিক ভাবে তুলে ধরা আমার ক্ষমতার পর্যায়ে পড়ে না। কেউ যদি তার সত্যিকারের সদিচ্ছা ও সত মনোভঙ্গী নিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেন, তাহলে ধার্মিক না হয়েও অন্য মতের প্রতি সহনশীলতার কারণে সে মতের প্রতি সামন্যতমও শ্রদ্ধাবোধ হারাবো না। সততা নিয়ে যে কোন চিন্তার প্রতি আমান সন্মান রয়েছে।মানবী, আপনাকে ধন্যবাদ। আপনাকে ও ওয়ামী কে বলছি।
আমি নিজে দলব্দ্ধতা পছন্দ করি না। তাই সত্যি কথা বলতে গেলে, এই তিন দলে সবাইকে দলবন্দী করার আদৌ ইচ্ছে আমার নেই। আমি বিশ্লেষনধর্মী একটি আলোচনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি মাত্র। এতে আমার নিজের চিন্তার অপরিপূর্ণতা থাকতে পারে, যা পরে অন্যদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
দ্বিতীয় দলের ব্যখ্যায় বললেন, "এদের মতামত দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবে প্রভাবিত"। এটা নিয়ে আপত্তি করেছেন ওয়ামী, কারণ এটা প্রথম দলেরও হতে পারে। অবশ্যই ঠিক বলেছেন ওয়ামী। হয়তো আমার বলা উচিত ছিল দ্বিতীয় দলের ব্যখ্যায় , "এবিষয়ে এদের মতামত শুধুমাত্রই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবে প্রভাবিত"।
তারপরও আবার বলছি, আমি একটি আলোচনার দরজা খোলার চেষ্টা করেছি।
রাগ ইমন বলেছেন:
ইসলাম পালন না করেও আপনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে তো পারেন । ইসলামের মোহমুক্ত আলোচনা হয়ত পালনকারীদের চেয়ে " না পালনকারীদের "লেখনীতেই ভালো সম্ভব । এর বিপরীতে যিনি পালন করছেন , তিনি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গী , অনুভব এবং অভিজ্ঞতা তুলে আনতে পারেন। এই দুইয়ের মিথষ্ক্রিয়ায় আলোচনাটা পরিপূরক হয়ে উঠতে পারে। একটা মার্জিত , ভদ্র এবং যুক্তিগ্রাহ্য " ইসলামী রুপ" কে সামনে আনা দরকার । রামছাগলদের হাতে পড়ে ইসলামের বারটা বাজতে দেখতে দেখতে আমি মহা ত্যক্ত বিরক্ত। ঃ(
হাসিব বলেছেন:
বস, অক্টোবর ফেস্টে আমরা সবাই আইতাছি । রেডি থাইকেন ।
তীরন্দাজ বলেছেন:
রেডি আছি। আসেন। আজ হিমুকে সেজন্যে মেইল পাঠালাম।
দেশপ্রেমিক বলেছেন:
রাগ ইমন কবে থেকে ইসলামের কান্ডারী হইলা? ইসলামের/ধর্মের "যুক্তিগ্রাহ্য রুপ" আছে নাকি আবার! ধর্ম জিনিসটাইতো ভিত্তিহীন, যুক্তিহীন। ইসলামরে কাট-ছাট কইরা মার্জিত ভদ্ররুপে উপস্থাপন করলেই কি ইসলাম মার্জিত/ভদ্র হয়া যাইবো? ছাগলের মতো কথা কউ ক্যান!


















