পূর্বের পর ...
কুরআন ও হাদীস অনুসারে মুসলিমদের মাযহাব একটাই
মুসলিম জাতির মত বা পথ একটিই। সেটা হল সহজ সরল সোজা পথ। যে পথ সম্পর্কে বলতে যেয়ে একদিন রাসূল (সঃ) একটা সরল রেখা আঁকলেন এবং তার ডান দিকে দুটি এবং বাম দিকে দুটি রেখা আঁকলেন। অতঃপর তিনি তাঁর হাতকে মধ্য রেখায় রেখে বললেনঃ "এটাই আমার পথ। এটাই আমার সোজা পথ, তোমরা এই পথেরই অনুসরণ কর এবং অন্য পথ সমূহের অনুসরণ করো না। যদি কর তবে তা আল্লাহর সোজা পথ হতে তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করে দিবে।" {ইব্ন মাজাহ/১১}
মুসলিম জাতির মাযহাব একটিই তা হলো ইসলাম / যারা একমাত্র মাযহাব ইসলামকে ভেঙ্গে চৌচির করেছে তারা ধৃষ্টতার পরিচয়ই দিয়েছে। কারণ তাদের আল্লাহর রাসূলের (সঃ) সাথে কোন সম্পর্ক নেই। তাদের দায় দায়িত্ব আল্লাহর নিকট। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
"ইন্নাল্লাযীনা ফাররাকু দিনাহুম ওয়াকানু শিয়ায়াল্লাসতা মিনহুম ফি শাইয়িন, ইন্নামা আমরুহুম ইলাল্লাহি ছুম্মা ইউনাব্বিউহুম বিমা কানু ইয়াফআলুন।"
"যারা নিজেদের দ্বীনকে টুকরো টুকরো করে নিজেরাই নানা দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের কোনো দায়িত্বই তোমার ওপর নেই; তাদের (ফয়সালার) ব্যাপারটা আল্লাহ তায়ালার হাতে, (যেদিন তারা তাঁর কাছে ফিরে যাবে) তখন তিনি তাদের বিস্তারিত বলবেন, তারা কে কি করছিলো।" {সূরা আল আনয়াম, আয়াত ১৫৯}
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেনঃ
"ওয়া মাইয়্যাবতাগি গাইরাল ইসলামি দিনান ফালাইয়্যুকবালা মিনহু ওয়াহুয়া ফিল আখিরাতি মিনাল খাছিরিন।"
"যদি কেউ ইসলাম ছাড়া (নিজের জন্যে) অন্য কোনো জীবন বিধান অনুসন্ধান করে তবে তার কাছ থেকে সে (উদ্ভাবিত) ব্যবস্থা কখনো গ্রহণ করা হবে না, পরকালে সে চরম ব্যর্থ হবে।" {সূরা আল-ই-ইমরান, আয়াত ৮৫}
আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সঃ) মানুষের কল্যাণে ইসলামের বিধি-বিধান (ইসলামী শরীয়ত) জারি করেছেন। আল্লাহ তায়ালা এই শরীয়তের পূর্ণতার ঘোষণা করে বলেনঃ
"আলইয়াওমা আকলামতু লাকুম দীনাকুম ওয়া আতমামতু আলাইকুম নি'মাতি ওয়া রাদীতু লাকুমুল ইসলামা দীনান।"
"আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীন পূর্ণ করে দিলাম, আর তোমাদের ওপর আমার (প্রতিশ্রুত) নেয়ামতও আমি পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জন্যে জীবন বিধান হিসাবে আমি ইসলামকেই মনোনীত করলাম" {সূরা আল মায়িদা, আয়াত ৩}
ইন্তেকালের পূর্বে ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জ্বের ভাষণে রাসূল (সঃ) তাঁর সাহাবাগণকে তথা সমগ্র জগতকে সম্বোধন করে বলে গিয়েছেন, "আমি তোমাদের নিকট দুটি মহান বস্তু রেখে গেলাম। যতদিন তোমরা ঐ দুটিকে মজবুত করে ধরে থাকবে ততদিন গুমরাহ হবে না আর তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাত।"
মুসলিমদের অবশ্য অনুসরণীয় পথ
শরীয়তের বিধি-বিধান অখন্ড। এর কিছু অংশ গ্রহণ এবং কিছু অংশ বর্জন করা নিষেধ। শরীয়তের প্রতিটি হুকুমের উপর ঈমান আনা এবং সামগ্রিকভাবে শরীয়াত পালন করা অবশ্য কর্তব্য। শরীয়তের কোন বিধানের বিরোধিতা বা লংঘন একই সঙ্গে ইহকালীন এবং পরকালীন দুটি মারাত্মক পরিণতির কারণ। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ
"ইন্নামা জাযাউল্লাযিনা ইউহরিবুনাল্লাহা ওয়া রাসূলাহু ওয়া ইয়াছআউনা ফিল আরদি ফাসাদান আইয়্যুকাত্তালু আও ইউসাল্লাবু আও তুকাত্তায়া আইদিহিম ওয়া আরযুলুহুম মিন খিলাফিন আউ য়ুনফাউ মিনাল আরদি, যা'লিকা লাহুম খিজয়ুন ফিদ্দুনইয়া ওয়ালাহুম ফিল আখিরাতি আযাবুন আজীম।"
"যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং (আল্লাহর) যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টির অপচেষ্টা করে, তাদের জন্যে নির্দিষ্ট শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদের হত্যা করা হবে কিংবা তাদের শুলবিদ্ধ করা হবে, অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কেটে ফেলা হবে, কিংবা দেশ থেকে তাদের নির্বাসিত করা হবে; এই অপমানজনক শাস্তি তাদের দুনিয়ার জীবনের জন্যে, (তাছাড়া) পরকালে তাদের জন্যে ভয়াবহ আযাব তো রয়েছেই।" {সূরা আল মায়িদা, আয়াত ৩৩}
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে আরও উল্লেখ করেছেন,
"ক্বুল ইন কুনতুম তুহিব্বুনাল্লাহ ফাত্তবিয়ুনী ইউহবিবকুমুল্লাহু ওয়া ইয়াগফিরলাকুম যুনুবাকুম, ওয়াল্লাহু গাফুরুর রাহীম।"
"(হে নবী,) তুমি বলো, তোমরা যদি আল্লাহ তায়ালাকে ভালোবাসো, তাহলে আমার কথা মেনে চলো, (আমাকে ভালোবাসলে) আল্লাহ তায়ালাও তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তিনি তোমাদের গুনাহখাতা মাফ করে দেবেন; আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়াবান।" {সূরা আল-ই-ইমরান, আয়াত ৩১}
এই পবিত্র আয়াতটি মীমাংসা করে দিয়েছে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভালবাসার দাবী করে, কিন্তু তার আমল ও বিশ্বাস যদি রাসূল (সাঃ)-এর নির্দেশের অনুরূপ না হয় এবং সে তার সুন্নাতের অনুসারী না হয়, তবে সে তার এ দাবীতে মিথ্যাবাদী। সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূল (সঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন এমন কাজ করে যার উপর আমার নির্দেশ নেই, তা অগ্রাহ্য।
আল্লাহর রাসূলের (সঃ) পর চারশত বছর পর্যন্ত রাসূল (সঃ)-এর মাযহাব ছাড়া অন্য কোন মাযহাবের অস্তিত্ব ছিল না। অতএব, তাঁর নির্দেশানুসারে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর সুন্নাতকে মজবুত করে ধরে থাকাই গুমরাহী হতে বাঁচার একমাত্র উপায়।
মাযহাবের ভয়াবহতা সম্বন্ধে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা
এই একবিংশতিতম শতাব্দীর প্রারম্ভে বর্তমান দুনিয়ার প্রায় ১৪০ কোটি মুসলমানই সর্বত্র কমবেশী নিগৃহীত হচ্ছে এ জন্য যে, মুসলমানরা বিভিন্ন মাযহাব, ফিরকাহ ও ঘরানায় বিভক্ত এবং সাধারণ (Common) শত্রুর বদলে পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বেই অধিকতর লিপ্ত। এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে মাযহাব, ফিরকাহ, ঘরানা নির্বিশেষে গোটা মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এখনই গড়ে না তুললে সামাজ্যবাদী-ইহুদীবাদী ও উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামরিক আগ্রাসন থেকে আত্মরক্ষা করা কোনক্রমেই সম্ভবপর হবে না।
~~~ সমাপ্ত ~~~
* সংকলন- মুহাম্মদ আবু হেনা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


