বর্তমান যুগটা বনিকের। টাকার। মিডিয়া আর বনিকের ডাল-খিচুরি তে যে শ্রেনী তৈরী হযেছে,হচ্ছে;সেটা প্রথমত বনিক দ্বিতীয়ত বনিক এবং শেষ পর্যন্ত বনিক। তারা মহান। ক্ষমতাবান। তাদের টেলিভিশন (সবচেয়ে চালাক-বাক্স এই দূর্দশাগ্রস্থ গ্রহের )আছে; সংবাদপত্র আছে (একে সংবাদপ্রত্র বলা হলেও আদতে এটি বিজ্ঞাপন পত্র)। তাদের রাজনীতি আছে;রাজনীতিক আছে;রাষ্ট্রপ্রধান আছে;ধর্ম আছে।
রাজনীতিকের হাসি-খুশি মুখ এখন আর কোথাও দেখা যায় না। সময় তাদের গলায় ফাঁস ঝুলিয়েছে।একুশ আর একাত্তর এর বয়ান এখন আর যত্রতত্র শুনতে হয় না। মাউথপিচ হাতে এখন আর কোথাও দেখা যায় না রাজনীতিকের তেল চকচকে মুখ।অবশেষে ভাবা হলো একুশ আর একাত্তর বুঝি মুক্তি পেল। কারো বাবার সম্পত্তি হতে হবে না ওঁদের। মাঠেঘাটে চেতনা-ঐতিহ্য-ইতিহাস বিক্রির দিন বুঝি শেষ হলো।
ঢাকা বনিকের শহর। বাংলাদেশ বনিকের দেশ। এ দেশে সে আশা গুঁড়েবালি। বাংলাদেশে একুশ আর একাত্তর বিক্রির দিন ফিরে এসেছে আবার। বনিকের কারসাজিতে একুশ আর একাত্তর এখন বাজারি পন্য। রাক্ষুষে পুজিবাদ আমাদের মহান ঐতিহ্য আর ইতিহাসকে টি-শার্টে ছেপে ঘটাচ্ছে চেতনার পন্যায়ন।
আমাদের ছফা;জীবনানন্দ,আমাদের চে ;আমাদের লালন শাহ এখন টি-শার্টের প্রচ্ছদ। কামরুল হাসান এখন বিক্রি হচ্ছেন নষ্ট-ভ্রষ্ট গনিকার কাছে। হাল আমলে মরে যাওয়া সঞ্জিব চৌধুরীকে নিয়ে গড়ে ওঠা টি-শার্টের বাজারও বেশ রমরমা ।
এখন মেয়েদের সুঢৌল বুক ঢাকার জন্য ডাক পড়েছে শহীদ মিনারের ছবির। একাত্তরে না-খেতে পেয়ে মরে যাওয়া কিশোরীর ছবির। আমাদের জাতীয় পতাকার চিত্ররুপ দিয়ে তৈরী হচ্ছে শহুরে ঊর্বশীর সালোয়ার-কামিজ। । খুব বেশি দুরে নয় সেদিন যেদিন আমরা আমাদের ভালোবাসার পতাকা দিয়ে কাঁচুলি বানাবো ;বানাবো লাল-সবুজের অর্ন্তবাস!
মিডিয়া যতটা না পাঠকের তার চেয়ে বেশি বুদ্ধিজীবির। বুদ্ধিজীবির বুদ্ধি আর চেহারা বিক্রি করেই মিডিয়ার প্রচার-প্রসার।আর তাই আনিসুল হক সাহেব মিডিয়াতে মুখ দেখান একুশের ; বর্নমালার ছাপঅলা টি-শার্ট পড়ে।বনিকের এই যুগে তাঁর মতো বুদ্ধিজীবির কীই আর করার থকিতে পারে বিজ্ঞাপনদাতার কাছে বিক্রি হওয়া ছাড়া।!
আনিসুল হকরা বিক্রি হন। বিক্রি হয় আমাদের চেতনা। একট্ প্রজন্ম বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বিজ্ঞাপনের কাছে! পতাকা দিয়ে তৈরী হবে কাঁচলি। আমাদের সব আবেগ-অনুভবের জায়গাগুলো দোকানে দোকানে শোভা পাবে। কবিতারা বইয়ের সাদা-শুভ্র পাতা ছেড়ে এখন টি-শার্টের উত্তেজক পাতায় ঠাঁই নিয়েছে-নিচ্ছে-নেবে। কবির মগজে কবিতা জন্ম নেবে বনিকের জন্য। আর সেইসব বনিক-কবিতাকে বুকে ছেপে হাসিমুখে আনিসুল হকরা আসবেন প্রথম আলোর রঙচঙে নকশা পাতায়। আসবেন আসবেন এবং আসবেন!
আমারা হেরে যাচ্ছি। ক্রমাগত হেরে যাচ্ছি। আমাদের একুশের কাছে। একাত্তরের কাছে। আমাদের পূর্ব-পুরুষরে কাছে। আমরা বন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছি। বন্ধ্যা করে ফেলছি আমাদের বর্তমান প্রজন্মকে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

