মুসলিম সমাজে প্রচলিত শিরকী আক্বীদা ও বিদআতী রসম-রেওয়াজ সমূহের অধিকাংশেরই মূল উৎস হল জাল ও যঈফ হাদীস সমূহ। আসুন জেনে রাখি সে হাদীসগুলো যেন আমাদের কেউ বিভ্রান্ত করতে না পারে।
২১। আমার অবস্থা সম্পর্কে তাঁর জ্ঞাত হওয়া আমার চাওয়ার জন্য যথেষ্ট। {এটির কোন ভিত্তি নেই}
২২। তোমরা আমার সত্তা দ্বারা অসীলা ধর, কারণ আমার সত্তা আল্লাহর কাছে মহান। {এটির কোন ভিত্তি নেই} [এটি একটি বহুল প্রচলিত হাদীস]
২৩। আল্লাহ এমন এক সত্তা যিনি জীবন দান করেন, আবার মৃত্যুও দেন। তিনি চিরঞ্জীব মৃত্যুবরণ করবেন না । তুমি ক্ষমা কর আমার মা ফাতিমা বিনতু আসাদকে। তাকে উপাধি দাও তার অলংকার হিসাবে, তার প্রবেশ পথকে প্রশস্ত কর, তোমার নবীকে সত্য ও আমার পূর্ববর্তী সকল নবীকে সত্য জানার দ্বারা। কারণ তুমিই সকল দয়ালুর মাঝে সর্বাপেক্ষা দয়াবান। {হাদীসটি দুর্বল}
২৪। যে ব্যক্তি তার বাড়ী হতে সালাতের জন্য বের হয়, অতঃপর এ দু'আ বলে, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি তোমার নিকট প্রার্থনাকারীদের সত্য জানার দ্বারা, আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি আমার এ চলাকে সত্য জানার দ্বারা। কারণ আমি অহংকার করে আর অকৃতজ্ঞ হয়ে বের হইনি...। তখন আল্লাহ তাঁর চেহারা সমেত তার সম্মুখে উপস্থিত হন এবং তার জন্য এক হাজার ফেরেশতা ক্ষমা প্রার্থনা করেন। {হাদীসটি দুর্বল} [এটি একটি বহুল প্রচলিত হাদীস]
২৫। আদম (আ.) যখন গুনাহ করে ফেললেন, তিনি বললেন, হে আমার প্রভু! তোমার নিকট মুহাম্মাদকে সত্য জেনে প্রার্থনা করছি। আমাকে ক্ষমা করে দাও। আল্লাহ বললেন, হে আদম! তুমি কীভাবে মুহাম্মাদকে চিনলে, অথচ আমি তাকে সৃষ্টি করিনি? (আদম) বললেন, হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে যখন আপনার হাত দ্বারা সৃষ্টি করেছিলেন এবং আমার মধ্যে আপনার আত্মা থেকে আত্মার প্রবেশ ঘটান, তখন আমি আমার মাথা উঁচু করেছিলাম। অতঃপর আমি আরশের স্তম্ভগুলোতে (খুটি) লিখা দেখেছিলাম লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ। আমি জেনেছি যে, আপনার কাছে সর্বাপেক্ষা ভালবাসার সৃষ্টি ব্যতীত অন্য কাউকে আপনি আপনার নামের সাথে সম্পৃক্ত করবেন না। সত্যই বলেছ হে আদম! নিশ্চয় তিনি আমার নিকট সর্বাপেক্ষা ভালবাসার সৃষ্টি। তুমি তাঁকে হক জানার দ্বারা আমাকে ডাক। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিব। মুহাম্মাদ যদি না হতো আমি তোমাকে সৃষ্টি করতাম না। {হাদীসটি জাল} [এটি একটি বহুল প্রচলিত হাদীস]
২৬। ধর্মীয় চেতনা আচ্ছাদিত করবে আমার উম্মতের উত্তম উত্তম ব্যক্তিগণকে। {হাদীসটি দুর্বল}
২৭। ধর্মীয় চেতনা আচ্ছাদিত করবে কোরআন বহনকারীদেরকে। তাদের পেটে কোরআনকে ইয্যত করার উদ্দেশ্যে। {হাদীসটি জাল}
২৮। ধর্মীয় চেতনা শুধুমাত্র আমার উম্মাতের নেককার ও সৎকর্মশীলদের মধ্যেই হবে। অতঃপর তা ফিরে যাবে। {হাদীসটি জাল}
২৯। আমার উম্মাতের সর্বোত্তম ব্যক্তিরা হচ্ছেন তাদের ধর্মীয় চেতনার অধিকারীগণ। যখন তারা রাগান্বিত হয় তখন (তা হতে) প্রত্যাবর্তন করে। {হাদীসটি বাতিল}
৩০। আমার ও আমার উম্মাতের মাঝে কিয়ামত দিবস পর্যন্ত কল্যাণ নিহিত। {হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই}
৩১। দুনিয়া হচ্ছে মু'মিন ব্যক্তির এক পদক্ষেপ। {হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই}
৩২। আখেরাতের অধিবাসীদের জন্য দুনিয়া হারাম আর দুনিয়ার অধিবাসীদের জন্য আখেরাত হারাম। দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টিই হারাম আল্লাহর ওয়ালাদের জন্য। {হাদীসটি জাল}
৩৩। দুনিয়া হচ্ছে আখেরাতের সতীন। {নবী (স.) হতে এর কোন ভিত্তি নেই}
৩৪। দুনিয়া থেকে তোমরা বেঁচে চল, কারণ তা হচ্ছে হারূত ও মারূতের চেয়েও অধিক যাদুকর। {হাদীসটি মুনকার, এর কোন ভিত্তি নেই}
৩৫। যে আযান দিবে সেই যেন ইকামাত দেয়। {এ শব্দে হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই} [এটি একটি বহুল প্রচলিত হাদীস]
৩৬। দেশকে ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ। {হাদীসটি জাল} [এটি একটি বহুল প্রচলিত হাদীস]
৩৭। মানুষের মাঝে এমন এক যামানা আসবে যখন তারা বাঘের ন্যায় হবে। অতঃপর যে ব্যক্তি বাঘ না হতে পারবে তাকে বাঘগুলো খেয়ে ফেলবে। {হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল}
৩৮। যে ব্যক্তি চল্লিশ দিনকে নিছক আল্লাহর উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট করবে, তার ভাষায় বিচক্ষণতার ঝর্ণাধারা উদ্ভাসিত হবে। {হাদীসটি দুর্বল}
৩৯। যে ব্যক্তি আসরের পরে ঘুমাবে, তার জ্ঞান ছিনিয়ে নেয়া হবে। ফলে সে শুধুমাত্র নিজেকেই দোষারোপ করবে। {হাদীসটি দুর্বল}
৪০। তোমরা কদু (লাউ) অপরিহার্য করে নাও, কারণ তা অনুভূতি (জ্ঞান) বৃদ্ধি করে। তোমরা ডালকে অপরিহার্য করে নাও, কারণ তার পবিত্রতা বর্ণিত হয়েছে সত্তর জন নবীর ভাষায়। {হাদীসটি জাল}
চলবে ...
মূলঃ আল্লামা মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ)
অনুবাদঃ আবূ শিফা মুহাম্মাদ আকমাল হুসাইন বিন বাদীউয্যামান
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মার্চ, ২০১১ সকাল ১১:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



